আজিরা দিনপঞ্জী... ১৫
মাঝে মাঝে কারো লেখা পড়ে নিজেও কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করে, কখনও লেখা হয় আবার কখনও কি লিখবো কিছুতেই খুঁজে পাইনা। আর আজকাল অনেকবার আধাপৃষ্ঠা, এমনকি একটা গোটা পৃষ্ঠা লিখে ফেলেও আবার মুছে ফেলেছি সব। অনুভূতিটা ঠিক অভিমানবোধ কিংবা হতাশাবোধও নয়- কেমন একটা মিশেল অনুভূতি। কেন লিখবো সেই কারণটাকে নিজের কাছে জাস্টিফাই করতে পারিনা। আমি একটা কেমনধারা যেন ! একটা সময় ছিলো নিজেকে নিয়ে কনফিউজড ছিলাম অনেক, এখন আর কনফিউশান নাই সেই মাত্রায়... তবে একেবারেই যে নাই সেই কথা জোরগলায় বলতে পারছিনা।
যেই জিনিসটা ইদানীং বেশ ভাবছি, সেইটা হইলো আমি নিজের জন্য, নিজের বেঁচে থাকার জন্য কোন উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছিনা। উদ্দেশ্য পাওয়াটা খুব জরুরী কিনা জানিনা... কিন্তু আশেপাশের মানুষদের স্বপ্ন দেখা , খুশি হওয়া - এসব আমাকে কেমন একটা অসোয়াস্তি'তে ফেলে। অসোয়াস্তিটা ঈর্ষাবোধে জর্জরিত নয়, অসোয়াস্তিটা জন্ম নেয় আমার নিজের ভেতরে আলোড়নের অভাব দেখে। কোন কিছুকে আমার ভালোই লাগেনা বা একেবারেই বিস্ময়বোধ জাগায় না কিছু, ঠিক সেইভাবে বলা যায়না। কিন্তু সমস্ত কিছুকে আমার ভীষণভাবে ঘষা কাঁচের দেয়ালের অন্যপাশের কিছু মনে হয়। মনে হয়, কোন কিছুই আমাকে পুরোপুরি আলোড়িত করেনা। এই ঘোলাটে চশমার দুনিয়ায় কেমন করে ঢুকে গেছি তা আমি জানিই না তা নয়, কিন্তু বের হবার মতো মানসিক কোন তাড়না পাইনা কোথাও। সমস্ত কিছু থেকে নির্বাসনে যেতে ইচ্ছা করে।
গত তিন মাস ধরে আমি একজনকে কমপক্ষে কয়েকশেবার চিঠি লিখতে বসেছি, কিন্তু লিখিনি কিছুই, আগে হয়তো না পাঠালেও ড্রাফটে রেখে দিতাম, কিন্তু এইবার আমি কিছু লিখতে শুরু করেই সব মুছে ফেলেছি দ্রুত। এই আধুনিক গণকযন্ত্রের এই এক মস্তো সুবিধা- যতো সহজে নতুন কিছু বানিয়ে ফেলা যায়- তারো চেয়ে সহস্রগুণ বেশি আরামে তাকে হাওয়াও করে দেয়া যায়। কেবলমাত্র একটা ব্যাকস্পেস কিংবা ডিলিট বাটনের উপস্থিতি ভুল শোধরাণোর পথকে কতো সুগম করেছে আজকাল!
আমার প্রায় চার বছর লেগেছে বুঝে উঠতে যে কেউ না চাইলে তাকে আমার কথা শোনাবার কোন মানে হয়না। কোন মানে হয়না বলবার যে আমি ভালোবাসতেই শিখেছি একমাত্র তাকে ভালোবাসতে গিয়ে। এই কথাটা লিখতে গিয়ে টের পেলাম, আমার যতোখানি আকুলতাই থাকুক না কেন এই লাইনটুকু লিখতে গিয়ে, এইটা কাউকে বোঝাতে পারার সামর্থ্য আমার নাই। আর বোঝাতে পারলেই যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাও তো না। সে যে জানেনা আমার আকুলতার কথা তা তো না, কিন্তু জানলেই বা অন্যপক্ষের কি করার আছে। কিছু যে করার থাকেনা, সে আমার চেয়ে ভালো আর কে জানবে? পৃথিবীর বাকি সব সম্পর্ক এর চেয়ে কতো সহজ হয়! মানুষ আর মানুষী'দের সম্পর্ক কেন বারবার এরকম জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খায়?
আমি নেহায়েতই বোকাসোকা আলাভোলা গোছের একটা মানুষ ছিলাম আজীবন। সোজা ভাষায় স্টুপিড বললেও চলে। ঠিকঠাকমতো খুঁজে দেখতে গেলে আমার কোন আলাদা বিশেষত্ব নাই, নিতান্তই অ্যাভারেজ ঘরাণার মানুষ আমি, এই সাধারণত্ব নিয়ে আমার একটা সময় ইনফিরিয়টির কমপ্লেক্স ছিলো। তবে আস্তে আস্তে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে বেশ ঠিকঠাক হয়ে গেছি এখন। খুব ছোটবেলায় স্কুলে পড়বার সময়ে যখন একদম গ্রামের স্কুল থেকে গাঁইয়া আমি ঢাকার মোটামুটি স্মার্ট গোছের একটা স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম, দেখেছিলাম আশেপাশের মানুষেরা প্রাণপণে চাইবে আমার পরিবারের, কিংবা আমার নিজের খামতিগুলোকে (!!!???) চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে... কিন্তু রোজ দিনের শেষে আমার বিছানায় আমিই কেবল সত্যিকারভাবে নিজের মুখোমুখি হবো, আর আমাকে অন্যে কিভাবে দেখছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি নিজে কি ভাবি সেইটা। আমার ভালো বা খারাপ থাকাটা আমার কাছে যতোটা গুরুত্বপূর্ণ ততোটা আর কারো কাছে নয়, হওয়া সম্ভবও বোধহয় নয়।
যাই হোক, যা বলতে চাইছিলাম সেইটা অলরেডী গুলিয়ে ফেলেছি। আমার মধ্যে কেমন একটা আজীব ধরণের বৈরাগ্য আসছে, আমার কোন কিছু করতেই মন চায়না। আবার ঘরের কোণায় থাকতেও ভালো লাগেনা। বাইরে বাইর হইলে আমার ঘন্টাখানেকের মধ্যে উদ্দীপনা উবে যায়। আমি নিজেরে ঠেলে আবার ঠিকঠাক করি, অটো সাজেশনস দেই যে আমার ভালো লাগতেসে... কিন্তু খুব বেশিক্ষণ কাজ করেনা ব্যাপারটা। আজকে অনেকদিন পরে একটা ব্লগ লিখলাম... কিন্তু কেন লিখলাম সেইটা নিজেই বুঝতেসিনা... এইসব আজিরা ভাবনা কাউরে জানাইলেই বা কি লাভ হবে?





মাঝে মাঝে কারো লেখা পড়ে নিজেও কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করে, কখনও লেখা হয় আবার কখনও কি লিখবো কিছুতেই খুঁজে পাইনা।..............
...............আমার ভালো বা খারাপ থাকাটা আমার কাছে যতোটা গুরুত্বপূর্ণ ততোটা আর কারো কাছে নয়, হওয়া সম্ভবও বোধহয় নয়।.............................
.................আজকে অনেকদিন পরে একটা ব্লগ লিখলাম... কিন্তু কেন লিখলাম সেইটা নিজেই বুঝতেসিনা... এইসব আজিরা ভাবনা কাউরে জানাইলেই বা কি লাভ হবে?
আনিকা, যে কারণেই হোক আপনার মনে কিছু অস্থিরতা বিরাজ করছে । লাভ-লোকসানই পৃথিবীর একমাত্র হিসাব নয়, এখানে আরো কিছু আছে । করতে ভাল না-লাগলেও কোন একটা কাজে লেগে থাকুন, সেটি ভাল ভাবে শেষ করুন, দেখবেন ভাল লাগার একটা অনুভূতি আপনাকে আচ্ছন্ন করে রাখবে । আজকের পোস্টটা দেবার পরপরই যেমন আপনার মনে একটা খুশির আমেজ এসেছে সেটাই বা কম কিসের ? ভাল থাকুন, আনন্দে থাকুন ।
ব্লগ লেইখা কিন্তু আমার মনে খুশির আমেজ আসে নাই, বরং মন আরো খারাপ হইসিলো... আর এই অস্থিরতার সাথে আমার বসবাস অনেকদিনের... অনেকদিন ধরেই আশা করে আছি অভ্যাস হয়ে যাবে, এখনো সময় হয়নি বোধহয় তার।
বললে বা লিখলে অস্থিরতা কমে, এই আমার বিশ্বাস। পিকনিকে দেখা হবে, সেখানে মন ভাল হবার কিছু পাওয়া যায় কিনা দেখতে হবে ।
লেখাটা পড়ে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম। মন্তব্য করার মতো কোন কথা খুঁজে পাচ্ছিনা।
একটানে পড়ে গেলাম।নিজেকে গুছিয়ে নিন তাড়াতাড়ি
গোছানোর চেষ্টা করছি চার বছর ধরে, জানিনা আরো কতোদিন লাগবে...
পড়লাম। স্তব্ধ হলাম যেনো। কারো জীবন যে কেনো এমন হয় , সেটা কে জানে?ঈশ্বর?কেনো হয় এমন?
জীবনের তো দোষ না ভাই, মানুষকে সরে যেতে শিখতে হয়... আমি এখনো পারি নাই... এই যা... আর ঈশ্বর তো খুলেই বলেছেন যে নিজে চেষ্টা করেনা, তার কোন সাহায্যে তিনি নাই।
আপনার এখন পর্যন্ত সেরা লেখা।

কি বলবো বুঝতেসিনা... মনে হয় আমি সত্যি কথা ঠিকঠাক লিখি... বানিয়ে সেইটা পারিনা।
আনিকা, আপনার সঙ্গে আমার চরিত্রের এটুকু বেশ মিলে যায়....।
আমরা যারা আটপৌরে মানুষ, আমাদের এইখানটাতেই তো মিল ভাইয়া।
ভালো সময়ের একটা খারাপ দিক হলো
এটা এক সময় শেষ হয়ে যায়
আর খারাপ সময়ের একটা ভালো দিক হলো
এটাও এক সময় শেষ হয়ে যায়।
কাঁটা মুরগী এক সময় ছটফট করে নিথর হয়ে যাবেই যাবে।
সো চিয়ার আপ বেব। আমি অলসো নো ইজিয়ার সেইড দ্যান ডান।
আমি কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই দাত কেলিয়ে থাকি... খানিকটা চুপচাপ থাকি হয়তো নতুন মানুষদের সাথে... কিন্তু মন খারাপ করে বসে থাকাটা আমার স্বভাবে নাই... তবুও মাঝে মাঝে হাড় বজ্জাত মনখারাপটা ঠিকই কব্জা করে ফেলে।
ভালো লাগলো দিনের গল্প।সাইবার ক্যাফেতে সময় কম তাই কমেন্ট শেষ করতে হচ্ছে!
শুভকামনা
মন্তব্য করুন