ইউজার লগইন

চিরন্তন ভালবাসার স্বপ্ন ।

lost-love~1.jpg

আমি ছিলাম তখন আমার কলেজের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আর মেয়েটি ছিল এইচ এসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ।
একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল সে ছাতা ছাড়া ভিজে ভিজে রাস্তায় হাঁটছিল কোন রিক্সা পাওয়া যায় কিনা । আমি এগিয়ে এসে তাকে ছাতা মেলে ধরে সাহায্য করি রিক্সা পেতে । সে তখন কোনভাবে একটি রিক্সা ঠিক করে বাসাতে চলে যায় । পরেরদিন আবার তার সাথে আমার কলেজে দেখা আমি তাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম , এভাবে না ভিজে পরে বাসাতে গেলেইতো পারতে এত্ত তারাহুড়ো কি ছিল ?
সে বলেছিল আপনি যদি সেদিন আমাকে সাহায্য না করতেন আমার হয়তো আরও দেরি হত বাড়িতে পৌছাতে কারণ আমার মা অসুস্থ ছিলেন । কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে আমি জানলাম সে আমাদের কলেজের এইচ এসসির ছাত্রী । তার নাম ফারহানা ।
এভাবেই আমাদের পরিচয় । ফারহানার বাড়ি থেকে আমার বাড়ি খুব একটা দূরে ছিলনা । সে প্রায় সময়ই আমাকে ফোন দিত এসে ওকে পড়া বুঝিয়ে দেবার জন্য । তখনও কোন কিছুই ছিলনা । কিন্তু সমস্যা শুরু হল তার টেস্ট পরিক্ষার সময় । তখন কেবল মাত্র আমাদের ভালবাসার শুরু । মাস খানেক পরে আমাদের দুই পরিবারই টের পেয়ে যায় আমাদের সম্পর্কের কথা । আমার বাবা আমাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন , তাকে ছেড়ে না দিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে । কিন্তু আমি নিষেধ মানতে পারিনি ।
সে আমাকে বলেছিল , চল আমরা কোথায়ও পালিয়ে যাই । প্রথমে তাকে না করে দেই আমি । বলি এটি সম্ভব নয় , কিন্তু সে ছিল নাছোড়বান্দা । অবশেষে তার এইচ এসসি ফাইনাল পরীক্ষার পরে আমরা পালিয়ে কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করি । নিজের বাড়িতে ঠাই হবেনা জানতাম তাই সোজা তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যায় । সেখানে আমার ফুফুর বাড়িতে উঠি । ফুফুকে দিয়ে বাবাকে বোঝানর ব্যার্থ চেষ্টা করি । বাবা কোন ভাবেই মেনে নেন নি আমাদের এই বিয়ে । আর কোন উপায় না দেখে সেখানেই রয়ে যাই । অনার্স পাস হবার কারণে সেখানের একটি হাই স্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ পাই আমি । আর আমার স্ত্রী ফারহানাও বসে ছিলনা । সেও একটি প্রাইমারী স্কুলে ছোট বাচ্চাদের পড়াতো । ফুফুদের বাড়ির পিছন দিকে নদির মুখোমুখি যে বাংলোটি ছিল সেটাতেই আমাদের আশ্রয় হয়েছিল । সে মাঝে মাঝে ফুফুকে কাজে অনেক সাহায্য করত । আর আমার ফুফু ভেবেই পেতেন না কেন এই মেয়েটিকে আমার বাবা-মা মেনে নিতে চাচ্ছিলেননা । প্রথম কয়েক মাস অনেক কষ্টে ছিলাম আমরা । কিন্তু আমাদের দুজনের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে তা দূর হয়ে গিয়েছিল । আমি যতটুকু ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি পরিশ্রম করত ফারহানা । সবই ছিল প্রখর ভালবাসার কারণে ।
রাতের বেলা আমরা মাঝে মাঝে নদীর তীরে বসে দুজনে মিলে পরিকল্পনা করতাম আমাদের নিজেদের একটি বাড়ি হবে নিজেদের সবকিছু থাকবে । সে জানতো এই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়া এত সহজ নয় তবুও সে সবসময় আশা করত একদিন ঠিকই আমাদের সব হবে । সে বলত , একদিন আমরা দুজন মিলে গিয়ে আমার বাবা- মার কাছে মাফ চাইব । হয়তো সেদিন তারা আমাদের মাফ করে দিবেন ।
এভাবে কেটে যায় প্রায় বছর দুয়েক দেখতে দেখতে । আমাদের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছিল হয়তো আমাদের স্বপ্ন গুলোও পূর্ণ হতো এক এক করে । কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস , সেবার প্রথম বারের মত মা হতে গিয়ে আমার ভালবাসার বাধন ছিন্ন করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় সে । তার ইচ্ছে ছিল প্রথমে আমাদের একটি মেয়ে হবে , তার নাম রাখবে তার নামের সাথে মিলিয়ে ফালিহা । তার এই ইচ্ছেটি পূর্ণ হয়েছিল মেয়েই হয়েছিল আমাদের নামও রেখেছিলাম ফালিহা ।
আজ প্রায় চারমাস হলো আমি ফারহানাকে হারিয়েছি । ফালিহা নামের আমার রাজকুমারি বিছানাতে শুয়ে থাকে রাতে কিন্তু সে শুধু খুজে পায়না তার মাকে । সবাই বলে ফালিহা দেখতে নাকি ওর মায়ের মতই হয়েছে ।
ফারহানার মৃত্যুতে আমি কাঁদিনি । কাঁদতে পারিনি । শুধু মনে হয়েছিল আমার বুকের একটি অংশ ছিরে চলে গিয়েছে । কিন্তু আজ রোজ রাতে কান্না আসে ফালিহাকে কোলে নিয়ে যখন রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি । আমার মনে হতে থাকে এই দূর আকাশের কোথাও রয়েছে সে । তখন অদম্য কান্না ভর করে আমার চোখে । আমার এই চোখের পানির অর্থ ফালিহা বুঝে কিনা জানিনা । হয়তো একদিন সে বুঝবে ।
আমার বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন এবং আমাকে বলেছিলেন তুমি তোমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে চলে আসো । কিন্তু আমি সেই গ্রামের বাড়ি ছেড়ে আজও আবার শহরে যাইনি । আসলে ফারহানার সাথে আমার সব স্মৃতি যে এখানেই রয়ে গিয়েছে । ফারহানার বাবা মাও তার মৃত্যুর কথা শুনে এসেছিলেন সবাই ফিরে গিয়েছেন কবর দেবার পরই । এখনও অনেক রাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় যেন মনে হয় তার আত্মা বাড়ির আসে পাশে ঘুরছে আমার জন্য । আমি ফালিহাকে কোলে নিয়ে বের হয়ে আসি কিন্তু খুজে পাইনা কাউকে । ঘুমন্ত ফালিহার ঘুম তখন ভেঙ্গে যায় সে কান্না শুরু করে আমি ওকে নিয়ে আবার ফিরে গিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেই । ফালিহা হয়তো কোনদিন জানতেও পারবেনা ওর মা আসলে দেখতে কেমন ছিল । আমি নিজেও এখনও জানিনা ওর মা থাকলে ওকে যতটুকু ভালবাসত আমাদের কন্যা হিসেবে আমি ততটুকু পারব কিনা কিন্তু তার চেয়ে কম ভালবাসব না ।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


বলার ধরন ভালো লাগেনাই, প্রতিবেদন টাইপ লাগছে।

মিনহাজ আহমেদ's picture


মন্তবের জন্য ধন্যবাদ । আপনার কি মনে হয় গল্পটা থার্ড পারসন হলে ভাল হতো । ?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


খুব সম্ভবত ফার্স্ট পার্সনে লেখা বলেই অড লাগছে। আর ঘটনার ঘনঘটা ছোটগল্পের তুলনায় একটু বেশি হয়ে গেছে হয়তো বা।

তানবীরা's picture


গলপ? তাহলে ঠিকাছে।

মিনহাজ আহমেদ's picture


হ্যাঁ গল্পই । ধন্যবাদ ।

প্রিয়'s picture


পড়লাম। Smile

মিনহাজ আহমেদ's picture


THNX

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মিনহাজ আহমেদ's picture

নিজের সম্পর্কে

নিজের সম্পর্কে তেমন কিছুই বলার নেই । আমি আগে আমার ব্লগে অনেকদিন ধরে লিখতাম এখনও লিখছি । অন্য ব্লগে আমার যাত্রা এই প্রথম । আমি একজন সাধারণ মানুষ । খুব সাধারণ ভাবে চলাফেরা করি ।