রাজনীতির ব্যাপার-স্যাপার
১.
গল্পটা ফিলিপাইনের স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোজকে নিয়ে। পাশের দেশের প্রেসিডেন্ট গেছেন ফিলিপাইন সফরে। সেখানে একান্ত সাক্ষাৎকারে অনেক ব্যক্তিগত প্রসঙ্গেও কথা বলছিলেন তাঁরা। মার্কোজ একসময় জানতে চাইলেন, পাশের দেশের প্রেসিডেন্টের শখ কী। তিনি বললেন, ‘আমাকে নিয়ে আমার দেশের লোকজন অনেক কৌতুক-গল্প বানায়। আমার শখ সেই সব কৌতুক-গল্প সংগ্রহ করা।’ এবার মার্কোজকে তিনি একই প্রশ্ন করলেন। মার্কোজের সোজাসাপটা উত্তর, ‘আমার শখ, যারা আমাকে নিয়ে কৌতুক বানায়, তাদের সংগ্রহ করা।’
মার্কোজ মারা গেছেন সেই ১৯৮৯ সালে। নিন্দিত এই মার্কোজকে নিয়ে অনেক গল্প চালু আছে। তাঁকে কেউ অনুকরণ করছেন বলে স্বীকারও করবেন না। অথচ অনুকরণ করার মানুষের কিন্তু অভাব নেই। বাংলাদেশ নিয়ে আমি কিছু বলছি না। পাশের পশ্চিমবঙ্গের উদারহণই তো দেওয়া যায়। আমাদের মমতা দিদিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করায় যাদবপুরের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র গ্রেপ্তার হয়েছেন।
২.
এবার দেশে ফিরি। আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একচোট নিলেন দাতাদের। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলেছিল এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধি কম হবে। এ কথাতেই খেপে গেলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এবার জিডিপি বাড়বেই। কেবল এবার কেন, ভবিষ্যতেও বাড়বে। দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আমরা অর্থমন্ত্রীকেই সমর্থন করছি। তা ছাড়া তিনি তো ঠিক কথাই বলেছেন। জিডিপি তো বাড়ছেই। কথা হলো জিডিপি জিনিসটা কী। অর্থনীতির শাস্ত্র এখানে চলবে না। এখানে চলবে সাধারণ মানুষের শাস্ত্র। যেমন, জিডিপির ‘জি’ মানে গ্যাস, ‘ডি’তে হয় ডিজেল এবং ‘পি’তে হবে পেট্রল। এই তিন পণ্যের দাম যে বেড়েই চলছে, কে না জানে। আর মাত্রই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এই ঋণের শর্ত হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যতেও জিডিপি বাড়ছে।
৩.
রেলমন্ত্রীদের নিয়ে কিন্তু মজার কৌতুক আছে। নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। শপথ নেওয়ার পরপরই সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলেন, নতুন রেলমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অগ্রাধিকার কী। নতুন মন্ত্রী বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই বললেন, ‘আমার অগ্রাধিকার হচ্ছে বিরোধী দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে রেলের টিকিট বিনা মূল্যে দেওয়া।’ অবাক বিস্ময়ে সাংবাদিকেরা মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। এবার সামান্য হেসে নতুন মন্ত্রী বললেন, ‘অবশ্য সবগুলোই হবে ওয়ান ওয়ে টিকিট।’
রেলমন্ত্রী নিয়ে এবার একটা সত্যি গল্প বলি। তিনি নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। সাংবাদিকেরা একই প্রশ্ন করলেন। নতুন মন্ত্রী বললেন, ‘আমার কাজ হলো রেলের লোকসানের কালো বিড়াল খুঁজে বের করা।’ এটা অবশ্য পুরোনো গল্প। এর চেয়েও পুরোনো গল্প আছে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ছিলেন ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত ভারতের রেলমন্ত্রী। তামিলনাড়ুতে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। গল্পটা এতই পুরোনো যে আজকাল কেউ আর এটা মনে রাখে না। কেউ মনে করিয়ে দিলেও সবাই, বিশেষ করে মন্ত্রীরা অবশ্যই নিয়ম করে ভুলে যান।
রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি আবার মনে করিয়ে দিলেন দীনেশ ত্রিবেদি, ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। অপরাধ ছিল রেলের টিকিটের দাম বাড়ানো। দাম বাড়ানোর জন্য পদত্যাগ করাটা আসলে ঠিক না। অন্তত বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে হলেও করাটা উচিত না। তাহলে তো বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রীসহ ডজন ডজন মন্ত্রীকে মাসে মাসে পদত্যাগ করতে হবে। অন্য দেশের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেই যে এখানে কেউ পদত্যাগ করবেন, এমনটি ভাবা আসলে অন্যায়। আমাদের মন্ত্রীদের বিবেকবোধ নিয়ে ঠাট্টা করা হবে তাহলে। তার পরও তালেগোলে কীভাবে যেন পদত্যাগ করেই ফেললেন আমাদের এক মন্ত্রী; তাও আবার মাত্র ৭০ লাখ টাকার জন্য! সমস্যাটা আসলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের না, সমস্যাটা অন্য কোথাও। সমস্যাটা রেলের। ভারতে পদত্যাগ বেশি করেছেন রেলমন্ত্রীরা। বাংলাদেশে এত দিন কোনো মন্ত্রী দায় নিয়ে পদত্যাগ করেননি। কারণ, এখানে কোনো রেলমন্ত্রী ছিলেন না। এবারই প্রথম শেখ হাসিনার সরকার রেলমন্ত্রী বানাল। আর এবারই প্রথম রেল থেকে পদত্যাগ করলেন রেলমন্ত্রী। সুতরাং মন খারাপ করবেন না সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। দোষ মোটেই আপনার না। আপনি চালিয়ে যান।
আজকের প্রথম আলোর রস+আলোতে এটা ছাপা হয়েছে। পোস্ট বাড়ানোর ধান্দায় লেখাটা ব্লগেও দিলাম 





মাসুম ভাই নিয়ম ভাংলেন কিন্তু এইবার। আগে দেখতাম ব্লগে দিয়ে তারপর পেপারে যেতো আর আজ রস আলো আগে পেলো তারপর ব্লগ
দুইন্যা পাইলটা গেছে রাসেল
আপনার অন্য লেখার তুলনায় এটাতে স্যাটায়ার কম। এত অল্প-মধুর ভাষায় আমগো মন্ত্রীগো কিছু হৈবো বৈলা আপনে মনে করেন... দুরাশা ব্রাদার
আমার কি ভয় ডর নাই? যে হারে গুম হইতাছে মানুষ, আমার তো এইটা লেইখাই ভয়ে হাত পা..........
তাও ঠিক
কখন যে কী হয়, কিসস্যু বলা যায় না...
২ নাম্বারটা জটিল হইছে।
বাংলাদেশের জিডিপি কিন্তু দূর্দান্ত
২ - ১ - ৩
~
হায় পেট্টল-অকটেনের দাম!
হায় চিল, সোনালী ডানার চিল...
রেলমন্ত্রীর পদত্যাগে আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম, ভারতের মতো আমরাও গনতান্ত্রীক দেশ
গতকালই রস+আলো'তে পড়লাম।
রসালোতে পড়ি নাই। ব্লগেই প্রথম পড়লাম। ব্লগ বেশী ভালু পাই।
লেখাও ভালু পাইছি।
সৎ ভাবে মন্তব্য দেই, কিছু মনে কইরেন না
এই লেখাটা সেরকম মজা লাগে নাই 
এরাম গপ লিখতে থাকলে আপনার উপর জিডিপি'র আশীর্বাদ নেমে আসতে পারে (গুতানি, ধাতানি আর পেঁদানি)
এ সরকার সবই কালো দেখে। কালো বিড়াল, বিদেশিদের কালো টাকা
মন্তব্য করুন