বুলবুল আহমেদের জন্য কয়েকটি লাইন

বিমল মিত্রের ঢাউস একটা উপন্যাস আছে। কড়ি দিয়ে কিনলাম। তখন আমি সিনেমা বানানোর কথা ভাবতাম। ভাল লাগলে আমি উপন্যাস থেকে সিনেমা বানানোর কথা ভাবতাম। কড়ি দিযে কিনলাম পড়ে আমি ভেবেছিলাম এই উপন্যাস থেকেও আমি সিনেমা বানাবো। আমার ছবির নায়ক হবে বুলবুল আহমেদ। আমি জীবনে যত সিনেমা বানানোর কথা ভেবেছি, সবগুলোতেই আমার নায়ক হতো বুলবুল আহমেদ।
বুলবুল আহমেদের অভিনয় জীবন আর আমার বড় হয়ে ওঠা এক সঙ্গে হয়েছে। তবে বুলবুল আহমেদের সঙ্গে আমার পরিচয় টেলিভিশনের মাধ্যমে। আমি তিনটা নাটকের নাম বলি। আমি এখনও মনে করি বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো ভাল নাটক আর কখনোই হয়নি। নাটকি তিনটি হলো, জহির রায়হানের বরফ গলা নদী। দস্তভয়স্কির ইডিয়েট এবং হুমায়ূন আহমেদের শঙ্খ নীল কারাগার। বরফ গলা নদীর পরিবারের সেই বড় ভাই, ইডিয়েটের মূর চরিত্র আর শঙ্খ নীল কারাগারের খোকা-এই তিন চরিত্রে বুলবুল আহমেদের সমকক্ষ আর কেই না। এই তিনটি নাটক এখনো আমার চোখে লেগে আছে।
সিনেমায় যে ধরণের প্রথাগত নায়ক আমরা দেখি, তার বড় ব্যতিক্রম এই বুলবুল আহমেদ।সীমানা পেরিয়ে, সূর্যকন্যা, রূপালী সৈকত-কে ভুলতে পারবে বুলবুল আহমেদকে।
দিলীপ কুমারের দেবদাস, শাহরুখের দেবদাস, সৌমিত্রের দেবদাস আর বু্লবুলের দেবদাস-কোনটা সেরা? আমি বলবো বুলবুল আহমেদই দেবদাস হিসেবে সেরা।
এবার সংবাদটা দেই। অনেকেই হয়তো জানেন।
বুলবুল আহমেদ আর নেই
বিশিষ্ট অভিনেতা বুলবুল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি গুলশান নিকেতনে নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭১।
অনেক দিন ধরেই তিনি হূদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ও বহুমূত্ররোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
সম্প্রতি তাঁকে কয়েকবার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
‘ইয়ে করে বিয়ে’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের শুরু। এর পরই ‘জীবন নিয়ে জুয়া’ ছবিটি তিনি প্রযোজনা করেন। ওই ছবিতে তিনি অভিনয়ও করেন। তাঁর অভিনীত অন্যান্য ছবির মধ্যে রয়েছে দেবদাস, সীমানা পেরিয়ে, রুপালি সৈকত, মহানায়ক, শুভদা। আর ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ছবি দিয়ে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
তিনি তাঁর জীবনে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) পুরস্কারও পান।
তিনি স্ত্রী ডেইজি আহমেদ, দুই মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভসহ অনেক ভক্ত রেখে গেছেন।
তিলোত্তমা ও শুভ বর্তমানে বিদেশে আছেন। কাল শুক্রবার তাঁরা দেশে ফিরলে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জুমার নামাজের পর আজিমপুরে মা-বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে। বর্তমানে লাশ স্কয়ার হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
শ্রদ্ধা বাংলাদেশের এই ব্যতিক্রমী অভিনেতাকে।





বুলবুল আহমেদেকে বিনম্র শ্রদ্ধা।
গুণী এই অভিনেতার আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি।তাঁর আত্নার শান্তি হোক।
এই মানুষটাকে খুব ভালো লাগতো, কত ভালো লাগতো তা বুঝলাম তার মৃত্যুর খবরটা পড়ে।
তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।
'এই সব দিন রাত্রি"র টুনি'র বাবা বুলবুল আহমেদ এর কথাও মনে পড়ে। সীমানা পেড়িয়ে' র বুলবুল আহমেদকেও কোনদিন ভুলতে পারবো না, পারব না ইডিয়টের সেই ভালাভোলা মানুষটিকে। মানুষ হিসেবেও তার ব্যক্তিত্ব খুউবই ভদ্র নম্র ও বিনয়ী বলেই সবসময় মনে হয়েছে।
বুলবুল আহমেদ এর আত্মার শান্তি কামনা এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
শেষবার যখন দেখলাম টিভিতে , তাঁর সাক্ষাতকার , ভগ্ন দেহ দেখে খুব খারাপ লেগেছিল, তখনই শুনেছিলাম তিনি অসুস্থ্য।
তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ।
আমি তার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ ওনাকে বেহেস্তে নসীব করুন।
বুলবুল সাহেব আমার ও ভাল লাগা অভিনেতা।
আমার নাম সুমন
কিনবা
সামাল সামাল সামাল সাথী
এ গান গুলো আমার অনেক ভাল লাগে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ।
সীমানা পেরিয়ে আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র।
শ্রদ্ধা...
বিটিভির আরেকটা দুর্দান্ত নাটক ছিলো "মুখরা রমণী বশীকরণ"
বিমূর্ত এই রাত্রি আমার শুনতেছি... http://www.youtube.com/watch?v=f_e-1ZYgpz0
বুলবুলের আত্মার শান্তি হোক...
(
ইডিয়েট, শঙ্খনীল কারাগার, সীমানা পেরিয়ে, দেবদাস দেখেছি। বুলবুল আহমেদ-এর জন্যে খারাপ লাগছে। উনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
পত্রিকায় প্রতিদিন একটা না একটা খবর ধাক্কা দেবেই। আজ ধাক্কা দিয়েছিলো এই খবরটা।
বুলবুল আহমেদের চোখে-মুখে একটা শান্তি শান্তি ভাব ছিলো। উনার প্রথম জীবনের নায়কোচিত চেহারার সঙ্গে শেষজীবনের বাবা কিংবা দাদুদের মতো চেহারাই প্রমাণ করে শরীরের যত্ন নেন নি। যে কারণে ব্লাড প্রেশার, ডায়বেটিসের মতো ঝামেলাগুলো কাবু করার সুযোগ পেয়েছে। এই থেকে কিন্তু পয়ত্রিশোর্ধ্ব সবারই শিক্ষা নেয়ার আছে।
কীর্তিমান এ অভিনেতার জন্য খুব খারাপ লাগছে।
শঙ্খ নীল কারাগারে বুলবুল আহমেদ ছিলেন নাকি? একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন। আজকে একদিনে তিনটা মৃত্যু সংবাদ শুনলাম। তারপরেও স্বাভাবিক আছি। কি বিচিত্র আমরা
শঙ্খ নীল কারাগার নিয়ে প্রথমে একটা বড় নাটক হয়েছিল। তাতে খোকা ছিল বুলবুল, বড় বোন ফেরদৌসি মজুমদার আর ছোট ভাই ছিল নূর।
শান্তি থাকুন তিনি।
শান্তি = শান্তিতে
বুলবুল আহমেদ এই দেশের স্বর্ণ সময়ের অভিনেতা...তার শরীরি ভাষার সাথে যায় না এমন চরিত্রেও তার অভিনয় মনে রাখার মতোন।
হুমম...আল্লাহর দুনিয়া থেকে আরেকজন ভদ্রলোক কমে গেলো...বিদায় নটরডেমিয়ান...বিনম্র শ্রদ্ধা
~
বাংলাদেশের হিসেবে অনেক বেশি স্মার্ট আইডিয়ার কয়েকটা ছবির নায়ক বুলবুল আহমেদ, একমত, তার করা দেবদাসটাই সবচেয়ে সেরা।
বুলবুল আহমেদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
কষ্ট লাগলো খবরটা দেখে ... আব্দুল্লাহ আল মামুন গেলেন, এরপর বুলবুল আহমেদও
বুলবুল আহমেদের অভিনয় দেখে সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম মহানায়কে ... নরম সরম ভদ্র চেহারার এই ভদ্রলোক যে এমন একটা "ফ্রড" চরিত্রে এত দুর্দান্ত অভিনয় করবেন ভাবতেও পারিনি ... দিলীপ কুমার/সৌমিত্রের দেবদাস দেখিনি ... তবে শাহরুখের দেবদাস আমার মাথার ভেতর দেবদাসের চেহারা হিসেবে প্রোথিত সেই বুলবুল আহমেদকে একটুও টলাতে পারেনি
একটা ব্যাপার অনেকবারই মনে হয়েছে, বুলবুল আহমেদকে কোনদিন বাংলা সিনেমা জগতের সাথে মেলাতে পারিনি ... একটা পশ ব্যক্তিত্ব নিয়ে তিনি আর সবার চেয়ে বেশ উর্ধ্বেই ছিলেন বরাবর
অসংখ্য শ্রদ্ধা বুলবুল আহ্মেদের প্রতি।
খালি হয়ে গেল আরও একটি কুঠুরী।
মন্তব্য করুন