তুষার'এর ব্লগ
বেত ফল
অনুজ রতন তোমাকে মনে পড়িয়ে দিলো। ভাবছো কোন রতন? না তোমরা দুজন দুজনকে জানোনা। ওর তোমার নামটিও জানা নেই। জানলেই বা কি। তোমায় আমি যে নামে ডাকি। সেই নামেতো কেউ তোমাকে জানেনা। মনে করে দেখো তোমার সংগে যেদিন পরিচয়, সেদিন থেকেই কিন্তু আমি তোমাকে আমার দেয়া নামে জানি। সবার নামে তোমাকে ডাকা হয়নি। একটিবারের জন্যও নয়। তুমি হারিয়ে যাওয়ার আগের দিকে আমি ঐ নামে ডাকতে চাইতাম। কিন্তু তুমি মুখ চেপে ধরতে। বলতে- না তোমার মুখে আমি শুধু তোমার দেয়া ডাকই শুনবো। কি আর করা ডাকা হলোনা। তোমার বারণ শুনে মনে বা বিড়বিড় করেও পড়িনি একটিবারের জন্য।
শাড়ি
শহরের সুন্দরতম ছাদে সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলাতেই আড্ডার ঝড় তুলতাম। কখনো দলে-বলে, আবার কখনো একা। সাধারনত ভর দুপুরেই নিজের সংগে আড্ডাটা জমতে ভাল। নিঝুম ছাদে নি:সংগ আমি। নি:সংগ বলাটা ঠিক হচ্ছে কিনা, এ নিয়ে তর্ক হতে পারে। কারন ঐ সময়টাতে দোপাটির বুকে বসা প্রজাপতি, ফাকা চেয়ারে অবকাশে থাকা কাক, ছাদের উপর এসে থেমে যাওয়া মেঘের সংগে কথোপকথোন তো হতোই। আর কথা হতো শাড়ির সংগে। একেকদিন একেক রংয়ের শাড়ি হতো আমার সংগি। ছাদের দক্ষিন দিকটায় বসতাম আমি। কার্নিশ ছুয়ে থাকা মহুয়ার ডাল। তারপর একচিলতে সবুজ উঠোন। তার পাশেই আরেকটি ছয়তলা দালান। ঐ ছয়তলা দালানের একমাত্র তিন তলা থেকেই একটা ঝুল বারান্দা বেরিয়েছে। সেই বারান্দায় কাউকে এসে দাড়াতে দেখিনি কখনো। বারান্দায় অন্য কোন কাপড়ও শুকোতে দেখা যায়নি। কেবল প্রতিদিন একটা করে শাড়ি নেমে আসতো বারান্দার রেলিঙ থেকে।
জিভে জল..............
নীল- হলুদ ছাপার বাক্সটা রিক্সা থেকে নামলো মাত্র। চারকোনা বাক্স লাল প্লাষ্টিকের ফিতায় বাধা। বাক্স দুলে দুলে এগিয়ে যায়। রমনীয় তিন আঙূলে ঝুলছে বাক্স। সঙ্গীর মুঠো থেকে ঝুলছে ক্যালেন্ডার আনারস। দুজনেই ইতি-উতি চেয়ে হাটছে। গন্তব্য পরিচিত নয়। ডানে গিয়ে আবার ফিরে আসে বামে। তাদের পিছু নিয়েছে যে তিন হাফ প্যান্ট, তারা বেশ উসখুশ। রমনীয় হাতের বাক্সটাতেই যেনো তাদের মন বন্দি। নিরাপদ দুরত্ব রেখেই অবস্থান। কিন্তু বেচারা বাক্স আর ক্যালেন্ডার আনারসের যে ঠিকানা জানা নেই। নতুন এই আগন্তকদের কাছে এগিয়ে যায় এক হাফ প্যান্ট। বাক্সের গা ঘেষে দাড়িয়ে -ইশারায় জানতে চায় কোথায়, কাকে?
টেকসই জীবন!
বেশ নিরাপদ বোধ হচ্ছে। নি:শ্বাসটাও নেয়া যাচ্ছে স্বছন্দে। কাউকে এখন আর সন্দেহের চোখে দেখছিনা। দু'দিন আগেও যাদের দেখে দূরে সরে থাকতে চাইতাম, তাদের কাছাকাছি যাওয়ার আকুতিটা বেড়েছে। ঢাকার রাস্তায় কৃষ্ণচূড়ার আগুনকে এবার কেমন যেনো ধোয়াটা মনে হচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই আগুনে পুড়ে যাচ্ছি। ব্যাকুল হচ্ছি রাধা চূড়ার প্রেমে। উদ্বিগ্ন কখন প্রিয়তমার খোপায় গুজে দিবো সোনালু।মুঠোতে জারুল! আমার এই বদলে যাওয়াটা তার নির্দেশেই। তিনি যেভাবে বলেন আমাকে সেভাবেই চলতে হয়। ঘন ঘোর বরষাকে তিনি যখন ভাবেন এসিড বৃষ্টি, এটা গ্রীন হাউস বিপর্যের ফলাফল- তখন ইলশে গুড়ি বৃষ্টিতে ইলিশ-খিচুরির স্বাদ চলে যায়। কুয়াশার বাষ্পতে যখন কাচের জানালায় আকবে প্রিয়জনের মুখ, তখন তিনি হয়তো বলে বসছেন -সেই মুখ কোন বহুল প্রত্যাশিত শত্রুর অবয়ব! আসলে আমার ভাবনার জগতটাকে, আমার সকল চাওয়ার নিয়ন্ত্রক তিনি।
অবশেষে স্পেসে ..স্বপ্নরাজ্যে
যেদিন শুনলাম এতিম-খানায় যেতে হবে, মনটা খারাপ হয়ে গেল। না, কষ্ট দেখতে হবে এজন্যে না। কেমন যানি মনে হয় এতিম খানা সফর মানে গিল্ট বেস বিষয়। যাই হোক....ফিরে এসে মনে হল, ইচ্ছে ছিল স্পেস ট্রাভল করবে, তার আর দরকার হবে না। আমি চাদ, আকাশ, তারা সবই মনে হয় দেখা হল - এরা এত হাসে কেন?
http://www.flickr.com/photos/amieka/sets/72157625104271477/with/5110215144/
আমি কোথায়?
আমার এখন চুল ছিড়তে ইচ্ছা হচ্ছে। এরকম হবার কথা ছিল না। ঘুরাঘুরি করতে এসে মন খারাপ, সচারচর তেমন হয় না। তবে গত কয়েক দিন ধরে রাগে মাথার চুল ছিড়ছি। কেন?
আমি এখন ভারতে আর আমার সফর সাথি সব সাদা মাল। ট্রাফিক জাম, পলিউশন, ইন-ফ্রা-structure ইত্যাদি নিয়ে এদের কমপ্লেইন শুনতে শুনতে খান জালাপালা। তার উপরে খাবার বলতে বেশিরভাগ সবজি। ঢং করে বলতে গেলে - all vegi item....
ভারতে ঘুরতে এসে মন খারাপ এটা বলার জন্য লিখতে বসি নি। মেজাজ খারাপ হবার পর মনে হলো আমার একলাকের SWI ডোস্তদের কথা। যাদের সাথে ভ্রমন খানাপিনা নিয়ে অনেক গাল গল্প হত। CIA এর মাধ্যমে জানলাম তারা নাকি এখন এই ব্লগে। সত্যি নাকি?