ইউজার লগইন

ব্লগর ব্লগর

১.
কাল অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলাম ১২টার পরে। গাড়ি চালাতে গিয়ে দেখি এক হাতের দূরের কিছু দেখি না। কালকের মতো কুয়াসা আমি কখনো ঢাকায় দেখি নি। মনে হচ্ছিল মেঘের মধ্য দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। হাত বাড়ালেই ধরা যাচ্ছিল সব কিছু।
বাসায় গিয়ে বউকে বললাম, মেঘের মধ্য দিয়ে তোমার কাছে আসলাম। চলো মেঘের মধ্য দিয়ে ঘুরে আসি।
বউ অবাক হয়ে বললো-‌তোমার চোখেও এসব পরে?
কাল এমনই কুয়াসা ছিল চোখে না পড়ার কোনো উপায়ই ছিল না। তবে ওই দুই লাইনেই দেখলাম বউ খুশী।

২.
কাল সারাদিন রাতের ওই দু'তিনটি কথাবার্তাই ছিল ভাল কিছু। এ ছাড়া কাল সারাদিন ভাল কিছুই ঘটলো না। অথচ আগের রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলাম সিরিজ জয়ের রেশ নিয়ে। কিন্তু সকালে উঠেই সব ভাললাগা চলে গেল টিভি খুলতেই। একাত্তর ঠিভিতে দেকলাম লাইভ গণপিটুনি। তবে ভাগ্য ভাল যে, পুলিশ উদ্ধার করায় বেঁচে গেল দুজনেই। বাঁচতে পারল না বিশ্বজিৎ দাস।
আমাদের ক্রাইম রিপোর্টার বিকেলে রিপোর্টটা লিখে দিল। সেটি অনেকটা নতুন করে লিখলাম আবার। ফেসবুকে রাসেলের লেখা স্টাটাস থেকে একটা লাইন নিয়ে লেখাটা শুরু করেছিলাম। দুই প্রত্যক্ষদর্শীর মুখ থেকে পুরোটা শুনলাম।
সাংবাদিকরা বিশ্বজিৎকে পাশের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। ছাত্রলীগের ছেলেগুলো তাও দেয়নি।
রিপোর্টটা ঠিকঠাক করতে গিয়ে মনটা প্রচন্ড হতাশায় ভরে গিয়েছিল।
কী বর্বরতা, কী নৃশংসতা।

৩.
একদিন আমি হেটে চলছি পথে একা
হঠাৎ হোঁচট খেয়ে থমকে দেখি
চারিদিকে আঁধার
আঁধার আর আঁধার
আঁধার আর অজ্ঞতা

৪.
নোয়াখালিতে ডাকাত বলে এর আগে পুলিশ একজনকে জনতার রোষের মাঝে ঠেলে দিয়েছিল। হত্যাযজ্ঞের সেই ভিডিও দেখে মনে হয়েছিল এসব দেখা সম্ভব না। কিন্তু আবারও সেটি দেখলাম।
নির্বাচনের বছরে গতকালকের দৃশ্যটাই কি শেষ?

৫.
কাল আমার দেশ দেখেও মন খারাপ হয়েছিল প্রচন্ড। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ট্রাইবুনালের মানুষদের গোপন কথাবার্ত। সারাদিন দেখলাম এ নিয়ে অনেক লেখালেখি। অনেকেই এ নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। ব্লগে লিখছেন। স্বান্তনা পাওয়ার জন্য এসব লেখার মূল্য আছে। কিন্তু এটাও মানতে হবে স্কাইপের কথাবার্তা ফাঁস হওয়া একটি বড় ধাক্কা।
এমনিতে জামাতিরা অনেক সক্রিয়। বিচার বাঁধা দিতে তারা মরিয়া। তার প্রমানও পাওয়া যাচ্ছে। সেই ওদের হাতে একটা অস্ত্র তুলে দিলাম। আমি কিছুটা হলেও হতাশ।
একজন বিচারককে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হয়।
শাহরিয়ার কবির বার বার ট্রাইবুনালের দৈন্যতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাঁর কথাটা ঠিক হচ্ছে।

৬.
বুলবুল আমার রুমমেট ছিল ক্যাডেট কলেজে। ভাল নাম রেজা আলি। পাতলা খান লেনের বাসায় কত যে আড্ডা মেরেছি। বুলবুলের বৌ আমার মায়ের পছন্দের। বুলবুল আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব।
সেই বুলবুল এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। ছোট্ট একটা অপারেশন করতে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর ১০ দিন হয়ে গেল জ্ঞান ফেরেনি, শুয়ে আছে এপোলো হাসপাতালে।

৭.
জিম মরিসনের মৃত্যুর নেশা ছিল। মাত্র ২৭ বছর বয়সে কিংবদন্তী এই গায়ক-কবি মারা যান। মৃত্যুর কারণ ছিল হেরোইনের অতিরিক্ত ডোজ। প্যারিসে সে সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিল বান্ধবী পামেলা কারসন। সেই পামেলা কারসনও তিন বছর পর সেই হোরোইনের ওভার ডোজে মারা যান। পামেলারও বয়স হয়েছিল ২৭।
জিম মরিসন নিয়ে একটি সিনেমা করেছিলেন ওলিভার স্টোন। নাম দি ডোরস। আজ সকালে ছবিটা শেষ করলাম। এখানেও মৃত্যু।
অনেকগুলো গান ব্যবহার করা হয়েছে সিনেমাটায়। আমার কেন যেন, দি এন্ডটাই বেশি ভাল লাগলো।
This is the end
Beautiful friend
This is the end
My only friend, the end

Of our elaborate plans, the end
Of everything that stands, the end
No safety or surprise, the end
I'll never look into your eyes...again
............................................................
This is the end
Beautiful friend
This is the end
My only friend, the end

It hurts to set you free
But you'll never follow me
The end of laughter and soft lies
The end of nights we tried to die

This is the end

৮.
বই পড়া নাকি সিনেমা দেখা? কোনটা? এই হচ্ছে মুশকিল। বিকল্প একটা পথ বের করলাম। দেখছি সিনেমা, একের পর এক। পড়ছি বই, তাও আবার সিনেমা নিয়ে।
পড়লাম মৃনাল সেনের তৃতীয় ভুবন। তারপর ঋত্বিক, সুরমা ঘটকের লেখা। ভাইকে নিয়ে বোনের লেখা। এই বইটা যে আমার কাছে আছে মনে ছিল না। ফুটপাত দিয়ে কিনেছিলাম। এরপর পড়বো সিনেমার কবি তারাকোভস্কির ডায়েরি। তার মিরর ও ইভানস চাইল্ডহুড ছবি দুটি কিনেছি। এর পর এই দুইটা দেখবো।
এখন বেছে বেছে মুভি দেখি। অসাধারণ কিছু মুভি দেখছি।

৯.
আমার বউ বলে মানুষটা আমি সংসারী না। আমিও তা জানি। বাজার করার চেয়ে সিনেমা দেখতে বেশি ভাল লাগে। ছেলে মেয়েদের পড়া দেখানোর চেয়ে নিজে বেশি পড়ি। থাকি কল্পনার জগতে। সমস্যা পছন্দ করি না। সমস্যা দেখা দিলে মনে হয় সময়ই সব ঠিক করে দিবে। সুতরাং চলুক না।
আহা! একটা স্বপ্নের জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু যদি কখনো বিশ্বজিৎ দাসের মতো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে যাই?

১০.

বন্দী আমি নিজেরই স্তব্ধতায়
কণ্ঠে আমার নেই কোন সুর
বন্ধ জানালার পাশে বসে আছি
ফুলের সুবাস পাই
আলোর দরজা খুলেও কেন খুলিনা
বারবার শুধু ছিটকে পড়ি
অশ্লীল কারাগারে
কি যেন কি পাবার
মোহে..............

১১.
আমার বউ বা আমি দেশের বাইরে গিয়ে থাকতে কখনো চাইনি। কিন্তু আজকাল আমার বউ এটা বলে। আমি চুপ থাকি। বেশি বললে একটু হাসি।

১২.
লেখো
এবং সবার উপরে
দয়া করে লিখে রাখো -
আমি কাউকে ঘৃণা করিনা
আমি কেড়ে নিইনি কারো সমুহ সম্পদ,
কিন্তু আমি যখন অনাহারী
নির্দ্বিধায় ছিঁড়ে খাই
আমার সর্বস্ব লুন্ঠনকারীর মাংশ
আতএব, সাবধান
আমার ক্ষুধাকে সাবধান
আমার ক্রোধকে সাবধান।
(তদন্ত – মাহমুদ দারবিস; অনুবাদ: রফিক আজাদ)

পোস্টটি ১৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


১ নম্বর মনে হয় রোমান্টিক।
বাকি সব কথাই হতাশার । কাল টিভিতে সারাদিন যা দেখলাম , মন অস্থির হয়ে আছে । আমার মত সাধারণ মানুষ আতংক, অস্থিরতায় দিন কাটাচ্ছে । আরো বেশি পড়েন, বেশী লিখেন ।
অনেক ভালো লিখেছেন ।

শওকত মাসুম's picture


নতুন লেখা কই?

টুটুল's picture


সাংবাদিকরা বিশ্বজিৎকে পাশের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। ছাত্রলীগের ছেলেগুলো তাও দেয়নি।

একটা স্বপ্নের জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যদি কখনো বিশ্বজিৎ দাসের মতো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে যাই?

আমার বউ বা আমি দেশের বাইরে গিয়ে থাকতে কখনো চাইনি। কিন্তু আজকাল আমার বউ এটা বলে। আমি চুপ থাকি।

Sad

শওকত মাসুম's picture


Sad Sad Sad

মীর's picture


...কিন্তু যদি কখনো বিশ্বজিৎ দাসের মতো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে যাই?

আমার তো মনে হচ্ছিলো মারাই যেহেতু যাচ্ছি, সেহেতু পালানোর চেষ্টা না করে চাপাতিটা কেড়ে নিয়ে বসাই উল্টা একটা কোপ।

শওকত মাসুম's picture


যার কোনো দোষই নাই, সে মারা যাচ্ছি ভাবতে পারে না মনে হয়।

তানবীরা's picture


সারাটা সময় টেনশনে থাকি বাবা - মা - ভাই - বোন আর বাচচা কয়টার জন্য। কার ওপরে পড়বে ঠিকতো আর নেই। একদিনের নিউজ আর ফেসবুকে লেখালেখি তারপর ইতিহাস Sad(

শওকত মাসুম's picture


সেইটাই। তবে লেখালেখি করা ছাড়া আর তো কিছু জানি না।

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


যদি কখনো বিশ্বজিৎ দাসের মতো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে যাই?

কাদের স্বার্থে রোজ রোজ এমন বর্বরতা?

১০

শওকত মাসুম's picture


রাজনীতিবিদদের স্বার্থে

১১

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


একদিন আমি হেটে চলছি পথে একা
হঠাৎ হোঁচট খেয়ে থমকে দেখি
চারিদিকে আঁধার
আঁধার আর আঁধার
আঁধার আর অজ্ঞতা

এ আঁধার শেষ হবে কবে ?

১২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


Shock Stare Sad Sad(

Crazy Crazy Crazy Crazy

১৩

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


"কিন্তু যদি কখনো বিশ্বজিৎ দাসের মতো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে যাই?"

~

১৪

মুনীর উদ্দীন শামীম's picture


আহা! একটা স্বপ্নের জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু যদি কখনো বিশ্বজিৎ দাসের মতো ভুল সময়ে ভুল জায়গায় দাঁড়িয়ে যাই?

১৫

সাঈদ's picture


Sad কোনটা যে ভুল জায়গা আর কোনটা যে সঠিক , বুঝতে বুঝতে দিন গেল

১৬

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Sad

১৭

এ টি এম কাদের's picture


মরতে এখন আর ভয় পাইনা । তবে নিরীহ বিশ্বজিতের মত ওই হায়েনাদের হাতে নয় । নিকটজন পরিবেষঠিত হয়ে অননত ঘুমের দেশে চলে যেতে চাই । কে দেবে এই গ্যারানটি ? হাছিনা ? খালেদা ? থু--- !

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


শুভকামনা!
ভালো ভালো দিন যাক!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শওকত মাসুম's picture

নিজের সম্পর্কে

লেখালেখি ছাড়া এই জীবনে আর কিছুই শিখি নাই।