কর্পোরেট খেলা দেখা এবং......
১.
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেইখা মোটামুটি চাঙ্গা। লাইন ছাড়া টিকেট পাইছি, লাইন ছাড়া স্টেডিয়ামেও ঢুকছি। পুরা একহাজার টাকা উসুল হইছে। ব্রায়ান এডামসের তিনটা গানের দামই তো ১০ হাজার টাকার সমান। তারপর ধরেন শিল্প ব্যাংক ভবনরে পিচ বানাইয়া যেভাবে ক্রিকেট খেলা হইছে সেইটার দাম ও ধরেন ৫শ টাকা। ইন্ডিয়ান কিছু মাইয়া যেভাবে ধক ধক করনে লাগা টাইপ নাচছে সেইটার দাম আরও ৫শ টাকা। আনন্দবাজারের কথা অনুযায়ী অনুষ্ঠানের একমাত্র ভাল ছিল লেজার শো। দাদার কথা মাইনা এইটার দাম তাইলে ১ হাজার টাকা। শ্রীলঙ্কার নাচা-গানার দাম আরও ৫শ টাকা। মমতাজ বেগম যেমনে গাইছে সেইটার দামও ১শ টাকা। (চার প্যাকেট পপকর্ণ কিনছি ১শ টাকায়, সুতরাং হাতে থাকলো শূণ্য)।
রিকাশায় কইরা আসার আইডিয়াটার দাম আরও ৫শ টাকা। দুপুরে স্টেডিয়ামে ঢোকার আগে পাবদা মাছ দিয়া ফ্রি ভাত খাইছি। সেটাইর দামও ধরলাম ২শ টাকা। তারপর ধরেন ছায়া আপার নাচ দেখছি সেইটার দাম কত ধরুম বুঝতাছি না।
এইবার কিছু লোসকানের কথা কই। লুট-আস কামালের বক্তৃতা শুনতে হইছে। এরজন্য মোট পয়সা উসুল থেইকা ১ হাজার টাকা মাইনাস। ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তৃতা শুনছি তাই আরও ১শ টাকা মাইনাস। বড় ডিসপ্লে বোর্ডটা ছিল মাথার উপরে, দেখতে যাইয়া ঘাড় ব্যাথা হইছে। এই জন্য মাইনাস ৫শ টাকা। আবার ঘাড় ঘুড়াইতে ঘুড়াইতে বহু রঙ্গিলা দেখছি, এইজন্য ৫শ টাকার বদলে ২শ টাকা মাইনাস।
আবার অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে আমি একা চইলা আসছিলাম, আমি আসার পর একজন চেয়ারে উইঠা নাচছে, তারে ১ হাজার টাকা জরিমানা। চমৎকার একটা অনুষ্ঠান নিয়া ভারতের পত্রিকাগুলা উল্টাপাল্টা লিখছে, তাগো জরিমানা করলাম ১ হাজার টাকা।
সবমিলাইয়া বলা যায় ১ হাজার টাকা খরচ হইলে কোনো লোকসান হয় নাই।
২.
লাভের উপর লাভ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখে অফিসে ফিরতেই দেখি আমার নামে একটা টিকিট, বাংলাদেশ-ভারতের খেলার, তাও আবার হসপাটিলিটি বক্সের। টিকেটে লেখা মূল্য এখন আর না বলি।
আগেই দেখেছি গ্যালারির আগের অবস্থা আর নেই। ঝালমুড়ি হাতে নিয়ে কিংবা বাতাম চিবাতে চিবাতে খেলা দেখার দিন শেষ। এখন স্পনসরদের যুগ। পেপসি স্পন্সর, তাই অন্য যে কোনো পানীয় এখানে নিষিদ্ধ। এক বোতল পানি নিয়ে গ্যালারিতে বসা নিষেধ। কড়া নিরপত্তার কারণে খেলা আয়োজনের মধ্যেই এখন সইতে হয় নানা বিপত্তির।
আমার অবশ্য এসব নিয়ে ভাববার কোনো দরকার ছিল না। আমি তো আর লাইন ধরে স্টেডিয়ামে ঢোকার পাবলিক না। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ম্যাঙ্গো ফরেস্টের আমপাবলিক থেকে একদিনের জন্য হলেও বাইরে চলে গেছি।
সাউদার্ন গেট দিয়ে ঢুকলাম, বিশেষ মর্যাদা নিয়েই। সিড়ি দিয়ে দোতালায় যেতেই মনে হয় না এটা স্টেডিয়ামের ভিতর। ফাইভ স্টার হোটেলের মতোই মনে হয়। এক রুমে ফরেন দুই মেয়ে টিকেট নিয়ে একটা গলায় ঝুলানোর ব্যাজ আর স্যুভেনির হিসেবে আইসিসির একটা ব্যাগ দিলো গিফট হিসেবে।
দোতালায় বেশকয়েকটি বক্স, সবই বিভিন্ন কোম্পানির নামে, মোটা অর্থ দিয়ে নিতে হয়েছে, সম্ভবত ২১ লাখ টাকায়। আমার বক্স তিনতলায়। পুরোটায় এসি। সাথে ফ্রি আতিথিয়োতা। ক্যাটারিং-এর দায়িত্বে শেরাটন। স্ম্যাকস ও পেপসি যে যতো খেতে পারো।
বসে চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখি সব বড় বড় কর্পোরেট বসদের জায়গায় চলে এসেছি। প্রচুর ভারতীয় কর্পোরেট বসরাও আছে। যেন মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক কোনো সম্মেলন হচ্ছে এখানে। কাচের ঘরে বসে খেলা দেখা নানা ধরনের বিজনেস আলোচনার মধ্যে একটা বাড়তি বিনোদন যেন।
যারা বাইরে বলেন যে, সাত-আট ঘন্টা ক্রিকেট দেখা মানে কাজের ক্ষতি, তাদের নিয়েই এই হসপিটালিটি বক্স।
আমি খেলা দেখছি, আর মাঝে মাঝে টুটুলের সাথে ফোনে কথা বলছি। ওরা সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো খাবার কিনতে পারেনি, আর আমি খেয়েই চলছি।
ইনিংস ব্রেক। দোতালায় নেমে দেখি সেখানে একটা ডাইনিং রুমও আছে। ফুল কোর্স বুফে, শেরাটনের। এই রুমে আবার আইসিসি ট্রফিটাও রাখা। হাতে গ্লাভস পড়ে সেটা ধরে ছবি তোলা যায়। আমিও তুললাম।
আমি তো নিউজ এডিটারকে বলে আসছি, এডিটরকে বলি নাই। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি আমার সব বস ও এখানে। খাম্বার আড়ালে লুকিয়েছিলাম ১৫ মিনিট।
খেয়ে আবার আসলাম কাচের ঘরে। এসে দেখি বক্স অনেকটা খালি। কর্পোরেট বসদের এতো সময় কোথায়? পিছনে এসে দেখি পুরো রাস্তা দেখা যাচ্ছে। তখনও কয়েকশ মানুষ টিকেট না পেয়ে স্টেডিয়ামের আশে পাশে ঘুরঘুর করছে। আর আমি ২১ হাজার টাকার একটা টিকেট পকেটে নিয়ে তাদের দেখছি।
ক্রিকেট খেলা দেখাও তাহলে এখন কর্পোরেট কালচারের অংশ হয়ে গেছে।





দেশে থাকতে পুলিশ কোটায় খেলা দেখতাম
কি কি খাইলেন মাসুম ভাই ?
ফ্রি আলকাতরা থাকলে তাও খাইতাম। আফসুস ছিল না।
মাসুম ভাই, আপনার কর্পোরেট ভাগ্য দেইখা ঈর্ষায় জর্জরিত হইয়া ভাবতেছি সাংবাদিক হইলাম না কেন ! আবার পুলিশের ডান্ডার বাড়ির কথা ভাবলে...।
আহা, আমি কেন একটা স্বাভাবিক চাকরি পাইলাম না। প্রতিদিন বাসায় ফিরি রাত ১২টায়, আফসুস।
কোন প্রমাণ আছে?মিছা কথা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকেট যার কল্যাণে পেলাম তাকে এক হাজার
দারুণ এক অনুষ্ঠান। বক্তৃতা পর্ব বাদ দিলে পুরোটাই জট্রিল, অসাধারণ।ষ্টেডিয়ামে না দেখলে বিরাট মিস হইতো।
কাল তো নিজের চুল ছিঁড়লাম যে ষ্টেডিয়ামে বসে চিৎকার করার, লাফানোর সুযোগটা পেলাম না। আপনার কত সুখ! আল্লায় দিছে কপাল।
ছায়া আপার নাচ দেখে আমাদের পেছনে পরিবার সমেত বসা কামরুল ভাই বুড়া বয়সে যে নাচ নাচলো! আহা আহা, কত নাচ দেখলাম
গুজব ছড়াইতেছেন? আপনাদের নামে জরিমানা হবে।
তবে মমতাজ আফা রক্স।
কী জানি ১০০ ছিল, সেইটার বদলে ১০০০ থ্যাংকস হইলো?
১০০ এখনো বাকী নাকি?টুটুলের তো দিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো। টুটুলকে বলবো আবার।
২১ হাজার টাকার টিকেট পকেটে নিয়ে খেলাটা কেমন দেখলেন? অনুভূতি কেমন?
অনুভূতি হইল, মাইনষের হাতে অনেক ট্যাকা
হিসাব নিকাশ-টা বেশ লাগলো
তবে এর বড় প্রমান হইলো আমার চক্ষু
ঐদিন অনেক ভিডিও করছি, কোন ভিডিওতে ছায়া আপা'র নাচ এর প্রমান থাকলেও থাকতে পারে
যাঊক্কগা.. আর কিছু বললাম না। নাইলে
খাইতে পারি
আসলেই, নিজের দেশের মাটিতে এমন অসাধারন সুন্দর লাইভ শো জীবনে কোনদিন দেখা হয়নি, আর দেখা হবেও না হয়তো। Just Loved it!
কও কি?সব ভিডিও দিতে হয় নারে মাইয়া। গুণাহ হপে।
নিজের দেশের মাটিতে এমন অসাধারন সুন্দর লাইভ শো জীবনে কোনদিন দেখা হয়নি, আর দেখা হবেও না হয়তো। Just Loved it!
ভিডিও সংগ্রহে থাকুক
সেখানে তাইলে আরো কারো নাচও কিন্তু থাকার কথা।
গরীবের জ্বালা বাড়াইলেন।
খেলা দেখার জন্য গরীবের গ্যালারিই ভাল। এইসব কর্পোরেট লুকজন জীবনের বুঝবে না গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার কি মজা
মিয়াভাই, " ভাবে আছি বাবুল" টাইপ একখান ফটুক তুলেন নাই? তুলে থাকলে দিবেন সামনের কোনো পোষ্টে, সাথে কাপসহ ফটুকটাও, দেখবাম চাই
খেলার টিকেট টা যত্ন করে রাখতে অনুরোধ করছি। এইটা একটা অতি মধুর স্মৃতি হিসাবে এ্যালবাম বন্দী হবার যোগ্যতা রাখে। কয়টাদিন আলোকময় কাটুক গোটা বাংলাদেশের আপামর জনগণসহ আপনারও। অনেক শুভ কামনা বাংলাদেশের জন্য। আপনাকে ব্যাপক ধন্যবাদ-শুভেচ্ছা।

দেখলাম ঠিকই, কিন্তু জিতলাম না যে। জিতলে মধুর স্মৃতি হইতো
চাম্মে নিজের গপ্পো ছাড়োনওতো কর্পোরেট কালচারের অংশ
হেহেহে, ধরছেন তাইলে
হিংসিত!
ওইখানে বসে কেলা দেখার মজা নাই হুদা ভাই
কর্পোরেটগোর ব্যাপার স্যাপারই আলাদা
তবে বস্, হসপিটালিটি বক্সে বসে কি যখন তখন হৈচৈ, অন্যটিমের প্লেয়ারগো গুষ্টি উদ্ধার এইসব করা যায়?
কিছু না, সুশীল হইয়া খেলা দেখে সবাই। এইটারে খেলা দেখা কয় না
১।
প্রিন্ট নিয়া একাউন্টেনের কাছে যাব ভাবছি। হিসাব মিলায়ে ছাড়ব!
২।
গরীবের জ্বালা বাড়াইলেন। (কপি রাইটঃ মীর)
হিসাব মিললে জানাইয়েন
আপ্নের অবস্থা তো দেখি কর্পোরেটেরও উপ্রে মহা কর্পোরেট
আফটার অল ২১ হাজার পকেটে ...
এখন একটা লোকাল পাট্টি দিয়া আমাদেরকেও উক্ত কাল-চারের অংশ বানানোর বিনীত অনুরোধ জানাইলাম
মজা নাইরে ভাই
বুক কিপিং ভালৈছে
রস সম্রাটের ঝুলি থেকে আরো পোষ্ট বের হোক।
দারুণস পোষ্ট এ অনলাইন+ অফলাইনে= দুইটা প্লাস
সত্যি সত্যি লুকাইছিলাম
এরম ক্লাসিক লাইন সচরাচর দেখি না,
পেন্নাম, রস সম্রাট
সম্রাট ভাইজানের একখান ফটুক দিতে চাইছলাম, আমার নেট জ্বালায়।আপনেরে মেইল করলাম। দিয়া দেন তো!
মন্তব্য করুন