আজাইরা দিনপঞ্জী.... ১৪
আমি এই বছরটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশায় দিন গুণছি। কিছু দিন আগে দেখা একটা পপুলার হিন্দি মুভির প্রোটাগনিস্ট প্রার্থনা করছিলো এই বলে যে, '' অনেক এক্সাইটমেন্ট হয়েছে প্রভু, দোহাই লাগে এইবার বাকি সময়টা বোরিং বানিয়ে দাও।'' আমার খানিকটা ওইরকমই অবস্থা। নিজেকে ছাড়া তো এক্সপেরিমেন্ট করার কেউ নাই, কিছুদিন তাই নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখে দেখছিলাম কোথায় কেমন করে কি হচ্ছে। একটা অনেক পুরনো সত্যি কথাই কেবল টের পেলাম নতুন করে, কোন কিছুই কারো জন্যে কোথাও আটকে থাকেনা। আমি যদি নাই হয়ে যাই সেইটা একটা বিশাল স্পেসে একটুখানি ছোট্ট ঢেউ হয়ে মিলিয়ে যাবে, আমার যতো গুরুত্ব সেইটা নিজের কাছেই। আর ব্যাপারটা সবার জন্যে একইরকম।
কেউ একজন কিছুদিন আগে আমাকে ভয়ংকর অপবাদমার্কা একটা মেইল করেছেন, প্রথমদিন ভীষণ রাগ হয়েছিলো, তারপরে মনে হলো কি আসে যায়? যে আমাকে এইরকম কিছু বলতে পারে, তার কথার তো কোন দাম আমার কাছে নাই আসলে। কেউ কাউকে এইরকম কথা হিন্দি সিরিয়ালের বাইরেও বলতে পারে সেইটা আমার ধারণায় ছিলোনা, এইটা দেখে ভাবছিলাম এইটা কি হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব নাকি সিরিয়ালের উপরে এই মানুষগুলার প্রভাব?
নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আশেপাশের সবখানে খালি নাটক আর নাটক। দুই দেশপ্রধান খালাম্মারা দুইদিন বাদে বাদে নাটকের চূড়ান্ত করেন। বিডিআর দুর্ঘটনায় নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য কি খালেদা আন্টির বাড়ির জায়গাটার বাইরে আর কোন জায়গা ছিলোনা? আবার হলেনই একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে ঈদে বাড়ি যেতে চাওয়া লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তিকে এখুনি বাড়াতেই হতো? আর কোন রাস্তা ছিলোনা বা আন্দোলনটা কি পরে চালানো যেতো না? নিজের সুখের কথা ভাবাটা তো স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে অন্যের অসুবিধাটা বিবেচনায় আনা কি এতো বেশি কঠিন?
দিন দিন মানুষ এই হয়ে যাচ্ছে, সেই হয়ে যাচ্ছে, আমার সেইরকম মনে হয়না। আমরা কম বেশি ইনকনসিডারেট তো সবসময়েই ছিলাম। এখন মানুষেরসংখ্যা বাড়তেই আছে তাই হয়তো অসংগতি চোখে লাগে বেশি। সেইদিন রাস্তায় যাইতে যাইতে মনে হচ্ছিলো মানুষের মতো পজেসিভ প্রানী মনে হয় আর একটাও নাই। কোটি কোটি প্রাণীর আবাসস্থল এই পৃথিবী, আমরা বেশ টুকরো টুকরো করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছি। কি অদ্ভুত না! বেশ একটুকরা কাগজের বদৌলতে আর কিছু কাগজের টুকরা সহায়তায় সব ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেছে, আমার বাড়ি, আমার টাকা, আমার অধিকার! খালি নিজের জন্য না, ভবিষ্যত চৌদ্দ পুরুষসহ নিজের নাম ছড়ানো প্রচেষ্টা্।
ঢাকায় ঘুরতে গেলে আজকাল মনে হয় সারি সারি কংক্রিট বাক্সের জংগলে ঘুরছি। আজকে হয়তো কেবল আমাদের দেশের এই অবস্থা, আজকে না হয় আমাদের দেশ গরীব বলে আমরা অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা, কিন্তু যখন দুনিয়ার জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে? আজকের তথাকথিত ধনী দেশগুলো কি বেঁচে থাকবে? দুনিয়াকে নিয়ে সার এই কাড়াকাড়ির লড়াইয়ে দুনিয়াটা শেষমেষ বেঁচে থাকবে কিনা এইটা কতোজন মাথায় রাখে? নিজেকে যখন এই টিনের চশমা পরা মুখোশ মিছিলের একজন হিসেবে খুঁজে পাই তখন অস্থিরতাটা আরো বেড়ে যায়। আমার কিছুদিন ধরে সবসময়ের সংগী হয়ে থাকা ছোট মেয়েটাকে বুকের সাথে চেপে ধরে মনে মনে বলি, ''আপুনি, তুই আমার মতো হোসনে... একটু সত্যিকারের মায়াবতী হ, যে নন্দদুলাল হয়ে নিজের অস্তিত্বের লড়াইয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে না শুধু।''





উদাশ উদাশ ইমো দিতে মন্চায়।
পৃথিবীর মানুষ যখন দ্বিগুণ হয়ে যাবে , ধনী দেশগুলা হয়তো তখনো তাদের অর্থনৈতিক শক্তি দিয়া কাটায়া উঠবে, মরনতো সবসময় গরীবেরই !
ভালো থাকুন,--- ঈদ মোবারক !
এটাই সত্য,এটাই বাস্তব।
আনিকা, ডায়লগটা বোধহয় "জাব উই মেট" সিনেমার। আমি আর আমার ছোট বোন এক সময় এ ডায়লগটা অনেক বলেছি।
বাংলাদেশের লোকেরা হিন্দী সিরিয়াল দেখে না, গিলে। আর জীবনটাকে সিরিয়াল ভাবে, সেই ভাবে কথা বলে, মেইল করে
আজাইরা কথা পড়ে মনের মধ্যে আজাইরা চিন্তা ঢুকলো।
নুতন পুষ্ট নাই ম্যালাদিন। আফা, আপনের কি অবস্থা? আছেন কিরাম?
মন্তব্য করুন