চুল কাটা দরকার: আবার বেড়ে যায়, কী আর করা, আবার কাটতে হবে
বয়েস হয়েছে, প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে কম তো দেখলাম না। দেশ বিশ্ব কথা থেকে কোথায় চলে গেছে। ছোটবেলায় মফস্বল শহরে একটা বই কিনার জন্যে চিত্তরঞ্জন সাহার ৭৪নম্বর ফরাশগঞ্জের ঠিকানায় চিঠি দিয়ে বসে থাকতাম, দিন দশেক পরে পোষ্টফিস থেকে খবর আসতো, ভিপি ডাকযোগে বই এসেছে টাকা নিয়ে নিয়ে যেতে হবে বই আনতে। আর আজকে, হাহ। অনেক কিছু বদলেছে- কিন্তু কিছু কিছু জিনিস এখনো একই আছে, এবং মনে হচ্ছে আমার বাকি জবন একরকমই থাকবে। একটা হচ্ছে আমার কেশ, আরেকটা হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মুল্লাদের মাঝে মাঝে উত্তেজনা। এই দুইটাই মাঝে মাঝেই একটু বৃদ্ধি পায়, আমি একটু চিন্তিত হই। তারপর যথানিয়মে এদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয় এবং সাইজ হয়ে যায়। কিন্তু আবার বারে আবার আবার। একটু পার্থক্যও অবশ্য আছে। বয়েসের সাথে সাথে কেশের ঘনত্ব পুরুত্ব কমেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে বর্ণপরিবর্তনও হয়েছে। কিন্তু মুল্লাদের বিশেষ পরিবর্তন হয়নাই। সেটা অবশ্য হবেও না কারণ মুল্লাদের কাজই হচ্ছে পরিবর্তনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। সেই বিষয়টার বিস্তারিত এখানে না, এখানে আজকে কোন গুরুগম্ভীর কিছু বলতে বসি নাই। নিতান্তই হালকা ফুলকা কথাবার্তা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ইত্যাদি।
কেশের কোথায় আসি। একটা বালিকা বন্ধু জুটেছে সম্প্রতি এবং বলাই বাহুল্য এই বন্ধুটি আমার বয়োকনিষ্ঠ ও ভরা যৌবনবতী। সকলেই জানেন যে এইপ্রকার সম্পর্ক আমাদের মত উত্তরচল্লিশের যুবকদের জন্যে বিশেষ নানাবিধ চাঞ্চল্যের কারণ হয়। আমারও হয়েছে। আমাই এই ভরা যৌবনবতী প্রায়সদ্যকৈশোরউত্তীর্ণ রুপসী বান্ধবী যখন আদরের ছলে কেশে অঙ্গুলিসঞ্চালন করে তখন একটু নানাভাবে উত্তেজিত হয়ে পরি। একটা উত্তেজনা তো আছেই, নারী পুরুষ ইত্যাদি। আরেকটা উত্তেজনা (নাকি বলব উদ্বেগ/উত্কণ্ঠা) হল, এই রে আমাদের দেশের বনভূমির মত আমার কেশের ক্রম-উজারমান হাল এবং মাঠ ত্বকের ক্রম বর্ধমান দৃশ্যমানতা নিয়ে এখন কী কোন মন্তব্য আসবে না তো? না সেরকম কিছু না, আমার কেশ অনেক লম্বা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে তিনি প্রেমচ্ছলে খেলছেন, আঙুলে জড়াচ্ছেন ইত্যাদি। বালিকা জানতে চায়, আমি কী করে জানলাম যে দীর্ঘকেশ তার এত পছন্দ। অনেকদিন হয়ে গেল চুল কাটা হয় নাই, আমি কী তাকে ইমপ্রেস করার জন্যেই কেশ দীর্ঘ করার চেষ্টা করছি। কিছু কিছু সম্পর্কের মধ্যে মিথ্যাভাষণ বৈধ। আমি অম্লান বদনে বলে দেই, হে বলিকে কেবল তোমার জন্যেই ইত্যাদি ইত্যাদি। আহা বালিকা তুমি যদি জানতে, নরসুন্দরের সাথে আমার সখ্য বার্ষিক দুই কী তিনটি সাক্ষাতের মধ্যে সীমিত। বালিকা বুদ্ধিমতি এবং মায়াবতী। তিনি আমার কোথায় কৃত্রিম মুগ্ধতা দেখলেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন কেশ করতনের জন্যে এই শুক্রবারেই যাই, আমার পেশা বয়েস ইত্যাদির সাথে কেশের এইরূপ দৈর্ঘ্য এবং উচ্ছৃঙ্খল হাল নাকি মানায় না। উফফ কেন যে এর সব সময় বয়েস বয়েস করে!!
সুতরাং অদ্য কেশ কর্তন দিবস। কিন্তু কেশের চেয়েও যেটা আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে সেটা হল হযরত মুহাম্মদ সম্পর্কে বিদ্বেশমূলক চলচ্চিত্র এবং তারই প্রতিক্রিয়া লিবিয়া ও মিশরে মার্কিন দূতাবাসে হামলা। উদ্বেগের আরো বড় কারণ, আজকে শুক্রবার, জুমার নামাযের পর বাইতুল মুকাররমের গেটে মূল্যগুলি মানুষকে উত্তেজিত করে না জানি আবার কী ঘটায়। সকল থেকে খবরের কাগজ, টেলিভিশন এবং ম্যাকবুক নিয়ে বসেছি। মহা বিরক্ত স্ত্রী জানতে চান, আমি যে বলেছিলাম আজকে সুল কাটাতে যাব তার কী হল। সকাল বেলাতেই কেন ল্যাপটপ খুলে বসেছি এবং টেলিভিশন রিমোটটা কেন আমার কাছে।
পিত্তি জ্বলে যায় কিনা বলেন। সে আমার ম্যাকবুকটাকে একেবারেই সহ্য করতে পারে না, সব সময়ই এটাকে সে যেকোনো সাধারণ ল্যাপটপ কম্পুটারের মত মনে করে। অসহ্য। কিন্তু কী করবেন, স্ত্রী বলে কথা। আমরা ভদ্রলোকের কী সবসময়ই স্ত্রী কর্তৃক প্রশাসিত নই? মিনমিন করে বলার চেষ্টা করি, আজকে শুক্রবার জুমার নামাযের পর যদি আবার একটা কিছু হয় তাহলে কী হবে তারচেয়ে বরং বাসায় থাকি দেখি কী হয়। সেই সাথে আমার সরবছ সামর্থ্য দিয়ে একটু রোমান্টিক ইঙ্গিত করার চেষ্টা করি, বসায়ই থাকি আজকে, কী বল। এই ভদ্রমহিলা প্রায় বিশ বছর ধরে আমাকে চেনেন, বিয়ের আগে পরে মিলিয়ে। আমার দেহের মনের কোনও কিছুই তাঁর অজানা অচেনা নাই। তিনি কী আর ভুলবেন! সাফ জানিয়ে দিলেন, এইসব ধানাই পানাই চলবে না। তাহলে ওই নবীনিবর্তক ধ্বর্মনাশা ছোবর যে প্রতিক্রিয়া হবে তার কী হবে?
আমার স্ত্রী বুদ্ধিমতি। তিনি যা বললেন তার সারমর্ম অতি সরল। ধর্ম নামক একটা জিনিস যে আছে তার নানপ্রকার উপসর্গ আছে। এক ধর্ম আরেক ধর্মের মানুষের শরীরের কিছু কিছু যায়গায় কুরকুরি ধরনের অনুভূতির জন্ম দেয়। সেই কুরকুরানির বহিপ্রকাশ নানাভাবে হয়, যেমন আরেকধরমের নবীকে নিয়ে মন্দ সিনেমা করা এবং ইউটিউবে দেওয়া। এইবার অপর ধর্মের লোকেদের পাল। ওরা ভাংচুর করবে, মারামারি করবে আর গালাগালি করবে। কেশ থাকলে যেমন সেটা বারবেই এবং মাঝে মাঝে কাটতে হয়, ধর্ম থাকলেও মাঝে মাঝে একটু কাটাকাটি হবে, তাই বলে সেটা নিয়ে আমাদের নিজেদের জীবনযাপন বিঘ্নিত করলে হবে না। তিনি বলে গেছেন, গেট রেডি, গো আউট হ্যাভ আ হেয়ার কাট এণ্ড টেক শাওয়ার বিফোর আই কাম ব্যাক।
আমি এখন এই অবস্থার মধ্যে আছি। আপনারা কী একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, এই উত্তেজনাগুলিতে নাস্তিকদের কোন ভূমিকা নাই। এক ধর্মের লোক আরেক ধর্মকে আক্রমণ করে আর গালি খায় নাস্তিকেরা। পৃথিবীতে নীরবে নিভৃতে কত অন্যায় অত্যাচার হয়, এই শুক্রবার সকালে স্ত্রী কর্তৃক গালাগালি। যাই, চুল কাটতে যাই। এই জন্যেই স্ত্রীর চেয়ে প্রেমিকা ভাল। আচ্ছা, স্ত্রীর সাথেও কী ধর্মের একটা মিল রয়েছে না? থাক সেই আলোচনা আরেকদিন করি। যাই নাপিতের দোকানে যাই। এই মুহূর্তে আমার জন্যে ধর্ম, প্রফেট, প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীর চেয়ে নাপিত অধিক গুরুত্বপূর্ণ।





পড়লাম! যেই ভিডিও'র কথা বলেছেন আপনার পোস্টে তারাও নাস্তিকতা ধারনাটা মানেন বলেই আমার মনে হয়! এইরকম ব্যাঙ্গ করে কোন কিছু তৈরি করা বা কোন গোষ্ঠীকে অসম্মান করা, সভ্য কাজ বলে আমার মনে হয়না!
আমি ভিডিওটা দেখিনাই। কে বানিয়েছে তাও জানিনা। কী আছে সেটাতে সেটাই জানিনা। সাধারনত: এই ধরনের এক ধর্মকে হেয় করার চেষ্টা অন্য ধর্মে বিশ্বাসীরাই করে। নাস্তিকদের কাছে সকল ধর্মই মোটামুটি এক এবং নাস্তিকের সাধারনত: গালাগালি বা নিন্দা মন্দ করার চেয়ে যুক্তি বুদ্ধির প্রয়োগকে প্রাধান্য দেয়।
একমত
সত্য কথা লিখেছেন।
চমতকার।
লেখা ভাল লাগেনি।
কোন ধর্ম নিয়েই এইসব ছোটলোকি কার্যকলাপ দেখতে ভাল্লাগে না।
আমি আস্তিক... ধর্মের অনুশাসন মেনেই জীবন যাপন করার চেষ্টা করি... পাড়া/না পাড়ার বিচার আল্লাহ করবে। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্ত কেউ আইসা আমারে হুদাই চুলকাইবো... আর তারে কিছু কওন যাইবো না? কথাডা কিরম হইয়া যায়... এখন কইতে পারেন যে, মানা করছে কেডা?
... এর জন্য এত ফালাফালির কি আছে? তাইলে আপ্নেই কন ক্যাম্নে কইলে বেবাক্তে শুনবো।
সারা বিশ্বের সকল ধর্মের মানুষই জানে যে, মুসলমানদের প্রিয় মানুষ তাদের নবী মুহাম্মদ (সা:)... তারে হেয় করেবেন... গালি দিবেন... নোংড়া কথা বলবেন... আর মুসলিমরা কিছু কইতারবো না... এত ভাত দুধ দিয়া মাখনটা মনে হয় ঠিক না।
যাউকগা... আমি অবশ্যই এই ধরনের নোংড়ামির নিন্দা জানাই ...
বি.দ্র.: এই খানে আপনে মানে আপনে না.. খিয়াল কৈরা
আলোচনা শোনার অপেখখায় থাকলাম
টুটুল, আপনার কমেণ্টটা ঠিকই আছে। বাক, চিন্তা ইত্যাদির স্বাধীনতা সকলেরই আছে। আমি যদি ধর্মের বিরোধিতা করার স্বাধীনতা চাই তাইলে আমাকে ধার্মিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার পক্ষে দাড়াতে হবেই। নইলে তো এইটা ভন্ডামি হয়ে গেল। সেটা তো একটা মৌলিক প্রেমিসেস, সেখানে কারো দ্বিমত থাকার কথা না। আমি যদি ধর্মের সমালোচনা করি একজন ধার্মিকের নিশ্চয়ই সেই অধিকার আছে আমার বিপক্ষে বলার। এগুলি তো ভাই অনেকটাই মিমাংসা হয়ে গেছে তবু কিছু সমস্যা থাকে যেগুলির মিমাংসা হবে না।
ধরেন আমি কোন একটা বিশেষ ধর্মের সমালোচনা করলাম। এখন সেই ধর্মের বিধানে যদি থাকে ধর্মের সমালোচনা কে করবে তার কান কেটে নেওয়া ফরজ, তাইলে কী হবে। সেই ধর্মের একজন ধার্মিক যদি তার ধর্মের বিধান পালন করতে চায়, তাহলে কী হবে? বিপদ না?
সমস্যা হচ্ছে সৃজনশীল কাজ নিয়ে। গল্প উপন্যাস ছবি কবিতা সিনেমা এইসব নিয়ে। এইগুলি তো যুক্তি পাল্টা যুক্তির বিষয় না। এগুলি সৃজনশীল কাজ, এর আবার প্রতিবাদ কী? আরেকটা সমস্যা হচ্ছে মাত্রা নিয়ে, আপনি আমার ভুরি নিয়ে একটা জোক মারলেন তার প্রতিবাদে যদি আমি আপনার জিহ্বা কেটে দেই সেটা ঠিক হল কিনা, এইসব।
ইশ... আপনার মত করে যদি সবাই ভাবতো...
আপনার জবাবে সত্যি ইমপ্রেসড
তানবীরা, নিশ্চয়ই সেই আলোচনার চেষ্টা করব। কিন্তু দয়া করে বিষয়টাকে অধিক গুরুত্ব দেবেননা। কৌতুকচ্ছলে বলা এবং বিস্তারিত কিছু বললে সেটাও কৌতুকচ্ছলেই বলা হবে।
এইটা মোটেই হালকা ব্যাপার না মিয়াভাই। তাড়াতাড়ি পোষট দেন
মন্তব্য করুন