আমার বই: কেলেঙ্কারির অর্থনীতি

আমি লেখক না, রিপোর্টার। সম্ভবত আমার কথা ভেবেই প্রমথনাথ বিশী বলেছিলেন, ‘না ভাবিয়া লিখিলে জার্নালিজম, ভাবিয়া লিখিলে সাহিত্য।’ আবার ড. আকবর আলি খানের বইয়ে আছে, ‘সাংবাদিক হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিজে যা বোঝেন না তা সবাইকে বুঝিয়ে বেড়ান।’
সেই আমি আবার একটা বই লিখে ফেলেছি। বইটি এখন মেলায় পাওয়াও যাচ্ছে। এর পেছনে ছোট একটা গল্প আছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির সাংবাদিকতা করি। এখন আর মাঠের রিপোর্টার না আমি। অফিসে বসেই বেশি সময় দিতে হয়। কিন্তু রিপোর্টারের মন, তাই না লিখতে পারলে শান্তি পাই না। মন ভরে না। এখন আমি না লিখলে অফিস ধরবে না। তবুও লিখতে চাই। মনে হয় আবার রিপোর্টার হয়ে যাই।
লিখতে চাইলে বাংলাদেশে বিষয়বস্তুর অভাব হয় না। কখনো শেয়ারবাজার, কখনো পদ্মা সেতু আবার কখনো হল-মার্ক। কিছু না কিছু থাকেই। সুতরাং আমিও লিখে গেছি, আরও লিখতে পারলে ভাল লাগতো। রিপোর্টারের হাতে এখনো মরচে ধরে নি।
আমার বইয়ের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী। যাকে টুটুল ভাই বললেই সবাই বেশি চিনবেন। তিনি গতবছর আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাইয়ের চাপে পড়ে ‘রঙ্গরসে জীবনযাপন’ বের করেছিলেন। গতবারই টুটুল ভাই বলে রেখেছিলেন, এবার যেন আমি একটা অর্থনীতির বই দেই। কারণ তিনি অনেক ধরণের বই প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত অর্থনীতি নিয়ে কোনো বই বের করেননি। আমি কথাটা শুনেছিলাম ঠিকই, কিন্তু দিতে পারবো কি না তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। সময় বের একটা বড় কারণ।
সম্ভবত গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের ঘটনা। হল-মার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে লিখে যাচ্ছি। একদিন কথা হল টুটুল ভাইয়ের সঙ্গে। এই সব কেলেঙ্কারি নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি বললেন, কেলেঙ্কারির অর্থনীতি লিখে ফেলেন। আমিও সম্মতি দিয়ে ধরাটা খেলাম। আমাকে বলা হয়, অক্টোবরের মধ্যে দিয়ে দিলে ভাল হয়, তাতে প্রডাকশন ভাল হবে। আমিও আবারও সম্মতি দিয়ে আবার ধরা খেলাম।
এটা ঠিক যে, আমার বেশ কিছু লেখা ছিল। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা হুবহু দিতে মন সায় না। কারণ সেসব লেখা পত্রিকার চাহিদা মেনে লেখা, ধরণটাও সেরকম। আমরা সমসাময়িকতারও একটি বিষয় থাকে। ফলে বইয়ের কাজ আর আগাল না। নভেম্বর মাস যখন যায় তখনও এক লাইনও নতুন করে লেখা হয়নি। একদিন-দুদিন বসেছিলাম ঠিকই। কিন্তু লেখা আগায়নি। আর আমি যেহেতু ভাল লেখক না, তাই লেখার ধরণটাও ঠিক করতে পারছিলাম না। কেমন নিরস লাগছিল নিজের কাছেই। মনে হচ্ছিল, আমার লেখা আমারই ভাল না লাগলে পাঠক কেন পড়বে?
ডিসম্বরের মাঝামাঝি সময়ের এক নির্ঘুম রাতে মাথায় আসলো লেখার ধরণ। তারপর শুরু করলাম লেখা। আমাকে কাজ করতে হয়। এর ফাঁকে ফাঁকেই লেখা। নতুন করে লেখা বলা যাবে না। বরং বেশিরভাগ লেখার মূল উৎস আমার রিপোর্ট। সেগুলোকে নতুন আঙ্গিক দেওয়া বলা যায়। বৈঠকি ঢঙ্গে লেখা প্রায় পুরো বইটা, যাতে সবার জন্য সুখপাঠ্য হয়।
মোট ৬টি বিষয় নিয়ে বই ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’। এগুলো হচ্ছে, লুটপাটের ব্যাংক, আর্থিক কেলেঙ্কারি: হল-মার্ক, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, কালো বেড়ালের বাহিনী, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি এবং তবুও এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রথার বাইরে গিয়ে একটি নতুন ভাবে লেখা একটি ভূমিকাও আছে বইটিতে।
ব্যাংক নিয়ে লেখাটি একটু দীর্ঘ। এখানে ব্যাংকিং-এর ইতিহাস যেমন আছে, তেমনি আছে সংস্কারের ইতিহাসও। যারা ব্যাংকে কাজ করেন তাদের এটি কাজে লাগবে বলে আশা করছি। হল-মার্ক কেলেঙ্কারির কিছু ভেতরের খবর পাওয়া যাবে বইটিতে। এছাড়া বহুল আলোচিত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির একটি অনুসন্ধানি বিশ্লেষণ করেছি দুটি চাপ্টারে। কালো বেড়ালের বাহিনী মূলত কালো টাকার অর্থনীতির সর্বশেষ খবরাখবর। অনেক হতাসার মধ্যেও যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা বলেছি সবশেষ অংশে।
বইটি শিক্ষার্থী ও ব্যাংকার ছাড়াও ভবিষ্যতের গবেষকদেরও কাজে লাগবে আমার আশা। বাকিটা পাঠকরা বলতে পারবেন। যদি কেউ বইটির রিভিউ করেন বিশেষ খুশী হবো।
সবশেষে আরেকটা কথা। প্রকাশকের সঙ্গে রীতিমত চুক্তি করে বইটি লেখা হয়েছে। সুতরাং বইটি বিক্রি হলে প্রকাশক বেঁচে যাবেন, আমারও খানিকটা লাভ হতে পারে।
কেলেঙ্কারির অর্থনীতি
বাংলাদেশের অর্থনীতির পেছনের অনর্থনীতি
শওকত হোসেন মাসুম
প্রকাশক-শুদ্ধস্বর
প্রচ্ছদ-তৌহিন হাসান
মূল্য-২৭০ টাকা





কেনা শেষ!
এইবার পড়ে রিভিউ দিয়ে দিও
কেমন হইলো?
বাজেটে কুলালে এই বইটা কেনার ইচ্ছে আছে।
বাজেটে কুলাক
অভিনন্দন জানাই। বই কিনেছি।
আমার যেটা মনে হয়েছে, এই বইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বুক হিসেবে কাজ করবে। পদ্মা সেতু, ২০১০-এর শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, হল-মার্ক- এই তিন ইস্যুতে যত রকম তথ্য সন্নিবেশিত করা যায় তার সবই বইটিতে আছে। শুধু তাই নয়, বাকী চ্যাপ্টারগুলোতে অর্থনীতির মতো নিরস একটি বিষয় দারুণ সরসভাবে উঠে এসেছে। ব্যাঙ্কিং সেক্টরে যারা কাজ করেন, তারা বইটি পড়ে মহা উপকার পাবেন। যেখানে কাজ করি তার ইতিহাস না জানলে কেম্নে কি!
বই-এর কাটতি হোক। লেখক এবং প্রকাশক দু'জনই লাভবান হোন, এই প্রত্যাশা রাখলাম।
লেখক আর প্রকাশক দুজনই লাভবান হবেন বুঝলাম; কিন্তু আমরা পাঠকরা কীভাবে লাভবান হবো? মাসুম ভাই যদি আমাদেরকে একটা করে বই পড়ার জন্য গিফট দিতেন তাহলে আমরা মননশীলভাবে উপকৃত হতাম আর ২০টা করে বই রান্নার লাকড়ি হিসেবে গিফট দিতেন তাহলে ক্ষুধানিবৃত্তিকভাবে উপকৃত হতাম।
ধইন্যা
বইটি সবাই ভাল বলুক
বইতো কিনবো কিন্তু লেখকের অটোগ্রাফ না পাইলে কি ভালো লাগবে
। কি করা যায়?
আমি তো কলম নিয়া বসেই আছি
কালকে সন্ধ্যা ৬:৩০ এ গেলাম বই মেলায় কেলেঙ্কারির অর্থনীতি কিনলাম, কিন্তু কপাল খারাপ তাই লেখককে পাইলাম না অটোগ্রাফ নেয়া হইলোনা (আফসুস্্)।
সরি, আমি ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ছিলাম। তারপর জানাজা হয়ে অফিস চলে আসছিলাম। কেনার জন্য ধন্যবাদ। কেমন হলো জানাইয়েন পারলে।
অনেক কঠিন বই। অর্থনীতিতে চানস পেয়েও আইন পড়তে গেছিলাম এই কারণে
প্রকাশক আর লেখককে শুভকামনা।
শুভকামনা।
মন্তব্য করুন