আজিরা দিনপঞ্জী... ১২
''কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা,মনে মনে...
মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে।''
এক রাজ্যে ছিলো ভীষণ বোকা এক মেয়ে ... যে চারপাশে সবাইকে বাস্তবের খাঁড়ায় বলি হতে দেখেও নিজে চোখ বুজে একটা রূপকখার জগতে থাকতো... স্বপ্নে তো সবই সম্ভব... তাই বাস্তবে যেসবের কোন অস্তিত্ব নেই, সেসমস্ত অতি-বাস্তব স্বপ্নেরা সব শরতের মেঘের মতো সেই রূপকথার রাজত্বে জমা হতো। স্বপ্নের রাজকুমারের সাথে তার তেরো নদী, সাত-সমুদ্দুরের পারে দেখা হয়, দিন পার হয় আর সে ধীরে ধীরে এক উপাখ্যানের জন্ম দেয়, সবই নিজের মনে মনে... অবিরাম অদ্ভুত সব স্বপ্ন বুনে যায় কোন এক ঘোরের ভেতর... যা কখনো পাবার নয় সেই অসম্ভবের আশায় মেঘের রাজ্যে তারাদের সাথে রাত জাগার প্রহর কাটে... তারপর যা হবার কথা, সেই চিরাচরিত রিয়্যালিটি শো... ঘুম ভাংগে আর রাজকন্যা উঠে দেখে... কোথায় সেই স্বপ্নের দেশ, আর কোথায় বা রাজপুত্তুর... সুখ-দুঃখের সোনার কাঠি আর রুপোর কাঠি- দুই-ই গেছে হারিয়ে, এই জগতে সে কেউইনা, আর সে কখনো রাজকন্যা আদপে ছিলোইনা। তার চিরচেনা ঐন্দ্রজালিক চিরতরে মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়। আর সেই একচিলতে রোদ্দূরটা... স্বপ্নে যাকে মুঠোয় পুরে নেওয়া যেতো দিব্যি... সে বাস্তবের মাটিতে ধারে-কাছেই থাকেনা, তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে সেই রোদের টুকরো তার সত্যিকারের রাজকন্যার শিয়রে জায়গা খুঁজে নিয়েছে। আর এইখানে এই শহরে কেবল খাঁ খাঁ করা শূণ্যতার পসরা... স্বপ্ন কিংবা স্বপ্নভংগের বেদনা, গান আর গল্প সবই কেমন মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়... তারও পরে আর 'পর' আছে কিনা সেইটা কোনভাবেই জানা যায় না... বাস্তবে তো কিছুই কল্পনা করে নেওয়া যায়না।





আমরা আজিরা মানুষরা আজিরা দিনপঞ্জির জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করি।
তোমার আজিরা দিনপঞ্জি কৈ?
এই তো...
এইটা কি আজিরা হৈল?
যেই গল্পের আমার নিজেরে ছাড়া আর কারো কাছে কোন দাম নাই, তার চে আজাইরা আর কি হইতে পারে?
লেখার সাথে সাথে আজাইরা কোন ছবিও দিয়া দিয়েন।
অদ্ভূদ ভালো লেগেছে আনিকা। নিদারুন সত্যি কথা এতো মিষ্টি করে লেখা খুব সহজ কাজ কিন্তু নয়
হয়তো নিজের কথা বলেই পারা গেছে...
এতো অল্পে মন ভরলো না, আরো লেখা দেন
গল্পের নটে গাছটা মুড়িয়ে গেছে....
তারপর?
তারপরে আর কিছু নাই, কেবল এইটুকু পাল্টাইছে যে... সেই ভীষণ বেকুব মেয়েটা রিয়াল্যিটি'র কাঁচে পা বিঁধলে সোনার কাঠি আর রূপার কাঠি'র জায়গা বদলে রূপকথার জগতে ডুব দিতো... এখন আর সেইটা সম্ভব না... তাই এখন ঠোক্কর খেয়ে দিন যায়।
মন্তব্য করুন