হোটেল দাদু
কিছু মানুষ আছে, যাদের সাথে থাকলে আমার পৃথিবীটাকে অনেক অদ্ভুতরকমের ভালো একটা জায়গা বলে মনে হয়। জন এইরকমের একটা লোক। অথচ কদ্দিন হলো চিনি ওরে? ২০০৮ এর সামারের শুরুতে কোন এক রোববারে সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম...হাঁটা শেষে হোটেলে ফিরবার মুখে হোটেলের দরোজায় সান্তা ক্লজের মতো দেখতে এক অতিকায় বৃদ্ধ হাসিমুখে অভিবাদন করলো, আমি ওই হোটেলেই থাকি, অথচ ও আমাকে দেখনি কখনো, সেই নিয়ে কিছুক্ষণ গ্যাঁজানো... ওই সময়েই ও নাকি ওভেনে কি করতে গিয়ে ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে ফেলেছিলো... সেইটা নিয়েও হাসাহাসি হইলো কিছুক্ষণ। কারণ অ্যালার্ম বাজার পরেও হোটেলের ত্রিশ জন বোর্ডারের কেউই ঘুম থেকে উঠেনি, শুধুমাত্র একটা বাচ্চা ছেলে নাকি ঢুলতে ঢুলতে নিচে নেমে ভ্রূ কুঁচকে কি হলো বুঝবার চেষ্টা করছিলো... কোথাও কোন বিপদ দেখতে না পেয়ে আবার চলে গেছে ঘরে। এরপর থেকে প্রায়ই ডিনারের সময় দেখা হতো... আমাদের তিনজনের অদ্ভূত খিচুড়ি, হাবিজাবি যা রান্না হইতো সেইটাই শেয়ার করতো। কখনো আমাদের জন্য পিজ্জা আনতো... কোনদিন নিজেই হয়তো নরওয়েজিয়ান কোন ডিশ (মাছ ভাজি আর কি...
) রেঁধে খাওয়াতো। ষাটোর্ধ এই লোকটার সাথে আমাদের অনেক আজীব তরীকার দোস্তি হয়ে গেসলো।
ফেরত আসবার দিন ওর বিশাল সান্তাক্লজ মার্কা হাত দিয়ে আমাকে আর ফাহদকে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো, আমার মনে হচ্ছিলো কতোদিনের পুরানো কোন আপনজনকে ছেড়ে যাচ্ছি। দেশে ফেরত আসার পরেও আমার সাথে প্রায়ই যোগাযোগ হতো। গত শীতে আমার ঝটিকা অসলো সফরের সময়েও সে সাড়ে তিনশো মাইল পাড়ি দিয়ে সুইডেন বর্ডারের কাছ থেকে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলো। এইবার তো অনেকগুলো সন্ধ্যা কাটিয়েছে আমাদের সাথে। যদিও অসুখে ভুগে সেই সান্তাক্লজ ভাবটা আর নাই... কিন্তু আমার কাছে সারাটাজীবন ও সান্তাক্লজ দাদু-ই থেকে যাবে। কালকে ওর সাথে শেষ দেখা হলো, সামার ভ্যাকেশানে যাচ্ছে। আমি এমনিতে ইমোশনাল, অনেক কষ্টে কান্না চেপে বসেছিলাম। আর জানিনা কেন জানি মনে হচ্ছিলো ওর সাথে যদি আর দেখা না হয় কোনদিন!!! আমার তো এমনিতে নরওয়েতে আর আসবার কোন ঠিকঠিকানা নাই, যদিনা আলাদিনের চেরাগের বদৌলতে বিরাট টাকা-পয়সার মালিক না হয়ে যাই। কি অদ্ভুত! ও বলছিলো অবশ্য বাংলাদেশে একবার আসতে চায়, আসলে কাজ ফেলে এতোদূরে আসতে পারবে কিনা কে জানে? আমি এখন পর্যন্ত ঠিক নিশীথ সূর্যের এই দেশটারে মিস করি নাই, কিন্তু কালকে মনে হইলো জনকে বিদায় দিতে গিয়েই আমার এইরকম লাগছে... আর সেই মানুষটার ক্ষেত্রে কি হবে। যাই হোক আমি আর ওইটা নিয়ে ভাবতেও চাইনা। মনটা বড্ডো আর্দ্র হয়ে আছে।





হু ম ম...
দেশকে মানুষ যতো না মিস করে...তার চাইতে বেশি মিস করে দেশের মানুষকে।
বাহ!
সান্টাবুড়োর সঙ্গে বার বার দেখা হোক
লেখাটা খুব ভাল লেগেছে
আর সেই মানুষটার ক্ষেত্রে কি হবে।
বাকিটা কখন?
মন্তব্য করুন