আজ মেলায় আসছে রঙ্গরসে জীবনযাপন

রম্য লেখার কিন্তু নানা সুবিধা আছে। সৃজনশীলতা তেমন লাগে না। আর এটা আমার নাইও। তবে চোখ কান খোলা রাখলে সৃজনশীল না হয়েও রম্য লেখা সম্ভব। চোখটা খোলা রাখতে হবে ইন্টারনেটে, আর কান পাততে হবে আশেপাশে।
দুনিয়ায় সৃজনশীল মানুষের কিন্তু অভাব নাই। তারা নিত্যনতুন কৌতুক গল্প বানাচ্ছেন। সেগুলো সহজেই পাওয়া যায় ইন্টারনেটে ও বন্ধুদের আড্ডায়। রম্য লেখকের কাজ কেবল সেগুলো চিমটে চিমটে নিয়ে ওরস্যালাইন বানানো।
তবে কৌতুক-গল্প নিয়ে রম্য লেখার বিপদও আছে। পৃথিবীর সব কৌতুকই কারো না কারো পড়া। ফলে অনেকেই হয়তো মুচকি হেসে বলবেন, ধুর এটা তো জানি।
তারপরেও সাহস করে রম্য লেখার একটা বই বেরই করছি।
আজ আমার বইটি মেলায় আসবে। রঙ্গরসে জীবনযাপন। রম্য লেখার সংকলন। প্রকাশক শুদ্ধস্বর। বলে রাখি এই বইটা ব্লগাররা কিনতে বাধ্য। আপনাদের কিনতেই হবে। কেন? কারণগুলো বলছি তাহলে-
১. আমি পেশায় সাংবাদিক। অর্থনীতির বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তেমন লেখালেখি করিনি। ক্যাডেট কলেজে কলেজ কালচারাল প্রিফেক্ট ছিলাম। সেই সূত্রে কলেজে নানা ধরণের সাংস্কৃতিক কাজে জড়িত থাকতে হয়েছে। একবার গল্প লিখে খুলনা বিভাগে ফার্স্ট হয়েছিলাম। তারপর আর গল্প লেখা হয়নি। কবিতা তো লিখতেই পারি না। আমার মধ্যে ছন্দ নেই। পারি খালি পড়তে, তাও হালকা ধরণের গল্প-উপন্যাস।
তারপর আসলাম ব্লগে। এখানে অনেকের সঙ্গে পরিচয়। ব্লগে এসেছিলাম আমরা বন্ধু ইয়াহু গ্রুপের কারণে। লিংকটা এখানেই পাই। সেই সূত্রে টুটুলের সঙ্গে পরিচয় ছিল। আর ছিল ভাস্করদা, রিয়াদ ভাই, মৌসুম, নজরুল, নুপুরসহ আরও অনেকে।
টুটুল যদি সময়মতো বিয়ে করতো তাহলে হয়তো আমার রম্য লেখা হত না। তখন সামহোয়ারের তুমুল ব্লগিং করি, একাধিক নিকে। টুটুলের পাত্রি দেখা নিয়ে আমার রম্য লেখা শুরু বলা যায়। অনেকগুলো লিখেছিলাম। সেগুলো এখনও সামুতে আছে। সেইসব পোস্ট অনেকেই অফলাইনে পড়তো বলেও পরে স্বীকার করেছে।
টুটুল তখন গিটার বাজাতো আর পাত্রী দেখতো বলে দাবী করতো। তিন চাকার অনুষ্ঠানে যাবো বলে এক ছুটির দিনে সকাল ১০টায় টুটুলকে ঘুম থেকে তুলেছিলাম। কেন এতো ঘুম? কারণ আগের রাতে এক বালিকার সঙ্গে সারারাত ফোনে নাকি কথা বলেছে। সেই বালিকাই নাজ। টুটুল যদি আগেই নাজকে বিয়ে করতো, তাহলে এখন ঋহানের ছোট বোন রিহানাও হয়তো থাকতো, কিন্তু আমার রম্য লেখা আর হতো না। সুতরাং টুটুলের দায়িত্ব আমার বই বেশি বেশি কেনা।
২.
কৌশিক সামুতে একটা সাক্ষাৎকার পর্ব চালু করেছিল। অনেক ভাল ভাল সাক্ষাৎকার ছিল সেখানে। সবচেয়ে পঁচাটাই ছিল আমার। সেখানে রন্টি চৌধুরী প্রথম আমাকে বলেছিল রম্য গল্প লিখতে। আমি নাকি এটা ভাল পারবো। রন্টি কথাটা আমি বিশ্বাস করেছিলাম। সৃজনশীলতা ও যোগ্যতার অভাব সত্বেও বিশ্বাস করেছিলাম। আর আমার রম্য লেখাও তীব্রগতিতে শুরু হয়েছিল। সুতরাং ভাল-মন্দ যাই হোক আমি লিখেছি, বইও বের করেছি। এখন এই বই কেনার দায়িত্ব রন্টিরও।
৩.
বছর এক বা দুই আগে, আমার জন্মদিনে উইশ করে লেখক কামাল ভাই আমাকে একটা মেইল করেছিলাম। তাতে অনেক ভাল ভাল কথার পাশাপাশি আমার যে রম্য নিয়ে বই বের করা উচিৎ সেই কথাটা বলেছিলেন। কামাল ভাই ভাল মানুষ, হয়তো মনে করেছিলেন জন্মদিনে এসব কথা বলা প্রয়োজন। তারপরেও কামাল ভাই দেখা হলে বইয়ের কথাটা তুলতেন।
সর্বশেষ ম্যুরাল নিয়ে স্টার কাবাবে বৈঠক। আবার প্রসঙ্গ তুললেন কামাল ভাই। এবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে প্রকাশকের সঙ্গে কথাও বললেন। পরের দিন শুদ্ধস্বরের টুটুল ভাইয়ের ফোন, তিনি বইটি প্রকাশ করতে আগ্রহী। সেই বই এই রঙ্গরসে জীবনযাপন।
৪.
বইটা আসলেই আমার বন্ধুদের জন্য। তারা ক্রমাগত উৎসাহ না দিলে এই লেখা হতো না, বইও বের হতো না। কার নাম বলবো? আমি সবার নামই বলছি......... 





পয়লা কমেন্ট করলাম এই জন্য আমারে ফ্রী এক কপি দেয়া উচিৎ
আমার ২য় কমেন্ট , আমারো একটা ফ্রী কপি পাওয়া উচিত ।
সামুর সেই সব দিন অসাধারণ ছিল
ফাটাইন্না আড্ডা হইতো পোস্ট গুলোতে
তিন চাকার অনুষ্ঠানটা চোখের সামনে ছিনতাই হইয়া যাইতে দেখলাম... কি সুন্দর ভাবে একটা অনুষ্ঠানের জন্ম... এর পর দখল ...
বেশী কথা না কইয়া শখানেক কপি কিনা আমাদের মতো গরীব দুঃখীদের মাঝে বিলায় দেন।
১। মাসুম ভাইয়ের বইয়ের রয়্যালিটি তাইলে তো পুরাই টুটুল ভাইয়ের প্রাপ্য
২। কেউ বলতেছে এই বইয়ের সাথে স্টারের বিরিয়ানীর ১টা কুপন দেয়া হইতেছে, কেউ বলতেছে ২টা কুপন দেয়া হইতেছে - কোনটা সত্য বুঝতে পারতেছি না
~
যশোর বসে ঢাকার বইমেলা থেকে আপনার বইটা কিনতে না পারলেও যশোরের লাইব্রেরীতে এসে হাজির হলে চিনতে পারব এইটা নিশ্চত।তিনদিন নাহয় ধুম ও পান থেকে টাকা বাঁচিয়েই কিনব ভাইজান.......চালিয়ে যান
শুক্রবারে দেখি কিনে ফেলবো। হাসির খোরাক দেয়া বই অবশ্যই পড়া উচিৎ। শুভেচ্ছা নতুন বই এর জন্য।
এত্তো এত্তো শুভকামনা বইটার জন্যে,


সেই সামুর আমল থেকেই আপনার রম্য পড়ছি (অফলাইনের কথা কইলাম না!) আর এবি'তে তো কি দারুন দারুন সব রম্যের পোষ্ট দিছেন, রাশি রাশি কমেন্টের দরুনে সব্বাই চিপায় চলে যাইতো! এই বইয়ের কারনেই মনে হয় অনেকদিন তেমন পোষ্ট দেন না?
আমার কপিতো সিকিউরডই হইছে তাই আর ফ্রি কপি চাইলাম না!
সেই হিসাবে তো টুটুল শ্বশুর ভাই আর রন্টি নানুর সব বই গুলান কিনে ব্লগারদের মাঝে গিফত দেয়া উচিৎ।

ফ্রি যে পামু না তা বুইঝা ফেলাইছি। দেশে গিয়া কিনেই না হয় পড়মু
কিনলাম এবং পড়লাম রঙ্গরসে জীবনযাপন।খুব ভালো লাগলো। আপনার রম্য লেখা তো সবসময়ই পছন্দ। যখন অফলাইনে পড়াম, তখন থেকেই। অনেক অনেক অনেক শুভকামনা থাকলো।
এবারও অটোগ্রাফ পাইনি।
অভিনন্দন মাসুম ভাই। আশা করছি বইটি পাঠকদের মন জয় করবে।
জন্মদিনে আমি আপনাকে যা বলেছিলাম সেটা কথার কথা ছিলো না! আপনি সেরকম ভেবেছিলেন?!?
যা যা বই কিনবো, সব ম্যুরাল মেলায় আসবার পর...
অভিনন্দন, বই কিনছি
আপনার রম্য এতো ভাল হয়, অনেক আগেই বের করা উচিত ছিল।
আমি তো বহুত আগেই বলসিলাম...
হ

মন্তব্য করুন