আজিরা দিনপঞ্জী... ২
আপাতত রিফিউজি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি, এক পরিচিত বন্ধুর বদান্যতায় সপ্তাহের জন্য একটা ঘর পাওয়া গেছে অবশ্য। আশেপাশের জায়গাটা খারাপ না, রাস্তার নাম রিভারসাইড রোড... নদী ঠিক না, তবে নদী থেকে বেরিয়ে আসা একটা খাল মতো জায়গা আছে পাশেই... ওর থেকেই এই নাম।
পরশু হঠাত মন উচাটন করছিলো, ঘরে বসে থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো, ভাবলাম... যাই একটা চক্কর দিয়ে আসি। আমার সেই চির পরিচিত নিরুদ্দেশ যাত্রা... তখন বেলা ছটা... গ্রীষ্মের সূর্য তখনো মাথার উপরেই... তবে শীতের দুপুরের মতো একটু তেরছা আলো দিচ্ছে কেবল। গায়ে একটা শাল জড়িয়ে বেরিয়ে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে দেখি একটা ভাংগাচোরা ব্রিজ, তার পাশ দিয়ে জংলী ফুলে ভরা একটা জায়গা... কিছু না ভেবেই সেই জংগলের ভেতরে হাঁটা দিলাম... হলুদ-সাদা ডেইজি আর টকটকে লাল পপি ছাড়া বাকি ফুলের আর কোনটাই চিনিনা... কিন্তু পুরো জায়গাটাই ফুলে ছাওয়া। হঠাত হঠাত ছেলেবেলার রূপকথার বইয়ের মলাটের ছবির মতো লাগতে থাকে জায়গাটাকে।
এ এক মজার ব্যাপার এইখানে, কেয়ারী করা পরিপাটি ফুলের বাগান যেমন আছে, তেমনি যেখানে সেখানে এইরকম জংগলও বড়ো হতে দেয় এরা, অদরকারী বলে ঝেঁটিয়ে বিদেয় করেনা। আমার সাজানো বাগানের প্রতি একটা কেমন জানি বিতৃষ্ণা কাজ করে... জংগল পেয়ে আমি তো মোটামুটি মুগ্ধ। আর কেমন করে জানিনা সোঁদা মাটির সেই চিরকেলে গন্ধ ছড়িয়ে আছে... বেভুল হয়ে হাঁটছি তো হাঁটছিই... খানিক বাদে দেখি এক লোক আমারে ফলো করে... একটু ভয় পাইলাম... খানিক বাদে বুঝলাম কেবল নিছকই কৌতূহল। আউলা চুলের, ঘরের পাজামা পরা একটা জ্বলজ্যান্ত মেয়ে একলা জংগলে ঘুরলে লোকে তো মাথার স্ক্রু ঢিলা কিনা সেইটা নিয়া চিন্তায় পড়বেই। আমি ওইসব আর খেয়াল না করে নিজের মতো হাঁটতে হাঁটতে কেমন করে যেন বিছুটির ঝোঁপে ঢুকে পড়েছি। সে এক কঠিন অবস্থা... অনেক কষ্টে গা বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে আসতে দেখি হাতের অনেকখানি ফুলে গেছে ইতোমধ্যে।
ঝোপ থেকে বেরিয়ে একটা বেঞ্চিতে হেলান দিয়ে বসে রইলাম কিছুক্ষণ... মাথার ভেতরে আমার যতো আজীব কিসিমের ফিলসফি সব ঘুরছিলো... সব ঠেলে সরিয়ে চুপচাপ নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম... এইরকম সময়গুলোতে আমার আর দেশে যাইতে ইচ্ছা করেনা... মনে হয় ওইখানে একলা একলা এইরকম নিজের সাথে সময় কাটানো কি সম্ভব... বিশেষ করে একটা মেয়ের পক্ষে? কিন্তু এইখানকার সবকিছু বড়ো অচেনা লাগে... এই আকাশ, নদী, উপত্যকা, ফুল সব যেন অন্য কোন জগতের... আমি ওদের অনেক কাছে থেকেও ছুঁয়ে যেতে পারিনা, কোথায়া জানি একটা অদৃশ্য কাঁচের দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকে ঠায়। হয়তো আমার বিভ্রম কিংবা মানসিক দুর্বলতা... কিন্তু বাধাটা কেমনে জানি রয়েই যায়।





বাঁধা থাকবেই, কারণ নিজের দেশ সবসময়ই আপন, যতদূরেই থাকুন না কেন; দেশ ছেড়ে যত দূরে যাবেন, ততই বেশী দেশকে মিস করবেন।
লেখাটা ভালো হয়েছে।
বিদেশে সবকিছুই বিদেশী
লেখা ভালো লাগলো।
তবে মাঝখানে একটু প্যারা দিয়েন, নাইলে চোখ জ্বলে
দিছি ...
দারুন জায়গায় থাকেন মনে হৈতাছে?
বর্ননা পৈড়া লোভ হয়...আফসুস...
এই অনুভূতিগুলো আমার খুব চেনা
আজিরা দিনপঞ্জী ভালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন