ইউজার লগইন

বৃষ্টিতে আর ভেজা হয়না

এক সময় খুব বৃষ্টিতে ভিজতাম। বাসা থেকে বেরিয়ে পড়তাম দুজনে। ঘন্টা হিসাবে রিকশা নিতাম। ঘন্টা ২৫/৩০ টাকা। ঝাউতলা থেকে পুলিশ লাইন, রেসকোর্স, শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ড পেরিয়ে ডানে মোড় নিতাম। ব্রাক্ষনপাড়া/বুড়িচংয়ের রাস্তায় কিছুদুর গেলেই গোমতি নদী। নামেই নদী। খালের চেয়ে সামান্য বড়। ভরাট হয়ে গেছে সেটা। দুপাশে আবার দখলও হয়েছে। বর্ষাকাল হলেও সামান্য পানি থাকতো তাতে। তার পাশ দিয়ে রিকশা নিয়ে ছুটতাম। চুপচাপ তার হাত ধরে বসে থাকতাম। গল্প করতাম। হঠাৎ করে গলা ছেড়ে বেসুরো গলায় গান গাইতাম। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো সে। ঠান্ডার বাহানায় সেঁটিয়ে আসতো আমার দিকে। কদাচিৎ এদিক সেদিক তাকিয়ে জড়িয়ে ধরতো আমায়...

তখন নিয়মিত মোটর সাইকেল চালাতাম। কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর, ব্রাক্ষনবাড়িয়া, ফেনী, দাউদকান্দি, নোয়াখালী এলাকা চষে বেড়াতাম। কোনো কোনো শুক্রবারে বেরিয়ে পড়তাম মোটর সাইকেল নিয়ে। সেরকম একবার শুক্রবারে নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম দুজনে। এদিক সেদিক ঘুরলাম। হঠাৎ তার মনে হলো- চৌদ্দগ্রাম যাবে। এত জায়গা থাকতে চৌদ্দগ্রাম কেনো ? আমার জানা মতে সে এলাকায় আমাদের কোনো পরিচিত বা আত্মীয় নেই। বললো, ছোটবেলার তার এক বান্ধবীর বাড়ি সেখানে। ও প্রমিজ করিয়েছে, সময় পেলে যেনো তার বাড়িতে যায়। বান্ধবীটি কে, বললো সালমা। আরে ওকেতো আমিও চিনি। নো প্রব্লেম, চল। কান্দিপাড় থেকে ডানে মোড় নিয়ে বিশ্বরোডের রাস্তা। টমছমব্রিজ পেরিয়ে বিশ্বরোড। তারপর ঢাকা চট্টগ্রাম বিশ্বরোড ধরে চৌদ্দগ্রাম। বাজার থেকে ৫/৬ কিলো ভিতরে সালমাদের বাড়ি। কী সুন্দর গ্রামের রাস্তা ! পথে ২/১ জনকে বলতেই সরকার বাড়ির রাস্তা বাতলে দিলো। এক্কেবারে সালমার ঘরের উঠানে। মোটর সাইকেল থেকে আমাদের নামতে দেখে দৌড়ে এল সালমা। এতটাই অবাক হয়েছে... বেচারি ! দুই বান্ধবীর কত কী কথা, শেষই হয়না। এর মধ্যে নাস্তা, দুপুরের খাবার সব আয়োজনও করলো। বিকেল হয়ে গেছে। এবার ফিরতে হবে। আবার আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম...

গ্রামের রাস্তা পেরিয়ে আবার চৌদ্দগ্রাম বাজারে। এবার টেস্ট করার জন্য বললাম- এদ্দুর যেহেতু এসেছি চল, ফেনীতে যাই ! ইয়াসমীন আপার বাসায়। দেখলাম, তার আগ্রহের কমতি নাই। বায়ে না যেয়ে মোটর সাইকেল ঘুরালাম ডানে। ফেনীর দিকে। ইয়াসমীন আমার কাজিন। ফেনীতে থাকে। ডাক্তার পাড়ায় বাসা। চৌদ্দগ্রাম থেকে ২৫/৩০ মিনিটের রাস্তা। মহিপাল থেকে বায়ে শহীদুল্লাহ কায়সার রোড ধরে এগুলাম। আবার বায়ে ডাক্তার পাড়া। ইয়াসমীন আপাতো আমাদের দেখে থ। একচোট গালাগাল দিলেন। নতুন বৌ নিয়ে এভাবে কেউ আসে, জানিয়ে আসতে পারলি না ? ইত্যাদি ইত্যাদি ...। মুখে যাই বলুক, খুব যে খুশী হয়েছেন আমাদের দেখে- সেটা তার আচরনে বুঝা যাচ্ছিল। কী করবেন, কী খাওয়াবেন... ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আপা। বললাম, আপা স্রেফ চা খাবো। তারপর চলে যাবো। ক্ষেপে উঠলেন এবার। এমন ভাবে তাকালেন আমার দিকে... বৌকে বললেন, এই বাদাইম্মারে ক্যামনে যে তুমি বিয়া করলা ? সব্বোনাষ! ইজ্জত যায় যায় অবস্থা। আমার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারা করে ঝট করে আপারে বললো- বাদাইম্মা জেনেই ওকে বিয়ে করেছি আপা...। আপা আর কী বলবেন ! অবশেষে বিভিন্ন পদের নাস্তা খাইয়ে তবেই আপা ছাড়লেন। সন্ধ্যা হয় হয় অবস্থা। আকাশের অবস্থাও ভালো না। আপার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোন্ডা ছুটালাম কুমিল্লার উদ্দেশ্যে।

মহিপাল পার হয়ে ডানে মোহাম্মদ আলী বাজার। এ বাজার পার হবার পরেই শুরু হলো বৃষ্টি। যেনো-তেনো বৃষ্টি নয়, এক্কেবারে কুত্তা-বিলাই বৃষ্টি। রাস্তার পাশে থামাতে চাইলাম। সে বললো, থামানোর দরকার নাই। চল, এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। বাসায় চিন্তা করবে। বাসায় ছোট ভাই, ছোট বোন আর আব্বা। ছোট বোনকে বলে এসেছি ফিরতে দেরি হলেও চিন্তা করিস না। আব্বাকে ম্যানেজ করিস। এতটাই জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল যে, সামনের রাস্তা ভালো করে দেখাও যায় না। তার উপর হেলমেট পরা। এদিকে বেচারী বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডায় কাঁপছে। হেলমেটটা খুলে ওকে পরতে দিলাম। বললাম, শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে রাত আটটার দিকে বাসায় ফিরলাম। ছোট বোনতো একচোট নিলো। দ্রুত জামা-কাপড় পাল্টে নিলাম। রাতে ভয়ঙ্কর জ্বর এলো দুজনেরই। সেই জ্বরে ভুগলাম ৩/৪ দিন।

আজ কাল আর তেমন করে বৃষ্টিতে ভিজা হয়না। এখন বৃষ্টিতে ভিজতে হয় প্রস্তুতি নিয়ে। বাসায় থাকলে ছেলেদের বুঝিয়ে শুনিয়ে বাসায় রেখে তারপর বেরুতে হয়। সেটাও সম্ভব হয়না। ছেলেরাও ভিজতে চায়। ঠান্ডা লাগবে, জ্বর হবে - এই সব বলেও ওদের বুঝানো যায়না। ফলে বৃষ্টি দেখা হয়, ভিজা আর হয়না। বাইরে থাকলেতো আরো বিপদ। প্রথম চিন্তাটাই হয় মোবাইল ফোন নিয়ে। বৃষ্টিতে যে ভিজবো, মোবাইল ফোনের কী হবে? মোবাইলের এক নম্বর শত্রু পানি। ফলে বৃষ্টি শুরু হলে রেইনকোট পরে নেই (আমার অবশ্য রেইন কোট নেই) বা রাস্তার পাশে কোনো দোকানে/নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ি। আজকাল আমার মনে হয়, মোবাইল ফোন না থাকলে অন্তত বৃষ্টিতে ভিজতে পারতাম প্রাণ ভরে। সেটা রিকশায় হোক আর মোটর সাইকেলেই হোক। মোবাইল ফোনটাই যত নষ্টের গোড়া...। শেষ হয়ে যাচ্ছে বৃষ্টির দিন। কবে যে এই শহরে প্রাণ ভারে বৃষ্টিতে ভিজতে পারবো...?

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

একজন মায়াবতী's picture


ফোনটা বাসায় রেখে গিয়ে ভিজতে পারেন। Big smile

মেসবাহ য়াযাদ's picture


অত ঘটা করে , প্ল্যান করে আর ভেজা হয়না Sad

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


য়াযাদ ভাই, মোবাইল ফোনটা পলিথিনে ভরে পকেটে রেখে, নেমে পড়ুন।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আইডিয়া খারাপ না Wink

সামছা আকিদা জাহান's picture


খুব ভাল লাগলো পড়ে। মনে হচ্ছে যেন এক্ষুনি বৃষ্টিতে নেমে পরি। ভিজে যাক মোবাইল ভেসে যাক সব।

মোবাইল কেড়ে নিয়েছে ব্যাক্তিগত সময়।

সবচেয়ে বিরক্তি লাগে বস যখন জিজ্ঞাস করে কোথায় আপনি??

মেসবাহ য়াযাদ's picture


Smile Laughing out loud Big smile

Sad

Crazy

লীনা দিলরুবা's picture


ফেনী, ডাক্তার পাড়া, মহিপাল... এই পোড়া শহরে বসে এসব পড়লে কেমন লাগে Sad
মোবাইল ফোনের জন্য বৃষ্টিতে ভিজতে পারছেন না! এইটা কোন ব্যাপার! এটারে ফালায় দেন তারপর ইচ্ছেমত ভিজেন, তারপরের টা তারপর দেখা যাবে Smile

মেসবাহ য়াযাদ's picture


হরে বইন, এই সব স্মৃতির জাবর কাইটাইতো জীবনটা কাটাইতেছি Big smile

আপন_আধার's picture


আমি'তো পকেটে সবসময় একটা মোবাইল সাইজ পলিথিন রাখি, বৃষ্টি আইলেই পলিথিনের মধ্যে মোবাইল ঢুকাইয়া বিসমিল্লাহ কইয়া নাইম্মা পরি Laughing out loud

১০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


বিসমিল্লাহ Smile

১১

মাহবুব সুমন's picture


হুক্কা মটর বাইকে দুইজনেরই হেলমেট পড়া উচিৎ

১২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ঠিক কতা কৈছেন Wink

১৩

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


স্যামসাং ওয়াটারপ্রুফ ক্যাম্রা বানাইছে, মোবাইল ক্যান বানায় নাই কে জানে!
এইটার দরকার তো সবচাইতে বেশি Puzzled

১৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ব্যাটাগো মাতায় বুদ্ধি নাই Crazy

১৫

কামরুল হাসান রাজন's picture


চৌদ্দগ্রামের কোন গ্রামে গেছিলেন? লেখা ভাল লাগছে Smile

১৬

মেসবাহ য়াযাদ's picture


গ্রামের নাম মনে নাই। তবে সেটা চিওড়া কাজী বাড়ির সামনে দিয়ে পশ্চিমে ৩/৪ মাইল- সেইটা মনে আছে। বাড়ির নাম সরকার বাড়ি Tongue

১৭

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আপনের বাড়ি কি ১৪ গ্রাম এলাকায় ?

১৮

কামরুল হাসান রাজন's picture


আমার মায়ের নানীবাড়ি ওখানে, খাটোরাতে। বেশ কয়েকবার গেছি, বর্ণনা শুনে চেনা চেনা লাগতেছিল তাই জানতে চাইলাম Smile

১৯

আশফাকুর র's picture


ইয়জাদ ভাইয়া, বৃষ্টি হৈলে মুদির দোকানে যাইবেন। এক প্যাকেট বিস্কুট আর একটা মাঝারি চানাচুর কিনবেন। ঐ গুলা হাতে নিবেন। আর মুদি যে ব্যাগ দিব ঐটাতে মুবাইল প্যচায়া রাইখ্যা নাইম্যা যাবেন। পার্টি পার্টি Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

২০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মনে থাকবো আপনার পরামর্শ Big smile Big smile

২১

শওকত মাসুম's picture


বউ একটা পাইছিলেন। আপনে তো পুরাই বাদাইম্মা। নতুন বিয়ার জোসে ভাবী তখন এর অর্থ বুঝতে পারে নাই। এখন বুঝতাছে

২২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


Sad
Crazy

২৩

তানবীরা's picture


আমার মনে হয় আপনার বয়স হয়ে গেছে, রোমান্টিকতায় ভাটা পড়ছে Tongue

এই বয়সে অবশ্য বৃষ্টিতে ভিজাও ঠিক না Wink

২৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


কেমনে বুঝলেন ? Tongue
রতনে রতন চেনে Wink

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।