ইউজার লগইন

হাসান আদনান'এর ব্লগ

কে বলে - কাল রাতে জোছনা ছিল না ?

রজনীর শুরু - ঘড়ির কাঁটা মাত্র ১১' র ঘর পার হযেছে - হলুদ পাঞ্জাবি পরা এক যুবক তখন মগবাজার চৌরাস্তার কাছে - অদ্ভুতুড়ে তার জীবনদর্শন - জগতের অপার রহস্য তাকে নিয়ত আচ্ছন্ন করে রাখে - আধ্যাতিকতার প্রশ্নে দীর্ঘদিন থেকেই সে বিতর্কিত - আজকের রাতটা কেমন যেন - যুবকের প্রবল ইনটুইশন আজ কাজ করছে না - তার জানা নেই - কিছুক্ষণের মাঝেই পৃথিবীর গভীরতম রহস্য তাকে গ্রাস করবে - এগারোটা বিশ - হুট করেই যেন যুবকের চারপাশ বায়ুশুন্য হয়ে গেল - অত:পর তীব্র অসহনীয় শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসা - ভিতরে এক বোধ - এই তাহলে মৃত্যু - এত যন্ত্রণার মাঝেও আকাশের দিকে তাকাতে তার ভুল হয়নি - খুঁজছে সে চাঁদ - খুঁজছে জোছনা - নেই - আজ বুঝি অমাবস্যা - মৃত্যু তাহলে আঁধারের ঘাতক - ক্ষতি নেই - যার হৃদয় ভর্তি জোছনা - পঞ্জিকায় নয় - প্রতিটি রাতেই যে তার পূর্ণিমা.

এই নদী বড় মায়াবতী

পদ্মাপাড়ের ছেলে আমি - গায়ে এখনো লাল মাটির গন্ধ লেগে আছে - তামাটে গাত্রবর্ণ এখনো সেই ভীষণ খরতপ্ত বরেন্দ্র সূর্যের গল্প বলে - আমের মুকুলকে এখনো প্রিয় ফুল মানি - কৃষ্ণচূড়াকে এখনো সৌন্দর্যের রাণী বলি - জীবিকার তাগিদে কিভাবে যেন চলে এসেছি সুরমার কোলে - কিন্তু মন পড়ে রয় ওই পদ্মার তটে - লোকমুখে শুনি - পদ্মা শুকিয়ে গেছে - নদী নাকি আগের মত জাগে না - প্রমত্তা রমণী বুঝি বৈধব্য আশ্রয় করেছে - হবে বা - কলির যুগ - কালের ধর্ম - নদীও হয়ত হারাতেই চলেছে - কিন্তু ওই নদীর ধার ঘেঁষে যারা বড় হলাম - তাদের কাছে কি পদ্মার মৃত্যু আছে - এই যে দেখো - যেই না চোখ বন্ধ করেছি - বুকের মাঝে উথাল পাতাল - নদী আমায় ভাসিয়ে নিচ্ছে - এই তো যেন দাড়িয়ে আছি টি বাঁধের 'পরে - জুতো জোড়া খুলেছি মাত্র - পা দুটো যাচ্ছে ভিজে - এ যেন ঠিক আমার মায়ের মত - ছেলের গায়ের গন্ধ চেনে - হাত বারাবার লহমা আগেই ভালবাসায় কাছে টানে - এই নদী বড় মায়াবতী - যত দুরে যাই - যতই নিজেকে যুক্তির চাদরে মোড়াই - তবু নদীর মায়া কাটে না - বাস ট্রেনের ধোঁয়ায় কতবার পুড়েছে দেহ - বাস্তব অবাস্তব দু :স্বপ্নের যাতাকলে কতবার হারিয়েছে মন - তবু নদী শুধু ডাকে আয় আয় - পোড়া এই দে

একটি দীর্ঘশ্বাস- শুধুই একটি দীর্ঘশ্বাস এনেছি আমার সমস্ত পার্থিব জীবনের বিনিময়ে

বয়স বাড়ছে - মনটা বোধহয় আগের মত আর সজীব নেই - পথ চলতি তরুণদের দিকে তাকালে কিছুটা ঈর্ষাই যেন বোধ করি ইদানিং - চিরশত্রু মেদ শরীরে অনুপ্রবেশ করেছে - তিন দশকের গল্প শেষ - স্বাভাবিক নিয়মে চললে আর বাকি দু'দশক - আশা করি নিয়মের ব্যতিক্রম হবে - সময়টা এত দীর্ঘ হবে না - মাঝেই মাঝেই পিছু ফিরে দেখি - মনে আশা - ফেলে আসা পথে ভালো কিছু কাজ কি দেখা যায় - ক্ষুদ্র বিন্দুসম হোক তবু এমন কোনো কিছু যার প্রতিদান স্রষ্টার কাছে প্রত্যাশা করতে পারি - বৃথা অন্বেষণ - কিঞ্চিতকর একটি আকরও আমি সংগ্রহ করে আসিনি - শুধু বয়সে বড় হলাম - মনের দিক থেকে - কর্মের দিক থেকে রয়ে গেছি শূন্য পাত্র - আমি বহু হাত ছুঁয়েছি - সম্পর্কের বহু মাত্রিক সমীকরণে নিত্যনতুন সহগের ভূমিকায় নেমেছি - প্রাপ্তি হয়ত নগণ্য - তবু এই ছিল জীবনের ধারা - এই ধারাতেই হাঁটছি এখনো - 'আজরাইল' নামের সেই প্রিয় মুখ ধারে কাছেই আছেন জানি - কিন্তু তিনি কতটা সময় নেবেন তা শুধু নিয়তিই জানেন - তারপরে অন্তিম যাত্রা - অলক্ষ্যের পথে - শবাধারে শুয়ে পড়ব - বুজে যাবে দুই চোখ - পার্থিব কাহিনীটা শেষ হবে - ওই মুহূর্ত টা নিয়ে আমি মাঝে মাঝেই ভাবি - অন্ধকার ঘরটা কেমন হবে - খুব কষ্টকর ?

একদিন মুখোমুখি হব অতল অন্ধকারের

বেশ ছোট ছিলাম - বোঝার গন্ডি ছিল নিতান্তই সীমিত (এখনো যে খুব স্ফীত হয়েছে তা নয়) - এমনিতে চুপচাপই ছিলাম - কিন্তু মাথায় পোকা ঢুকলেই আশেপাশের মানুষকে উল্টোপাল্টা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতাম - কেউ বিব্রত হতেন - কেউ বিস্মিত - কেউ বিরক্ত আর কারো কারো চোখে যেন শঙ্কার ছায়াও দেখতাম - একজন বালক যে অন্যদের জন্য কত বিরক্তিকর হতে পারে আমি বোধহয় ছিলাম তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ - আমার অধিকাংশ প্রশ্ন ছিল ধর্মকেন্দ্রিক - ওই বয়সে ধর্ম নিয়ে গভীর কোনো উপলব্ধি বা কৌতুহল থাকার কথা না - আমারও ছিল না - কিন্তু ধর্ম নিয়ে আমার কিছু জিজ্ঞাস্য ঐসময়ে ছিল - এখনো আছে - আর আমৃত্যু থাকবে.

একটি গান - সাধারণ তবুও অনন্য

১৬ নভেম্বর, ২০১১ - মুক্তি পেল একটি গান - গান বলা ঠিক হবে না - অদ্ভুতুড়ে কিছু শব্দের অবিন্যস্ত মিশ্রণ - ৩০ নভেম্বর, ২০১১ - ইউ টিউবের হিট কাউন্টার বলছে - গানটির শ্রোতা সংখ্যা ওই তারিখে এক কোটির বেশি - অনুরূপ তথ্য দিচ্ছে ফেসবুক আর টুইটার এর মত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইট - এটা শুধু ওই তারিখের উপাত্ত - এরপর ইন্টারনেটের হিট কাউন্টারগুলো যেন পাগল হয়ে উঠলো - সমালোচকরা নড়েচড়ে বসলেন - জাভেদ আখতারের মত জনপ্রিয় ভারতীয় গীতিকার মন্তব্য করলেন - 'এটা গান নয়, সুস্থধারার প্রতি একটি আঘাত' - অতি আগ্রহী কেউ একজন গানটির বিরুদ্ধে ভারতের কেরালা হাই কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে দিলেন - কিন্তু কিছুতেই কিছু হলনা - গানটির শ্রোতাপ্রিয়তা মহামারী আকারে দিনদিন বেড়েই চলল - আসুন একটু ফিরে দেখি - কি ছিল সেই গানটি ?

Yo Boys I Am Sing Song…
Soup Song..
Flop Song..
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Rythm Correct
Why This Kolaveri Kolaveri Kolaveri Di
Maintain Please
Why This Kolaveri …………………………Aaa Di

Distance-La Moonu Moonu. Moonu Colour Whiteu.

কোথায় গেলেন আমাদের মেধাবী নির্মাতারা - বিরল অভিনয় প্রতিভারা ?

প্রায় এক যুগ বা তারও আগে বিটিভিতে এক পর্বের একটি নাটক প্রচারিত হয়েছিল - স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তবে বলতে পারি - নাম ভূমিকায় ছিলেন মমতাজউদ্দিন আহমেদ নামের দুর্ধর্ষ একজন অভিনেতা - সাথে ছিলেন আরেকজন দিকপাল - আফজাল হোসেন - নাটকের নাম কিছুতেই মনে করতে পারি না - কাহিনীচিত্র কিন্তু দিব্যি মনে আছে - আফজাল একজন জননন্দিত শহুরে লেখক - বিপত্নীক - শিশুকন্যাকে নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটে তার - এর মাঝেই গ্রাম থেকে অনাহুত এক আগন্তক (মমতাজউদ্দিন) এসে হাজির হন তার দরজায় - তিনিও একজন লেখক - পার্থক্য এটাই যে তিনি অখ্যাত - শহুরে লেখকের কাছে এসেছেন একটি দাবি নিয়ে - তার স্বরচিত পান্ডুলিপিখানা প্রকাশ করে দিতে হবে - আফজাল তাকে নানাভাবে নিরস্ত করতে চান - বোঝাতে চেষ্টা করেন যে একটি বই প্রকাশ করা কত কঠিন - আর গ্রাম্য এক লেখকের অখাদ্য পান্ডুলিপির কোনো গ্রহণযোগ্যতা শহুরে প্রকাশক বা পাঠক কারো কাছেই নেই - কিন্তু অখ্যাত ওই লেখক নিতান্তই সরল - আফজালের যুক্তিগর্ভ ব্যাখ্যা বোঝার মত বুদ্ধির প্রখরতা তার নেই - আফজালের বাসাতেই তিনি ডেরা গাড়েন - আফজাল তনয়ার সাথে গড়ে উঠে তার মমতার সখ্য - সময় যেতে থাকে - তিনি আশায় আশায় দিন গোনেন -

এই ক্লান্ত কাঁধে একবার রাখুক বাবা ভরসার ওই হাত

প্রিয় রাজশাহী থেকে অনেক দুরে আছি - দুরে আছি কলমুখর রাজধানী থেকেও - এ এক অন্য ভুবন - পূণ্যভূমি সিলেট - এখানেই পড়ে আছি - অনেকটা যেন নির্বাসনে - আধুনিক স্থাপত্যের একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি - আপাতত এটাই আমার আশ্রয়স্থল - এ বাসার সবকিছুই সুন্দর - খুব বেশী সুন্দর আর নিঁখুত - তবু মন বসে না - দামী ফার্নিচারের ভীড়ে মাঝে মাঝে নিজেকেও প্রাণহীন কাঠামো মনে হয় - আমি একতলা দোতলা করি - অস্থির পদচারণ - এই পুরো দালানে একমাত্র জীবিত প্রাণী আমি - বিদ্যুত এখানে নিরবিচ্ছিন্ন - কক্ষগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত - আমার মত ছাপোষা মধ্যবিত্তের জন্য এই বিলাসিতা বাড়াবাড়ি রকমের - এত আরাম আমার সয় না - এই বাসার ছাদটাকে কিন্তু বড় আপন মনে হয় - বৃক্ষলতা ছাওয়া ছাদ - এখান থেকে বহুদূর চোখ যায় - এই বাসায় এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় স্থান - অশরীরী আঁধারের কোলে এই আমার নির্জনবাস - যদিও আমি একা - তবু যেন কেউ আছে - রাতের কাঙ্ক্ষিত অতিথিরা - যে রাতগুলোয় অনিদ্রার রাজত্ব - আমি ছুটে যাই ওই ছাদে - রাত আমাকে কত কিছুই না দেখায় - কত অদ্ভুত সব দৃশ্য - যে না দেখেছে সে বুঝবে না - একপর্যায়ে চাঁদ স্ফীত হয় - তারপর আবার শুরু হয় সংকোচনের খেলা - অবিন্যস্ত মেঘেরা

আমার প্রয়াত বন্ধু - লেলিন.

মানুষটা রোনালদো বা মেসি নয় - কিন্তু তাদের চেয়ে কোনো অংশে সে কম ও নয়- প্রথমোক্ত দুজন খ্যাতির সুযোগ আর প্রেক্ষাপট হিসেবে পুরো পৃথিবীটাকে পেয়েছে - আর তৃতীয়জন পেয়েছে ক্ষুদ্র একটি দেশের স্থানীয় কিছু মাঠ - তবু আমাদের সাদা চোখে - হৃদয়ের বন্ধুর প্রজেকশন স্ক্রিনে ওই তৃতীয় মানুষটি ও বিশেষ কেউ - আমাদের প্রিয় মুখ লেলিন - আমাদের ম্যারাডোনা .

লেলিনের পায়ের জাদু - ফুটবল মাঠে বহুবার দেখেছি - মুগ্ধ হয়েছি - কিন্তু সত্যিকার অর্থেই জানি - এটা তার মূল পরিচয় নয়.

আজ একটি শবযাত্রা চলেছে - কফিনে আবদ্ধ এক যুবার প্রাণহীন দেহ মাটির অতলে আশ্রয় নিতে ব্যাকুল - এই যাত্রায় আমি নেই - থাকতে চাই ও না - এই যুবাকে আমি চিনি না - এই যুবা আমার বন্ধু লেলিন নয়.

লেলিন তো অন্য কেউ - সেতো 'দুষ্টুর শিরোমনি' - এক মুহূর্ত যে থিতু নয় - এই প্রাণহীন অলস দেহখানি বন্ধু লেলিনের নয়. তার ছিল সিংহের হৃদয় - ছিল জীবনকে চেটেপুটে উপভোগ করার সীমাহীন বাসনা - ছিল প্রশস্ত বুক - শত আঘাতেও ছিল অবিচল - এই দুর্বল দেহখানি তার নয়. আমাদের লেলিন তো ছিল বন্ধু অন্তপ্রাণ - কিন্তু আজ শত আহবানেও সে যে দেয় না সাড়া - কি করে বিশ্বাস করি এই আমাদের লেলিন ?

চামেলী, শীলা বা জিলাপি বাঈ

দারুণ একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা - জনপ্রিয় সব আধুনিক গান পরিবেশিত হচ্ছে- অল্পবয়সী একটি ছেলে গাইল - 'চক্ষের নজর এমনি কইরা একদিন যাবে ফুরাইয়া' - তারপরেই আরেকজনের কন্ঠে শুনলাম 'এ এমন পরিচয়' - দর্শক শ্রোতারা বেশ উপভোগ করছেন - 'রাজনীতি' নিয়ে ক্ষুদ্র একটা প্রহসন নাটিকা ও মঞ্চস্থ হলো - তারপরেই বেতারের একজন শিল্পী এলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে - একে একে গাইলেন "আগুনের পরশমণি", ''যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন ",..." মনে রবে কি না রবে আমারে " - মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম -অনুষ্ঠান তখন শেষের দিকে - উপস্থাপক ঘোষণা করলেন - এখন পরিবেশিত হতে যাচ্ছে আজকের সেরা আকর্ষণ - 'দিল থাম কে বেঠিয়ে ' (অতিরঞ্জন নয় - উপস্থাপক ঠিক এই ভাষাতেই বললেন ) - স্টেজে আসছেন ..... কিছু বিশেষণ ......ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজছে - "চিকনী চামেলী " .....

বিশ্বাস কোথায় - কারো দিকেই কী পিঠ দেয়া যাবে না ?

বিশ্বাসের জায়গাটা বড় স্পর্শকাতর - ঐখানে ধাক্কা (আদতে ছোঁয়া ) লাগলে সব কিছুই যেন কেমন হয়ে যায় - নয় মাসের যাত্রা - মমতার একটা আশ্রয়স্থল ভ্রুণ কে জানিয়ে দেয় - তুমি নিরাপদ - ভ্রুণ তা বিশ্বাস করে - গল্পের শুরু ওখানেই - বিশ্বাসের একমাত্র সফল অক্ষুন্ন অবস্থান ও বোধকরি ওখানেই - তারপর থেকেই শুধু অতিশায়ন - প্রিয় স্কুল টিচারের ব্যক্তিত্ব আর আদর্শ আপনাকে তুলে দেবে বিশ্বাসের অতুল উচ্চতায় - তারপর যেদিন বাত্যয় দ...েখবেন - চোখে জল বাঁধ মানবে না - প্রিয়তম বন্ধুর প্রতিশ্রুতি - তোর জন্য জীবন দেব দোস্ত - তারপর একদিন - এ কী - বন্ধুর হাতে সুচাগ্র ছুরি তোমার রক্তপানে ব্যাকুল - কাকে যেন ভালোবাসলেন - ভাবলেন - জীবন অমৃত - তারপর দেখবেন- সবই বাণিজ্য - প্রতিশ্রুত সঙ্গিনী দক্ষতায় পেশাদার আততায়ীর চেয়ে কম নয়- রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় - তবু দলিলের কালো হরফ সেই রক্তের উপর জয়ী - মালিক - বিশ্বাস কোথায় - কারো দিকেই কী পিঠ দেয়া যাবে না ?

আমি নাহয় রাবণই হব

তোমরা নাহয় রাম হও
কিংবা অচিন রাজপুত্র
অর্ধ রাজ্য - পূর্ণ কন্যা - বলিহারি রাজত্ব
আমি নাহয় রাবণই হব
দশ মাথার অসুর সম
সীতা তোমার ঘরেই থাকুক
পারলে নিও (বি) ভীষণ টাকেও
ও দেবতা ভালই আছ
তুন ভরে তীর সাজছ আরো
তীরের মাথায় আমায় রেখো
এবার মাথা ছেড়ে দিও
বুকের বাঁয়ে - অচিন তলে
এবার সেথায় আঘাত কর.

এবার ঘুমাতে দাও

এবার ঘুমাতে দাও
অনেক প্রহর জাগা ক্লান্ত দুটো চোখ
এবার বুজিয়ে দাও
আঁধার ঘরেই রেখো আমায় - ক্ষতি কি ?
শুধু ভেজা মাটির প্রলেপ দিও
সবুজ ঘাসের আচ্ছাদনে আমার বেদনা দিও ঢেকে
খুব যদি কষ্ট না হয়
মাথার কাছে রোপে দিও অবুঝ বাতাবি চারা
আর কি চাইব
একটা এপিটাফ - জীবন বাবুর অবাক কাব্য লিখা
তোমরাই বলো
খুব কি বেশি চাওয়া আমার
খুব কি বেশি চাওয়া ?

'গুরু' তোমাকে সালাম

সন ১৯৭৪ - যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ - বিধ্বস্ত অর্থনীতি - অত্যাসন্ন দুর্ভিক্ষের আহাজারি চারদিকে - রাজধানী ঢাকাও এর ব্যতিক্রম নয় - এরকম সময়ে - বিষন্ন এক সন্ধ্যা - কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন বস্তির পাশ দিয়ে হাঁটছেন দীর্ঘদেহী একজন মানুষ - লম্বা পাঞ্জাবি - কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল - কিছুটা যেন অন্যমনস্ক - তারপর কেন যেন থমকে গেলেন তিনি - তীব্র কান্নার শব্দ ভেসে আসছে বস্তির কোনও ঘর থেকে - একটু এগিয়ে যেতেই দেখলেন - এক মা তার শিশুর মাথা কোলে নিয়ে কাঁদছেন - সেটা ছিল ক্ষুধা আর দারিদ্রের বিরুদ্ধে এক মায়ের ব্যর্থ করুণ আহাজারি - সাদা পাঞ্জাবির আড়ালে লুকানো একটি হৃদয় সেদিনকার সেই আহাজারি ভুলতে পারেনি - সেই সন্ধ্যায় জন্ম হয়েছিল একটি বিখ্যাত গানের (রেললাইনের ওই বস্তিতে - জন্মেছিল একটি ছেলে) - জন্ম হয়েছিল একজন শিল্পীর - আমি আসলে খুব কম বললাম - ওই সন্ধ্যা ছিল বাংলা গানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের জন

বাবা, শুনতে পাচ্ছ কি তুমি আমার কথা ?

দাদীর কবরের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম - বাবা শিখিয়ে দিচ্ছিলেন কিভাবে জিয়ারত করতে হয় - আমার ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছিলেন - আমি শিখলাম - তারপর বেশিদিনের কথা নয় - একদিন দেখলাম - আমি একা দাড়িয়ে আছি - আর আমার সামনে একটার পরিবর্তে দুটো কবর - দাদীর পাশে তুমিও ঠাই নিয়েছ -আমার এখনো ভুল হয়ে যায় - বাবা - তোমার মত করে পারি না - তুমি আমাকে নিয়ে গোরস্থানে যেতে - সবার কবর চিনিয়ে দিতে আর আমাকে অভয় দিয়ে বলতে - 'আদনান- ভয় পাস না - এখানে সবাইকে আসতে হবে - ওই দেখ তোর টুকু চাচার কবর - চাচার জন্য দোয়া করিস - ওই তোর মিঠু ভাইয়ের কবর - আর এখানে শুয়ে আছেন ওই যে তোর দাড়িওয়ালা চাচা-তোর মনে নাই-তোকে খুব আদর করতেন- সবার জন্য দোয়া করিস '- আমি সবার জন্যই দোয়া করি বাবা - সবার জন্য করি - খালি তোমার জন্য যখন হাত তুলি - সব এলোমেলো হয়ে যায় বাবা - আমি গুছিয়ে কিছুই বলতে পারি না - চোখ খালি ঝাপসা হয়ে যায় - আমি হৃদয়হীন মানুষ - কিন্তু তোমার চলে

শুধু চ্যানেল বদলাই

টিভির সামনে বসে শুধু চ্যানেল বদলাই-এত অনুষ্ঠান-কিন্তু মনে দাগ কাটে না কিছুই-নস্টালজিক হয়ে অতীতে ফিরে যাই-আকাশ সংস্কৃতি তখনও সেভাবে ঢুকেনি দেশে-বিটিভিই ছিল আমাদের সম্বল-সঙ্গ দিত ইন্ডিয়ান ডিডি চ্যানেল-বিটিভির বাংলা নাটকে তখন স্বর্ণযুগ-'ঢাকায় থাকি', 'এই সব দিনরাত্রি', 'অয়োময়', 'বহুব্রীহি', 'সংশপ্তক','কোথাও কেউ নেই','রূপনগর', 'বারো রকমের মানুষ'- এ তালিকা শেষ হবার নয়- আর বিদেশী সিরিয়াল গুলো- 'নাইট রাইডার', 'দা এ টিম', 'স্ট্রীট হক', 'ভয়েজার', 'দা মেনিমেল', 'রবো কপ', আর অবশ্যই 'ম্যাকগাইভার'- এই সিরিয়াল টি বোধহয় সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছিল-আরেকটা সিরিয়াল-'ডার্ক জাস্টিস' -একদম ভিন্ন স্বাদের ছিল-পরবর্তীতে 'টিপু সুলতান' নামের সাইমুম ও এসেছিল এই দেশে-অদ্ভুত মানের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (যার কথা কখনো ভুলবো না) - 'যদি কিছু মনে না করেন'-এর উপস্থাপক কে সবাই ভুলে গেছেন-শুধু হানিফ সংকেত এখনো মাঝে মাঝে স্মরণ ক