কোন পক্ষে যে যাই........
দ্রৌপদীর ছিল পাঁচ পক্ষ। কিন্তু কবি বলেছেন আমাদের সামনে দু্ই পক্ষ।
দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?
প্রকৃতির ভেতরে তাকাও, দ্যাখো আলো এবং অন্ধকার দুটি পক্ষ
নিসর্গের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো পানি এবং মাটি দুটি পক্ষ
পৃথিবীর ভেতরে তাকাও, দ্যাখো শোষিত এবং শোষক দুটি পক্ষ
মানুষের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো গরীব এবং বুর্জুয়া দুটি পক্ষ
এদেশের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো পঁচাশি এবং পনেরো দুটি পক্ষ
দাঁড়াও, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?
এটাকে ডিলেমা ঘরানার কবিতা বলা যাবে কিনা বুঝছি না।
বরং নীচের লাইনটিকে ডিলেমা ঘরানার কবিতা বলা যায়।
'এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে,- জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কিনা'
ডিলেমার ভাল বাংলা কি? ঠিক খুঁজে পেলাম না। আপনার সামনে দুটো বিকল্প। দুটোই খারাপ। কিন্তু আপনাকে বেছে নিতে হবে এক পক্ষকে। এটাই আসলে ডিলেমা।
যারা এখনও বুঝছেন না, তাদের আগামি জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি।
ডিলেমার সেই গল্পটা জানেন তো?
বুশের আমলের গল্প।
মনে করুন আপনি আছেন আমেরিকায়। আপনি একজন প্রেস ফটোগ্রাফার। আপনি আছেন মায়ামি বিচে। হাঁটছেন। গেলেন সমুদ্রের কাছে, হাওয়া খেতে। হঠাৎ দেখলেন একটা লোক সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। সমুদ্র তাঁকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আপনার মনে হল, লোকটিকে বাঁচাতে হবে। আপনি ছুটে গেলেন। কিছুটা কাছে গিয়ে দেখলেন লোকটি আর কেউ নন, প্রেসিডেন্ট বুশ। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
এবার আপনি রিয়েল ডিলেমায় পড়লেন। বুশকে বাঁচাবেন না কি ক্ষমতাধর ব্যক্তির ডুবে মরার ছবি তুলে পুলিৎজার পুরস্কারটি ঘরে তুলবেন?
আরও ডিলেমা আছে? বুশকে বাচাবেন না কি সারা বিশ্বকে বাঁচিয়ে রাখবেন?
তবে দুষ্ট লোকেরা কিন্তু আপনাকে অন্য একটি প্রশ্ন করবে। আসল ডিলেমা নাকি এখানেই।
প্রশ্নটি হল, ছবিটা কি কালারে তুলবেন না কি ক্লাসিক সাদা-কালোয়?
(এই গল্পটাকে অনায়াসে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আনা যেতো। কিন্তু হেফাজতের ভয়ে হাত পা....)
বাস্তব ডিলেমার কথা বলি।
সত্যিকার ডিলেমায় পড়েছিলেন কেভিন কার্টার। দক্ষিন আফ্রিকার নামী ফটো সাংবাদিক। বর্ণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক। তিনি ছবি তুলতে গিয়েছিলেন সুদানের দুর্ভিক্ষের, ১৯৯৩ সালের মার্চে। শিশুটি প্রাণপণ চেষ্টা করছিল কাছের ফিডিং সেন্টারে যেতে। আবার পাশেই অপেক্ষা করছিল একটি শকুন। সেই ছবিটি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ছাপা হয় ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ। ১৯৯৪ সালে তিনি ছবিটার জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে ছবিটি ছাপা হওয়ার পর। অসংখ্য ফোন আসতে থাকে পত্রিকা অফিসে, সবাই জানতে চান শিশুটি কি ফিডিং সেন্টারে যেতে পেরেছিল? এর উত্তর দেওয়া যায়নি। তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। কেভিন কার্টারের উচিৎ কি ছিল? পুরস্কার পাওয়ার ছবি তোলা না কি শিশুটিকে বাঁচানো।

এই বিতর্ক থেকে মুক্তি পাননি কেভিন কার্টার। ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন কেভিন কার্টার।
সুতরাং এই ডিলেমা নিয়ে সবসময় থাকতে হয় সাংবাদিকদের। যেমন বিশ্বজিৎ হত্যার সময়েও এই বিতর্ক উঠেছিল।
এই ডিলেমা সংবাদপত্রের জন্য এখনও আছে। গণমাধ্যম কি যা ঘটছে তাই লিখবে না কি কোনো এক পক্ষ নেবে? পত্রিকার কাজ কি পক্ষে যাওয়া না কি নিরপেক্ষ থাকা?
পাল্টা প্রশ্নও করা যায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুক্ত শুরু হওয়ার পর কি পত্রিকা নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হতো?
ভারি ভারি কথা থাক। ডিলেমা নিয়ে আরেকটা গল্প বলি।
এবারও আপনি। ধরুণ, আপনি লং ড্রাইভে বের হয়েছেন। হঠাৎ ঝড়। এক বাস স্টেশনের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো বাস নেই। দেখলেন তিন জন দাঁড়িয়ে সেখানে।
একজন বৃদ্ধা, মরনাপন্ন, এখনি হাসপাতালে না নিলে মারা যাবেন।
একজন পুরোনো বন্ধু। এক সময় সে আপনার জীবন বাঁচিয়েছিল।
আরেক জন, খুব সুন্দর একটা মেয়ে। দেখেই মনে হলো আপনি যাকে খুঁজছিলেন এই মেয়েটি সেই।
আপনি কেবল একজনকে গাড়িতে তুলতে পারবেন। এখন আপনি কি করবেন?
উত্তরটা এভাবে হতে পারে-
আপনি গাড়ি থেকে নেমে পুরোনো বন্ধুকে চাবি দিয়ে বলবেন বৃদ্ধাকে কোনো একটা হাসপাতালে পৌঁছে দিতে। তারপর থাকবেন কেবল আপনি আর সেই মেয়েটি।
ডিলেমা নিয়ে হিচককের একটা মুভির কথা খুব মনে পড়ছে। ছবিটার নাম আই কনফেস। ১৯৫৪ সালের এই মুভিটিতে অসাধারণ অভিনয় করেছেন মন্টোগমারি ক্লিফট। তিনি একটি ক্যাথলিক চার্চের প্রিস্ট। চার্চের কেয়ারটেকার একরাতে তাঁর কাছে এসে কনফেস করে। সে খুন করে এসেছে। এই কথাই জানায় কেয়ারটেকার। ঘটনা ঘটে এর পর। খুনের সূত্র খুঁজতে গিয়ে পুলিশের ধারণা হয় খুনটি করেছেন ফাদার নিজেই।

ফাদারের এক ডিলেমা, কি করবেন তিনি। কনফেস কেউ করলে বলতে হয় না। আবার না বললে সে নিজেই ফাঁসবেন। অসাধারণ এক মুভি।
তবে ডিলেমার সেরা গল্পটা কিন্তু এখনো বলা হয়নি। এটা বড়দের গল্প।
আপনি একটি বিশাল বিছানায় শুয়ে আছেন, জন্মদিনের ড্রেসে। আপনার ডান দিকে শুয়ে আছে অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ে, সেও জন্মদিনের ড্রেসে। আর আপনার বায়ে জন্মদিনের ড্রেসে শুয়ে আছে এক পুরুষ, পুরুষটি গে। সেও প্রস্তুত।
এখন আপনার ডিলেমা হচ্ছে, কার দিকে ফিরবেন, আর কাকেই বা পেছনে রাখবেন?
কে দিবেন উত্তর?





পুরা পোষ্ট পড়তে পড়তে ঘোর লেগে গেছিলো । কত অদ্ভুত মানুষ , অদ্ভুত সব চিন্তা ।ডিলেমা বিষয়ক দারুণ আলোচনা ।
ইয়ে মানে শেষে এসে কিছু বুঝি নাই । যদি বুঝতাম তাইলে বলতাম আপনি এসব ভাবতেছেন কেন? নাফরমানি ভাবনা । এসব সমস্যা ভালো না । গুণাহ হয় ।
আমি মাসুম। সরল বিশ্বাসে লিখছি
কেভিন কার্টারের এই ঘটনাটা নিয়ে একটা চমত্কার মুভি আছে।দেখছেন?
নাম 'দ্যা ব্যাং ব্যাং ক্লাব'!
ছবিটার ডিভিডি আমি পাই নি। আজকাল নামানো শিখছি। দেভি নামিয়ে ফেলবো
To sheshmesh ki darailo? ; )
নয়া ফুন দিয়া কি আংরেজীতে লিখতে হয়? এই দাঁড়াইলো তাইলে? :পি
দাঁড়াইলো?
ভাই, যারা এই িডেলমায় েনই তারাই ভােলা আেছ....!
একমত
আই লাইক ডিলেমা!
কখনো কখনো্
সে দিন এক সহকর্মীর সাথে ভীষণ তর্ক হলো। তার সোজা কথা। বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো এখন ভাল কাজ করছে না। যারা শাহবাগ এর সংবাদ ছাপছে। শাহবাগকে মহিমন্বিত করছে। গণজাগরণ এর মঞ্চকে তুলে ধরছে। আমি বললাম, ৭১-এ ও আমাদের পত্রিকাগুলো এ অপরাধটা করেছে। এ অন্যায়টা করেছে। তার কথা এখনতো ৭১ নয়। এখন নাকি পত্রিকাগুলোকে সুশীল হতে হবে। পেশাদার হতে হবে।
.......................................।
লেখাটা ভাল লাগলো। বরাবরের মতো।
ডিলেমায় আছে এখন অনেকেই
১ ] কেভিন কার্টারের ডিলেমায় পড়লে সিদ্ধান্ত নিতে আমার একটুও দেরী হতোনা । কিন্তু দেশের বর্তমান ডিলেমায় কিছুতেই বুঝতে পারছিনে যে কোন রাক্ষুসীর ডিনার হতে আগামীতে রাজী হবে জাতি ! দুই দূরাচার শকুনির, নাকি রক্তলুলুপ হায়েনাটার ? ৪২ বছর ধরে ডিলেমায় পড়ে আছে জাতি, উত্তরণের কোন উপায় হচ্ছেনা !
২ ] সংবাদ পত্র বা মিডিয়া কখনো শতভাগ নিরপেক্ষ হবে তা আশা করা যায়না । অনেক ফেক্টর জড়িত এতে । তরপরও মানুষ চায় পক্ষপাত যেন ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে। রাজনীতিকরা চায় তাদরে অপকর্মগুলোর উপর মিডিয়া ফোকাস না করুক । এ জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে তারা । গত ক'দিনের সংবাদপত্ রগুলো পড়লে একই ঘটনার বিচিত্র চিত্র পাওয়া যায়। এক পক্ষেরগুলা পড়লে মনে হবে, সব সাজানো নাটক, অন্য পক্ষ বলবে সবই কারেক্ট । মিডিয়া এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিয়ত । দু'একটি ছাড়া সব গণ মাধ্যম জামাত-শিবিরকে দায়ী করছে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও চলমান তান্ডবের জন্য । অথচ ভারতীয় আউটলুক জামাতের হাত দেখছেনা এতে । আবার সন্জীব নামের একজন লেখক বলেছেন, যে সব এলাকায় নির্যাতন হয়েছে সে সব এলাকায় আ লী খুবই প্রভাবশালী, এ সব জায়গায় নির্যাতন হবার কথা নয় । তিনি প্রশ্ন রেখেছন 'সংখ্যলঘু ট্রাম কার্ড দিয়ে খেলছ ে কারা ' ?
ডিলেমার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ মাসুম ভাই । ভাল থাকুন ।
এটা নিয়ে কোনো ডিলেমা নেই। সবাই জানি কারা করছে, জামায়ত শিবির
দারুণ লাগলো ডিলেমা বিষয়ক আলোচনা ।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য
যেদিকেই ফিরেন আপনার অবসহা, তথা বাংলাদেশের অবসহা সংগীন।
ঠিক বলছো বাজি
পুরাই অবস্থা কেরসিন!! কার দিকে যে ফিরে তাকাবেন

সেইটাই
ডিলেমা বিষয়ক পোস্ট দারুণ লাগলো।
চাটগাঁইয়া পোয়া হিসেবে বলব, শেষের ডিলেমায় মেয়েটাকে মাঝখানে দিয়ে মেয়ের জায়গাটা দখল করতে হবে! কিভাবে সেটা করতে হবে সেটা আর না বলি!
দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ

মন্তব্য করুন