বেত ফল
অনুজ রতন তোমাকে মনে পড়িয়ে দিলো। ভাবছো কোন রতন? না তোমরা দুজন দুজনকে জানোনা। ওর তোমার নামটিও জানা নেই। জানলেই বা কি। তোমায় আমি যে নামে ডাকি। সেই নামেতো কেউ তোমাকে জানেনা। মনে করে দেখো তোমার সংগে যেদিন পরিচয়, সেদিন থেকেই কিন্তু আমি তোমাকে আমার দেয়া নামে জানি। সবার নামে তোমাকে ডাকা হয়নি। একটিবারের জন্যও নয়। তুমি হারিয়ে যাওয়ার আগের দিকে আমি ঐ নামে ডাকতে চাইতাম। কিন্তু তুমি মুখ চেপে ধরতে। বলতে- না তোমার মুখে আমি শুধু তোমার দেয়া ডাকই শুনবো। কি আর করা ডাকা হলোনা। তোমার বারণ শুনে মনে বা বিড়বিড় করেও পড়িনি একটিবারের জন্য।
কলেজের গেইটের পাশে যে একলা তালগাছ। সেখানে আমিও দাড়িয়েছিলাম একলা। তখন আষাঢ়। সূতোর মতো বৃষ্টি পড়ছে। মনে কি যেনো বুনে যাচ্ছিলাম। তুমি ৬ নম্বর বাস থেকে লাফিয়ে নামতে গেলে, ঠিক নিজেকে সামলাতে পারোনি। পড়ে গেলে রাস্তায়। আবার নিজেই উঠে দাড়ালে। এগিয়ে আসতে থাকলে গেইটের দিকে। তোমার পথ আটকালাম আমি । তুমি একটু ঘাবড়ে গেলে। এর আগে আমরা করিডোর- ক্যান্টিনেও মুখোমুখি হইনি কখনো। বললাম- এভাবে না নামলেও তো পারতেন। বাস পুরো না থামা পর্যন্ত আর কখনো নামবেননা। দিব্যি দিয়ে বলছি -বলার ঢঙে নির্দেশ ছিল হয়তো। কিন্তু আমি কিন্তু নিছক সাবধান করার জন্যই বলেছিলাম। তুমি বললে- আগামীতে আর ওভাবে নামবোনা। তারপর তুমি পাশ কেটে বেরিয়ে যেতে নিচ্ছিলে। আমি বললাম আপনার চোখ দুটো আমার প্রিয় ফলের মতো। ও নামেই ডাকবো আপনাকে। তুমি কাষ্ঠ হাসি দিয়ে চলে গিয়েছিলে..।তারপর প্রথম চিরকুটটি তোমার কাছ থেকেই আসে।...আমি তোমার....।
কাল কাজের প্লাবনে ভেসে চলছি। এই সময়ে রতন এসে দাড়াল। ওর দিকে তাকানোর ফুরসত নেই। টেবিলে কিছু একটা রেখে বেরিয়ে গেলো ও। ফিরে তাকিয়ে দেখি চারটি ছোট দানাদার ফল। মন চলে গেল আমার বেতফল'র কাছে!
তুষার আবদুল্লাহ
৬।৫।২০১১





মন্তব্য করুন