আজিরা দিনপঞ্জী... ৮
''হঠাত একটা রোদ হয়ে যাও, রোদ হয়ে যাও... আমার গা ছুঁয়ে যাও, গা ছুঁয়ে যাও।''
এ'যেন একটা অসীম চক্রে ঢুকে গেছি। ওই লোকটার সাথে আমার দু'দিন খুব আনন্দে কাটবে, যেন কতো জীবনের কতো কাছের বন্ধু আমরা দু'জনা...এরপরে আমি হয়তো কল্পনার ঘোড়াকে সীমানা পার হয়ে যেতে দেবো... আর তখনি সামনে এসে দাঁড়াবে সেই অদৃশ্য দেয়াল। যার ওপারে কি আছে আমি কোনদিনও জানতে পারবোনা। এইরকম সময়গুলোতে আমি একটা অস্থির শূণ্যতার বুদবুদের ভেতর ঢুকে যাই- যার কেবল আটকে রাখবার ক্ষমতা আছে, আদি-অন্ত বলে কিছু নাই। আর এইসব সময়গুলোতে আমার খুব অদ্ভুতভাবে স্মৃতিকাতরতা জাগে। এমনসব স্মৃতি, যাদের সত্যিকার অর্থে কোন সিগনিফিকেন্স নাই।
একটু আগে যেমন মনে পড়ছিলো একটা দুপুরবেলার কথা... সে অনেক বছর আগের কথা। আমি অনেক ছোট- এইটুকু মনে আছে... আর মনে আছে দুপুরবেলা আম্মা বা আব্বা কারো একজনের পিটুনি খেয়েছি, গ্রামের বাড়িতে... আমি চোখের তলায় কান্না চেপে দুপুরের খাবার খেয়ে, চুপচাপ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পুকুর পাড় ধরে বেরিয়েছিলাম নিরুদ্দেশের দিকে কোথাও। এক ডজন ক্ষেত পার হয়ে, একটা সবুজ ধানক্ষেতের মধ্যে একটা বাঁশের ঢেঁকি মার্কা সেঁচকল পাওয়া গেলো... যার উপরে দিব্যি শুয়ে পড়ে আকাশ দেখছিলাম। আকাশ দেখতে দেখতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম... ঘুম থেকে উঠতে উঠতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায়।
বাড়ি ফিরে না বলে যাওয়ার জন্যে আবারো মার খেয়েছি। কিন্তু সেই সেঁচকলের উপরে শুয়ে থাকার স্মৃতি, মেঘ দেখার স্মৃতি বড়ো আজব উপায়ে মনে গেঁথে আছে। অন্যকিছু মনে পড়ুক না পড়ুক... সেই অসীম এককীত্বের বোধ... বিশাল আকাশের তলায় নিজেকে নিতান্তই তুচ্ছ মনে হওয়ার বোধ কেমন করে যেন মনের ভেতরে রয়ে গেছে... দশ-এগারো বছর বয়সে আমি ঠিক ওইরকম ভাবগম্ভীরভাবে কিছু বুঝতাম কিনা জানিনা... হয়তো বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার কনশাস কোনভাবে ব্যাপারটাকে এই কসমিক আইসোলেশান এর অনুভূতির সাথে সম্পর্কায়িত করিয়ে দিয়েছে, কোনভাবে ব্যাখ্যায়িত করেছে এখন যেইভাবে স্মৃতিটাকে স্মরণ করছি সেইভাবে। স্মৃতি বড়ো আজব খেলা খেলে, কোনটা যে সত্যি আর কোনটা যে আরোপিত- একটা সময়ের পরে আর সেইটা বুঝে উঠতে পারা যায়না। আচ্ছা, আমি এইসব হাবিজাবি কেন ভাবতেছি?





সুন্দর হচ্ছে। এই দিনপঞ্জী চলুক অনেক অনেক দিন ধরে
স্মৃতি, গতিময় জীবনের জ্বালানী হিসেবে কাজ করে। সুখ স্মৃতি জীবনকে ভালবাসতে শেখায় আর দুঃখের স্মৃতিগুলো জীবনকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। আর শৈশবের স্মৃতি!!! সেতো জাপিত জীবনের অমূল্য সম্পদ।
মন্তব্য করুন