ইউজার লগইন

হাসান আদনান'এর ব্লগ

ম্যান বিহাইন্ড দা গ্লাস বার

এই মিলে তিনবার গোনা হলো - না - কোনো ভুল নেই- দশ হাজার টাকা কম পড়ছে - এই শীতের সন্ধ্যায়ও মাসুমের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম - মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে - তার ভাগ্যটা এত খারাপ কেন - এত সতর্ক থাকে- তবু ... আজকে কাস্টমারের চাপটা বেশি ছিল - অনেকগুলো বড় পেমেন্ট হয়েছে - কোথাও একটা ভুল হয়ে গেছে - কিন্তু শোধরাবার সুযোগ কি আছে?

দু'বছর হলো এই চাকরিতে ঢুকেছে মাসুম - ব্যাঙ্কের চাকরি - ক্যাশ অফিসার - কাজের চাপটা বেশি - সেটা সমস্যা না - কিন্তু সার্বক্ষণিক ঝুঁকিটা বড় পীড়াদায়ক- সামান্য অসতর্কতার দণ্ডি দিতে হয় গুনে গুনে - উপরন্তু আছে ম্যানেজারের গালাগালি - না - মাসুম অসতর্ক নয় - কাজের সময় সাধ্যমত সাবধানতা অবলম্বন করে - কাজেও সে দক্ষ - তবু নিয়তির মার তো এড়ানো যায় না.

মাসুম পেমেন্টে বসে - তার দায়িত্বটাও বেশি - রিসিভের ছেলেটি একেবারেই নতুন - মাসুম তাকে চোখে চোখে রাখে - পাছে বেচারা বিপদে পড়ে - কিন্তু আজকের বেচারা যে সে নিজেই.

শুনবেন সেই সব গল্প ?

আড্ডা চলছে - পুরনো দুজন কলিগ বেড়াতে এসেছেন - হারানো সময়ের ভালোলাগা অনেক কথা উঠে আসতে শুরু করেছে - পরিবেশটা বেশ উপভোগ করছি - হুট করেই একজন জিজ্ঞেস করলেন - একটা চাকরি দিতে পারেন ? - আমি কিছুটা অবাক হয়েই তাকালাম - কাউকে চাকরি দেবার মত অবস্থানে আমি এখনো পৌঁছাইনি - আমার বন্ধুদের কেউ হয়ত পারবে এই ভেবে জিজ্ঞেস করলাম - কার জন্য ? ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন - কিছুটা যেন দ্বিধাগ্রস্ত - আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম - চাকরিটা কার প্রয়োজন ? ভদ্রলোক নিরুত্তর - পরিবেশটা ও কেমন যেন একটু গুমোট হয়ে গেল - অস্বস্তি কাটাতেই প্রসঙ্গ বদলে ফেললাম - অল্পক্ষণেই আরষ্টতা কাটিয়ে আমরা আবার গল্পে মেতে উঠলাম.
'বুঝলেন - একটা মেয়ে আছে - ভালো মেয়ে' - ভদ্রলোক নিজে থেকেই বলছেন আবার - 'একটা চাকরির খুব দরকার ওর'.
আপনার কোনো আত্মীয়া নাকি ? জিজ্ঞাসা আমার.
না - চিনি আর কি.
বুঝলাম - থলের বেড়াল বেরোতে শুরু করেছে . কাছের কেউ?
না - পরিচিত - মানে- মেয়েটা একটু অন্য ধরনের পেশায় আছে.

ঈদের বার্তা

ধর্ম আটকে গেছে পুঁথির সাধু ভাষায় - হৃদয়গুলো পড়েছে ঢাকা পোশাকি আদিখ্যেতায় - সুউচ্চ মিনার আছে - আছে শোভিত মিম্বর আর দুর্লভ টাইলস - মখমলি জায়নামাজে আছে প্রার্থনারত মাথা - তবুও অপারগ ওই বিধাতা - ভুল ফ্রিকোয়েন্সিতে আহবান - চতুষ্পদের প্রমাণ আকারে অদৃষ্টকে সন্ধান - জানি - সব প্রহসন - নিরেট অতিশায়ন - তবুও তো এসেছে ঈদ - তাই বাত্যয় খুঁজি - চেনা অচেনা হৃদয়ের কাছে - ঈদের বার্তা বলি.

আরেকটি কার্যনির্বাহী কমিটি

'আমরা একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি' - বক্তা সুদর্শন এক যুবা - এই মুহুর্তে আমার সামনে উপবিষ্ট - বয়স বিশের কাছাকাছি - হাল ফ্যাশনের দামী পোশাকে তাকে বেশ মানিয়েছে - যুবক একা নয় - সাথে সমবয়সী আরেক যুবা আর তিন সুদর্শনা - পরিধেয় পোশাক সাক্ষ্য দেয় প্রত্যেকেই অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তান - জিজ্ঞাসু চোখে ছেলেটির দিকে তাকালাম পরবর্তী ভাষ্য শোনার জন্য - 'আমাদের একটা সংগঠন আছে - নাম '.......' - আমরা সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে আপনাকে চাচ্ছি .'

মোটামুটি থতমত খেয়ে গেলাম - ক্ষীণ সন্দেহ হলো - এরা বোধহয় ঠিকানা ভুল করে আমার কাছে চলে এসেছে - আমি পেশায় সুদের কারবারী - ছাপোষা চাকরিজীবি - সাপ্তাহিক এই ছুটির দিনটিতে দেরী করে ঘুম থেকে উঠেছি - পেটে এখনো কিছু পড়েনি - মাথার চুল উসকো খুসকো - পরনের ট্রাউজার মলিন - কুচকানো - টি শার্টের অবস্থাও তথৈবচ - বালতিতে সারা সপ্তাহের ময়লা কাপড় ভিজিয়ে রেখেছি - এখনো ধোয়া হয়নি - দুপুরের আহার সংস্থান নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন - এই সময় বিনা মেঘে বজ্রপাত - দলটির আগমন - আর তাদের এই অদ্ভুত প্রস্তাব.

সন্তানের অপেক্ষায় তারা এভাবেই জেগে থাকেন - চেনা অচেনা কত ব্যালকনিতে - এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন তারা - উদ্বিগ্ন - উন্মুখ - স্নেহাকুল

সিলেট থেকে ঢাকা - সরলরৈখিক দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার - সড়কপথে ভ্রমণের হিসেবে বোধহয় আরো ৪০ কিলোমিটার যোগ হবে - দূরত্ব যেমনই হোক প্রতি সপ্তাহান্তে আমাকে যেতে হয় - যেতে হবে - ওখানে এক ভদ্রমহিলা নিয়ত অপেক্ষা করেন - তার ছেলে আসবে - দুটো দিন - অন্তত দুটো দিন তার কাছে থাকবে.

এই সপ্তাহে পারছি না যেতে - মা জানেন - তবু বোধহয় অপেক্ষা করবেন - অপেক্ষা তার অস্তিত্বে - অপেক্ষা তার অবচেতন মনে - বড় অদ্ভুত মায়েদের মন.

ভাই - কেমুন আছেন ?

ইন্টারকম বেজে ওঠে - রিসেপশন থেকে জানানো হচ্ছে - পার্শ্বেল এসেছে - নিচে নেমে দেখি - বিশাল এক ঝুড়িভর্তি আম - সূদুর রাজশাহী থেকে এসেছে - প্রেরকের নাম 'হাসান' - লিফট বেয়ে উপরে উঠছি - সহ-আরোহীদের নানাবিধ প্রশ্ন - রাজশাহীর আম ? কত কেজি ? ফজলি ? প্রাইস কত ? - প্রথম তিনটির উত্তর দিতে পারলাম - চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই - কখনো জানা থাকে না - গত কযেক বছর ধরে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে - আম আসে -লিচু আসে - প্রেরক দাম জানায় না - আমরাও মুল্য পরিশোধের সুযোগ পাইনা - বড় বিব্রত লাগে - নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হয় - আবার কিছুটা প্রশান্তিও যেন পাই - ভালবাসা আসলেও যুক্তি মানে না.

হাসান'কে ফোন দিলাম - 'আবার আম পাঠিয়েছ - এবার অন্তত দামটা নাও' - ওপাশ থেকে অভিমানী প্রত্যুত্তর- 'কি বুলছেন ভাই - আপনাদের সাথে কি আমার টেকার সম্পর্ক - চাচা বাইচ্যে নাই বুলে কি আমাক পর কইরে দিলেন ? ' - এই প্রশ্নের উত্তর হয় না - রাজধানীর কংক্রিটের দালানে বসে এক মফস্স্বলী যুবকের সারল্যমাখা অভিমানের মূল্যায়ন আমার মত নাগরিক কীট কিভাবে করবে বলুন?

এবার নাহয় তাকে আমরা বিদায় বলি

সীমাহীন খ্যাতি - নিরেট শ্রদ্ধা - অপরিমেয় ভালবাসা আর গগনস্পর্শী জনপ্রিয়তা - সবকিছু পেছনে ফেলে মানুষটা এখন হিমঘরে - প্রাণহীন দেহ নিশ্চয় এখন অনেকটা আরষ্ট - স্বপ্নভুক চোখদুটো বন্ধ হয়ে গেছে - ঠোঁট দুটো ভাষাহীন - হৃদস্পন্দন থেমে গেছে অনেক আগে - প্রখর মস্তিস্ক এখন শুধুই শূন্যতার ধারক - পচননিরোধক কে আশ্রয় করে যে মানুষটি এভাবে শুয়ে আছেন - তাকে নাহয় এবার আমরা বিদায় বলি.

নিশ্চয় তিনি অসাধারণ ছিলেন - ছিলেন নিপুণ এক লেখক - সাহিত্যের এক অপরাজেয় সম্রাট - কিন্তু এখন তিনি মারা গেছেন - আর সব নশ্বর মানুষের মতই - এটাই সত্য - পৃথিবীকে যতটুকু দেবার ছিল - বোধ করি - তিনি দিয়েছেন তারচেয়ে বেশি - দু' হাত ভরে কুড়িয়েছেন ও অনেক - কিন্তু এখন তার কলম থেমে গেছে - হয়ত তিনি অজস্র সফল স্ক্রিপ্টের জনক - কিন্তু সর্বদ্রষ্টার স্ক্রিপ্টে তিনিও নগণ্য একটি চরিত্র মাত্র.- মেনে নিতে কষ্ট হয় - তবু নিয়তি এটাই.

কে বলে - কাল রাতে জোছনা ছিল না ?

রজনীর শুরু - ঘড়ির কাঁটা মাত্র ১১' র ঘর পার হযেছে - হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক যুবক তখন মগবাজার চৌরাস্তার কাছে - অদ্ভুতুড়ে তার জীবনদর্শন - জগতের অপার রহস্য তাকে নিয়ত আচ্ছন্ন করে রাখে - আধ্যাতিকতার প্রশ্নে দীর্ঘদিন থেকেই সে বিতর্কিত - আজকের রাতটা কেমন যেন - যুবকের প্রবল ইনটুইশন আজ কাজ করছে না - তার জানা নেই - কিছুক্ষণের মাঝেই পৃথিবীর গভীরতম রহস্য তাকে গ্রাস করবে - এগারোটা বিশ - হুট করেই যেন যুবকের চারপাশ বায়ুশুন্য হয়ে গেল - অত:পর তীব্র অসহনীয় শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসা - ভিতরে এক বোধ - এই তাহলে মৃত্যু - এত যন্ত্রণার মাঝেও আকাশের দিকে তাকাতে তার ভুল হয়নি - খুঁজছে সে চাঁদ - খুঁজছে জোছনা - নেই - আজ বুঝি অমাবস্যা - মৃত্যু তাহলে আঁধারের ঘাতক - ক্ষতি নেই - যার হৃদয় ভর্তি জোছনা - পঞ্জিকায় নয় - প্রতিটি রাতেই যে তার পূর্ণিমা.

এই নদী বড় মায়াবতী

পদ্মাপাড়ের ছেলে আমি - গায়ে এখনো লাল মাটির গন্ধ লেগে আছে - তামাটে গাত্রবর্ণ এখনো সেই ভীষণ খরতপ্ত বরেন্দ্র সূর্যের গল্প বলে - আমের মুকুলকে এখনো প্রিয় ফুল মানি - কৃষ্ণচূড়াকে এখনো সৌন্দর্যের রাণী বলি - জীবিকার তাগিদে কিভাবে যেন চলে এসেছি সুরমার কোলে - কিন্তু মন পড়ে রয় ওই পদ্মার তটে - লোকমুখে শুনি - পদ্মা শুকিয়ে গেছে - নদী নাকি আগের মত জাগে না - প্রমত্তা রমণী বুঝি বৈধব্য আশ্রয় করেছে - হবে বা - কলির যুগ - কালের ধর্ম - নদীও হয়ত হারাতেই চলেছে - কিন্তু ওই নদীর ধার ঘেঁষে যারা বড় হলাম - তাদের কাছে কি পদ্মার মৃত্যু আছে - এই যে দেখো - যেই না চোখ বন্ধ করেছি - বুকের মাঝে উথাল পাতাল - নদী আমায় ভাসিয়ে নিচ্ছে - এই তো যেন দাড়িয়ে আছি টি বাঁধের 'পরে - জুতো জোড়া খুলেছি মাত্র - পা দুটো যাচ্ছে ভিজে - এ যেন ঠিক আমার মায়ের মত - ছেলের গায়ের গন্ধ চেনে - হাত বারাবার লহমা আগেই ভালবাসায় কাছে টানে - এই নদী বড় মায়াবতী - যত দুরে যাই - যতই নিজেকে যুক্তির চাদরে মোড়াই - তবু নদীর মায়া কাটে না - বাস ট্রেনের ধোঁয়ায় কতবার পুড়েছে দেহ - বাস্তব অবাস্তব দু :স্বপ্নের যাতাকলে কতবার হারিয়েছে মন - তবু নদী শুধু ডাকে আয় আয় - পোড়া এই দে

একটি দীর্ঘশ্বাস- শুধুই একটি দীর্ঘশ্বাস এনেছি আমার সমস্ত পার্থিব জীবনের বিনিময়ে

বয়স বাড়ছে - মনটা বোধহয় আগের মত আর সজীব নেই - পথ চলতি তরুণদের দিকে তাকালে কিছুটা ঈর্ষাই যেন বোধ করি ইদানিং - চিরশত্রু মেদ শরীরে অনুপ্রবেশ করেছে - তিন দশকের গল্প শেষ - স্বাভাবিক নিয়মে চললে আর বাকি দু'দশক - আশা করি নিয়মের ব্যতিক্রম হবে - সময়টা এত দীর্ঘ হবে না - মাঝেই মাঝেই পিছু ফিরে দেখি - মনে আশা - ফেলে আসা পথে ভালো কিছু কাজ কি দেখা যায় - ক্ষুদ্র বিন্দুসম হোক তবু এমন কোনো কিছু যার প্রতিদান স্রষ্টার কাছে প্রত্যাশা করতে পারি - বৃথা অন্বেষণ - কিঞ্চিতকর একটি আকরও আমি সংগ্রহ করে আসিনি - শুধু বয়সে বড় হলাম - মনের দিক থেকে - কর্মের দিক থেকে রয়ে গেছি শূন্য পাত্র - আমি বহু হাত ছুঁয়েছি - সম্পর্কের বহু মাত্রিক সমীকরণে নিত্যনতুন সহগের ভূমিকায় নেমেছি - প্রাপ্তি হয়ত নগণ্য - তবু এই ছিল জীবনের ধারা - এই ধারাতেই হাঁটছি এখনো - 'আজরাইল' নামের সেই প্রিয় মুখ ধারে কাছেই আছেন জানি - কিন্তু তিনি কতটা সময় নেবেন তা শুধু নিয়তিই জানেন - তারপরে অন্তিম যাত্রা - অলক্ষ্যের পথে - শবাধারে শুয়ে পড়ব - বুজে যাবে দুই চোখ - পার্থিব কাহিনীটা শেষ হবে - ওই মুহূর্ত টা নিয়ে আমি মাঝে মাঝেই ভাবি - অন্ধকার ঘরটা কেমন হবে - খুব কষ্টকর ?

একদিন মুখোমুখি হব অতল অন্ধকারের

বেশ ছোট ছিলাম - বোঝার গন্ডি ছিল নিতান্তই সীমিত (এখনো যে খুব স্ফীত হয়েছে তা নয়) - এমনিতে চুপচাপই ছিলাম - কিন্তু মাথায় পোকা ঢুকলেই আশেপাশের মানুষকে উল্টোপাল্টা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতাম - কেউ বিব্রত হতেন - কেউ বিস্মিত - কেউ বিরক্ত আর কারো কারো চোখে যেন শঙ্কার ছায়াও দেখতাম - একজন বালক যে অন্যদের জন্য কত বিরক্তিকর হতে পারে আমি বোধহয় ছিলাম তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ - আমার অধিকাংশ প্রশ্ন ছিল ধর্মকেন্দ্রিক - ওই বয়সে ধর্ম নিয়ে গভীর কোনো উপলব্ধি বা কৌতুহল থাকার কথা না - আমারও ছিল না - কিন্তু ধর্ম নিয়ে আমার কিছু জিজ্ঞাস্য ঐসময়ে ছিল - এখনো আছে - আর আমৃত্যু থাকবে.

একটি গান - সাধারণ তবুও অনন্য

১৬ নভেম্বর, ২০১১ - মুক্তি পেল একটি গান - গান বলা ঠিক হবে না - অদ্ভুতুড়ে কিছু শব্দের অবিন্যস্ত মিশ্রণ - ৩০ নভেম্বর, ২০১১ - ইউ টিউবের হিট কাউন্টার বলছে - গানটির শ্রোতা সংখ্যা ওই তারিখে এক কোটির বেশি - অনুরূপ তথ্য দিচ্ছে ফেসবুক আর টুইটার এর মত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইট - এটা শুধু ওই তারিখের উপাত্ত - এরপর ইন্টারনেটের হিট কাউন্টারগুলো যেন পাগল হয়ে উঠলো - সমালোচকরা নড়েচড়ে বসলেন - জাভেদ আখতারের মত জনপ্রিয় ভারতীয় গীতিকার মন্তব্য করলেন - 'এটা গান নয়, সুস্থধারার প্রতি একটি আঘাত' - অতি আগ্রহী কেউ একজন গানটির বিরুদ্ধে ভারতের কেরালা হাই কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে দিলেন - কিন্তু কিছুতেই কিছু হলনা - গানটির শ্রোতাপ্রিয়তা মহামারী আকারে দিনদিন বেড়েই চলল - আসুন একটু ফিরে দেখি - কি ছিল সেই গানটি ?

Yo Boys I Am Sing Song…
Soup Song..
Flop Song..
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Rythm Correct
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Maintain Please
Why This Kolaveri …………………………Aaa Di

Distance-La Moonu Moonu. Moonu Colour Whiteu.

কোথায় গেলেন আমাদের মেধাবী নির্মাতারা - বিরল অভিনয় প্রতিভারা ?

প্রায় এক যুগ বা তারও আগে বিটিভিতে এক পর্বের একটি নাটক প্রচারিত হয়েছিল - স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তবে বলতে পারি - নাম ভূমিকায় ছিলেন মমতাজউদ্দিন আহমেদ নামের দুর্ধর্ষ একজন অভিনেতা - সাথে ছিলেন আরেকজন দিকপাল - আফজাল হোসেন - নাটকের নাম কিছুতেই মনে করতে পারি না - কাহিনীচিত্র কিন্তু দিব্যি মনে আছে - আফজাল একজন জননন্দিত শহুরে লেখক - বিপত্নীক - শিশুকন্যাকে নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটে তার - এর মাঝেই গ্রাম থেকে অনাহুত এক আগন্তক (মমতাজউদ্দিন) এসে হাজির হন তার দরজায় - তিনিও একজন লেখক - পার্থক্য এটাই যে তিনি অখ্যাত - শহুরে লেখকের কাছে এসেছেন একটি দাবি নিয়ে - তার স্বরচিত পান্ডুলিপিখানা প্রকাশ করে দিতে হবে - আফজাল তাকে নানাভাবে নিরস্ত করতে চান - বোঝাতে চেষ্টা করেন যে একটি বই প্রকাশ করা কত কঠিন - আর গ্রাম্য এক লেখকের অখাদ্য পান্ডুলিপির কোনো গ্রহণযোগ্যতা শহুরে প্রকাশক বা পাঠক কারো কাছেই নেই - কিন্তু অখ্যাত ওই লেখক নিতান্তই সরল - আফজালের যুক্তিগর্ভ ব্যাখ্যা বোঝার মত বুদ্ধির প্রখরতা তার নেই - আফজালের বাসাতেই তিনি ডেরা গাড়েন - আফজাল তনয়ার সাথে গড়ে উঠে তার মমতার সখ্য - সময় যেতে থাকে - তিনি আশায় আশায় দিন গোনেন -

এই ক্লান্ত কাঁধে একবার রাখুক বাবা ভরসার ওই হাত

প্রিয় রাজশাহী থেকে অনেক দুরে আছি - দুরে আছি কলমুখর রাজধানী থেকেও - এ এক অন্য ভুবন - পূণ্যভূমি সিলেট - এখানেই পড়ে আছি - অনেকটা যেন নির্বাসনে - আধুনিক স্থাপত্যের একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি - আপাতত এটাই আমার আশ্রয়স্থল - এ বাসার সবকিছুই সুন্দর - খুব বেশী সুন্দর আর নিঁখুত - তবু মন বসে না - দামী ফার্নিচারের ভীড়ে মাঝে মাঝে নিজেকেও প্রাণহীন কাঠামো মনে হয় - আমি একতলা দোতলা করি - অস্থির পদচারণ - এই পুরো দালানে একমাত্র জীবিত প্রাণী আমি - বিদ্যুত এখানে নিরবিচ্ছিন্ন - কক্ষগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত - আমার মত ছাপোষা মধ্যবিত্তের জন্য এই বিলাসিতা বাড়াবাড়ি রকমের - এত আরাম আমার সয় না - এই বাসার ছাদটাকে কিন্তু বড় আপন মনে হয় - বৃক্ষলতা ছাওয়া ছাদ - এখান থেকে বহুদূর চোখ যায় - এই বাসায় এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় স্থান - অশরীরী আঁধারের কোলে এই আমার নির্জনবাস - যদিও আমি একা - তবু যেন কেউ আছে - রাতের কাঙ্ক্ষিত অতিথিরা - যে রাতগুলোয় অনিদ্রার রাজত্ব - আমি ছুটে যাই ওই ছাদে - রাত আমাকে কত কিছুই না দেখায় - কত অদ্ভুত সব দৃশ্য - যে না দেখেছে সে বুঝবে না - একপর্যায়ে চাঁদ স্ফীত হয় - তারপর আবার শুরু হয় সংকোচনের খেলা - অবিন্যস্ত মেঘেরা

আমার প্রয়াত বন্ধু - লেলিন.

মানুষটা রোনালদো বা মেসি নয় - কিন্তু তাদের চেয়ে কোনো অংশে সে কম ও নয়- প্রথমোক্ত দুজন খ্যাতির সুযোগ আর প্রেক্ষাপট হিসেবে পুরো পৃথিবীটাকে পেয়েছে - আর তৃতীয়জন পেয়েছে ক্ষুদ্র একটি দেশের স্থানীয় কিছু মাঠ - তবু আমাদের সাদা চোখে - হৃদয়ের বন্ধুর প্রজেকশন স্ক্রিনে ওই তৃতীয় মানুষটি ও বিশেষ কেউ - আমাদের প্রিয় মুখ লেলিন - আমাদের ম্যারাডোনা .

লেলিনের পায়ের জাদু - ফুটবল মাঠে বহুবার দেখেছি - মুগ্ধ হয়েছি - কিন্তু সত্যিকার অর্থেই জানি - এটা তার মূল পরিচয় নয়.

আজ একটি শবযাত্রা চলেছে - কফিনে আবদ্ধ এক যুবার প্রাণহীন দেহ মাটির অতলে আশ্রয় নিতে ব্যাকুল - এই যাত্রায় আমি নেই - থাকতে চাই ও না - এই যুবাকে আমি চিনি না - এই যুবা আমার বন্ধু লেলিন নয়.

লেলিন তো অন্য কেউ - সেতো 'দুষ্টুর শিরোমনি' - এক মুহূর্ত যে থিতু নয় - এই প্রাণহীন অলস দেহখানি বন্ধু লেলিনের নয়. তার ছিল সিংহের হৃদয় - ছিল জীবনকে চেটেপুটে উপভোগ করার সীমাহীন বাসনা - ছিল প্রশস্ত বুক - শত আঘাতেও ছিল অবিচল - এই দুর্বল দেহখানি তার নয়. আমাদের লেলিন তো ছিল বন্ধু অন্তপ্রাণ - কিন্তু আজ শত আহবানেও সে যে দেয় না সাড়া - কি করে বিশ্বাস করি এই আমাদের লেলিন ?

hasan_adnan'র সাম্প্রতিক লেখা