জিভে জল..............
নীল- হলুদ ছাপার বাক্সটা রিক্সা থেকে নামলো মাত্র। চারকোনা বাক্স লাল প্লাষ্টিকের ফিতায় বাধা। বাক্স দুলে দুলে এগিয়ে যায়। রমনীয় তিন আঙূলে ঝুলছে বাক্স। সঙ্গীর মুঠো থেকে ঝুলছে ক্যালেন্ডার আনারস। দুজনেই ইতি-উতি চেয়ে হাটছে। গন্তব্য পরিচিত নয়। ডানে গিয়ে আবার ফিরে আসে বামে। তাদের পিছু নিয়েছে যে তিন হাফ প্যান্ট, তারা বেশ উসখুশ। রমনীয় হাতের বাক্সটাতেই যেনো তাদের মন বন্দি। নিরাপদ দুরত্ব রেখেই অবস্থান। কিন্তু বেচারা বাক্স আর ক্যালেন্ডার আনারসের যে ঠিকানা জানা নেই। নতুন এই আগন্তকদের কাছে এগিয়ে যায় এক হাফ প্যান্ট। বাক্সের গা ঘেষে দাড়িয়ে -ইশারায় জানতে চায় কোথায়, কাকে? ক্যালেন্ডার আনারসের ফাক গলে বেরিয়ে আসে চিরকুট। তা দেখে হাফ প্যান্টের আনন্দের আর সীমা নাই। সেই আনন্দের ঢেউ উপচে পড়ে অন্য দুই হাফ প্যান্টেও। হাফ প্যান্ট শোভা যাত্রায় দুই আগন্তক ডান-বাম করে এসে দাড়ায় চৌচালা এক টিনের ঘরের সামনে। অবশ্য গন্তব্যে পৌছার আগেই ওরা চারকোনা বাক্স থেকে মিষ্টান্ন শব্দটা পড়ে নিতে পেড়েছে। কিন্তু একি! চৌচালা ঘরের কাছে এসেই দুই আগন্তক টুপ করে ঢুকে পড়ে অন্দরে। সেখানে হাসির রোল উঠে। হাফ প্যান্টরা বাইরে উদাস। পাশের ল্যাম্পপোষ্টের নিচে তিনজনা স্বপ্ন দেখে বাক্স নিয়ে অন্দরের লুটোপুটির। একজন এগিয়ে গিয়ে টিনের বেড়ার ফুটোতে চোখ রাখে।
ক্যালেন্ডার আনারস অনাদরে পড়ে আছে দরজার চৌকাঠের কাছে। বাড়ির ছোট-বড় সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে- বাক্সটার উপর। ফিতে ছিড়ার ধৈয্য নেই কারো। খামচে বাক্সের এক প্রস্থ কাগজ ছিড়ে ফেলল বড়দেরই একজন। চৌকস স্টাইকারের মতো সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দিল ছোট একজন। চোখের পলকে রসগল্লা মুখে পুড়ে দৌড় । উফ এই দৃশ্য চোখে সওয়া অসম্ভব। হাফ প্যান্ট সরে আসে। ল্যাম্পপোষ্টের নিচে বাকি দুই জন। কারো মুখে কথা নেই। জিভে জল টুপ টাপ। ঠোট উপচে মাটিতেও গড়িয়ে পড়ে..।





দিলেনতো ক্ষিধাটা বাড়িয়ে !
আমারো
আহারে ...........................
মন্তব্য করুন