আজিরা দিনপঞ্জী... ৯

একটা মৃদু আলিংগন... চোখের তলায় কান্না চেপে আমার অফুরান হাসিমুখ, সমুদ্রের পাড়ে একলা বসে থাকা'র চুপচাপ প্রহর, ভুলে থাকার শহরে গহীন রাতের একলা পথ চলা। ঐন্দ্রজালিক তার ঝোলা গুটিয়ে দূরে কোথাও... এরপরে ভুলে থাকার শহরটা কেমন করে মরে যায়। শহর কি মরে কখনো? মন মরে যায়, কিংবা মনও না, খুশিটুকু কেবল হারিয়ে যায়। আমার ছোট্ট সানশাইন, একচিলতে রোদ্দূর কেবল চুপচাপ হারিয়ে যায়। আমিও জলজ গন্ধের সাগর পাড়ের মেঘলা শহর ছেড়ে অন্য শহরে পাড়ি জমাই... অচেনা এই সমতল শহরেও আমি মনে মনে তাকেই খুঁজে যাই। জানি, এ অসম্ভবেরও বাইরের কিছু... তবু কেন জানিনা পথে আমি আর কোন পরিচিত মুখ কামনা করিনা, আর কেউ নেইও এইখানে। ভাগ্যিস এই শহর জুড়েও নিশীথ সূর্যের সেই শহরের মতো স্মৃতি'র জাল ছড়িয়ে নেই পদে পদে। তাই বন্ধুর সাথে অজানা গন্তব্যে যখন বেরিয়ে পড়ি... স্মৃতির ছায়া তেমন করে আর পিছু ডাকে না।
আমরা হাঁটতে থাকি উদ্দেশ্যবিহীন আর রূপকথার গল্প ছড়াই। ছোট্ট ডোবার গাঢ় সবুজ শ্যাওলা আর ফ্যাকাশে কলাপাতা রং এর অ্যালিজির পাশে পাড় থেকে নুয়ে পড়া ডেইজির ছায়া দেখে ভেবে নেই চুম্বনপ্রত্যাশী ব্যাংঙ রাজকুমার এইখানেই কোথাও বসে ছিলো রাজকুমারীর আশায়। ঘন শাপলার জলজ ঝোপও যেনবা সেই ইংগিতই দেয়। বেগুনী লাইলাকের ঝোপের পরে একটা বিশাল পাইনের বন... মনে মনে দিব্যি ভেবে নিই রাপুনজেলকে হারিয়ে অন্ধ রাজকুমার এইখানেই কোথাও গান গেয়ে বেড়াচ্ছে। সন্ধ্যের ছায়া মিলিয়ে চাঁদ উকি দেয় শহরে, বিশাল ফুটবল মাঠে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের খুব ইচ্ছে হয় মাঠে শুয়ে পড়ি ... চাঁদ, মেঘ আর তারা দেখে গাঞ্জাখুঁড়ি গপ্পো করি। কিন্তু বিকেলের বেকুব বৃষ্টি মাঠকে বড্ডো বিচ্ছিরিভাবে ভিজিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টিকে গালি দেই... আষাঢ়ের মেঘ কালো হয়ে আসা ঝুম বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে হাড়েরও ভেতরে কামনার আভাস পাই। এইখানেই সেইরকম জলের গন্ধ পাই, কিন্তু মৃত শহরের বৃষ্টিও মৃতপ্রায়... বিকেলের আকাশের এতো মেঘ গেলো কই ভেবে পাইনা।
ফিরতি পথে পথ ভুলে খামোকাই গলিতে গরিতে ঘুরে বেড়াই। একটা ঘোরের মতো আবছায়া পথ ধরে হেঁটে আসতে আসতে নিঃশব্দ পথের স্বপ্নময়তায় বেভুল হয়ে ভাবি, আবারও কোন একদিন ফিরে আসতে চাই এই শহরে। একটা নালার পাড়ে লাইলাক দেখি, দেখি হলদে স্বপ্নের মতো ঝুরঝুরে চন্দ্রমল্লিকার বোন বাতাসে ছুঁয়ে যাচ্ছে গা, নাম না জানা আরো কি সব নীলচে আর গোলাপী-বেগনী ফুলের নকশা বোনা পথ। ল্যাভেন্ডারের ঝাঁঝালো গন্ধে মোহিত হয়ে হাতে তুলে নেই এক গোছা... এরপরে ব্ল্যাকবেরীর ঝোপ আর পাথুরে ভাংগাচোরা দেয়ালঘেঁষা রাস্তা ধরে আবারো নিজের ঘরেই ফেরা





লেখা ভালো লাগলো...
আজিরা মানে কী?
আজিরা মানে আজাইরা
ফাউ.।
লেখাটা ল্যাভেন্ডারের ছবি অথবা সুরভির মতো সুন্দর হয়েছে
মন্তব্য করুন