২৮ দিনের অন্য রকম জিন্দেগী (আখেরী পর্ব)
নাইট কোচে করে রাত ১ টার দিকে এসে মিলনদের বাড়িতে পৌঁছলাম। খালাম্মারে কৈলাম, ভাত দিতে। বাসায় যা ছিলো তা দিয়া খালাম্মা ভাত দিলেন। খাইতে বইসা টের পাইলাম, ম্যালা ক্ষিধা পাইছে। বিয়া করুম এই টেনশনে সারাদিন বিড়ি ছাড়া আর কিছু খাই নাই। হায়রে বিয়া...। মাইয়াটা এইভাবে আমারে ধোকা দিতে পারলো ? আল্লাহ, তুমি মাইয়াটার বিচার কৈরো। বছর বছর ওর যেনো একটা কৈরা পোলাপাইন হয়, এই বদ দোয়া দিয়া ঘুমাইতে গেলাম। ঘুম আর আসে না। মুন্নিরে লৈয়া আমার এখন থাকনের কথা বাসর ঘরে... আর আমি কীনা ! দুঃখের চোটে চোক্ষে পানি আইসা গেলো। দোস্ত মিলন আমারে শান্তনা দিলো। কখন যে ঘুমাইছি, টের পাই নাই।
দুই দিন মিলনদের বাড়িতে থাইকা হাঁপাইয়া উঠলাম। কোনো কাম নাই। মনটা উদাস। কী যে করি ? মিলনের লগে পরামর্শ করলাম, কী করা যায়। ১০ ক্লাস পাশ আমি। ১২ ক্লাসের পরীক্ষা দিছি। এই আমারে কে চাকরী-বাকরী দিবো। ঢাকায় যাওন যাইবো না। বড় ভাই কট কৈরা ফালাইবো ! এই ভাবে আর কতদিন বাসা থেইকা পালাইয়া থাকুম ? বাপ-মায়ের প্রতি প্রচন্ড অভিমান হৈলো। ছোট বোনটার জন্য মন পোড়ে। কী করুম আমি ? রাইতে শুইতে গিয়া মিলন ভয়ে ভয়ে একটা প্রস্তাব দিলো। ওর খালার বাড়িতে একজন লজিং মাস্টার লাগবো। আমি রাজী থাকলে সেই বাড়িতে আমার থাকনের ব্যবস্থা কৈরা দিতে পারবো। সারাজীবন শহরে থাকা এই আমি জানিনা, লজিং মাস্টার কী জিনিস ! মিলনের কাছে জানতে চাইলাম। সে বললো- তার খালার ৩ মেয়ে, ২ ছেলে। বড় দুই ছেলে ঢাকায় চাকরী করে। ২ জনরেই আমি চিনি। খালার ৩ মেয়ে আছে। যথাক্রমে ১০ ক্লাস, ৬ ক্লাস আর ২ ক্লাসে পড়ে। ছোট ২ টারে সকাল আর সন্ধ্যায় পড়াইতে হৈবো। বিনিময়ে আমার থাকা খাওয়া ফ্রি...। আমি রাজী হৈলাম। পরদিন থেকে শুরু হলো আমার নতুন জীবন। লজিং মাস্টারের জীবন। নিজের জামা-কাপড়ের ব্যাগ নিয়া মিলনের খালার বাড়িতে গিয়া উঠলাম। মিলনের আম্মারে কিছুই কৈলাম না।
আমার থাকনের জায়গা হৈলো ওদের বাড়ির বাইরে কাছারি ঘরে। সেখানে বাড়ির হুজুর থাকে। হুজুরের সাথে আমারে শেয়ার কৈরা এক চৌকিতে থাকতে হৈবো। আপাতত বিছানা বালিশ লাগবো না। ২ বোন এসে আমারে সালাম জানাইয়া গেলো। সন্ধ্যায় পড়তে আইবো। ৬ ক্লাসেরটার নাম রোকসানা আর ২ ক্লাসেরটার নাম কাওকাবা। এইটা যে কিরাম নাম আল্লাহ জানেন ! দুপুরে মিলনসহ তার খালার বাড়িতে খাইলাম। আমারে একলা থুইয়া মিলন বিকালে তার বাড়িতে চলে গেলো। ওকে বলে দিলাম আমাদের বাসা থেকে কেউ এল যেনো না বলে, আমি কোথায় আছি। সন্ধ্যায় হারিকেন হাতে কৈরা ২ বোন পড়তে আসলো। জীবনে কোনোদিন টিউশনি করিনি আমি। জানিনা, কী করে পড়াতে হয় ! প্রথম দিন ঘন্টাখানেক গল্প-টল্প করে কাটিয়ে দিলাম। ওরা চলে গেলো বাড়ির ভিতরে। রাত নয়টার মত বাজে। খাবারের জন্য ডাকে না। এদিকে আমার তুমুল ক্ষিধা পাইছে। সাড়ে নয়টার দিকে তাদের কাজের ছেলে আমার জন্য খাবার নিয়া আসলো। একটা বড় বোলে করে ভাত, ২ টা বাটিতে তরকারী। জগে পানি। সাথে একটা গ্লাস। আমিতো টাশকি ! লজিং মাস্টাররে যে এইভাবে খাইতে দেয় এইটা জানা ছিলো না। অনেকক্ষণ ঝিম মাইরা বইসা রইলাম। শেষে আর কী করি, মনের দুঃখে খাইয়া নিলাম। কিছুক্ষণ পর কাজের ছেলে এসে থালা-বাটি নিয়ে গেল।
তো, এইভাবে চলতে লাগলো আমার লজিং মাস্টারের জীবন। সকালে আর সন্ধ্যায় ২ বোনরে পড়ানো ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নাই। সারাদিন শুয়ে থাকি। সন্ধ্যায় ছাত্রীদের পড়ানো শেষ হলে- খাবার শেষ করে আমি ওদের পুকুর পাড়ে পাকা ঘাটে বসে থাকি। একটা একটা করে সিগারেট পোড়াই। অনেক রাতে ঘুমাইতে যাই। মাঝে মাঝে মিলন আসে। ওর সাথে এদিক সেদিক ঘুরতে যাই। আমার কোনো পরিচিত লোকজন নেই। কার সাথে সময় কাটাবো ? ছোট বোনটাকে বর্ণ, শব্দ এইসব শিখাই। বড়টারে স্কুলের পড়া দেখাইয়া দেই। ২ ছাত্রীর মধ্যে বড়টা বেশ দুষ্ট প্রকৃতির। ছোটটা চুপচাপ। বড়টা প্রায়ই ছোটকে মারে। খামচি দেয়। ছোটটা আমার কাছে নালিশ দেয়। আমি কী বিচার করবো। বড়টারে বুঝানোর চেষ্টা করি। চুপ চাপ শুনে। পরদিনই আবার ছোটটারে মারে। একদিন বড়টারে খুব করে বকলাম। কিছু না বলে বই খাতা বগলদাবা করে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো। বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের কাছে নালিশ দিলো আমার বিরুদ্ধে। আমার কাছে আর পড়বে না। মা মাইর দিলো বড়টারে। বড়টা রাগের চোটে মাইর দিলো ছোটটারে। সব দোষ নাকী ছোটটার !
একদিন হৈছে কী, ছোটটারে লেকতে দিছি এ বি সি ডি...। সময় দিলাম ১৫ মিনিট। সময়ের আগেই লেখা শেষ করে আমার কাছে জমা দিলো। কৈলাম, গুড ! খুব সুন্দর কৈরা লেকছে। খালী ইংরেজি আর শব্দটা লেখে নাই। বিষয় কী, ভুলে গেছো ? কোনো কথা বলে না। আবার জিজ্ঞেস করলাম, আর লেখো নাই কেনো ? এইবারও চুপ মাইরা রৈলো। মেজাজ খারাপ কৈরা একটা ধমক দিলাম। ধমকের চোটে এইবার জোরে কান্না শুরি কৈরা দিলো। সব্বোনাষ ! বললাম, ঠিকাছে কাঁদতে হবেনা। আবার লেখো। চোখ মুছতে মুছতে খাতা টেনে নিয়ে আবার লেখা শুরু করলো। লেখা শেষ করে খাতাটা বাড়িয়ে দিলো আমার দিকে। আবারও একই ঘটনা। আর লেখে নাই। ধমক দিতে গিয়াও দিলাম না। ঠান্ডা গলায় বললাম, তুমি আবারও আর লেখো নাই কেনো ? সে কোনো কথা বলে না। তুমি কী আর লেকতে পারো না ? জবাব দেয় না। বড়টারে বললাম, রোকসানা ব্যাপার কী ? ও কী আর লেকতে পারেনা ? ওকে জিজ্ঞেস করোতো। রোকসানা বললো, স্যার কাওকাবা আর লেকতে পারে। কিন্তু লেকবে না। কেনো, লেকবে না কেনো ? কারন, আমিতো তারে মারছি... । তাতো বুঝলাম, কিন্তু তোমার মাইরের সাথে আর না লেখার কী সম্পর্ক ? স্যার, আমি জীবনেও কোনোদিন আর লেখবোনা। এবার ছোটোটা মুখ খুললো। কেনো, লেখবে না কেনো ? লেখবো না, কারণ আপা সবসময় আমারে মারে কেনো ? তার নামতো আর দিয়ে সেইজন্য আর লেখবো না...।
এইভাবে আনন্দ বেদনায় সেই বাড়িতে আমার ২৮ দিন কেটে গেলো। ২৯ দিনের মাথায় আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সেই বাড়ি থেকে। যাবার পথে খালাকে বলে গেলাম, খালা যাই। দোয়া কৈরেন। ২ ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে আদর করে দিলাম। তোমরা ঝগড়া করবা না, নিয়মিত পড়াশুনা কৈরো... ভালো থাইকো...। বেরিয়ে পড়লাম আবার রাস্তায়। অজানার পথে। জানিনা, এইবার কোনদিকে যাবো...।





এইখানো তো কোন প্রেম হলো না
প্রেম হওনের কতা ছিলো ?
কতগুলা প্রশ্নের উত্তর পাইলাম না।
১.
এইটা একটু খোলাসা কইরা যদি কইতেন!
২. ১০ ক্লাশে পড়া বড়টার কথাও তো কিছু কইলেন না।
৩. ২৯ দিনের মাথায় হঠাৎ কি হইলো যে রওয়ানা দিয়া দিলেন?
৪. হঠাৎ কইরা শেষ কইরা দিনে যে?
৫. মুন্নীর মাথায় ম্যালা বুদ্ধি। বাইচা গেছে
১. লজিং মাস্টারের বিছানা বালিশ নিতে হয়। আমার লাগে নাই। কারণ, আগে থেকে হুজুরের সেটা ছিলো
২. সব কৈতে হৈবো ক্যান ? বুঝেন্না ?
৩. কিছুই হয় নাই। মন টিকতেছিলোনা। হেল্লাইগা সেই বাড়ি ছাড়লাম
৪. লেকা বড় হৈয়া গেছিলো। তাই শেষ করলাম
৫. মুন্নির মাথায় ম্যালা বুদ্ধি... আপনে বুঝলেন কেমনে ?
১. তারমানে হুজুর আর আপনে এক চৌকিতেই থাকতেন? সেইটার কোনো স্মৃতি নাই? নাকি কইতে চাননা?
২. আপনার লগে ভাগে নাই....মুন্নীর মাথায় যে ম্যালা বুদ্ধি এইখান থাইকাই বুঝা যায়।
৩.
ঘটনা যদি এরম হয় তাইলে মন টিকলো না কেন? কাহিনী কি?
ধরা খাইছিলেন? কার কাছে? কেউ কিছু দেইখা ফালাইছিল?
হুজুর কি চাঁটগাঁয়া আছিলো ?
হা হা হা হা হা
না, না, হুজুরের বাড়ি চাটগাঁ ছিলো না.... নোয়াখালী ছিলো
হাসতে হাসতে নাঁকে পানি
মাসুম ভাই এর ১ আর ২ নং প্রশ্নের উত্তর দিলেই হৈব। বড়টার কথা কিছু কইলেন না কেন? আসার সময় খালি ছোট দুইটারেই জড়িয়ে ধরলেন?বড়টা কি দোষ করছে? সে কুনুদিন আদর পাইলো না? আপনেরে তো মাইনাস দিতে মন্চাইতাছে।
বড়টা কি দোষ করছে? সে কুনুদিন আদর পাইলো না?
আহারে, বেচারি বড়টা ! মায়া হয়, তার জন্য...
ধুর এইডা কি হইলো ? ভাবলাম বড়টারে স্কুলের শিক্ষার পর প্রেম বিষয়ক শিক্ষা দিবেন হয়্তো ..................
আপনের মত বুদ্ধি থাকলে তাই করতাম...
আমি আরও ভাবছিলাম আপনের না যাওয়ার জন্য কেউ কেউ কান্নাকাটি করবো, একটা পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবির আবহ দেখা যাবে। তা না হইয়া পুরা ভালো লোকের গল্প হইলো
আমিতো ভালো লোকই....
তয় লজিং মাস্টারের অভিজ্ঞতা রিয়েলি অন্যরকম...
এই ২৮ দিন আমার জীবনের অন্যরকম স্মৃতিময়...
মাসুম ভাই আপনেরে হাবলু প্রমান করার লাইগ্যা উঠেপড়ে লাগছে। খ্যাক। খালি মুন্নীর বুদ্ধির তারিফ করে।
মাসুম ভাইয়ের মতন উস্কানীদাতা মানুষ আমার জীবনে আমি দ্বিতীয়জন দেখি নাই...
এই লোকটার শাস্তি হওন দরকার...
আমি আবার কি করলাম?
না, না, আপনি আবার কী করবেন ? আপনিতো শুধু গুড় লাগাইয়া দিছেন...!!!
২৮দিনের অন্যরকম জীবনের পরে কি হইলো? আবার আগেরমতো জীবন?
আবার বাউন্ডুলে জীবন... আবার যাযাবর আমি
এই পর্বটা অসম্পূর্ন মনে হইতেছে। কোন ঘটনা বাদ পড়ছে কিনা মনে করে দেখেন তো!
মাসুম ভাইয়ের মতন উস্কানীদাতা মানুষ আমার জীবনে আমি দ্বিতীয়জন দেখি নাই...
আপনিওতো দেখি মাসুম ভাইয়ের মত উস্কানী দিতাছেন। আপনার শাস্তিও দাবী করুম কীনা বুঝতাছিনা ...
আজব কারবার। লোকজন আপনার কাছে ঘটনা জান্তে চায়। কইলেই পারেন। খামাখা ধমকাধমকি করতাছেন।
ঘটনা না, অন্যকিছু ? তোমার এত আগ্রহ ক্যান, কওতো ??
আজব তো! আমি পাঠক না?আমি তো মন দিয়া পড়ছি। আমার মনে প্রশ্ন আসে আমি জানতে চাইব না? যে কোন পাঠকের প্রশ্নের উত্তর দিবেন না?
স্বর্বস্বত্ব লেখকের নিজের। তার লেখার দায়-দায়িত্বও তার। তার লেখার বিষয়বস্তু নিয়া সে কোনোরুপ ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত দিতে ইচ্ছুক নয়... অতএব, তোমরা যতই প্যাঁচাও, কোনো লাভ হৈবেন লাই...
আমরা জান্তে চাইছি। আপনি যদি কইতে না চান কি আর করা।নিজের মত কইরা ভাইবা নিতে হবে।
যাই হোক। বড় মাইয়ার কথা কিছু বলেন। তার সাথে ২৮ দিনে কুনু কথাবারতাও হয় নাই?
লেখক হিসাবে আপনার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হয় নাই। কেন আপনারে খিচুরি জরিমানা করা হইবে না কারণ দর্শান।
আমাকে খিচুড়ী জরিমানা করা যাইতে পারে... এই ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নাই। আপনিতো জানেন, আমি কাউরে না বলতে পারিনা।
ঠিকাছে। জানলাম। অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা হবে।অনেকদিন খিচুরী খাই না---- এইটা টুটুল কইতে কইছে।
আহা ! বৃষ্টির দিনে গরুর ভুনা গোশত আর খিচুড়ি (আমগো ক্যাফেটেরিয়ায় খাইতে গেলাম...)
কাউরে না কইতে পারেন না। হুজুর জানতো এইটা?
যাইতে যাইতে যাইতে যাইতে আইয়া পরছেন এই আমাদের আমরাবন্ধু ব্লগে।
হ রে ভইন, যাইতে যাইতে শেষে এবিতে...
১০ ক্লাস, ৬ ক্লাস আর ২ ক্লাসে পড়ে।
৬ ক্লাসেরটার নাম রোকসানা আর ২ ক্লাসেরটার নাম কাওকাবা
১০ ক্লাস এর নাম কৌশলে না লেখার জন্য আপনাকে মাইনাস
জমিদার সাব, ১০ ক্লাসেরটার নাম কৈ নাই, কারণ নামটা আমার বড় পছন্দ হৈছে... হের নাম লামিহা... মাশাল্লাহ, দেখতে শুনতে বালাই আছিলো মাইয়াটা...
ঘটনা কি চট্টগ্রামে? অথবা , হুজুরের বাড়ি কি চট্টগ্রামে ? অথবা, আপনে ঘটনা বিস্তারিত বলেন নাই মনে হচ্ছে।
নারে বিমা, ঘটনা লক্ষীপুরে, হুজুরের বাড়ি নোয়াখালী। তয় ঘটনার বিস্তারিত বলা হয় নাই এইটা সইত্য...
দিলে কুনু বেদনা রাইখেন না ভাইডি। কি কি হৈছে সব খুইলা কন। লামিহা আফা, হুজুর.. সবার কথা কন। আপনের বিদায় নেবার ঘটনায় এদের কি কুনু ভুমিকা ছেলু?
অবশ্যই ভূমিকা ছেলু। আপনি কেবা কইরা বুঝলেন, ভাইডি ?
শ্যাষ?? আফসুস খাইলাম।
শ্যাষ হৈয়াও হৈলোনা শ্যাষ !!
খুব মজা পেলাম, কাহিনীর চেয়ে কমেন্টগুলো বেশি জোস্।
এই কাহিনী কিছুতেই এখানে শেষ হতে পারে না না না না না
মন্তব্য করুন