ইউজার লগইন

এলোমেলো মুভি পোস্ট

রাসেল আমারে ওয়ালে চিকা মারছে। মুভি নিয়ে পোস্ট দাবি করছে। আগের মতো মুভি দেখা তেমন হয় না। মেয়ের স্কুল, অফিসের কাজ সব, ব্যস্ততা এবং বই পড়ার নেশা ও নেট-মুভির সময় কমিয়ে দিয়েছে। আর সব মুভি দেখেই তো আর চীৎকার দিয়ে জানানোর ইচ্ছা হয় না। তাই ভাবছিলাম কি পোস্ট লিখবো। আগের দেখা মুভিগুলোর কথাই ভাবছিলাম। পুরোনো দেখা মুভির কথা ভাবতেই মাথার মধ্যে জানান দিল কিছু মুভি দেখার স্মৃতি। ভাবলাম লেখা শুরু করি, যেসব ছবির নাম মনে আসবে সেগুলোই লিখে দেবো। ধরে নিলাম এই মুভিগুলো কোনো না কোনো কারণে মাথার মধ্যে গেঁথে আছে।
এটা আসলে এলোমেলো মুভি পোস্ট

১. মুলহল্যান্ড ড্রাইভ-ছবিটা দেখে প্রথমে বুঝাই যায় না শেষ পর্যন্ত কি হলো। কোনটা আসল আর কোনটা কল্পনা। দর্শকদের দারুণভাবে বিভ্রান্ত করতে পেরেছে এই ছবি।
220px-Mulholland.png
একেকজন একেক ভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই ছবির। এই ছবি দেখার পর আমাকে গুগলের আশ্রয় নিতে হয়েছে। বুঝতে চেষ্টা করেছি পরিচালক শেষটা কী করলেন। আগের দেখা এই ছবিটা এখনও আমার মাথায় ঘুরছে।

২. ফোর মান্থস, থ্রি উইকক অ্যান্ড টু ডেজ-সমালোচকদের ব্যাপক পছন্দের ছবি। আমিও ভাব নেওয়ার জন্য মুভিটা দেখেছিলাম। দেখার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল এ এমন কী। কিন্তু এরপর থেকেই মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগলো ছবিটা।
220px-4months3weeks&2days_poster.jpg
১৯৮৭ সালের ঘটনা। চসেস্কুর শেষ সময়। গর্ভপাত নিষিদ্ধ। ধরা পড়লে জেল নিশ্চিত। দুই বান্ধবি গ্যাব্রিয়েলা ও ওটিলিয়া। গ্যাব্রিয়েলা অনাকাঙ্খিত ভাবে গর্ভবতী। সে এখন গর্ভপাত করাবে। তাকে সাহায্য করে ওটিলিয়া। তারা একটা হোটেল রুম ভাড়া করে। নিয়ে আসে জনৈক বেবকে। ওটিরিয়া ৪ মাস, তিন সপ্তাহ ও ২ দিনের গর্ভবতী। পুরো ঘটনাই এই নিয়ে। বিষয়টি সহজ হয় না। নানা ঝামেলা যুক্ত হতে থাকে। ওটিলিয়াকে শুতে হয় বেবের সাথে। নানা মানসিক টানাপোরেন শুরু হয় দুইজনের মধ্যে। এই টানাপোরেন ওটিরলিয়ার ছেলে বন্ধুর সাথেও দেখা দেয়।
সবমিলিয়ে অন্যরকমক এক ছবি। পুরো ছবিটা মনের মধ্যে চাপ তৈরি করে।

৩. ডিপারচারস-ডিপারচারস মুক্তি পায় ২০০৮ সালে, কিন্তু এটি তৈরি করতে নাকি ১০ বছর লেগেছে। মৃত্যু যাত্রা নিয়ে ছবি। দাইগোর চাকরি চলে যায় অর্কেষ্ট্রা কোম্পানি থেকে। সে ফিরে যায় গ্রামে। সাথে ভালবেসে বিয়ে করা বউ। তাঁর মা রেথে গেছে থাকার একটা জায়গা। বাবা মাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল ৬ বছর বয়সে। দাইগো গ্রামে চাকরি পায় এক চিরবিদায় স্টোরে। (এইরকম কিছু)। জাপানে কেউ মারা গেলে, এবং আর্থিক সঙ্গতি থাকলে তাঁকে বিদায় দেওয়া হয় অনেক রীতি মেনে। মৃত মানুষটি সুন্দর করে সাজানো হয়, পরিস্কার করতে হয়, পড়াতে হয় বিশেষ পোশাক। দেখলে যেন মনে হয় আজকেই তাকে সবচেয়ে সুন্দর লাগছে। দাইগো সে কাজটি নেয়।
220px-Okuribito_(2008).jpg
দাইগোর এই কাজ অবশ্য সবাই পছন্দ করেনি। বউও ছেড়ে চলে দাইগোকে। দাইগো কাজটি ছাড়ে না। কিন্তু দাইগো একসময় পড়ে যায় কঠিন এক পরিস্থিতিতে। যারা দেখবেন তাদের জন্য এই পর্যন্তই না হয় বলি।
ছবিটার অনেকগুলো দৃশ্য আছে ভাবাবে। বাবার সাথে সম্পর্ক, পাথরের টুকরা দেওয়ার মাধমে চিঠি দেওয়া, বাবার হাতে পাথরের সেই টুকরাটা আবিস্কার করা।
মুভিটা আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না।

৪. দি এজ অব হ্যাভেন-এটা মূলত টার্কিস-জার্মানির মুভি। পরিচালক Fatih Akın, তুরস্কের মূল নাগরিক। এই পরিচালককে আমার ভাল লাগে। ভাল লাগে তার গল্প বলার ধরনটাকে।
220px-Auf_der_anderen_Seite.jpg
অনেকগুলো প্লট আছে ছবিটায়। কিন্তু শেষে এসে সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসাটা মোটেই সহজ নয়। চমৎকার একটা মুভি।

৫. সেভেন-আসলে ভাবছিলাম বাবেলের কথা। অনেকগুলো ঘটনা এক জায়গায় আনার কথা লিখতেই মনে পড়েছিল এই ছবিটার কথা। সেজন্য ব্রাড পিটকে সার্চ করতে গিয়ে মাথায় ঢুকলো সেভেনের কথা।
220px-Seven_(movie)_poster.jpg
ছবিতে আরও আছে মর্গান ফ্রিম্যান। সাত পাপের ছবি। থ্রিলার। দুর্বল চিত্ত যারা না দেখাই ভাল।
তবে বাবেল তো দেখাই যায়, ব্রাড পিটের পুরোনো আরেকটা ছবি আছে, ক্যালিফর্নিয়া, এটাও দেখা যায়।

৬. ইনটু দি ওয়াইল্ড- প্রথম আগ্রহী হয়েছিলাম ছবিটার পরিচালকের নাম দেখে। শেন পেন। আমা খুব প্রিয়। শেন পেনের পরিচালিত এই ছবিটা দেখা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
220px-Into-the-wild.jpg
সমালোচকরা পছন্দ করেছেন ছবিটা। শেষটা যদি মন খারাপ করে দেওয়ার, তারপরেও দেখা উচিৎ।

৭. নোটস অন এ স্ক্যান্ডাল-আমি কেট ব্লানচেটকে পছন্দ করি। নানা ধরণের ছবি করে সে। আর জেমস বন্ডের জুডি ডেঞ্চ যে এতো ভাল অভিনয় করে তাও জানতাম না।
220px-Notes_on_a_Scandal.jpg
এক ধরণের থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা যায। ছবিটা খানিকটা বড়দের। সুতরাং সেই প্রস্তুতি থাকাটা ভাল্

৮. ব্লাক সোয়ান-অস্কার পাওয়া ছবি নিয়ে অনেকেই আজকাল কপাল কুচকান। মনে করেন ভাল না হলেও নানা বিবেচনায় পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে এবার বিতর্ক কম।
220px-Black_Swan_poster.jpg
লিওনের সেই ছোট মেয়েটা আজকের নাটালি পোর্টম্যান। তবে মুগ্ধ হয়েছিলাম ক্লোজার দেখে। আর মগাধ হলাম ব্লাক সোয়ান দেখে। জলদি দেখেন সবাই।

৯. এন অফিসার অ্যান্ড জেন্টেলম্যান- মহা রোমান্টিক এক ছবি। আমার জীবনের প্রথম প্রেম ছিল ডেবোরা উইংগার। এক সময় ডেবোরার ছবি খুঁজে খুঁজে বের করে দেখতাম।
220px-An_Officer_and_a_Gentleman_film_poster.jpg
এই ছবি ক্লাসিক কোনো কিছু না। কিন্তু দেখেছিলাম অল্প বয়সে। আর এর সাথে জড়িত আছে আমার অনেক স্মৃতি। আহা স্মৃতি আপা, কই গেলা।

১০. হাউল- যারা ভিন্ন কিছু দেখতে চান তাদের জন্য এই ছবি। নতুন ছবি এটি। পরীক্ষামূলক ছবি। কবিতা থেকে মুভি। গল্প থেকে মুভি করাই মুশকিল, তার উপর কবিতা থেকে?
220px-Howl_poster.jpg
তাও আবার অ্যালেন গিনসবার্গের বিখ্যাত কবিতা নিয়ে মুভি। তার কবিতা নিয়ে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিল। এটি আদালত পর্যন্ত যায়। সেই সময়টা নিয়ে ছবি।
যারা ভিন্ন কিছু দেখবেন তাদের জন্য এই মুভি।

এই পোস্ট উৎস্বর্গ করলাম তিনজনকে। সেই শুরুর রাসেল আশরাফকে, পরে আশরাফকে এবং সবশেষে ফিরে আসা সেই রাসের আশরাফকে আবার।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


এর মধ্যে ৬ আর ৮ জলদি না দেখে আসলে উপায়ও নাই। At Wits End
একটা লোক এতবার নাম বদলাইলো, অথচ একবারও আকিকা দিলো না।

জ্যোতি's picture


লোকটা কিপ্টা নং-১

রাসেল আশরাফ's picture


কিপটা না।রায়হান ভাইয়ের ভাষায় কাংগাল নাম্বার-ওয়ান Tongue Tongue

জ্যোতি's picture


বাহ কিপ্টা হইলেও পিছলা না, সরল স্বীকারোক্তি। Big smile

জ্যোতি's picture


ডিপারচারস ছাড়া আর একটাও দেখি নাই।পোষ্টা গতকাল দিলে আজ ফোর মান্থস, থ্রি উইকক অ্যান্ড টু ডেজ কিনে আনতাম।

ভাস্কর's picture


অধিকাংশ'ই দেখছি...কিন্তু এই তালিকায় মালহল্যান্ড ড্রাইভ আর সেভেন'রে কেমন আলাদা লাগে। এই দুই ছবি পুরা কাল্ট তৈরী করছে ফিল্ম হিস্ট্রিতে...

আমি ডেভিড লিঞ্চের এই ছবিটাই প্রথম দেখছি...তারপর দেখছি ইনল্যান্ড এম্পায়ার...গতো দুই বছরে তার সবগুলি যোগাড় করা আর দেখা হইয়া গেছে। আমি ফিল্ম বানাইলে নিশ্চিত লিঞ্চের প্রভাব থাকবো ইমেইজে...

তানবীরা's picture


যারা চিকা মারলো তাদের কথা কইলেন আর যারা চিকায় লাইকাইলো তারা কি এতোই ফেলনা? Stare

সেভেন দেখছি হুহ। বড় হইয়া একদিন আমিও মুভি পোষ্ট দিবো।

রাসেল আশরাফ's picture


ধইন্যা পাতা

কাল থেকে শুরু হবে মিশন।

তিনবার উৎসর্গ করছে, একটা রেখে বাকী দুইটা লাইকানো পার্টিদের দিয়ে দিলাম। Tongue Tongue

সাহাদাত উদরাজী's picture


বড় হইয়া একদিন আমিও মুভি পোষ্ট দিবো। (কপিরাইট - সিষ্টার তানবীরা)

১০

লীনা দিলরুবা's picture


একটাও দেখিনাই Sad
এইবার লিস্ট ধরে মুভি কেনা আর দেখা Smile

১১

মাহবুব সুমন's picture


৪,৬,৯ দেখেছি। ৬ নাম্বারটা বউ সহ হলে গিয়ে, শেষটা আসলেই মন খারাপ করা Sad

১২

জ্যোতি's picture


এই নেন সন্ধ্যার খাবার। আপনারে ছাড়া খাইতে গিয়া চোক্ষে পানি আসছে
11PG

১৩

শওকত মাসুম's picture


আপেলে ফরমালিন, বড়ইতে নিপা ভাইরাস আর মবিল দিয়া ভাজা পেঁয়াজু খাই না Wink

১৪

শওকত মাসুম's picture


মীর, জয়িতা, ভাস্করদা, কাঙ্গাল রাসেল, তানবীরা, মাসু, লীনা, উদরাজী-আপনাদের সবাইকে মন্তব্য করায় ধন্যবাদ। সময়ের কারণে আলাদা করে জবাব দেওয়া গেল না। Smile

১৫

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


ভাইয়া,আমি ব্লগে নতুন। মুহল্যান্দ ড্রাইভ সেদিন দেখলাম।এরপর থেকে মাথা খালি চক্কর দিতেসে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শওকত মাসুম's picture

নিজের সম্পর্কে

লেখালেখি ছাড়া এই জীবনে আর কিছুই শিখি নাই।