ইউজার লগইন

হাসান আদনান'এর ব্লগ

চামেলী, শীলা বা জিলাপি বাঈ

দারুণ একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা - জনপ্রিয় সব আধুনিক গান পরিবেশিত হচ্ছে- অল্পবয়সী একটি ছেলে গাইল - 'চক্ষের নজর এমনি কইরা একদিন যাবে ফুরাইয়া' - তারপরেই আরেকজনের কন্ঠে শুনলাম 'এ এমন পরিচয়' - দর্শক শ্রোতারা বেশ উপভোগ করছেন - 'রাজনীতি' নিয়ে ক্ষুদ্র একটা প্রহসন নাটিকা ও মঞ্চস্থ হলো - তারপরেই বেতারের একজন শিল্পী এলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে - একে একে গাইলেন "আগুনের পরশমণি", ''যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন ",..." মনে রবে কি না রবে আমারে " - মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম -অনুষ্ঠান তখন শেষের দিকে - উপস্থাপক ঘোষণা করলেন - এখন পরিবেশিত হতে যাচ্ছে আজকের সেরা আকর্ষণ - 'দিল থাম কে বেঠিয়ে ' (অতিরঞ্জন নয় - উপস্থাপক ঠিক এই ভাষাতেই বললেন ) - স্টেজে আসছেন ..... কিছু বিশেষণ ......ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজছে - "চিকনী চামেলী " .....

বিশ্বাস কোথায় - কারো দিকেই কী পিঠ দেয়া যাবে না ?

বিশ্বাসের জায়গাটা বড় স্পর্শকাতর - ঐখানে ধাক্কা (আদতে ছোঁয়া ) লাগলে সব কিছুই যেন কেমন হয়ে যায় - নয় মাসের যাত্রা - মমতার একটা আশ্রয়স্থল ভ্রুণ কে জানিয়ে দেয় - তুমি নিরাপদ - ভ্রুণ তা বিশ্বাস করে - গল্পের শুরু ওখানেই - বিশ্বাসের একমাত্র সফল অক্ষুন্ন অবস্থান ও বোধকরি ওখানেই - তারপর থেকেই শুধু অতিশায়ন - প্রিয় স্কুল টিচারের ব্যক্তিত্ব আর আদর্শ আপনাকে তুলে দেবে বিশ্বাসের অতুল উচ্চতায় - তারপর যেদিন বাত্যয় দ...েখবেন - চোখে জল বাঁধ মানবে না - প্রিয়তম বন্ধুর প্রতিশ্রুতি - তোর জন্য জীবন দেব দোস্ত - তারপর একদিন - এ কী - বন্ধুর হাতে সুচাগ্র ছুরি তোমার রক্তপানে ব্যাকুল - কাকে যেন ভালোবাসলেন - ভাবলেন - জীবন অমৃত - তারপর দেখবেন- সবই বাণিজ্য - প্রতিশ্রুত সঙ্গিনী দক্ষতায় পেশাদার আততায়ীর চেয়ে কম নয়- রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় - তবু দলিলের কালো হরফ সেই রক্তের উপর জয়ী - মালিক - বিশ্বাস কোথায় - কারো দিকেই কী পিঠ দেয়া যাবে না ?

দেশে এখন বুদ্ধিজীবী কোথায় ?

আমাদের বুদ্ধিজীবিদের একটা বড় অংশ চলে গেলেন '৭১ এ- অবশিষ্ট যারা ছিলেন তাদের একটা অংশ অভিমানেই বোধহয় চলে গেলেন প্রবাসে-তাহলে দেশে এখন বুদ্ধিজীবী কোথায়- অথচ এক ডজন TV Channel এ সারা দিনমান এখন যারা মুখ দেখাচ্ছেন-নিজেদের কে বুদ্ধিজীবী বলে দাবি করছেন-তাদের শরীর থেকে বড় কটু গন্ধ আসে(কিছু বাত্যয় হয়ত আছে)-আমিত্বের বড়াই তাদের-অর্থহীন প্রলাপে স্ক্রীন গরম করেন-কলম তো ভাড়া খাটাচ্ছেন তারা সেই কবে থেকে-এখন শরীরী ভাষা নিয়ে Camera র সামনেও আসছেন-ইতিহাসকে কল্পনার রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছেন-বিতর্ক তৈরিতে তারা সিদ্ধহস্ত-বিতর্ক জিইয়ে রাখাতেই যে তাদের জীবিকার নিশ্চয়তা-এই কটুগন্ধী মানুষেরা দেশ দেশ করে মুখে ফেনা তুলছেন-কিন্তু মনে তাদের দেশ নেই-যা আছে তা শুধুই পক্ষপাতদুষ্ট কূটনীতি-ইদানীং এদের কারণে টিভির সামনে বসতে ও ইচ্ছে করে না.

আমি নাহয় রাবণই হব

তোমরা নাহয় রাম হও
কিংবা অচিন রাজপুত্র
অর্ধ রাজ্য - পূর্ণ কন্যা - বলিহারি রাজত্ব
আমি নাহয় রাবণই হব
দশ মাথার অসুর সম
সীতা তোমার ঘরেই থাকুক
পারলে নিও (বি) ভীষণ টাকেও
ও দেবতা ভালই আছ
তুন ভরে তীর সাজছ আরো
তীরের মাথায় আমায় রেখো
এবার মাথা ছেড়ে দিও
বুকের বাঁয়ে - অচিন তলে
এবার সেথায় আঘাত কর.

এবার ঘুমাতে দাও

এবার ঘুমাতে দাও
অনেক প্রহর জাগা ক্লান্ত দুটো চোখ
এবার বুজিয়ে দাও
আঁধার ঘরেই রেখো আমায় - ক্ষতি কি ?
শুধু ভেজা মাটির প্রলেপ দিও
সবুজ ঘাসের আচ্ছাদনে আমার বেদনা দিও ঢেকে
খুব যদি কষ্ট না হয়
মাথার কাছে রোপে দিও অবুঝ বাতাবি চারা
আর কি চাইব
একটা এপিটাফ - জীবন বাবুর অবাক কাব্য লিখা
তোমরাই বলো
খুব কি বেশি চাওয়া আমার
খুব কি বেশি চাওয়া ?

'গুরু' তোমাকে সালাম

সন ১৯৭৪ - যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ - বিধ্বস্ত অর্থনীতি - অত্যাসন্ন দুর্ভিক্ষের আহাজারি চারদিকে - রাজধানী ঢাকাও এর ব্যতিক্রম নয় - এরকম সময়ে - বিষন্ন এক সন্ধ্যা - কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন বস্তির পাশ দিয়ে হাঁটছেন দীর্ঘদেহী একজন মানুষ - লম্বা পাঞ্জাবি - কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল - কিছুটা যেন অন্যমনস্ক - তারপর কেন যেন থমকে গেলেন তিনি - তীব্র কান্নার শব্দ ভেসে আসছে বস্তির কোনও ঘর থেকে - একটু এগিয়ে যেতেই দেখলেন - এক মা তার শিশুর মাথা কোলে নিয়ে কাঁদছেন - সেটা ছিল ক্ষুধা আর দারিদ্রের বিরুদ্ধে এক মায়ের ব্যর্থ করুণ আহাজারি - সাদা পাঞ্জাবির আড়ালে লুকানো একটি হৃদয় সেদিনকার সেই আহাজারি ভুলতে পারেনি - সেই সন্ধ্যায় জন্ম হয়েছিল একটি বিখ্যাত গানের (রেললাইনের ওই বস্তিতে - জন্মেছিল একটি ছেলে) - জন্ম হয়েছিল একজন শিল্পীর - আমি আসলে খুব কম বললাম - ওই সন্ধ্যা ছিল বাংলা গানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের জন

বাবা, শুনতে পাচ্ছ কি তুমি আমার কথা ?

দাদীর কবরের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম - বাবা শিখিয়ে দিচ্ছিলেন কিভাবে জিয়ারত করতে হয় - আমার ভুলগুলো শুধরে দিচ্ছিলেন - আমি শিখলাম - তারপর বেশিদিনের কথা নয় - একদিন দেখলাম - আমি একা দাড়িয়ে আছি - আর আমার সামনে একটার পরিবর্তে দুটো কবর - দাদীর পাশে তুমিও ঠাই নিয়েছ -আমার এখনো ভুল হয়ে যায় - বাবা - তোমার মত করে পারি না - তুমি আমাকে নিয়ে গোরস্থানে যেতে - সবার কবর চিনিয়ে দিতে আর আমাকে অভয় দিয়ে বলতে - 'আদনান- ভয় পাস না - এখানে সবাইকে আসতে হবে - ওই দেখ তোর টুকু চাচার কবর - চাচার জন্য দোয়া করিস - ওই তোর মিঠু ভাইয়ের কবর - আর এখানে শুয়ে আছেন ওই যে তোর দাড়িওয়ালা চাচা-তোর মনে নাই-তোকে খুব আদর করতেন- সবার জন্য দোয়া করিস '- আমি সবার জন্যই দোয়া করি বাবা - সবার জন্য করি - খালি তোমার জন্য যখন হাত তুলি - সব এলোমেলো হয়ে যায় বাবা - আমি গুছিয়ে কিছুই বলতে পারি না - চোখ খালি ঝাপসা হয়ে যায় - আমি হৃদয়হীন মানুষ - কিন্তু তোমার চলে

শুধু চ্যানেল বদলাই

টিভির সামনে বসে শুধু চ্যানেল বদলাই-এত অনুষ্ঠান-কিন্তু মনে দাগ কাটে না কিছুই-নস্টালজিক হয়ে অতীতে ফিরে যাই-আকাশ সংস্কৃতি তখনও সেভাবে ঢুকেনি দেশে-বিটিভিই ছিল আমাদের সম্বল-সঙ্গ দিত ইন্ডিয়ান ডিডি চ্যানেল-বিটিভির বাংলা নাটকে তখন স্বর্ণযুগ-'ঢাকায় থাকি', 'এই সব দিনরাত্রি', 'অয়োময়', 'বহুব্রীহি', 'সংশপ্তক','কোথাও কেউ নেই','রূপনগর', 'বারো রকমের মানুষ'- এ তালিকা শেষ হবার নয়- আর বিদেশী সিরিয়াল গুলো- 'নাইট রাইডার', 'দা এ টিম', 'স্ট্রীট হক', 'ভয়েজার', 'দা মেনিমেল', 'রবো কপ', আর অবশ্যই 'ম্যাকগাইভার'- এই সিরিয়াল টি বোধহয় সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছিল-আরেকটা সিরিয়াল-'ডার্ক জাস্টিস' -একদম ভিন্ন স্বাদের ছিল-পরবর্তীতে 'টিপু সুলতান' নামের সাইমুম ও এসেছিল এই দেশে-অদ্ভুত মানের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (যার কথা কখনো ভুলবো না) - 'যদি কিছু মনে না করেন'-এর উপস্থাপক কে সবাই ভুলে গেছেন-শুধু হানিফ সংকেত এখনো মাঝে মাঝে স্মরণ ক

নিরক্ষর বন্ধু আমার

মৃত্যু-কত রাত তোমাকে নেমন্তন্ন করলাম
খোলা দরজায় স্বাগত সাইনবোর্ড টানালাম
কত ভোরে - সাদা মাদুর পেতে তোমায় ডাকলাম
কত সূর্যালোকে-ঝুঁকিবহুল কত রাজপথে
কখনো হেঁটে - কখনো বা দ্রুতগামী বাহনের 'পরে
নিয়ত তোমাকে ভাবলাম
কিন্তু কই -তুমি তো এলে না বন্ধু
এত যে ভালবাসি-বোঝো না তুমি
৫ বাই ৩ জায়নামাজের সিজদায়
মোনাজাতে রত হাতের রেখায়
সদাই যে লিখলাম চিঠি
কিছুই কি পেলে না তুমি?
নাকি বন্ধু-নিরক্ষর তুমি
আমার প্রণয় কাব্য পড়তে অপারগ
নাকি কুঞ্চিত ভুরু-বিব্রত বিধাতার
তুমি সলজ্জ বাহক?
কুন্ঠা কেন বন্ধু এত
দেখো-এই বাড়ালাম হাত
বিশ্বাস কর-তোমার চোখে যত বিভীষিকা
তার চেয়ে কালো আমার এই রাত.

যে গল্পের শেষ নেই

বাল্যকালের ভাবনা ছিল সৈনিক হব-সে ভাবনা স্থায়ী হয়নি-জীবনানন্দের কবিতা যেদিন প্রথম হাতে পেয়েছিলাম-মনে হলো কবিদের চেয়ে বড় কে আছে-তারপর আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নামের এক গল্পকার জানিয়ে দিলেন আমায়-লেখকরাই শ্রেষ্ঠ-তারপর আবারও স্বপ্ন বদল-মঞ্চে এলেন হেমন্ত নামের গানের পাখি-আমার মনোজগত হলো এলোমেলো-ঈশ্বর কে দুষলাম-আমাকে কর্কশ কন্ঠ কেন দিলেন তিনি-মাঝে একবার রাজনীতিবিদ হবার দুরভিসন্ধি ও হয়েছিল-সে গল্প অন্য একদিন-তারপর ঘটল দুর্ঘটনা-প্রেমে পড়ে গেলাম আর বুঝলাম প্রেমিকের মাঝে বিরাজে ঈশ্বর-অত:পর থার্ড ডিগ্রী অগ্নি দহন-স্বপ্ন উধাও-প্রেমিকা গেলেন সুখ বাসরে-প্রেমিক রইলো চিতার 'পরে-তারপরে ও কিন্তু গল্প শেষ হয় না-সেসব কথা অন্য একদিন হবে -আজকের পাগলামির কোটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে আমার ধারণা.

কি অদ্ভূত এই সমীকরণ ?

এখন সময়ের সমীকরণটা বড় অদ্ভুত - শুধু সামনের দিকে যাও - বর্তমানে থাক - সম্মুখে তাকাও - চেষ্টা কর - উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য - শেকড়কে ভুলে যাও - পিতার প্রশস্ত কাঁধ বয়সের ভারে ন্যুজ - পিছে ফেলে যাও তাকে - তোমার গতিময় যাত্রায় তিনি এখন অপ্রয়োজনীয় স্পিডব্রেকার - টপকে যাও তাকে - জননী বলে আছেন কেউ - নির্বোধ তিনি - সারা জীবন উনুন ঠেলেছেন - নিজেকে বঞ্চিত করে বার বার তোমার পাতে মাছের মাথাটা ঠেলে দিয়েছেন - মমতার নির্বোধ আচঁলে তোমাকে ঢেকেছেন - ভুলে যাও তাকে - তিনি যে আজ প্রায়ান্ধ বোঝা - তোমার এখন অন্য জীবন - পাশে আধুনিকা স্ত্রী - কিংবা ক্যারিয়ারিস্ট বর- সামনে যাও প্রিয় বন্ধু - সামনে যাও প্রিয় বান্ধবী আমার - তোমাদের সময় এখন - ভুলে যাও অতীত - কার হাত ছুয়ে কি কথা দিয়েছিলে - সব ভুলে যাও - বিগত প্রেমিকের বুক ভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস - নষ্ট হওয়া এলোমেলো জীবন - জোর করে ছুড়ে ফেলা প্রেমিকার লুকানো বাসর কান্না - সব ভুলে য

অন্যরকম মানুষেরা

কিছু মানুষ জন্মায় - একাকিত্বের বীজমন্ত্র নিয়ে - জীবন তাদেরকে খেলায় - নাকি তারা জীবন কে নিয়ে খেলে - বোঝা দায় - সম্পর্ক - সেটা বন্ধুত্বের হোক - হোক ভালবাসার কিংবা রক্তের - তারা এড়িয়ে চলে - কিংবা কে জানে - বন্ধনে জড়ানোর যোগ্যতা হয়ত প্রকৃতি তাদের কে দেয়নি - অর্থহীন জীবন - মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠা - তারপর অঘুমো বিভীষিকাময় মুহূর্ত গুলো - তবু কাউকে ডাকা নয় - ডাকার জন্য যে প্রণোদনা লাগে তারা তা হারিয়ে ফেলেছে - শুধু ভোরের প্রতীক্ষা - যদিও জানে - ভোর আসবে না - এসব মানুষের জীবনে ভোর আসেনা- আসতে নেই - প্রসারিত কোনো হাতেই এরা হাত রাখে না - বিশ্বাস এদের নড়ে গেছে শুরুতেই - যেন সিজোফ্রেনিয়ার রোগী - এক বিচিত্র জগৎ - কোনো বন্ধন নেই - ভুল হলো- একটি বন্ধন আছে - থাকে - বিধাতার সাথে - সে বন্ধনে কখনো প্রার্থনা থাকে - কখনো ঘৃণা - কখনো অসম লড়াই - আর কখনো সীমাহীন - ব্যাখ্যাতীত অভিমান.

hasan_adnan'র সাম্প্রতিক লেখা