ইউজার লগইন

কণ্ঠ রোধ করা অন্যায়, হোক না সে শয়তানেরই কণ্ঠ

দি পিপল ভার্সেস ল্যারি ফ্লিণ্ট সিনেমার জন্যে শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার নেওয়ার সময় মিলো ফোরম্যান বলছিলেন, 'আমি কখনো হাসলার ম্যাগাজিন কিনি নাই, জীবনেও কিনবো না। যারা বলে হাসলার ম্যাগাজিনকে কুরুচিপূর্ণ বলেন, আমি তাদের সাথে সম্পূর্ণ একমত।'

পিপল ভার্সেস ল্যারি ফ্লিণ্ট ছবিটা অনেকেই দেখেছেন, প্রেক্ষাপটটাও জানেন। তবু আরেকবার বলি। আমেরিকায় হাসলার নামে একটা ম্যাগাজিন বের হয় যেটা ন্যাংটা ফ্যাঙ্গটা ছবি ইত্যাদির জন্যে পরিচিত। ক্যামপরি'র একটা বিজ্ঞাপনকে ব্যাঙ করে ওদের একটা বিজ্ঞাপন প্যারোডিতে ওরা একবার ফলোয়েল নামে এক পাদ্রী সাহেবের কাল্পনিক সাক্ষাত্কার ছেপেছে, পাদ্রী সাহেব আবার বিখ্যাত ব্যাক্তি, দেশের সবাই তাঁকে চিনতো। সেই কাল্পনিক সাক্ষাত্কার ছিল এক ভয়াবহ জিনিস- তিনি কিভাবে তাঁর নিজের মাএর সাথে প্রথমবার ঐসব করেছেন ইত্যাদি, নোংরামির চূড়ান্ত। ফলোয়েল সাহেব দিলেন মামলা করে হাসলারে প্রকাশক ফ্লিণ্ট এর নামে ক্ষতিপূরণের জন্যে এবং নিচের দুই কোর্ট তাঁর পক্ষে রায়ও দিল। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলে দিল, না, ফ্লিণ্ট বা হাসলার ম্যাগাজিন কোনও ক্ষতিপূরণ দিবে না, কেননা হাসলার যে বিজ্ঞাপন প্যারোডিটা প্রকাশ করেছে সেটা তাদের বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে যেটা আমেরিকার সংবিধানের প্রথম সংশোধণীতে সুরক্ষা প্রাপ্ত। সুতরাং ওই জিনিস প্রকাশ করার জন্যে হাসলার বা এর প্রকাশকের কোনও শাস্তি হতে পারেনা বা সরকার ওই ম্যাগাজিন প্রকাশে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

এই কাহিনী নিয়ে ছবিটা তৈরি ছবিটাতে ফ্লিণ্ট এবং হাসলার ম্যাগাজিনের প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেই বক্তব্য আছে। এই ছবির জন্যে পুরস্কার নিতে গিয়েই এর পরিচালক উপরের কথাটা বলেছেন। আপনি যেটাকে মন্দ বলছেন আমার ও মনে হয় সেটা মন্দ কিন্তু আপনি যদি সেই মন্দের কন্ঠরোধ করতে চান, আমি তাতে বাধা দিব। এটাই বাক স্বাধীনতা এবং এটাই গণতন্ত্রের এক নম্বর স্বাধীনতা এবং এটাই গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড এবং এটা ছাড়া গণতন্ত্র চলে না চলবে না। আরো স্পষ্ট করে বলি, ভিন্নমত ছাড়া সভ্যতা অগ্রসর হবে না এবং যারা ভিন্নমতকে দাবিয়ে রাখতে চান বা কন্ঠরোধ করতে চান তাঁরা সভ্যতার বিকাশকেই বাধাগ্রস্ত করেন এখন সেই ভিন্নমত যত উদ্ধত, উম্মত্ত, অযৌক্তিক যাই হোক না কেন। মনে রাখবেন, ঈশ্বর আদমকে নশ্বর করেছেন কিন্তু শয়তানকে অমর করেছেন। ঈশ্বর শয়তানকে ধ্বংস না করে তাকে অবিনশ্বর কেন করেছেন? ইহাতে কী আমাদের জন্যে নেই কোন ইঙ্গিত?

এগুলি কেন বলছি, প্রসঙ্গটা কি? সেটাও কি বলে দিতে হবে! এই যে এক শয়তানের কান্ড কারখানার জন্যে সরকার ইউটিউব বন্ধ করে দিল সেটার কথা বলছি। শুধু আমাদের দেশে নয় আরো কয়েকটা দেশেও ইউটিউব বন্ধ করে দিয়েছে। আমি এবিসি রেডিওর খবরে শুনে একটু মর্মাহত হলাম, যে বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তানের আগে ইউটিউব বন্ধ করেছে।

ইউটিউবের যে কন্টেন্টটা নিয়ে এত কান্ড, অর্থাত্‍ নবীকে নিয়ে সেই ছবিটা, এইবার মনে হল যে এটা তো ভাই না দেখলেই নয়। সুতরাং সরকারের ইউটিউব ব্লক করার খবর শুনার পরই আমি ইউটিউবে সেই ছবির কয়েক মিনিটের অংশবিশেষ দেখলাম। যে কোনও বিচারেই অতি নিম্নমানের এই জিনিসটা এটাকে আপনার বিখ্যাত করে দিলেন। আমি সেই ছবির গুণাবলী সত্যাসত্য নিয়ে বলছিনা। এক অর্বাচীন নবীকে ব্যাঙ্গ করেতে চেয়েছে, হেয় করতে চেয়েছে। সেটার আপনি নিন্দা করতে পারেন। কিন্তু তার জন্যে মানুষ মেরে ফেলা? ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া? না ভাই, এইগুলি ঠিক না। ইউটিউব বন্ধ করা সরকারের একটা অন্যায় কাজ হয়েছে। শুধু অন্যায় না, অবিবেচকের মত হয়েছে কাজটা। কারণটা বলি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা বাক স্বাধীনতা এটা কেবল কোন আইনি ট্যাকনিক্যাল বিষয় না বা কোন দার্শনিক তত্ব না। এটা হচ্ছে সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার এবং অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্যে একটা অপরিহার্য্য পূর্বশর্ত। সভ্যতার বিকাশ বলতে যেসব জিনিসকে বুঝায় তার মধ্যে রয়েছে সত্যকে জানা অজানাকে জানা, প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বার বার পরখ করা ইত্যাদি। বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার কোনও সীমা থাক উচিত না কোন মাত্রা থাকা উচিত না। উদাহরণ দেই, যীশু খ্রীষ্টকে রোমান গভর্নর পাইলেট ক্রুশে বিদ্ধ করে মেরে ফেলল, সেই সময়কার আইনে সেটা ঠিক কাজই ছিল কারণ যীশু নামক সেই অর্ধ্ব উম্মাদ যুবক নিজেক ঈশ্বরের পুত্র দাবি করে প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসে এবং ধর্মীয় অনুভিতে আঘাত করেছিল। কাজটা কি ভাল হয়েছে? এখন একই প্রিন্সিপাল আপনি ইসলামের অভ্যুদয়ের সময় প্রয়োগ করুন, মুহাম্মদ নবীকে যদি আরবরা ধরে ফাসি দিত একই কারণে, অর্থাত্‍ প্রচলিত ধর্মানুভূতিতে আঘাত প্রদান ইত্যাদি, সেটা কি ঠিক হতো? এই যে গ্যালিলিও সাহেবকে চার্চ এত হেনস্তা করলো, কত বিজ্ঞানীকে মেরে ফেলল এগুলি কি ভাল হয়েছে? এগুলি থেকে কি আমরা শিক্ষা নিব না?

এইখানে এসে আমার বন্ধুরা সাধারনত বলে থাকেন, তাই বলে পাগল ছাগল বা তস্কর ধরনের বা বিকৃত রুচির লোকেরা যা খুশি তাই বলে যাবে আমাদের সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে? একটা উম্মাদ আমার নামে গালাগালি করে একটা ছবি বানাবে আর তাকে আমি কিছু বলতে পারব না? এই ধরনের আরো ভয়ংকর উদাহরণ দেওয়া যায়। এইসব ক্ষেত্রেও কি আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলব? আমি কোনরকম দ্বিধা না করে বলব, যার যা খুশি তাই সে বলতে পারে। বলতে পারে মানে প্রকাশ করতে পারে, সেটা শব্দ, ধ্বনি চিহ্ন বা আকার ইঙ্গিত যেভাবেই হোক। রাষ্ট্র তাকে বাধা দিতে পারবে না। রাষ্ট্র কখনো সীমারেখা টেনে দিতে পারবে না আমি কি বলতে পারি বা না পারি। এটা সম্পূর্ণরূপে আমার নিজের নিরঙ্কুশ অধিকার, নিজের এখতিয়ার।

তাই বলে কি আমার বাকস্বাধীনতার কোন সীমা নিয়ন্ত্রণ বা মাত্রা থাকবে না? উত্তর হচ্ছে বাক স্বাধীনতার একটা নীতিগত মাত্রা অবশ্যই আছে। সব স্বাধীনতারই সীমা বলেন বা মাত্রা বলেন সেটা হচ্ছে আরেকটা স্বাধীনতা। অর্থাত্‍ আমার স্বাধীনতার মাত্রা সেখানেই শেষ যেখানে আপনার স্বাধীনতা শুরু। আমি অপরের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারব না, ব্যাস। এর বাইরে একটা গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে বাক স্বাধীনতার কোনও সীমা থাকতে পারেনা। আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না অপরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্র বা সমাজ আমার মত প্রকাশে বাধা দিতে পারেনা বা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা।

একজন আমাকে গালি দিলে আমি তাকে নিন্দা করবো, সমালোচনা করবো, নিজেকে রক্ষা করবো। কিন্তু আপনি যদি তার গালি দেওয়ার অধিকারকে খর্ব করেন আমি তার পক্ষে দাড়িয়ে বলব আমাকে গালি দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে সেটাকে আপনি খর্ব করতে পারেননা। অন্যভাবে বলি, সত্যকে রক্ষা করার জন্যে মিথ্যাভাষনকে বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। সত্য তার আপন মহিমায় মিঠাইর আক্রমণ ঠেকাবে। অপরের অধিকার খর্ব করে যেটাকে প্রতিষ্ঠা করতে হয় সেটা সত্য হতে পারেনা।

এই কারণেই আমি ইউটিউব বন্ধ করার নিন্দা করি। চোখ কান দরজা জানালা বন্ধ করা স্বাস্থ্যকর নয়। জীবাণু আসবে, গন্ধ আসবে তবুও নয়। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ সেটা আমি দেখবো, সরকার কেন বলে দেবে কোনটা আমার দেখা উচিত্‍ কোনটা দেখা উচিত না।

আমি অনেক উদাহরণ দিতে পারি অন্যান্য দেশে বাকস্বাধীনতার রক্ষার জন্যে কত জঘন্যভাষণকে মুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু তার প্রয়োজন মনে করছি না। আজকাল দুই মিনিট গুগলে বসে আপনি সেগুলি নিজেই বের করতে পারেন। আমি শুধু সবাইকে অনুরোধ করবো, একজন লোক মন্দ কাজ করেছে বলে ইউটিউবের গলা টিপে ধরাকে সমর্থন করবেন না। কালকে আপনার পছন্দের বক্তব্য বন্ধ করার জন্যে এই যুক্তি ব্যাবহার করা হবে।

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ধর্ম আবেগ আর বিশ্বাসের ব্যাপার,
যুক্তি দিয়ে সবকিছুর বিচার কতটা যুক্তিযুত তা ভেবে দেখবেন।

রায়েহাত শুভ's picture


তারমানে বলতে চাইতেছেন আবেগ আর বিশ্বাসের বশবর্তী হইয়া যেকোনো কিছু কইরা ফেলা জায়েজ?

ধর্মীয় আবেগ আর বিশ্বাসে পূর্ণ হইয়া কেউ নরবলী দিলে সেইটা লেজিট?
ধর্মীয় আবেগ আর বিশ্বাসে পূর্ণ হইয়া কেউ ফিলিস্তিন আক্রমন কইরা হাজার হাজার শিশু মাইরা ফেললে সেইটা লেজিট?

টুটুল's picture


বাউন্ডেলে কি কোথাও বলছে যে, এইগুলা জায়েজ?

তানবীরা's picture


চৌধুরী সাহেব কিনতু খুব রেগে আছেন Big smile

টুটুল's picture


Big smile
আরে না আপা... সত্যি ... যাস্ট কৌতুহল Smile

রায়েহাত শুভ's picture


বাউন্ডুলে বলতেছে

ধর্ম আবেগ আর বিশ্বাসের ব্যাপার,
যুক্তি দিয়ে সবকিছুর বিচার কতটা যুক্তিযুত তা ভেবে দেখবেন।

তারমানে কি এইটাই দাঁড়ায়না, যে আবেগ আর বিশ্বাসের ব্যাপার গুলোকে যুক্তির পাল্লায় মাপতে যাওয়াটা ঠিক না?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আবেগ আর বিশ্বাসের ব্যাপার গুলোকে যুক্তির পাল্লায় মাপতে গেলে দুনিয়াতে কোন রকম মানবিক সম্পর্ক টিকতে পারবে বলে কি আপনার মনে হয়?

রায়েহাত শুভ's picture


মানবিক সম্পর্কগুলো কিন্তু যতই অযৌক্তিক মনে হোক, সেইখানে প্রচুর যুক্তি লুকাইয়া থাকে। হু, আমরা হয়তো সেই যুক্তিগুলারে দেইখাও না দেখার ভান করি, সেইটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু ধর্মবিশ্বাসের দোহাই দিয়া কোনো অযৌক্তিক কাজেরে যৌক্তিক বলাটা কি ঠিক? আপনার নৈতিকতাবোধ কি বলে?
আপনার আবেগের এলাকাটা ধরতে পারতেছি। কিন্তু সেই আবেগের বশবর্তী হইয়া একটা অপরাধ কইরা ফেলাটা কি আপনার নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক হইয়া যায় না?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মনের ভাব প্রকাশে যথাযোগ্য ভাষা নির্ধারণে খুব বেশি পটু নই।
তাই হয়তো মাঝে মাঝে যা বোঝাতে চাই তা বলতে পারিনা।
আর যা বলে ফেলি তাতে অন্য কোন অর্থ প্রকাশিত হয়ে পড়ে।

আমার কোন কথা বুঝতে না পারলে ক্ষতি নেই,
অনুরোধ রইল দয়া করে ভুল বুঝবেন না।

কিন্তু বাকস্বাধীনতার নামে বিনা কারনে আমার ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা টা কি পক্ষান্তরে আমার নিজের ব্যাক্তিস্বাধীনতাতেও হস্তক্ষেপ করা নয়?

ধরেন এখন কেউ যদি আইসা হুদাই আপনের মা বা ভাই রে নিয়া কিছু বইলা বসে, আপনে কি চুপচাপ শুনতে থাকবেন?
অথবা, এখন যদি কেউ ব্লগে আইসা শেখ মুজিবের নামে কোন আউল ফাউল কথা বইলা বেড়ায় সবাই কি তারে বাহবা দেওয়া উচিৎ হইব??

১০

রায়েহাত শুভ's picture


আরে বোকা ছেলে, ভুল বুঝার কি আছে এখানে? ধুরো! আপনার আর আমার পয়েন্ট অফ ভিউ আলাদা হইতেই পারে, সেইজন্য আপ্নারে ভুল বুঝুম কেন? আপনার পয়েন্ট থেকে আপনি বলছেন, আমি আমার ভিউ পয়েন্ট বলছি। বন্ধুদের ভিতরে ভিউ পয়েন্ট আলাদা হইলেই কি ভুল বুঝবুঝি হয়?

এই যে আপনি একটা হাইপোথিসিসে জিগাইলেন, কেউ আইসা আমার বাবা-মা-ভাই-বোন নিয়া হাবিজাবি কইলে আমি চুপ কইরা থাকুম নাকি? না, আমি চুপ কইরা থাকুম না। আমি তার সাথে বাতচিতে যামু, তার পয়েন্ট বুঝার চেষ্টা করুম। ফাইনালি তারেও হয়তো গালাগালি করমু (যদিও ইদানীং গালাগালি ছাইড়া দিসি Tongue)। সে আমার পরিবার নিয়া গালি দিলেই যদি আমি তারে ব্যান করার দাবী তুলি, তাইলেতো এইটা তার বাকস্বাধীনতা কাইড়া নেওয়া হবে। বরং পুরো কমিউনিটি যদি তার গালাগালিতে অফেন্ডেড ফিল করে তাইলে কমিউনিটিই তার এগেইন্সটে ব্যবস্থা নিবো।

এইবার আসি ইউটিউব প্রসঙ্গে। ইউটিউবে যেই ভিডিওটা নিয়া এত তোলপাড়, সেইটা আমি দেখিনাই। দেখার ইচ্ছাও হয়নাই। এখন এই একটা ভিডিও শেয়ারের অপরাধে যদি পুরা ইউটিউব ব্লক কইরা দেওয়া হয় সেইটা কি মাথাব্যাথার লাইগা মাথা কাইটা ফেলার মত সমাধান হইতেছেনা? ইউটিউবে ইচ্ছা করলে বা অনুরোধ কইরা একটা ভিডিও বা একটা চ্যানেল ব্লক করার অপশন আছে। প্রোপার ভাবে বুঝাইয়া যদি মেইল করা হয়, তাইলে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ নিজেই এই বিষয়টা দেখতো। তা না কইরা, মাথাটাই কাইটা ফেলা সমিচীন মনে করছে সরকারে। এই পোস্টে সেইটাই বলবার চেষ্টা করা হইছে। এইটা আখেরে কোনো ভাল ফল বইয়া আনবোনা। বরং দেখেন, কেউ কেউ হয়তো ইউটিউব ব্লকের পর এই ভিডিও মাস পিপলের ভিতর ছড়াইয়া দিতেছে। ইউটিউব ব্লকের আগে যেইটা দেশের পুরা জনগোষ্ঠীর অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটা অংশের কাছে পৌছাইছিলো, ব্লকের পর সেইটাই বৃহৎ অংশের কাছে পৌছাইতেছে। যেইটার মোমেন্টাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের একটা ক্ষেত্র তৈরী কইরা ফেলতেছে। এইটাই বরং ভীতিকর।

১১

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


যদ্দুর জানি,
সরকার থেকে এই নির্দিষ্ট ভিডিও সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ তা মানেনি বলেই মাথাটা কাটতে হয়েছে।

১২

অনিমেষ রহমান's picture


বাক স্বাধীনতা খুব গুরুত্বপুর্ণ কিন্তু সেটা ধারন করার ক্ষমতা পশ্চিমাদের বাইরে আর কারো আছে কিনা সন্দেহ!
ভালো লিখেছেন-অনেক জায়গায় কিছুটা দ্বিমত আছে।
ক্যারি ওন।

১৩

তানবীরা's picture


পোষট লাইক করলাম।

অন্য পোষটের আশায় আছি কিনতুক Laughing out loud

১৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আরেকটা কথা,
আপনার কি মনে হয় সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা বলতে কোন বস্তু আছে??

১৫

রায়েহাত শুভ's picture


এইটা একটা লাখটাকা দামের প্রশ্ন করছেন। এইখানে আমি সহমত আপনার সাথে...

১৬

ইমতিয়াজ মাহমূদ's picture


আছে। বাকস্বাধীনতা বা চিন্তা ও প্রকাশের স্বাধীনতা জিনিসটা আমরা অর্জন করেছিলাম। যেটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে তার একটা বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে এই স্বাধীনতা। এটাকে চেপে রেখেছে। আমাদের দেশে যে একটা গোষ্ঠী আছে, যারা শিক্ষিত, স্বচ্ছল, অভিজাত ধরনের গোষ্ঠী আছে, এরা পরস্পরের আত্মীয় বন্ধু বা পার্টনার, এই গোষ্ঠীটা আমাদের শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। এরাই আওয়ামী লীগ, এরাই বিএনপি এরাই সেনাবাহিনী। আমাদের প্রতি ওদের কোনও সমমানবদ্ধ নাই, এই গোষ্ঠীটা মনে করে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অশিক্ষিত মূর্খ অজ্ঞ পশুপ্রায় এবং নিজেকে শাসন করার অযোগ্য। তাই এরা নানারকম আইন গাইন নীতিমালা ইত্যাদি করে আমাদের অর্জিত এই স্বাধীনতাকে নানাভাবে কেটেকুটে এইখানে নিয়ে এসেছে। এদের প্রয়োজনেই এইসব সেন্সর লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ হাবিজাবি। ফলে এই স্বাধীনতা কাগজে আছে কিন্তু আপনি আমি ভোগ করতে পারছি না।

মুশকিল হচ্ছে আপনি যে এই স্বাধীনতাটুকু বা অধিকারটুকু আদালতের মধুমে প্রয়োগ করবেন সেই রাস্তাও কঠিন। কেননা অদলত্‍ জিনিসটও গঠিত হয় এমন সব লোক নিয়ে যারা এই গোষ্ঠীরই অংশ বা অনুগত আথবা এই গোষ্ঠীর অংশ হবার খায়েশ পোষণ করে। এই পাকে চক্রেই আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি।

১৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

১৮

বাফড়া's picture


বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম শুনছিলাম... তাই আজকাল এই ব্যাপারগুলা ব্যাক্তিবিশেষের ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়াতেই আটকায়া নাই... মায় রাষ্ট্রেরও ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া শুরু করছে... ব্যাপারটা কিন্তু যত হালকা পাতলা ভাবতাছেন তত না... একটা স্বাধীন সাবভৌম রাষ্ট্রের ধর্মানুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া যেই সেই কথা না... ম্যাগনিচ্যুড বিবেচনা করলে প্রতিক্রিয়া স্বরুপ রাষ্ট্র দ্বারা য়্যুটিউব ব্লক হওয়া অনেকটা স্ল্যাপ অন দ্য রিস্ট এর মত সামান্য প্রতিক্রিয়া... আমার আফসোস এটুকুই যে আজ রাস্ট্রের হাতে মিসাইল-মুসাইল থাকলে য়্যুটিউবের সার্ভার উড়ায়া দিতে পারত... কেন যে আমগোরে আল্লাহ ঐ বেদ্বীন আম্রিকার মত শক্তিশালী করলনা...

১৯

ইমতিয়াজ মাহমূদ's picture


আল্লাহপাকের লীলা বুঝা কঠিন।

২০

তানবীরা's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

আমার আফসোস এটুকুই যে আজ রাস্ট্রের হাতে মিসাইল-মুসাইল থাকলে য়্যুটিউবের সার্ভার উড়ায়া দিতে পারত... কেন যে আমগোরে আল্লাহ ঐ বেদ্বীন আম্রিকার মত শক্তিশালী করলনা...

২১

জ্যোতি's picture


ইউটিউব বন্ধ করার তীব্র বিরোধিতা করি। তবে ধর্ম আসলেও বিশ্বাসের ব্যাপার। যূক্তিও আছে।

২২

জেবীন's picture


কোথাকার কোন বেহুদায় কি না কি বানালো আর তাতেই কি আমার বিশ্বাস ডগমগ হওয়া শুরু হবে? নিজের বিশ্বাসের উপর এত্তো অনাস্থা কেন আমাদের, আর ব্লকের পরই এই ফালতু জিনিস আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে! ফেসবুকে আজ একবন্ধুর লেখাটা দারুন পছন্দ হয়েছে -

ইনোসেন্স অব মুসলিম মুভির ট্রেইলার অবলোকন করলাম। দুই টাকা বাজেটের এই সিনেমা সম্ভবত মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা। এইটা যে বানাইছে সে একটা ছাগল, এইটা নিয়া যারা খুনাখুনি করতেছে তারা এক একটা দুম্বা। আর যারা এর পেছনে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করছে, তারা সম্ভবত উট। গলা উঁচু, তাই বেশি দূর দেখে

সরকার ব্যাক্কলি কাজে নিজের কান্ডকারখানাগুলো দিন দিন উন্নতির চূড়ায় নিচ্ছে তো নিয়েই যাচ্ছে !

২৩

ইমতিয়াজ মাহমূদ's picture


এই ছাগল দুমবা আর উটের এনালজীটা খুবই ভাল লেগেছে।

২৪

মৃন্ময় মিজান's picture


মত প্রকাশের পশ্চীমা ধরনের ঘোর বিরোধী আমি। আর ইসলামের নামে এইসব ফাত্রামীরও ঘোর বিরোধী।

২৫

মাহবুব সুমন's picture


আমেরিকার সংবিধানের ১ম সংশোধনীতে যে বাক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে তা যা ইচ্ছা তা বলার স্বাধীনতা না, উইকি ঘেটে খুব সহজে এটা পাইলাম, একটু গভীরে গেলে বোঝা সহজ যে বাক স্বাধীনতা মানে এই না যে আপনি বা আমি অন্যের ধর্ম/ বর্ন /জাতীয়তা জাতীয় কিছু সংবেদনশীল ব্যপারকে নোংরা ও উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আক্রমন করতে পারবো বা মন্তব্য করতে পারবো না। আমেরিকায় বা পশ্চিমা আপনে যদি ইহুদি জাতি ও মুসা নবীকে নিয়া এরকম ফালতু মুভি জাতিয় জিনিস বানান তখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারবেন কি ভুলটা করেছেন। আহমেদিজাদ যখন বলে ২য় বিশ্বযুদ্ধে হলোকাস্ট ঘটে নাই বা জামাতিরা যখন বলে ৭১ এ তারা কোনো অপরাধ করে নাই ও কোনো গনহত্যা ঘটে নাই তখনও কি আপনি তাদের বাক স্বাধীনতায় বাহাবা দিবেন?
আপ পশ্চিমা দেশের বাক স্বাধীনতা বা মুক্তচিন্তায় বিভ্রান্ত হবার কিছু নাই, এরা এগুলোকে নিজের সুবিধায় প্রয়োগ করে। এরা লিবিয়ায় গনতন্ত্রে আনতে অস্ত্র যোগায়, বাহরাইনে গুলি করে মানুষ মারলে চুপ থাকে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মানীতে ইহুদিদের নিয়ে যা করা হতো ( কার্টুন / মুভি ) সেটা এখন মুজলিমদের নিয়ে করা হয়, এর পেছনে অনেক কারন আছে, ১ টি হলো জাতিগত ঘৃনা। সেসময়ও নাজিরা বাকস্বাধীনতা কথা বলে, এখন বলে পশ্চিমা সভ্যরা(?)।
ইউ টিউব বা ফেসবুক বন্ধ করাটা বেকুবী কাজ, এটা বন্ধ করা অবশ্যই তথ্যের স্বাধীন প্রবাহকে বন্ধ করার বোকামী চেস্টা। বেকুবের কাজে প্রতিবাদ কাজ আসে না।

২৬

ইমতিয়াজ মাহমূদ's picture


কেউ যদি বলে হলোকাস্ট ঘটে নাই বা ৭১এ গণহত্যা ঘটে নাই বা গুঃ আজম নিরপরাধ ইত্যাদি, তাকে আমি বাহবা হয়তো দিবনা, কিন্তু আপনি যদি তাকে এই ধরনের কোন কথা বলার জন্যে হত্যার হুমকি দেন, আমি আপনার নিন্দা করব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাজিদের পক্ষে মিছিল হয় যেখানে মানুষ নাজী সেনাদের মত উর্দি পড়ে বা স্বস্তিকা চিহ্ন পড়ে চূড়ান্ত উগ্র ইহুদি বিরোধী স্লোগান দেয়। কতরকম উদ্ভট এবং আজগুবি ভাবের প্রকাশ যে মানুষ করে, আমেরিকায় সরকারের পক্ষে এদেরকে বাধা দেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব না। জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ করেছে একজন, মার্কিন কোর্ট বলছে এটা তার বাক স্বাধীনতার অংশ।

বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা হচ্ছে সকল স্বাধীনতার পূর্বশর্ত। এটা কথার কথা না। রোজা লুক্সেমবার্গের একটা কথা আছে না, প্রকৃত স্বাধীনতা হচ্ছে সংখ্যালঘুর স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু ভিন্নমতবলম্বীর স্বাধীনতা। ওই যে বলেছি, কর কণ্ঠ রোধ করা মনে সভ্যতার গতি বুঘ্নিত করা সেটা একটু ভাবুন।

২৭

শ্যাম পুলক's picture


'ভাবনারা ছুটে চলে পুড়োনো ভাবনাকে কবর'
কিন্তু সবাই এটা মেনে নিতে পারে না.

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ইমতিয়াজ মাহমূদ's picture

নিজের সম্পর্কে

একজন উকিল, বটতলার না, প্রায় কাছাকাছি