অর্থহীন গল্প
সবারই একটা গল্প থাকে। আছে। তাতে হিরো থাকে,
ভিলেনও। প্রায় ক্ষেত্রেই হিরো কিংবা ভিলেন দুটোই
আর কেউ না। সিম্পলি যার যার গল্প সে সে।
বই কিংবা ফিল্মের গল্পগুলো যেমন মেঘের
মতো আকাশপট নিয়ে বৈচিত্রে ভরা আবার পুনরাবৃত্তির
ভারে নুয়ে থাকে, আমাদের কাহিনীও অনেকটা তেমন।
কারোটা খুব খাপছাড়া, খেপাটে পাগলামিমাখা,অনে
কেরটা ক্লিশে,কমন,রিপিটেড শিট।
যেমনই হোক শেষতক কিছুই যায় আসে না।
হ্যান্স এন্ডারসন বলেছিলেন "জীবনটাই রূপকথা"।
রূপকথায় যেমন প্রায়
অবশ্যম্ভাবী যে হ্যাপি এন্ডিং থাকবেই,পাঠক
তা আগে থেকেই জানে, তেমনি আমাদের জীবনকথার
সবথেকে শেষের পাতায় যে মৃত্যু লেখা আছে এটাও
জানা।
তাতেও কিছু যায় আসে না। মানুষ বাঁচে বেঁচে থাকার জন্যই।
হাসে,কাঁদে,ভালোবাসে,ঘৃণায় মুর্ছায়, সবই
বেঁচে থাকবে বলে।
কোনো বই বা মুভি পড়ে পাঠক আনন্দ পায়, কারণ
বইটা বা ফিল্মটা সুখপাঠ্য কিংবা সুখদর্শনীয় ছিল।
তেমনি আমাদের জীবন দেখেও অন্যরা আনন্দ পায়।
অনেক সময় পায় না। ব্যথিত হয়, কষ্ট পায়। সেসবেও খুব
একটা যায় আসে না।
যায় আসে জীবনটা শেষ
হবে কী করে সেটা জেনে গেলে। বিজ্ঞান আর
ধর্মের গলদ এখানেই। শেষ পাতাটার রহস্য সলভ
করে দেয়া উচিৎ নয় কখনই। জানি মারা যাবো, কিন্তু
কী উপায়ে মারা যাবো তা জানা পাপ।
গোয়েন্দা গল্পের পাঠক অনেক ক্ষেত্রে যেমন
আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলে, ক্রিমিনালবাবাজি
টা আসলে কোন ব্যক্তি এবং অতঃপর গল্পের মজাটাই
বিগড়ে যায়, তেমনি আমাদের জীবনের শেষ পাতাটার
সাথে আগে ভাগেই মোলাকাত হয়ে গেলে তা ভয়াবহ।
কারো কারো জীবনে ড্রামাটিক এন্ড থাকবে, কেউ
কুকুরের মতোই মারা যাবে, কেউ
বা গুলি খেয়ে অথবা হার্পিক। কিন্তু সেসবের জন্য
নস্ট্রাদামুসগিরি ফলানোর কিছু নেই। জানার দরকার নেই
সময়ের আগে। তাহলেই বিপদ।
গোয়েন্দা গল্পের বুদ্ধিমান পাঠকের মতো নিজের
জীবনের
মিস্ট্রিটা আগেভাগে জেনে ফেলে অনেকে।
সমস্যা আদতে একটাই। এটাই।
এব্রাপ্ট এন্ডিং মানুষের জন্য হেমলক। এখানে abrupt হঠাৎ
করে অক্কা পাওয়া নয়। abrupt হলো হাঁটতে ফিরতেই
জেনে যাওয়া এর শেষ কোথায় এবং কীভাবে।
"আমি বিবমিষু ছিন্ন লজ্জাবতির শেষ পাতাটা।
তাতে এক ফোঁটা জল।
এক বিন্দু উদ্দেশ্য
এক মেঘদল দিনরাতসন্ধ্যাদুপুর"





অসাধারণ লিখেছেন
শুভকামনা রইল!!!
ধন্যবাদ
ভালো লাগলো কথকতা।
ধন্যবাদ ভাই
মন্তব্য করুন