হচ্ছেটা কী এসব ?
শবে বরাতের রাতে ৬ যুবককে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে গ্রামবাসী। টেলিভিশনের কল্যাণে দ্রুতই খবরটি জেনে যাই। কেউ বলেছে আসলেই ডাকাত। ছেলেদের আত্মীয়-স্বজন বলেছে, ওরা ছাত্র আর নিরপরাধ। ঘটনার কিনারা হয়নি। প্রায় সকাল পর্যন্তুই বিভিন্ন টিভিতে খবরটি দেখি। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি- ওরা আসলে ডাকাতি করতে গেছিলো না ঘটনার শিকার। অমিমাংশিত থেকে গেলো দুঃখজনক খুনের ঘটনাটি। বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে ভোরের দিকে ঘুমাতে যাই।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই দরজা খুলি, পেপারের জন্য। বিস্তারিত বা আসল ঘটনা জানা যাবে। দরজা খুলে পেপার না পেয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। এখনও হকার পেপার দেয়নি কেনো ? শুনে ছেলে বললো, বাবা আজ পেপার বন্ধ। তাইতো, আমার কেনো মনে ছিলো না ? আবার টেলিভিশন চালু করি। এইবার জানা যায় আসল ঘটনা। সাত জনের মধ্যে বেঁচে থাকা এক বন্ধুর বরাত দিয়ে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ছেলেদের দলটি মধ্যরাতে নেশার দ্রব্য কেনার জন্য সে এলাকায় যায়। এলাকার লোকজন তাদের ডাকাত সন্দেহে হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে ছয় ছয়টি তরতাজা ছেলেকে। সাভার থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর গ্রামবাসীকে অনুরোধ করেছে- সবাইকে না মেরে ফেলার জন্য। একজনকে যেনো অন্তত বাঁচিয়ে রাখে। তার কথা শুনেছে গ্রামবাসী। মূমুর্ষ অবস্থায় একজনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। নইলে পুলিশ বেচারারা আসল ঘটনা জানবে কী করে ....???
সারাদিন বাজে একটা অনুভূতি নিয়ে কেটেছে আমার। মাত্র ক'দিন আগে মিরশ্বরাইতে ট্রাক দূর্ঘটনায় মারা গেলো ৪২ ছাত্রসহ ৪৪ জন। গত পরশু মানে শবে বরাতের আগের দিন মাকে হাসপাতালে দেখে ফেরার পথে পান্হ পথে এক কলেজ ছাত্র উপর থেকে মাথায় ইট পড়ে স্পটেই মারা গেলো। সেদিনই সকালে সময় টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক বেলাল মারা গেলেন আইডিবি ভবনের সামনে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায়। বেলালকে আমি চিনতাম সমকালে কাজ করার সময়ে। এক সাথে কত বার যে চা খেয়েছি, আড্ডা দিয়েছি ! সেই বেলাল, যার ফোন নং আমার মোবাইলে এখনও সেফ করা আছে... সেই তরতাজা ছেলেটা নাই হয়ে গেলো ?
আফিস বন্ধ থাকাতে কাল সারাদিন বাসাতেই ছিলাম। দুপুরে খেয়ে ছেলেকে নিয়ে গেলাম কোচিংয়ে। বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত কোচিং। সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ফিরে আসবে সে। ফিরে আসার জন্য রিকশা ভাড়াও দিয়ে আসলাম তাকে। তারপর বাসায় ফিরে শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছিলাম। এর মাঝে এক বন্ধু ফোন করে বললো, তার বাসায় যেতে। আড্ডা হবে। বাইরে হালকা বৃষ্টি থাকাতে নিষেধ করে দিলাম তাকে। শুয়েই ছিলাম। হাল্কা একটু ঘুমও এসেছিলো। ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গলো। তুষার আব্দুল্লাহ ফোন করে একজনের নাম্বার জানতে চাইলেন। দিলাম এসএমএস করে। ক্ষাণিক পরে আবার ফোন। এবার অপিরিচিত নাম্বার থেকে। বিরক্ত হয়ে একবার ভাবলাম, ধরবোনা। আবার কী মনে করে রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে রোদ্দুরের গলা...
বাবা, তাড়াতাড়ি আসো।
তুমি কোথায় ? কী হয়েছে ? চিৎকার করে বললাম...
আমি বনফুল মিষ্টির দোকানের পাশে...আমাকে পুলিশ জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে দিয়েছে...তুমি তাড়াতাড়ি আসো... আর বলতে পারলো না... কাঁদছে রোদ্দুর।
তুমি মিষ্টির দোকানে থাকো। আমি আসছি...
এক লাফে উঠলাম। টেবিল থেকে মোটর সাইকেলের চাবি নিলাম। রোদ্দুরের মা চিৎকার করে উঠলো... ছোট ছেলেটা সবার অবস্থা দেখে আরো জোরে চিৎকার দেয়া শুরু করলো... রোদ্দুরের মাকে বললাম, কিছু হয়নি। বাসায় থাকো। বলেই আমি দ্রুত সিঁড়ি টপকে নিচে রাখা মোটর সাইকেলে উঠে বসলাম। বাসা থেকে ৫/৬ মিনিটের মধ্যেই বনফুলে পৌঁছলাম। ছেলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। পাশের দোকান থেকে ফোন করেছে। সেখানকার ফোনের টাকা পরিশোধ করে জানতে চাইলাম, কী হয়েছে ?
ও যা বললো, তার সারমর্ম হচ্ছে- এই পর্যন্ত আসার পর পুলিশ জোর করে তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে দিয়েছে। ও যতই বলেছে- আমাদের বাসাতো এখানে না, আরো সামনে... পুলিশ তার কোনো কথা না শুনে উল্টা ধমক মেরেছে...।
কোন্ পুলিশ জানতে চাইলাম। পাশের এক পুলিশকে দেখিয়ে দিলো। পুলিশের সামনে গিয়ে জানতে চাইলাম- কী সমস্যা ? মোটর সাইকেলে প্রেস লেখা থাকার কারণে কী না জানিনা, পুলিশ একটু পাত্তা দিলো। বললো, ভাই বুঝেনইতো সরকারি চাকরী করি। হঠাৎ উপর মহল থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এখন থেকে রিকশা আর ফার্মগেট পর্যন্ত যাবে না। সেজন্য সব রিকশা এখানেই আটকে দিচ্ছি। স্যরি ভাই...
কী বলবো পুলিশকে ? হবু রাজার গবু মন্ত্রী...।
ছেলেকে মোটর সাইকেলে তুলে বাসার দিকে রওয়ানা হলাম। গলিতে ঢোকার মুখেই দেখলাম, ছেলের মা ছোট টাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে জল...





সময়টা খারাপ। ভীষণ খারাপ। সাবধানে চলাফেরা করা উচিত। সবার।
সত্যি মীর, ছেলেটা ভয় পেয়েছে। আমাদের পুলিশের যা আচরণ ! বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই বুঝতো রোদ্দুর। আচ্ছা, পুলিশদের জন্য কি কোনো ট্রেনিং (মানে বন্দুক চালানো না...) নাই ? যাতে তারা ব্যবহার/অচরণ এই সব শিখতে পারবে ?
নাই কে কৈলো? বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টাইমে পুলিশের কথাবার্তায়... কাজ কর্মেতো পুরা মুগ্ধ হইয়া গেছিলাম... এতটা ফ্রেন্ডলী আচরন ... অবিশ্বাস্য ছিল
পুলিশের আচরন সত্যি খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ যে মানুষ না, সেটা তাদের আচরনেই বুঝা যায়
ছেলেটাকে আদর।
শিক্ষা নিলেন যে, অচেনা ফোন হলেও ধরতে হয়।
হ, শিখার শেষ নাই
সময়টা খুবই খারাপ। বাসায় ২-৩০টায় ফিরে দেখি বড় মেয়ে ফেরেনি স্কুল থেকে। আরও ১০ মিনিট অপেক্ষা করলাম। পাগল পাগল লাগতে শুরু করলো । রিক্সা ডেকে রিক্সায় চড়ে স্কুলে চলে এলাম দেখি মেয়ে স্কুলের গেট দিয়ে বের হচ্ছে।
এত খারাপ সময় যাচ্ছে যে সামান্য এদিক ওদিক আর সহ্য করা যায় না প্রচন্ড অস্থীরতা আর নিরাপত্তাহীনতা চারিদিকে।
আসলেই, সময়টা বড় খারাপ আর অস্থির...
বেলাল যখ ছাত্র ছিল তখন পার্বতীপুরে আমার বাসায় প্রায়ই আসতো। আমার কলনীটা ওর খুব পছন্দের ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত ছাদের বসে থাকতো। কর্মজীবনে ব্যাস্ততার কারনে দেখা হত খুব কম। ওর বউটা বাচ্চা একটা মেয়ে। আমি ওর লাশ দেখিনি ওর বউ এর সাথে কোন কথাও বলিনি ।আমার স্মৃতিতে সুধুই ভাসছে তার হাসি ভরা মুখ।
ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের মানসিকতা অনুযায়ীই বাকী প্রশাসনের হাল হকিকত চলে...আওয়ামি দুঃশাসনের ছাপ এখন দেশের প্রতিটা স্তরে স্তরে ছড়াইয়া পড়তেছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নাই...
কোনো দ্বিমত নাই
লিন্চিং মব ভয়াবহ জিনিস, সব কিছু লুপ্ত হয়।
তাইতো দেখলাম বস
হঠাত কৈরা সর্কারের মাথাত মাল চাগান দিয়া উঠছে বৈলা মালুম হয়। সেদিন দেখি একগাদা পুলিশ্রে দিয়া, জ্যাম কমানির লাইগা এলিফেং রুডে মল্লিকার দিক থিকা ইস্টাং পেলাজার দিকে চলা রিক্সা বন করাইতেছে। এদিকে মেইন রাস্তার উপ্রে মার্কেটের সাম্নে দুই লাইন কৈরা গাড়ি খাড়ানি থাকে হেতে জ্যাম হয় না...
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ !


পুলিশতো না, এক একটা দম দেয়া পুতুল
সবাই আতঙ্কিত। দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করা উচিত। এ অল্পকদিনে যতো সিভিলিয়ান মারা গেলো তাতে দেশে কোন আইন আছে বলে কে বলবে
সত্যি তাতা, এক একটি দিন। কী যে কাটছে আমাদের !!
পুলিশের আচরণ শিক্ষা নিয়ে অনেক অর্গানাইজেশঈ বার বার কাজ করতে চেয়েছে কিন্তু পুলিশের উপরের মহল এবং সরকারী মহল কখনও সে সব চাননা। তাই বিভিন্ন প্রজেক্ট শুরু হয়ে অচিরেই বন্ধ হয়ে গেছে।
কি আর বলব, শুধু বাচ্চা নয়, নিজেও সাবধানে থাকুন।
ফেসবুক থেকে কপি করে দিলাম। কী করব, আর কিছু মনে আসছে না
যারা পিটুনিগুলো খাই
যার মনে যা চায় তাই করে। শেষে কেবল দর্শক আর অঘটনঘটনপটিয়সীরাই থাকবে। মাঝখান থেকে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ ব্যাপারগুলো হারিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন