প্রেসার, চারিদিকে প্রেসার
১.
আমাদের অফিসে ব্লাড প্রেসার মাপার একটা যন্ত্র আছে। সেইটা থাকে প্রশাসনে। সেখানে কাজ করে কুসুম (ছদ্ম নাম)। আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে এসে আমার সামনে এসে জানতে চাইছিল তাকে কেমন লাগছে। আমি সেই ঐতিহাসিক বাণী দিছিলাম। বলছিলাম, 'পরের বউয়ের মতোই লাগছে'।
তাকে অবশ্য সবসময়ই এরকম লাগে।
প্রায়ই দেখি অফিসের কেউ না কেউ কুসুমের কাছে যাচ্ছে এবং ব্লাড প্রেশার মাপছে। সবারই প্রেসার অস্বাভাবিক। দেখা গেল আমাদের অফিসের সবাই উচ্চ ব্লাড প্রেশারের সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করলো।
অফিসের কাজের চাপ বেশি। সবাইকে অতিরিক্ত খাটায়। এই ধারণাটা সবার মধ্যে বেশ পোক্ত হয়ে গেল। সবারই ধারণা কাজের চাপেই ব্লাড প্রেসার বাড়ছে। অসন্তোষ ধুমায়িত হল।
একদিন গেলাম প্রশাসনের ফ্লোরে। যেয়ে দেখি যথারীতি কুসুম ব্যস্ত ব্লাড প্রেসার মাপতে। অফিসেরর সবচেয়ে শান্তশিষ্ট ভদ্রলোক হাবিব ভাইও দেখি লাইনে দাঁড়ানো। দেখা গেল তারও প্রেসার হাই।
আমি পরিস্থিতি দেখেই সেই ঐতিহাসিক চিৎকারটা দিলাম। বললাম, ইউরেকা ইউরেকা।
কুসুমকে বললাম, এরকম একজন পরের বউ টাইপ মেয়ে যখন নিজ হাতে ব্লাড প্রেসার মাপে তখন তো প্রেসার হাই হবেই। হাবিব ভাইরে বললাম, আসেন আমি মেপে দেই। দিলাম, প্রেসার নর্মাল।
২. আমাদের অফিসের আরেক কলিগ, কায়সার। সদ্য বিয়ে করেছে, একটু বেশি বয়সেই। বিয়ে পরবর্তী ছুটি শেষে প্রথম দিন অফিসে আসলো। সবাই খালি তার দিকে তাকায় আর হাসে। কায়সারও হাসে।
আমি আর হাসি না। কিছুক্ষণ পর আমি তার সামনে যেয়ে মানিব্যাগ বের করে ১০টাকার একটা নোট তাকে দিয়ে বললাম, কায়সার দুইটা সিদ্ধ ডিম কিনে খাইয়েন।
ব্যস ওমনি অফিসের সবাই এসে ৫ টাকা, ১০ টাকার নোট দেওয়া শুরু করলো। কয়েক মিনিটে তার টেবিলে খুচরা টাকায় ভরে গেল।
কায়সার লজ্জা লজ্জা মুখ নিয়ে টাকাগুলো নিলো। অবশ্য পরে দাবী করছে সে এগুলো দিয়ে বাতাম কিনে খাইছে।
তিনদিন পর। রাতে বেলা কাজ করছি। দেখি কায়সার প্রেসার মাপার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার নামি মাথা ব্যথা। রাতে আর কুসুম থাকে না। আসলো অন্য একজন। মেপে দেখা গেল আসলেই প্রেসার অনেক লো। ফোনে কথা বলা হলো ডাক্তারের সঙ্গে। সব শুনে ডাক্তার বললো, এখনই দুটো সিদ্ধ ডেম এনে খেতে। 
আর আমরা চাইপা ধরলাম তারে। সেদিন যে চান্দা তুললাম, পাত্তা দিলেন না। অভিজ্ঞদের কথা শুনতে হয়।
৩. এবার অন্যরকম প্রেসারের কাহিনী। সদ্য বিয়ে করেছে আরেক কলিগ আহসান। আহসান অনেক লম্বা এবং বেশ স্বাস্থ্যবান। বিয়ের পরদিন আমরা অফিস থেকে আহসানকে ফোন দিলাম। একসময় ভদ্রতা করে আহসান তার সদ্য বিয়ে করা বউকে ফোন দিলো আমাদের সাথে কথা বলার জন্য। সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আমার কাছে ফোন আসলো। আমিও ভাবীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললাম, ভাবী, আপনার উপর নিশ্চই অনেক প্রেসার যাচ্ছে? ভাবীও বিয়ের নানা অনুষ্ঠানের কথা বলা শুরু করলো। আমি বললাম, আরও তো অনেক প্রেসার আছে ভাবী। ভাবী একটা তব্দা খাইয়া বললো, তাতো থাকেই। আমি আবার জিগাইলাম, আহসান তো লম্বা ও স্বাস্থ্যবান। তা আহসানের ওজন কতো ভাবী? 
বহুদিন পরে সেই ভাবীর সাথে একটা অনুষ্ঠানে দেখা। আহসান আমারে পরিচয় করাইয়া দিল, এই মাসুম ভাই। তোমারে ওজন কতো জিজ্ঞাস করছিলো
৪.
বিয়ে করলে বা সুন্দরী কাউকে দেখলেই যে প্রেসার ওঠানামা করে তা কিন্তু না।
এমনিতেও করে। যেমন ধরেন, একজন কাঁধে হাত দিল, ওমনি তার প্রেসার বাড়লো। ছেলেরা ধরলেও বাড়ে। আবার ধরেন খালি বাড়ে যে তা না, দুই চোখও যেন কেমন হয়। ছবিটা দেখেন, কাঁধে হাত দিছে বিলাই। ওমনি প্রেসার তো বাড়ছেই, চোখও হইছে বিলাইয়ের মতো।

কাহিনী কী?
যারা মেহেরজান দেখছে তারা জানে জীবনের সময় ও অর্থ নষ্ট করাটা কত কষ্টকর। সুতরাং যারা দেখেন নাই, তারা কতনা সুখে থাকলো প্রায় তিন ঘন্টা। ধরেন এই যে ছবির লোকটা, মেহেরজান দেখে নাই। সুতরাং লোকটা তিনঘন্টা বেশি সুখ, আনন্দ পাইলো এই দুনিয়ায়। কিন্তু কোনো কৃতজ্ঞতা নাই। সবাইরে রাস্তায় দাঁড় করাইয়া রাখছিল সাড়ে তিন ঘন্টা। 
আর এতদিন ভয়ে কেউ বলি নাই যে, ল্যাব এইডের খিচুরি কি জঘন্য। খালি আড্ডার লোভে বলা হয় নাই। এখন তো আর আড্ডার জায়গা নাই। এখন বলতে কি সমস্যা? এই লোকটাকে ল্যাব এইডের জঘন্য খিচুরি খাওয়া থেকেই বাঁচাইলাম সবাই। তাও কৃতজ্ঞতা নাই। আফসুস।
এসব দেইখা আমাদের সবার প্রেসার কিন্তু বাড়ছে দাদাভাই।
আমাদের মনও অনেক নরম। দিলাম তারে মাফ কইরা।

জ্যোতির মতো একটা শান্তশিষ্ট মেয়েরেও রাস্তায় দাঁড় করাইয়া ঝারি মারতাছে। কী পাষান!
আসেন সবাই ৫/১০ টাকা চান্দা দেই দাদাভাইরে। প্রেসার ঠিক করুক সে।





রায়হান ভাইও ফাঁকি মারা শুরু করছে। আফসুস।
চারিদিকে এত প্রেসার কোথায় যাই?
দাদা ভাই কে?
দাদাভাইর প্রেসার কে মাপছে?
মনু ভাবী খুব ভালো মেয়ে আর কি স্লিম।
বিলাই মাপসে মনে হয়।
সেদ্ধ ডিম একটাই বেচে ১০ টাকায়, আপনারা ২টা কিনেন কেমনে?

১০টাকা নাকি? কিনি না তো জানি না। আপনে কেনেন তাই জানেন। এনিওয়ে সিদ্ধডিম কেন কেনেন?
নাগো মামা, কিনি না, আপনি যেকারণে কেনেন না, আমিও সেই কারণে কিনি না। তবে খবর কিছু রাখতে হয়!
কারণটা কি?
আর মাসুম ভাই কেনো মামা?
শখত মামা
শখত মামা
নাবালক-নাবালিকাদের কারণটা জানা বারণ! (অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নহে।)
আপনি যখন জ্বরজনিত অসুস্থতায় ভূগছিলেন তখন বাফড়া একটা পোস্ট দিয়েছিলেন (তথ্যগত কোনো ভুল থাকলে দুঃখিত), তখন থেকে মাসুম ভাই শখত মামা।
আমার একটাও ইয়াং মামা নাই, তাই আমি মামা ডেকে সুখ পাই।
আমার কুনু মামা ই নাই। মাসুম ভাই বলুক তাইলে কি ডাকুম নাকি?
রশীদা@ মাশাল্লাহ, জামাই তাইলে ভালই পাইছেন।
এবং
এই কথাগুলো মনে রাখলে আমারে ডাকা যাইতে পারে
তওবা, তওবা, কলিকাল! কলিকাল!
মামা ভাগ্নিরে এসব কী কহেন!!!
আপনার কি লো প্রেসার?
আপনেরে তো মাইন লিস্টে রাখে নাই। ওয়েট এন লিস্টে ছিলেন ।
মানে কী রায়হান ভাই
দাদাভাই মহান।
দারুণ পোষ্ট মাসুম ভাই।
আপনিও দেখি ডাক্তার।
আমি আবার কী করলাম?
ছবিগুলা যে তুলছে তারে সবাই চান্দা তুইলা একটা প্রেসার মাপার মেশিন কিন্যা দিয়েন, তার বাসায় এইটা নাই, একটা দরকার
আপনের বাসায় প্রেশার মাপার মেশিন দিয়া কি করবেন?কার প্রেশার মাপবেন?
পোস্ট পইড়া বুঝতেছি এইটা থাকা দরকার।
আপনার প্রেশার কত?
সেইটাতো জানিনা, আমার বাসায় মেশিন নাই।
আপ্নারো সিদ্ধ ডিম খাওয়ার শখ হইলো?
ম্যাঙ্গোর ডিমে হইতাছে না?
নিজের ঘরে মাসুম ভাই'র এই 'পরের বউ' ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করবেন কেমনে? @ লীনা'পু
খুক খুক
আগে প্রেসার মাপার মেশিন পাই, তাইলে পরের জামাই ক্রাইটেরিয়া ট্রাই মারুমনে
আহেম,
আজ-কাল গলাটা খালি খুশ খুশ করে, হুদাই।
যাউক্গা, বাড়ির সামনে লম্বা লাইন হয়ে গেলে খপর দিয়েন, ছবি তুলতে যামু।
এই পোষ্টে অনেক পরের জামাই দেখতাছি। কমেন্ট দিতাছে না। দেখেন তো আপনের বাসার সামনে লাইন কিনা?@লীনাপা
মীর কি পরের জামাই?এইখানে কেন?দেখেন একজনও নাই।
আরে পরের জামাইরা কি আর ব্লগে থাকে এতক্ষণ? লুক-জন যে কি কয়!
মীর চিপায় যান ক্যান? আপনার কোন কলিগ কি আপনার প্রেশার মাপতেছে
আমি ডাক্তার ছাড়া আর কাউরে দিয়া প্রেশার মাপাই না
মাসুম ভাই এর অফিসে যাইয়েন।প্রেশার মেপে দেখেন তো ঠিক আছে কি না।
এই ব্লগেও একজন ডাক্তার আছে মীর
আমরা যারা 'পরের জামাই' আছি তারা এখন সিদ্ধ ডিম খাইতেছি। খাইতে যা একটু সময় লাগতেছে। তারপরই লীনা ম্যাডামের (আপা ডাকলে প্রেশার উঠপে না) বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিমু।
আসতাগফেরুল্লাহ।
বকলম ভাই গুলাচ্ছে।
আরিফ ভাই এর প্রেশার বাড়ছে মনে হয়।
সবাই গুলাচ্ছে
পুরা খিচুড়ি(!) পোষ্ট আশা করছি!
সার্চ দ্যা খোঁজ এর পরও বুঝেন নাই আপনারা! এখনো দল বেঁধে ছবি দেখেন।
এই ছবির তুলনায় সার্চ দ্য খোঁজ তো মহান ছবি। সবাই কোপাল রে ভাই।
ছবি দেখে মনে হচ্ছে দাদাভাই এক্সিডেন্ট করছে, আসলে ঘটনা কি?
কাঁধে হাত রাখাটা এক্সিডেন্ট মনে করতাছেন?
টানে টানে। কি টানে। হাত টানে পা টানে। খালি টানে

মানে কী
হাঁস না মুরগির ডিম ?
মুরগি হৈলে দেশী না বিদেশী মুরগার ডিম ?
ডিম, হাফ না ফুল বয়েল্ড?
আপনার টাইম শেষ।
চান্দাটা কার কাছে দিমু?
কাছে রাখেন । সময়মতো আওয়াজ দেওয়া হইবে।
দাদাভাইয়ের জন্য চান্দা আমি কিন্তু দিমুই দিমু। কেউ ঠেকায়া রাখতে পারবা না!
ফ্লেক্সি কইরা দিলে হপে?
হপে। হপে।
আমারে আইবান নাম্বার আর বিক কোড পাঠান
যেই চান্দার জ্বালায় দেশ ছাড়লাম- এখন ব্লগো ছাড়তে হইবো লাগে
(
প্রেসার নিয়া ভাইবা লাভ কি সময়ই সব হালকা করে দেয়:)
মন্তব্য করুন