ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ২
আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিলো অসলো রয়্যাল প্যালেসের ঠিক পাশেই, বেশ পশ জায়গা... অবশ্য হোটেলটা ঠিক সেই অর্থে রাজকীয় সুলভ কিছুনা, তবে নেহায়েত মন্দও না। আমি, মৌসুম আর মাল্লিকা এই তিন মহিলা এক ঘরে। অফিস করি রোজ পাঁচটা-ছ'টা পর্যন্ত... এরপরে হোটেলে ফিরে কোন কোন দিন অন্য কলিগদের সাথে ঘুরতে বেরুই... কোনদিন একা একাই ঘুরি... রাত বারোটা পর্যন্ত দিনের আলো থেকে যায়... তাই সময়ের তেমন অভাব নাই... আর আমার শরীরের ভেতরে কেমনে জানি অ্যালার্ম সেট করা হয়ে যায়, তাই আমি ভোর পাঁচটায় উঠে পড়ি... খুটখাট করে বাইরে হাঁটতে চলে যাই... গ্রীষ্মের গাঢ় সবুজ পটভূমিতে যা দেখি তাতেই মুগ্ধ। আর হোটেলের সামনেই রাজার বাড়ি আর বাড়ি সংলগ্ন বাগান... হোটেল থেকে দশ পা গেলেই একটা ডাক-পন্ড... তার উপরে আবার কাঠের ব্রিজ... ওখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে হাঁস দেখি, সমুদ্রের চিল দেখি... রাজকীয় বাগানের বেঞ্চিতে বসে গল্পের বই পড়ি সাতটা পর্যন্ত... এরপরে ঘরে ফিরে সবার সাথে তৈরী হয়ে আবারো অফিস।





প্রথম সোমবারে ঘুরতে গিয়েছিলাম ভিগিল্যান্ডস পার্কেন... একটা বিশাল পার্ক জুড়ে শ'খানেক প্রস্তর মূর্তি'র প্রদর্শনী... প্রথম ধাক্কাটা ছিলো কালচারাল... কারণ সমস্ত মূর্তি নগ্ন... ধাক্কাটা সামলে উঠার পর টের পেলাম জায়গাটা কি অদ্ভুত সুন্দর! সবচে ইন্টারেস্টিং ছিলো ঠিক চত্বরের মাঝখানের একটা খাড়া স্তম্ভ... পুরোটা জুড়ে কেবল খোদাই করা মূর্তি... চার কলিগ মিলে ঘন্টা তিনেক ধরে ঘুরে ঘুরে মূর্তি দেখলাম, ছবি তুললাম, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়াগড়ি খেলাম... এরপরে একটা পুকুরে গিয়ে হাঁস আর পাখিদের খাবার খাওয়ালাম। সেইটা একটা মজার অভিজ্ঞতা... হাঁসগুলা বিরাট বেকুব.. ওরা একটা রুটির টুকরা মুখে দিবে কি দিবেনা এইটা ভাবতে ভাবতে সীগালেরা এসে সব নিয়ে উধাও।



এরপরের দিন অফিস থেকে নিয়ে গেলো হোমেনকল্যেন এ ডিনার করাতে... জায়গাটা পাহাড়ের উপরে... ওখানে অসলোর স্কি-জাম্পিং স্টেডিয়াম... একটা অ্যাম্ফিথিয়েটারের মতো জায়গা... পাহাড়ের ঢালে, চারপাশে জংগল। এইখানেই আমি জীবনের প্রথম ড্যান্ডেলিয়ান দেখলাম। গাদা-গুচ্ছের টাকা খরচ হয়েছিলো ওই ডিনার পার্টিতে এইটুকু মনে আছে, আমি মনে মনে ভাবতেছিলাম আহা! এতো আ্জাইরা খরচ না করে আমার ডিনারের খর্চা আমারে দিয়া ফেল্লে আমি মহা আনন্দে ঘুইরা বেড়াইতে পারতাম। নরওয়েজিয়ান রেস্টুরেন্টের টিপিক্যাল স্বাদের খাবার খাইলে যে কেউই আমার মতো ভাববেন। মল্টেন চকোলেট কেক ছাড়া আর কিছুই খাইতে সুবিধার ছিলোনা।



এইসব ছাড়াও হাঁটাহাঁটি করতাম ন্যাশনাল থিয়েটারের আশেপাশে, কার্ল ইয়োহানস গাতে ( এইটা অসলো রাজপ্রাসাদের দরজা থেকে সোজা পাহাড়ী রাস্তা যেইটা সটান অসলো সেন্ট্রাল স্টেশন পর্যন্ত গেছে)... এই রাস্তায় সানডে মার্কেট বসতো... আর অসলোর সমস্ত ব্র্যান্ডেড শো রুম ও এই রাস্তায়... ট্যুরিস্টি শপিং এভিনিউ মার্কা একটা জায়গা। আমরা ওই রাস্তায় হুদাই হাঁটতাম, ফকির লোকজন... জিন্দেগীতে কিছু কিনি নাই... জানালা দিয়া জিনিসপাতির দাম দেইখাই আত্মা ঠাণ্ডা হইয়া যাইতো... একজোড়া স্পঞ্জের স্যান্ডেলের দাম ছিলো ২০০০ টাকার সমমানের ক্রোনার। আমরা প্ল্যান করতাম যে পরে কখনো আসলে ব্যাগ ভইরা স্যান্ডেল লইয়া আসুম... ফুটপাতে বইসা বেঁচলেই বড়োলোক। 








ছবি, লেখা ভালো পাইলাম। ধইন্যা।
কতো কি দেখার আছে বাকি......
বেপার না... কুনু একদিন হইবো
বাহ্ বাহ্!
ছবি, দৃশ্য, ভাস্কর্য সবকিছুর পাশাপাশি জীবনে প্রথমবার ড্যান্ডেলিয়ন দেখা আর স্যান্ডেলব্যাপারি হবার খায়েশ মনে ধরলো
মাইনষে কত সৌভাগ্যবান!!

ঈর্ষা ঈর্ষা।
৪ নং ছবির এতজন আপনি, পাশে মৌসুম, ছেলেটা আর সাদা জামা পরা মেয়েটা কে ? আমার মনে হচ্ছে মেয়েটাকে আমি চিনি ! সমস্যা না থাকলে নামটা বলবেন ?
লেখা আর ছবি ? মারহাবা, মারহাবা !!
লেখা্য় মেয়েটা'র নাম আছে...
..। ছেলেটা ভারত এর... প্রকাশ নাম।লেখা ভালো লাগছে শুনে ভালু পাইলাম 
মুক্ত বয়ান | আগস্ট ১৫, ২০১০ - ১২:১৯ পূর্বাহ্নে বলেছেন
মাইনষে কত সৌভাগ্যবান!!
ঈর্ষা ঈর্ষা।
অসম্ভব সুন্দর কিছু ছবি আর লেখা পড়ে ভালো লাগলো। পোষ্টটার জন্য ধন্যবাদ।
জাকির জাহামজেদ
so nice document. thn'x.
নিজের পরিচয় দিলেন না ???
সিরিজের নাম খুব সুন্দর। ওসলোও খুব সুন্দর দেখতে, এতোদিন শুনেছি এবার চাক্ষুস দেখলাম
মন্তব্য করুন