ইউজার লগইন

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ১

অনেক পুরনো ডায়েরী আর ব্লগ ঘেঁটে, তার সাথে স্মৃতির জোড়াতালিতে নূতন করে আবার লিখছি নিশীথ সূর্যের দেশে ঘুরে আসবার কাহিনী।
(কিছু ছবি অন্যদের ক্যামেরা থেকে চুরি করা.. আশা করি তারা জীবনেও আমার এই ব্লগ পড়ে আমাকে পিটুনি লাগাবে না)
.......................................................................................................................................
২০০৭ এর জুনের প্রথম সপ্তাহের কোন একটা দিন। জীবনের প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছি, আমার জন্য অবশ্য বলতে গেলে বাবা-মায়ের পাহারার দেয়াল ডিংগিয়ে পঁচিশ বছরের জীবনের প্রথম মুক্তি'র ডাক। একরাশ শংকা, নূতন জায়গা দেখার উত্তেজনা, কৌতূহল আর পরিচিত সব মুখকে পেছনে ফেলে আসবার কষ্ট... মিলে মিশে বেশ একটা অনুভূতি... খানিকটা ককটেল (কিংবা জগাখিচুড়ী???) এর মতো ব্যাপার। বাবা-মায়ের আদর-শাসনের জীবন থেকে বের হয়ে প্রতি পদে টের পেতে থাকি আমি যে কতো আউলা... কি করা লাগবে, কোথায় কি বলা লাগবে সব কিছুতেই রাজ্যের দ্বিধা।

ঢাকা থেকে আবুধাবী পর্যন্ত অদ্ভুত সৌভাগ্যবশত বিজনেস ক্লাসের আরাম... আমি অবশ্য বেকুবের মতো নিজের জামায় গাজরের জুস ফেলে একটা কেলেংকারী কাণ্ড করেছিলাম। আবুধাবী'তে নেমে পয়লা হোঁচট! মাশরুম এর মতো দেখতে একটা পিচ্চি বিমানবন্দর... মনে মনে ভাবছিলাম ( এম্মা! এই বুঝি বিদেশ!)। ওখান থেকেই জীবনের প্রথম ক্যামেরা কেনা নিজের পয়সায় ( ফুজি ফাইনপিক্স সিরিজের কোন একটা)।
abudhabi airport

ক্যামেরার সদ্ব্যবহার করা হলো কিছু এয়াপোর্টের ভেতরে আর কিছু মিউনিখগামী বিমানে। বিমান থেকে আকাশকে দেখতে ভারী অদ্ভূত... মনে হতে থাকে আকাশ আর আমার ঘর উল্টো হয়ে জায়গা বদল করেছে... পায়ের নীচে মেঘ ( যদিও আমি ছুঁতে পারছিনা), ভাবনাটাই কেমন অদ্ভূত... পংখীরাজের ডানার পাশে বসে থেকে কিছু ছবি তুলে সামনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখা শুরু করেছিলাম। দু'দুটো সিনেমা, মাঝখানে রাতের খাবার শেষে নিজেও একটু ঘুমানোর চেষ্টা চালানোর কথা ভাবছিলাম। সামনেই ভোর হবে বলে এয়ার হোস্টেসের কথামতো সব জানালার শাটার টেনে নামানো। আমি কি যেন ভেবে শেষমেষ একটু নীচের নিকষ অন্ধকার দুনিয়ার ঝিকিমিকি শহরের আলোর খেলা দেখার আশায় শাটার উঠিয়েছি। সে কি আলো! সে কি মেঘ! আর কোনদিন সেই অদ্ভুত মুগ্ধতা স্পর্শ করবে কিনা জানিনা্ ... সেই দৃশ্য এরপরেও দেখেছি, কিন্তু প্রথমবারের সেই মুগ্ধতা যেন অন্য পৃথিবীর... কোন এক পরাবাস্তব জগতের। উপরে নিচে, ডাইনে, বাঁয়ে, সবখানে কোমল তুলোর মতো, সফটি আইসক্রিমের মতো, বিড়ালের আদুরে লোমের মতো মেঘের ছড়াছড়ি। আর উঠি উঠি সূর্যের আলো তাদেরকে সব দিক থেকে ঘিরে ধরছে আস্তে আস্তে। সে কি রং মেঘেদের... সাদা, নীল, কমলা থেকে ক্রিমসন... কেউ কেউ যেন মাত্রই সোনা'র জলে গোসল সেরে এসেছে। বিস্ময়ের ধাক্কায় আমি ছবি তুলতে ভুলে গেসলাম। পেছনের এক যাত্রীর 'এক্সকিউজ মি' শুনে শাটার নামিয়ে ফেলতে হলো। তিন বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে... কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই সেই মেঘ আর আমার সেই মুগ্ধতা আমি এখনও দিব্যি টের পাই।
megh1
megh2

মিউনিখ এয়ারপোর্ট দেখে অবশ্য মোটামুটি ভিরমি খেলাম। সে এক পেল্লায় এয়ারপোর্ট!!! কতো যে টার্মিনাল আর কতো যে দোকানপাট। আমাদের যাত্রাবিরতি ছিলো প্রায় ঘন্টা চার-পাঁচেকের.. এর মধ্যে চেক ইন করা বাদে ঘোরাঘুরির সময় পাওয়া গেলো দুই ঘন্টার। মোটামুটি এর মধ্যে যতোখানি হেঁটে ফেলা যায়, তার পুরোটাই হাঁটলাম আমি আর মৌসুম। এখানেও ছবি তোলা হয়নি.. আর এয়ারপোর্টে দোকান ছাড়া তুলবার মতো আছেই বা কি। আবারো যাত্রা শুরু অসলোর জন্য।

অসলোতে নেমে গাট্টি-বোঁচকা খুঁজে নিয়ে আমাদের জন্য ভাড়া করে দেয়া ট্যাক্সিক্যাবে করে শহরের দিকে রওয়ানা দিলাম সবাই। এবার আমাদের পাঁচজনের সাথে ভারত থেকে আসা আরো দুই সহকর্মীও যোগ দিলো। সে আরেক মুগ্ধ করা সময়। জীবনের প্রথম ইউরোপের সামার দেখছি, তাও আবার অসলোর বিখ্যাত সবুজ পাহাড়ী উপত্যকায়। পাহাড়, মৌসুমী ঝর্ণা, অসলোর বিখ্যাত টানেল (দেখলেই এন.এফ.এস. খেলার কথা মনে পড়ে যায়)... সিনেমায় দেখা ছবির মতো বাড়ি, রাস্তার পাশে টিলার ঢাল জুড়ে হলদে সাদা ডেইজির রূপকথার বুনন, হঠাত হঠাত অদ্ভুত সব রং এর ফুলের ঝাড় (নীল আর বেগুনী ফুলের ঝোপ সেরকম তো কখনো দেখিনি দেশে... এইসময়েও ছবি নেই... তবে পরের পর্বগুলোতে ছবি দিয়ে পুষিয়ে দেওয়া হবে'খন)। মুগ্ধতার মধ্য দিয়ে শহরে পৌঁছে, রয়্যাল প‌্যালেসে'র পাশেই এক হোটেলে আমাদের থাকার জায়গা ঠিক করে দিয়ে গেলো ভিওলেটা নামের সার্বিয়ান এক কলিগ ( তখনো তো জানিনা যে, বছর তিন বাদে এই মেয়েটা আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে যাবে)।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অরিত্র's picture


পরের পর্বের ছবি দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

সুন্দর হয়েছে

আনিকা's picture


Smile

শওকত মাসুম's picture


আরো ছবি চাই।

আনিকা's picture


সামনে ছবি দেখে কূল পাবেন না... Smile

মুকুল's picture


সামুতে লেখা পোস্টগুলো কি মুইছা ফেলছেন?
এই কাহিনীতো পড়ছিলাম তখন!

আনিকা's picture


মুছি নাই, লুকাইছি... Tongue

চাঙ্কু's picture


আপনার এই সিরিজ সামুতে পড়ছিলাম Smile

আনিকা's picture


এবার নতুন কিছুও পাবেন উপরি... Smile

রুবেল শাহ's picture


এটা আগেও পড়েছি সামুতে .............. Tongue

১০

তানবীরা's picture


আরো ছবি চাই।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আনিকা's picture

নিজের সম্পর্কে

কি লিখবো জানিনা...