বৈদেশ যামু, না যামুনা- ১
বৈদেশ যাইনা অনেকদিন। গরীবের বৈদেশ মানেতো হৈলো ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া। সেই ২০০৯ সালে একবার মালয়েশিয়া গেছিলাম। তারপর দেশের এই মাথা থেকে সেই মাথা, পাহাড় থেইকা নদী, হাওড় থেইকা গাং সবখানে গেছি। খালি বৈদেশ যাই নাই। এইটা একটা বিরাট দুঃখ। আরো দুঃখ আছে। আমার অনেক হলুদ জিনিস আছে। এই যেমন- মোটর সাইকেল, রেনকোট, কলম, সেন্ডেল, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, লাইটার, সানগ্লাস... এইসব কথাবার্তা কৈয়া একটা স্ট্যাটাস দেওনের একদিন পরে আমার প্রিয় মানুষটা মৈরা গেল। তাঁরে লৈয়া তাঁর কন্যাসম স্ত্রী শাওন যা কর্মকান্ড করলো ! রাগে-দুঃখে আর শরমে আমার জান যায়... এই দিকে শাওন বেটির একের পর এক মিথ্যার বেসাতি ...
যাকগা, যা কৈতেছিলাম। বৈদেশ যামু ঠিক করছি আমরা ৫/৬ বন্ধু মিল্যা। ঈদের পরদিন দেশ ছাড়ুম। কোলকাতা, দিল্লী, আগ্রা, জয়পুর হৈয়া টেকা থাকলে বিমানে নৈলে লোকাল বাসে কৈরা আবার ফিরা আসুম। ওই পাড়ে যাওনের পরে সব ব্যবস্থা করবো আমগো কোলকাতার দোস্ত ছোটন। আমগো কাম খালি ওই পাড়ে গিয়া পৌঁছানো। তো বৈদেশ যাইতে হৈলেতো ভিসা লাগবো, নাকি ? সেই ভিসা নেওনের জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন করলাম। পাসপোর্ট জমা দেওনের জন্য আমারে ৪ টা তারিখের অপশন দিছে। আমি ৩১ জুলাই টিক দিলাম। সাথে সাথে পাইয়া গেলাম। ৩১ জুলাই সকাল ৮.৩০ এ। মনে মনে খুশি। এক বিশেষজ্ঞ দোস্তরে প্রিন্টেড ফরমটা দেখাইলাম... ধেখা শেষ না কৈরা সে একটা হাসি দিয় কৈলো- "তোরে ভিসা দিবোনা, চ্যালেঞ্জ..."।
ওর গলার স্বর শুইনা চমকাইয়া গেলাম। ভরাট, আত্মবিশ্বাসী। কৈলাম- "ক্যান দিবোনা, দোস্ত ?"
হারামজাদা কয় কি, সন্ধ্যায় যদি ইফতার খাওয়াছ তাইলে কমু...
আমি জানার লোভে নাকী ছওয়াবের লোভে তারে ইফতার খাওয়াইকে রাজি হৈলাম। অথচ মূর্খ আমি, ফরমটা একবার ভালো করে পড়লেই বুঝতে পারতাম- কী কারনে আমারে ভিসা দিবোনা কৈয়া দোস্তে চ্যালেঞ্জ করছে। ইফতার করাইলাম তারে। সে দেখাইয়া দিলো- এমপ্লয়ি আর এমপ্লয়ার এই জায়গায় আমি ভুল করছি। এমপ্লয়ির পদবীর জায়গায় আমি লেকছি এমপ্লয়ারের পদবী...
পরদিন আবার অনলাইনে ফরম পূরণ কৈরা, ২/৩ বার ভালো কৈরা দেইখা তারপর সাবমিট করলাম। কী ভাগ্য আমার, একদিন পরেও আমি সেই ৩১ তারিখই পাইলাম। লগে যেইসব বন্ধুরা যাইবো থাগোরে কিছু জানাই নাই। ভাবটা এমন, আমার কাছে এইসব কোনো ব্যাপারই না। এইবার আসল কাজ। সাপোর্টিং কাগজপত্র যোগাড় করতে হৈবো। আমি জানি, কাগজ-পত্র মানেতো হৈলো- অফিসের ক্লিয়ারেন্স আর ডলার এনডোসমেন্ট। মানি এক্সচেঞ্জের এক দোস্তরে ফোন দিয়া কৈলাম- " দোস্ত ৪০০/৫০০ ডলার এনডোস করতে হৈবো। কখন আসুম ?"
কৈলো- " আইসা পড়"। গেলাম তার অফিসে। জানতে চাইলো- কোন দেশে যামু। ভারত শুইনা চোখ পিট পিট কৈরা আমার দিকে চাইতে লাগলো। আমি বুঝতেছিনা- হোয়াটস রং...। দোস্তে জানতে চাইলো সর্বশেস কবে ভারতে গেছি। কৈলাম ২০০৬ সালে। সে বললো- "এখন ভারতের ভিসার জন্য এপ্লাই করতে মেলা কাগজ লাগে..."
ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললাম- "যেমন..."
দোস্ত কওয়া শুরু করলো।
১. অনলাইন ফিলাপ করা ফরমের এক কপি
২. ফরমের উপরে, ডান পাশে ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি একটা ফটো
৩. পাসপোর্টের ফটো কপি
৪. অরজিনাল পাসপোর্ট
৫. ডলার এনডোসমেন্টের কাগজ (৩ জায়গা থেকে ডলার এনডোস করা যাবে: নিজের একাউন্ট যে ব্যাংকে, সোনালী ব্যাংকে বা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াতে। কোনো মানি এক্সচেঞ্জে ডলার এনডোস করা যাবেনা)
৬. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি
৭. বাসার ঠিকানায় আপনের নামে আসা একটা ফোন, বিদ্যুৎ বা পানির বিলের কপি
৮. ৩ মাসের ব্যাংক স্টেমেন্ট
৯. যে প্রতিষ্টানে জব করেন সেখানের অনুমতি পত্র
এতসব কাগজপত্রের কথা শুইনা মেজাজ খারাপ হৈলো। একবার ভাবলাম যামুনা... আবার ভাবলাম, বণ্ধুরা সবাই যাইতেছে... আইজকা সব কাগজপত্র ঠিক করলাম। কাইলকা সকাল ৮.৩০ এ জমা দিতে যামু। কোথায় জমা দিমু ? কেউ কৈলো, দিলকুশায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায়। কেউ কৈলো গুলশান ভারতীয় দুতাবাসে। তৃতীয় পক্ষ কৈলো এই দুই জায়গার এক জায়গায় জমা দিলেই হৈবো। ভাবতেছি.... রাইতের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিমু...
চলবে...





এই জন্যেই সেক্সপিয়ার লিখা গেসলেন...
কি লিখা গেস্লেন ভুইলা গেসি। পরে মনে পড়লে কমুনে
রোজা রমজানের দিনে এইরকম সেক্স জাতীয় শব্দ লেখনের জন্য তেব্র দিক্কার জানাইয়া গেলাম (সেক্সপিয়র না হৈবো শেক্সপিওর)
ইফতার খাওয়ান, কমেন্ট করুম
বিষ্যুদবারে খাওয়ামুতো, এইবার কমেন্ট করেন
তারাতারি সিদ্ধান্ত নেন
সিদ্ধান্ত নিয়া ফালাইছি...
iftar khaoaile amio banglai comnt dimu
বাংলায় কমেন্ট দিতে না পারলে তুমি নাহয় English- এ দেও
এই জন্যেই সেক্সপিয়ার লিখা গেসলেন...
(
কি লিখা গেস্লেন ভুইলা গেসি। পরে মনে পড়লে কমুনে
রোজা রমজানের দিনে এইরকম সেক্স জাতীয় শব্দ লেখনের জন্য তেব্র দিক্কার জানাইয়া গেলাম...
(শব্দটা হৈবো কিন্তু শেক্সপিওর)
বৈদেশ যাইতে মঞ্চায়।
আমারও
গুলশান ভারতীয় দুতাবাসে।..অত সকালে না গেলেও ক্ষতি নাই...ধীরে সুস্থে যায়েন। আর আপনার ক্রডিট কাডর্ থাকলে সেটার ফটোকপি দেন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে না। ..

এইবার ইফতার করান..
গুলশান ভারতীয় দুতাবাসে যাই নাই। একজনের পরামর্শে গেছিলাম দিলকুশায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াতে। ওখানে সকাল ৯ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ১২ টার সময় কাউন্টারে আসার পর বললো- নামের বানান ঠিক হয় নাই...
ফরমটা ফেরৎ দিয়া দিলো্।
আমারে কিছু বলার সুযোগ না দিয়া কাউন্টারের ওই পাশে বসা হারামীটা "জমা নেবার সময় শেষ" বলে কাউন্টারটা বন্ধ করে দিলো।
আবার ৬ তারিখে যামু, গুলশান ভারতীয় দুতাবাসে...
গুলশানেই যায়েন...তাহলে ইফতার কবে?
হেই কবে বৈদেশ গেছি, ভুইলা গেছি। আপনার যাওনের কতা শুইনা লোভ লাগতাছে, মাগার অফিস ছুটি দিবো না। তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেন।
ক্যান, অফিস ছুটি দিবোনা ক্যান ? ছুটি পাননা ?
আজব কারবার! ব্লগে আইসা ঝিমাই, এখন লুকজন কথা কয় না।
হ, খুব ভোরে ঘুম থেইকা ঊঠার কারনে আমারো ঝিমানী আইতাছে...
iftar koran nai,tai abar english comnt dilam
দোয়া করি ভিসা পায়া যান তারপর নিজেই একটা অফিস খুলেন যে এই খানে নাস্তার/ইফতারী বিনিময়ে হিন্দুস্থানের ভিসা নিয়া আলোচনা করা হয়।
যাত্রা শুভ হোক। মুম্বাই থেকেও পারলে ঘুইরা আইসেন!
শুভকামনা আর বুদ্ধি- পরামর্শের জন্য থ্যাংকু ছোট ভাই
আরে এইসব কাগজ তো সবসময় এমনিতেই হাতের কাছে রাখতে হয়। এগুলা কি কোনো কঠিন কাগজ নাকি? সেইবার আমি কি একটা জায়গায় যেন এ্যপ্লাই করসিলাম। আমাকে বলা হলো স্থায়ী ঠিকানা (আমার ক্ষেত্রে যেটা গ্রাম) থেকে একটা প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে। কি পেইন!
কোথায় পেইন ?
ঘুরে আসেন, তারপর বিত্তান্ত জানাইয়া পোষ্ট দিয়েন
আইচ্ছা
ঘুরে আসে...
~
কী ঘুরে আসে ?
কপাল একটা নিয়ে জন্মায়ছেন দাদা ভাই। সারাবছর ঘুরাঘুরি। ঈমানে কই আপনাকে দেখে হিংসা হয়। আমি বড় হয়ে মেসবাহ হতে চাই।
হ, ঠিকই কৈছো মিয়া। কপাল একখান আমার !
দিনে দিনে কপাল বড় হৈতাছে আর মাথার চুল খালি হৈতাছে...
বুঝ অবস্থা
ইফতারী খাওয়ান তাইলে পোস্ট পড়ুম
পোষ্ট পড়লাম।

ইফতার কই?
পোস্ট পড়ছেন, গুড ।
এই বার দোকানে গিয়া ইফতার খান
খুব ছোটবেলায় একজন আমারে বলছিল, ইনডিয়া কি বিদেশ?
(
কার ছোট বেলায় ? তোমার, না যে জানতে চাইছিলো- তার ?
সেক্সপিয়ার লিখা গেসলেন.---------- কি লিখছেন তা ভুলে গেছি কিন্তু খুসবন্ত সিং এর দিল্লী বইটা ইন্ডিয়ান গাইড হিসাবে কাজ করবে।
খুশবন্ত সিং লাগবোনা।
কোলকাতার এক দোস্ত থাকবে আমাদের সাথে...
গাইড হিসাবে।
আগ্রা, দিল্লী আর আজমীর যাব এ যাত্রায়...
ইন্ডিয়ারে দেখতে পারিনা।
তয় একবার কলকাতায় আনন্দ পাবলিকেশন্স এর দোকানটায় একবার যাইতে মন চায়,
গেলে মনে লয় খুশিতে পাগলই হইয়া যামু!!
মন্তব্য করুন