শাড়ি
শহরের সুন্দরতম ছাদে সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলাতেই আড্ডার ঝড় তুলতাম। কখনো দলে-বলে, আবার কখনো একা। সাধারনত ভর দুপুরেই নিজের সংগে আড্ডাটা জমতে ভাল। নিঝুম ছাদে নি:সংগ আমি। নি:সংগ বলাটা ঠিক হচ্ছে কিনা, এ নিয়ে তর্ক হতে পারে। কারন ঐ সময়টাতে দোপাটির বুকে বসা প্রজাপতি, ফাকা চেয়ারে অবকাশে থাকা কাক, ছাদের উপর এসে থেমে যাওয়া মেঘের সংগে কথোপকথোন তো হতোই। আর কথা হতো শাড়ির সংগে। একেকদিন একেক রংয়ের শাড়ি হতো আমার সংগি। ছাদের দক্ষিন দিকটায় বসতাম আমি। কার্নিশ ছুয়ে থাকা মহুয়ার ডাল। তারপর একচিলতে সবুজ উঠোন। তার পাশেই আরেকটি ছয়তলা দালান। ঐ ছয়তলা দালানের একমাত্র তিন তলা থেকেই একটা ঝুল বারান্দা বেরিয়েছে। সেই বারান্দায় কাউকে এসে দাড়াতে দেখিনি কখনো। বারান্দায় অন্য কোন কাপড়ও শুকোতে দেখা যায়নি। কেবল প্রতিদিন একটা করে শাড়ি নেমে আসতো বারান্দার রেলিঙ থেকে।
একেকদিন একেকটি রং। শাড়ির জমিনে কোন নকশা থাকতোনা। দিনের পর দিন ছাদে অপেক্ষায় থেকেছি কে আসে শাড়ি রোদে দিতে। সাত বছরে একদিনও সফল হইনি। মুগ্ধ হয়েছি রঙের বৈচিত্র দেখে। কোন শাড়ির জমিনেই একাধিক রঙের মিশ্রন ছিলনা। তারপরও যদ্দুর মনে পড়ে একই রং দ্বিতীয়বার দেখিনি। যার দেহতে সমর্পিত হতো এই শাড়ি, তিনি কে, তিনি ষাট না ষোল জানতে পারিনি। তবে অনুভব করতে পেরেছি- তিনি রঙের দেবী। শাড়ির রঙ বদলে যেতো তার ইচ্ছার রঙে। স্বীকার করতেই হয় প্রকৃতির রং বুঝে বদলাতো শাড়ির রঙ। এক সময় আমার মাঝেও বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করলো- আমার মনটাও শাড়ির রঙ দেখে বদলে যাচ্ছে। শাড়ির দ্বারা আমি প্রভাবিত। তাকে আমি দেখিনি। কিন্তু শাড়ির সংগে কথা হতো। শাড়ি জানাত - তার মনের খবর। বুঝে নিতাম কোন দিনটায় তার মন চঞ্চল। আর কবে আদ্র।
এক দুপুরে ঐ বারান্দা আমাকে শূণ্য করে দেয়। সেদিন ব্যালকনী থেকে নেমে এসেছিল যে শাড়িটি তার রঙ ছিল সাদা!
তুষার আবদুল্লাহ
৫।৫।২০১১





মন্তব্য করুন