চিলতে রোদে
সদ্য গজিয়ে উঠা ব্যালকনির দেয়ালে ঝিকিমিকি একটা রোদের ছায়া তিরতির করে কাঁপছিলো। আকাশছোঁয়া বাড়িঘরের ফাঁকফোঁকড় গলে রোদটা কেমন করে দেয়ালের গায়ে ঠিকানা খুঁজে পেলো কে জানে? ব্যালকনির ধার ঘেঁষে কতোদূর এগিয়ে একটা লাল ছোট টবে একটা ফ্যাকাশে হলুদ চারাগাছ খুঁজে পেলো রোদটা। চারাগাছটাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে রোদটারও ভীষণ ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছিলো। একটু ভালো করে উঁকিঝুঁকি মারতেই চারাগাছের মাথা ফুঁড়ে উঁকি দিতে চাওয়া একটা বেগনি রং এর ফুলের আধাফোঁটা কলি চোখে পড়লো। চারাগাছে ফুল? এই ভাবতে ভাবতেই হঠাত কলিটা মাথা নেড়ে খ্যাঁক করে উঠলো, ''ড্যাবড্যাবিয়ে কি দেখছো শুনি? জানোনা, অন্যের বাড়িতে উঁকিঝুঁকি দিতে নেই!'' বাড়ি? তা বাড়িই বটে ভেবে দেখতে গেলে। গলা খাঁকড়ে থতমত রোদটা জবাব দিলো, ''না না, কিছু দেখছি না ভায়া, একটা বন্ধু খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম''। খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠলো বেগনি, '' বন্ধু এমনে করে পাওয়া যায় নাকি?'' একটু ঘাড় হেলিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, ''তা বন্ধু দিয়ে করবেটা কি শুনি?'' রোদটা কেমন স্বপ্নে পাওয়া গলায় বলতে লাগলো পথে যেতে যেতে সবাইকে সে দেখেছে বন্ধুদের সাথে হাসি খুশিতে মেতে থাকতে, দেখেছে কেমন করে একটা নীল মেঘ একটা সোনালি বিকেলের সাথে মিশে গিয়ে একটা সবুজ ঝিলের জলে খেলা করছিলো, আরো দেখেছে তারই মতো আরেকটা চিলতে রোদ অনেক ঝকঝকে হওয়ায় একটা আস্তো গাছ কেমন করে তাকে বুকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। আর সে নেহায়েতই কারো নজরে পড়েনি, তার ছায়াটুকুও তেমন শক্তি তো ধরেনা। নেহায়েত ক্লান্ত হয়েই সে ব্যালকনির গায়েই ঘোরাফেরা করছিলো। বেগনি বলে উঠলো তুমি চাইলে আমরা বন্ধু হয়ে যেতে পারি। একটুখানি রোদটা এইটুকু শুনেই খুশিতে ঝিকমিকিয়ে উঠলো। ছোট্ট বেগুনি ফুলটা যতো ঝাঁঝাঁলো-ই হোকনা কেন তাকে বেশ ভালোই লেগে গিয়েছিলো । আর সকাল থেকে আর কাউকে পায়ও নি যে নিজে যেচে তার মতো হ্যাংলাটে এক রোদের সাথে কথা বলবে। খুশিতে আটখানা হয়ে রোদটা বেগনির গালে একটু ছোট্ট চুমু এঁকে দিলো। বেগনি লজ্জায় গাঢ় বেগনি হয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে নিয়ে হেসে উঠলো খিলখিলিয়ে। এরপরে দুজনার কতো সে কথা! কথা বলতে বলতে বিকেল গড়িয়ে এলো, রোদটা আর কিছুতেই চোখ খুলে রাখতে পারছিলোনা। ফুলটা্রও ঘুমে জড়িয়ে আসছিলো চোখ। গলা জড়াজড়ি করে দু'বন্ধুতে ঘুমুতে গেলো। পরদিন সকালে বেগনি ফুলটা চোখ রগড়ে ঘুম থেকে উঠে রোদটাকে আর খুঁজে পেলোনা। আর ওদিকে বেচারা রোদটা হাওয়ার ঝোঁকে ঘুমের ঘোরে একটা সবুজ মাঠে চলে গিয়েছিলো, ফেরত যাওয়ার ঠিকানাটা আর কিছুতেই কেন যেন খুঁজে পেলোনা।





ঝিকিমিকি! ঝিকিমিকি !!
ভালো লেগেছে।
দারুণ দারুণ!
বাহ, সুন্দর!
আমার মেয়েটা আটদশমাস বয়সে বারান্দায় হামা দিতে দিতে রোদ ধরতে চাইতো। রোদটা মুঠিতে পুরে ঘরের ভেতর এসে মুঠি খুলে দেখতো কিছু নেই। মাথা নেড়ে আবার বারান্দায় যেত রোদ আনতে। আপনার লেখার চিলতে রোদ স্মৃতিটা ফিরিয়ে দিলো।
দারুন!!!
দারুণ লাগলো লেখাটা। ধইন্যবাদ
খুব মিষ্টি একটা লেখা পড়লাম
মন্তব্য করুন