আপনারা বৌদ্ধদের উপর হিন্দুদের উপর কেন অত্যাচার করছেন
রামুতে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক মানুষ বৌদ্ধদের উপর অত্যাচার করছে। অত্যাচারের বিবরণ বিস্তারিতভাবে খবরের কাগজে আসে নাই, কিন্তু তবু আমরা সকলেই কিছু কিছু জানতে পেরেছি। অত্যাচারের বা মারধরের বা ক্যাঙ্গ ধ্বংসের মাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে চাইনা। মাত্রা যাই হোক, নির্যাতন নির্যাতনই। সকল নির্যাতনই অন্যায়, সকল অত্যাচারই অন্যায়, মানুষের উপর সকল হামলাই অন্যায়। আবার সে অত্যাচার যদি হয় কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে সংখ্যালঘুর উপর সংখ্যাগুরুর অত্যাচার, সেটা আরো বেশি অন্যায়।
কেন এই হামলা? যে কথাটা শুনেছি সেটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। রামুর এক বড়ুয়া ছেলে নাকি ফেসবুকে কোরানকে অবমাননা করে একটা ছবি পোস্ট করেছে সেই জন্যে ২৫০০০ (ভুল দেখেন নাই, সংখ্যাটা আসলেই পঁচিশ হাজার) মুসলমান রাতের বেলা রামুতে জড়ো হয়ে আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে বৌদ্ধ গ্রামগুলিতে হামলা করে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম একটা বড়ুয়া ছেলে, যার বাড়ি নাকি রামুতেই, ফেসবুকে কোরানকে অবমাননা করে সত্যিই একটা কিছু পোস্ট করেছে। তার জন্যে এই কাণ্ড? এটা তো মানুষের স্বতষ্ফুর্ত কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না। প্রথমত ফেসবুকে একটা কিছু পোস্ট হয়েছে সেটা দেখে রামুতে এতো মানুষ এইভাবে স্বতষ্ফুর্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, এটা আমি বিশ্বাস করব না। দেশ যতই ডিজিটাল হোক, রামুতে ফেসবুকের এত ইয়ে হয়েছে সেটা আমাকে বলতে আসবেন না। দ্বিতীয়ত: রামু বাজারে এতগুলি মানুষ জড়ো করা মোটামুটি একটা কঠিন কাজ। দুয়েকদিন সময় না দিলে শেখ হাসিনা কিংবা খালেদা জিয়া গেলেও রামু বাজারে মধ্য রাতে একসাথে পঁচিশ হাজার শক্ত সমর্থ পুরুষ মানুষ জড়ো করা যাবে না। তৃতীয়ত: হামলার ধরণ দেখেন, তেল ঢেলে বাড়ি ঘর ক্যাঙ্গ একটা পর একটা জ্বালানো হয়েছে। শনিবার মধ্য রাত থেকে শুরু করে রবিবার ভোর পর্যন্ত একটা পর একটা পাড়া ধরে ধরে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, রবিবার সকালেও থেকে থেকে হামলা হয়েছে। এগুলি স্বতষ্ফুর্ত? আমরা দুগ্ধপোষ্য শিশু নাকি?
এরপর কী হল? রামুর পর পটিয়াতে হামলা। পটিয়াতে বৌদ্ধ কম, সুতরাং এখানে হিন্দুদের উপরেও হামলা চালানো হলো। বাড়ি ঘরে হামলা, মন্দিরে হামলা, দোকান পাটে হামলা। এগুলি কিসের লক্ষণ! ভেবে দেখুন। নিন্দা তো আমরা করবই, নিন্দা তো আমরা সকলেই করি, কিন্তু এগুলি কিসের লক্ষণ, কারা এগুলি করাচ্ছে কী উদ্দেশ্যে করাচ্ছে ভেবে দেখুন।
ভেবেছিলাম বাক স্বাধীনতার কথা বলব, সহনশীলতার কথা বলব। কিন্তু এখানে সেগুলি তো অপ্রাসঙ্গিক। কারণ আসলেই এইসব আক্রমণের পিছনে কোন ইসলাম, কোরআন বা মুহাম্মদের উপর কোন আক্রমণাত্মক লেখা, ছবি বা সেরকম কিছুর অস্তিত্বই নাই। এইগুলি নিরেট নির্ভেজাল সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এগুলি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি ক্রোধ না রোষ তৈরি করে সংখ্যাগুরুর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা তৈরি করা একটা অনেক পুরোনো কৌশল। আমাদের এখানেও কী সেরকম একটা কিছু হচ্ছে?
আমি শুনতে পেলাম আমাদের তথ্য মন্ত্রী নাকি বলেছেন যে এইসব হামলার জন্যে কারা দায়ী সেটা নাকি সরকার প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করতে পেরেছে। খুবই ভাল কথা। সরকার তাদেরকে গ্রেপ্তার করুক বিচারের আওতায় নিয়ে আসুক, আমরা ওদেরকে দেখি। দেখি এই লোকগুলির চেহারা, শুনি ওদের কথা। দেখি ওরা কেন বৌদ্ধদের উপর হামলা করল।
ভুলে যাবেন না, এই ধরনের হামলা এতো বড় আকারে আমাদের দেশের সম্ভবত আগে কখনো হয় নাই, অন্তত ২০০১ সনের পরে তো নয়ই।





আমরা ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও-প্রিয়-জাতি, কিন্তু পুরো ঘটনার সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কি মায়ানমার সিনেমা দেখতে গেছিলো কিনা বুঝলাম না
~
পুরো ব্যাপারটাই ফিসি। ফারুক ওয়াসিফ ফেসবুকে একেএম ওয়াহিদদুজামান নামক একজনের সট্যটাস শেয়ার করেছেন, অনেকটা আপনার চিনতার সমারথক।
আপনার লেখাটা ভাল্লাগছে।
তবে এখন তো মনে হইতাছে,
শর্ষের ভিত্রেই ভূত বসে আছে!
মন্তব্য করুন