ইউজার লগইন

ভালোবাসা আমাকে বাসেনি ভালো

টিকেট কাটার পর থেকেই আমি আতংকে ছিলাম ট্রেনে না জানি কে বসে আমার পাশের সিটটাতে।মনে মনে চাচ্ছিলাম কোনো না কোনো ভাবে যেন একজন মেয়ে বসে।আজ সকালে,(সকাল না বলে ভোর বলা উচিত)এই কুয়াশার চাদরের ভেতর দিয়ে যখন আমি বটতলী রেল স্টেশনে এসে পৌঁছালাম তখনও মনে মনে একই দোয়া করছিলাম।কিন্তু না,আমার দোয়া যে কোনো কাজের না তা প্রমাণ করার জন্যই দেখি আমার পাশের সিটে বসে আছে উড়নচন্ডী,উসকু-খুসকু টাইপের একটা ছেলে।মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল।কিন্তু মেজাজ দেখানোর তো আর উপায় নেই।তাই বিরক্তি চেপে হতাশ নয়নে জানালার কাঁচ দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকি।
দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই কুয়াশা কেটে যাচ্ছে একটু একটু করে।আমি ভাবছি,কেন যাচ্ছি আমি ঢাকায়?কোনো কিছুতেই মন বসে না।যে ভালোবাসার জন্য আমি সব ছেড়ে দিতে চেয়েছি সে ভালোবাসাই কিনা কত সহজে ছেড়ে দিল আমাকে।মুক্তির স্বাদ যে এত বিস্বাদ হতে পারে এ ঘটনার মুখোমুখি না হলে হয়তো কোনোদিনই জানা হতো না আমার।ভাবনার ছেদ পড়ে পাশে বসা পাবলিকের উপরের লাগেজ স্ট্যান্ড থেকে ব্যাগ নামাতে গিয়ে ফেলে দেয়ার শব্দে।আমার বিরক্তি ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,সরি।
আধঘন্টা সময়ও যায়নি।এরই মধ্যে আমার মনে হচ্ছে এই ছেলে স্থির হয়ে বসে থাকার পাত্র নয়।আমি আবার জানালার কাঁচ দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি।আর কিছুক্ষণ গেলেই কাঁচ তুলে দিলে কেমন মুক্তি মুক্তি লাগবে এই ভেবে আমি এখন থেকেই আনন্দিত।হঠাৎ করে আমার পাশের ছেলেটি আমাকে ডাকল,এক্সকিউজ মি।
আমি তাকাতেই বললেন,আমি সাকিব।সাকিব-আল-হাসান।
নাম শুনে আমি মনে মনে বললাম,নাম তো মাশাল্লাহ।বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটারের।কিন্তু কাজ যে একটা বাঁদরের তা তো এতক্ষণে বেশ বুঝতে পেরেছি।
আমি কিছু না বলে তাকিয়ে ছিলাম বলে সাকিব বলল,আপনি নিশ্চয় আমার নাম নিয়ে ভাবছেন।আসলে সাকিব ক্রিকেটে ভাল করার পর থেকেই আমার নাম শুনলে সবাই আমার দিকে এমন করে তাকায় যেন আমি সাকিবের নাম নকল করে রেখেছি।সাকিবের কথা শুনে আমি হাসছিলাম দেখে সাকিবও হাসল।তারপর বলল,আপনার নাম কি?
-অনন্যা।
-বাহ।সুন্দর নাম তো।আচ্ছা আপনার নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে এই ছেলে উটকো ঝামেলার মতো গায়ে পড়ে আলাপ করছে কেন,তাই না?
সাকিব আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বললো,আসলে আমার মনে হচ্ছিল এত দীর্ঘ একটা জার্নি আমরা পাশাপাশি থাকব,অথচ কেউ কাউকে চিনি না,সারাক্ষণ অপরিচিত একটা মানুষ পাশে বসে আছে এই ভেবে আপনিও অস্বস্তিতে থাকবেন,আমিও অস্বস্তিতে থাকব।কিন্তু যদি আমাদের পরিচয় হয়ে যায় তাহলে অপরিচিত মানুষের সমস্যাটা কেটে যায়।তাই আপনাকে বিরক্ত করছি।আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন?
সাকিবের কথার স্টাইল দেখে আমার আবারো হাসি পেল।আমি ওর দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখি।কোঁকড়া কোঁকড়া চুল,চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা,চুলগুলো মনে হয় আঁচড়ানো হয়নি।গায়ে স্ট্রাইপের একটা সোয়েটার।সোয়েটারের আবার গলার দিকটা খোলা,হাতা গুলো ওপরের দিকে ভাঁজ করা।সব মিলিয়ে এলোমেলো একজন মানুষ বলা যায়।কিন্তু একটু ভালো করে তাকালেই চোখে পড়ে চেহারায় আছে দারুণ মায়া।চোখদুটিও বেশ দীপ্তিময়।কিন্তু দুষ্টের শিরোমনি যে এই ছেলে এটা বুঝতে বেশি ভাবার দরকার হয় না।চোখে-মুখে চঞ্চলতা।
সাকিব বললো,আপনি কেন যাচ্ছেন ঢাকায়?
আমি ওর কথা শুনে কপাল কুঁচকে বললাম,মানে?
-না,মানে তেমন কিছু না।আপনি একা যাচ্ছেন তো তাই ভাবলাম আমার মতো পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন কিনা?আমি যাচ্ছি পরীক্ষা দিতে।আগামী কাল একটা চাকরীর পরীক্ষা।রিটেন টেষ্ট।পরীক্ষার কথা শুনলেই রাগ লাগে।অথচ দেখেন পুরোই জীবনটা জুড়েই পরীক্ষা।পরীক্ষা দিতে অসহ্য লাগে আমার।
-তাহলে দিচ্ছেন কেন?
-একটা চাকরীর জন্য।কারণ আমার বাবা-মা চান আমি যেন একটা ভালো চাকরী করে শৃংখলিত জীবন যাপনে অভ্যস্ত হই।
-মানে কী?
-মানে আমার পরিকল্পনাটা ভিন্ন।এসব চাকরী-বাকরী হলো ছাপোষা জীবন।কলুর বলদের মতো খেটে গেলাম,হয়তো চাকরীতে পদোন্নতি পেয়ে পেয়ে অনেক বড় মানুষ হলাম আবার চাকরী থেকে অবসরের সঙ্গে সংগে ভিখারীতে পরিনত হলাম।কারও জন্যই কিছু করা হলো না।আমি এমন কিছু করতে চাই যেখানে আমার সাথে সাথে আরো অনেকের জীবন আলোকিত হবে।হয়ত আমি থাকবনা।কিন্তু সে আলো থাকবে অনেকের মাঝে।হয়তো প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।
সাকিবের কথা শুনে আমার কিছুটা কৌতুহল হলো।আমি জিজ্ঞেস করলাম,সেটা কি রকম?
সাকিব হেসে বললো,সেটা অনেক পরের ব্যাপার।আমার সেই পরিকল্পনাটা সত্যি করার জন্য আমার দরকার একটা চাকরী।কারণ আমার সেই কাজটা শুরু করতে বেশ কিছু টাকা লাগবে।আর টাকাটা যোগাড় করার জন্যই চাকরীর পরীক্ষাগুলো দিয়ে যাচ্ছি।
আমার কৌতুহল কমে না।আমি বললাম,কী করবেন সেটা তো বললেন না।
সাকিব বলল,শুনলে আপনি হয়তো হাসবেন।
-না,হাসব না।
-আমি একটা মৎস্য খামার দেব।আমাদের গ্রামে গিয়ে গ্রামের কিছু বেকার ছেলেদের নিয়ে কাজ শুরু করবো।আমাদের বাড়ীর পাশে ওয়াপদার একটা খাল আছে।ঐ খালটার দু’পাশ খুব সুন্দর করে ফুলের গাছ দিয়ে সাজিয়ে তুলবো।খালে হবে মাছ চাষ।নিজেদের প্রয়োজনও মিটবে আবার ব্যবসাও হবে।অনেক পাখি থাকবে।বিশেষ করে মাছরাঙ্গা,ফিঙ্গে,শামা...এ রকম আরো অনেক পাখি।আর থাকবে কবুতর।বাগানে বনমোরগও পালব।কৃষকদের কাজটা কীভাবে আরেকটু সহজ করা যায়,পরিশ্রমটা কীভাবে আরেকটু কমানো যায়,উৎপাদনটা কীভাবে আরেকটু বাড়ানো যায় এসব নিয়ে কাজ করবো।মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে গরুর খামার দিব।গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করবো।এটা দিয়ে আবার বিদ্যুতের সমস্যাও কিছুটা দূর হবে।আমাদের গ্রামে কোনো হাসপাতাল নেই।একটা হাসপাতাল দিব।আর একটা উন্মুক্ত পাঠাগার।সব বয়সী মানুষ যেন নিজের পছন্দমতো বই বিনা খরচে পড়তে পারে সেজন্য পাঠাগারটা খুব জরুরী।স্কুলের বাচ্চারা স্কুলে প্রথম,দ্বিতীয়,তৃতীয় হলে ওদেরকে পুরষ্কার হিসেবে দিব বই আর গাছ।গাছে গাছে ভরে উঠবে আরেকটা সুন্দরবন।এরকম আরো অনেক কিছু।একটার সাথে আরেকটা সম্পর্কিত।
সাকিবের কথা শুনে আমি কেমন জানি ঘোরের মধ্যে চলে যাই।আমার পাশে বসে থাকা এই মানুষটার ভাবনার কাছে নিজেকে হঠাৎ করে খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে।সাকিব কী একটা কথা যেন বলতে চাচ্ছিল এমন সময়,ট্রেনের সেই বিখ্যাত বার্গার আর চিকেন স্যান্ডউইচ নিয়ে এলো ক্যাটারিংয়ের লোকগুলো।ঠান্ডা বার্গারে কামড় দিতে দিতে সাকিব বলল,আপনি কেন ঢাকায় যাচ্ছেন বললেন না তো?
আমি চুপ করে থাকি।ঢাকায় আমিও যাচ্ছি পরীক্ষা দিতে।তবে চাকরীর পরীক্ষা নয়,পাত্রী দেখার পরীক্ষা।মামুনের সাথে সম্পর্ক শেষ হবার পর থেকে কতবার যে এ পরীক্ষা আমাকে দিতে হচ্ছে!মামার বাসায় প্রতিবারই মুখে রঙ মেখে সং সেঝে পাত্র পক্ষের সামনে হাজির হই।ওরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে চার-পাঁচ জোড়া চোখ দিয়ে দেখে আমাকে।পরীক্ষা শেষে রেজাল্টের অপেক্ষায় থাকে সবাই।প্রতিবারই সবাইকে নিরাশ করে রেজাল্ট হয় ফেল।মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে আমার।কিন্তু সাহস নেই বলে মরতেও পারি না।তা না হলে তো সেদিনই মরে যেতাম যেদিন মামুন আমাকে জানিয়ে দিল ও আসলে আমাকে ভালোবাসেনি।আমার সাজানো পৃথিবীটা যেন এক নিমিষে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে গেছে।আমার ভালবাসার রঙ্গিন আকাশে এখন এক ফোঁটা রঙও নেই।কত যে কষ্টপ্রহর আমি একাকী নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে কাটিয়েছি তা তো শুধু আমার অন্তর্যামীই জানে।সাকিব নামের ছেলেটিকে কী মাত্র কয়েকঘন্টার পরিচয়ে বলে দেয়া ঠিক হবে যে,আমার ভালোবাসা বাসেনি ভালো আমাকে।
আমার জবাব দিতে দেরী হচ্ছিল দেখেই হয়তো সাকিব বলল,সমস্যা থাকলে বলতে হবে না।
আমি জানালাটা তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে সাকিব সাহায্য করে।ওফ!হু হু করা বাতাস কী যে ভালো লাগছে!
চায়ে চুমুক দিতে দিতে আমি জিজ্ঞেস করি,চাকরীর পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন,বন্ধু বান্ধবরা যাচ্ছে না?
-হ্যাঁ,যাচ্ছে। সবাই রাতে যাবে।আমার বোনের বাসায় একটা কাজ আছে।তাই আমাকে সকালে যেতে হচ্ছে।আসলে পরিবারের কিছু দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
-এক ছেলে নাকি আপনি?
-হ্যাঁ,ছিলাম না,হঠাৎ দুর্ঘটনায় হয়ে গেলাম।
-মানে ?
আমার বড় ভাইয়া একটা মেয়ের ভালোবাসা হারিয়ে ফেলার শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিল।তাই আমি এক ছেলে হয়ে গেলাম।
-সরি।
-না,ঠিক আছে।আপনার সরি হওয়ার কিছু নেই।আমার ভাইয়াটা খুব বোকা ছিল।তা না হলে একটা মেয়ের ভালোবাসা পায়নি বলে আত্মহত্যা করতো না।ও তো ভাবতে পারতো ওর জন্য কত ভালোবাসা নিয়ে প্রতীক্ষা করছে ওর মা-বাবা,ভাই-বোন,আত্মীয়-স্বজন।এই মানুষগুলোর ভালোবাসার কথা ভেবেও তো বাঁচতে পারতো,সাকিবের কন্ঠটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসে।
ওর কথা শুনে আমিও ভেতরে ভেতরে কিছুটা লজ্জিত হয়ে পড়ি।যে বাবা-মা এত কষ্ট করে আমাদের জন্ম দিয়েছে শুধুমাত্র তাদের জন্যই তো একটা জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায়।তবুও কেন আত্মহত্যার কথা চলে আসে মনের মধ্যে?
সাকিব বললো,বই মেলায় যাবেন?
-জানি না।
-আপনি দেখছি অনেক কিছুই জানেন না।
-হুঁ।
-আপনি আবার ভেবে বসছেন না তো এই ছেলে এত অবান্তর প্রশ্ন করছে কেন?
-না,ভাবছি না
-তাহলে একটা কথা বলি?
-বলুন।
-আপনি কী পাত্রী দেখানো টাইপের কোনো কাজে যাচ্ছেন ঢাকায়?
সাকিবের মুখে কথাটা শুনে আমি একটু কেঁপে উঠলাম।ও বুঝল কী করে?আমি মনে মনে ভাবছিলাম আমার কোনো আচরণে কী বোঝা যাচ্ছে যে আমি এরকম একটা কাজে ঢাকায় যাচ্ছি।
সাকিব বললো,কী ব্যাপার,কী ভাবছেন?কথাটা আমি এমনিতেই বলেছি।আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের সমাজে মেয়েরা এখনো দুটি বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে সংকোচ বোধ করে।তার মধ্যে একটা হলো পাত্রী দেখা ,আর অন্যটা হলো শ্বশুর বাড়িতে বা স্বামীর ঘরে নির্যাতিত হওয়া।অথচ ভাগ্যের কী পরিহাস দেখেন এই দুটি বিষয়ে আমাদের সমাজের মেয়েরা কী পরিমাণ গঞ্জনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।আমাদের বাবা-মায়েরা শৈশব কাল থেকে তাদের মেয়েদের গড়েই তোলেন এরকম গঞ্জনা মেনে নেয়ার মানসিকতা নিয়ে।আর তাই মেয়েরা প্রতি পদে পদেই হোঁচট খায়।
সাকিবের কথা শুনে আরেকবার মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না।এই ছেলেটাকে প্রথম দিকে যতোটা উটকো ঝামেলা মনে হচ্ছিল এখন ঠিক ততোটাই কাছের বন্ধু মনে হচ্ছে।চেনা নাই,জানা নাই অথচ কী অবলীলায় বলে গেল কত বাস্তব,অপ্রিয় সত্যি কথা।
নাস্তার বিল নিয়ে ক্যাটারিংয়ের লোকগুলো এসেছে।সাকিব বিল দিয়ে দিচ্ছিল।আমি নিষেধ করতে গিয়েও পারলাম না।ও বললো,আপু,এরকম বিল দেয়া নিয়ে একটা মজার ঘটনা আছে আমার।এসে বলব বলে উঠে গেল সাকিব।
কিছুক্ষণ পর সাকিব যখন আবার এসে বসল ওর গা থেকে সিগারেটের গন্ধ বের হচ্ছিল।ও এসেই গল্প শুরু করল।বলল,একবার আমার এক সহপাঠীসহ সিটিসার্ভিসের বাসে করে যাচ্ছিলাম।তো ক্লাসের সবার সাথে তো আর তেমন একটা কথাবার্তা হয় না।তারপরও একই ক্লাস যেহেতু,সহপাঠী হিসেবে তো চিনি।আমি ওর ভাড়াটা আগ বাড়িয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম বলে, সে কী রাগ তার!চিৎকার করে বলে উঠলো,মেয়েদেরকে এত সস্তা ভাবো কেন,হ্যাঁ?খুব টাকার গরম দেখানো হচ্ছে,না?
আমি তো ওর কথা শুনে টাস্কি মেরে গেলাম।সেদিন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি,আর জীবনেও এত বড় ভুল করা যাবে না।উচিৎ শিক্ষা হয়েছে আমার।কথা শেষ করে সাকিব হো হো করে হেসে উঠল।
আমি বললাম,শিক্ষা হয়েছে বলে তো মনে হয় না।আজ তো আবার একই ভুল করলেন।
ও বললো,সৌজন্যতা বলে যে বাংলা ভাষায় একটা শব্দ আছে ওটুকু না দেখালেই বা কেমন হয়,বলেন তো?
সাকিবের মুখ থেকে সিগারেটের গন্ধ আসছিল দেখে আমি ওর থেকে আরেকটু সরে বসে বাইরে তাকালাম।
ঢাকার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি।
সাকিব জিজ্ঞেস করলো,আপনি ঢাকায় কোথায় উঠবেন?
আমি সাকিবের কথার জবাব না দিয়ে বললাম,সিগারেটের বিশ্রী গন্ধ লাগছে।
সাকিব কিছুটা কাঁচু মাঁচু হয়ে বললো,এই যে আমাকে দেখছেন একমাত্র সিগারেট খাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো বাজে অভ্যাস নেই।আপনার খুব সমস্যা হচ্ছে,না? আমি এক্সট্রিমলি সরি।আপনাকে একটা প্রশ্ন করি?
-কী?
-আপনি কী মাদক বিরোধী আন্দোলন পছন্দ করেন?
-করবো না কেন?সবারই করা উচিৎ?আপনি করেন না?
-হ্যাঁ,করি।কিন্তু একটা মজার ব্যাপার কী জানেন?যারা এই মাদক বিরোধী আন্দোলন করে তাদের বেশিরভাগই কিন্তু মাদকসেবী।কারণ তাদের বেশিরভাগই কিন্তু সিগারেট খায়।আর সিগারেটই হচ্ছে মাদকের প্রথম ধাপ।
-তাহলে সব জেনে শুনে আপনি খাচ্ছেন কেন?
প্রশ্ন শুনে সাকিব হাসে।হাসলে ছেলেটাকে আরও সুন্দর দেখায়।
সাকিব জিজ্ঞেস করলো,আপনি কোথায় নামবেন?
-কমলাপুর।আপনি?
-আমি এয়ারপোর্ট স্টেশনে নামব।তা হলে তো আমাদের পথ ফুরিয়ে এসেছে।নেমে যাওয়ার আগে একটা কথা বলি?
-কী?
-জানি না কেন মনে হচ্ছে আপনি খুব মানসিক চাপের মধ্যে আছেন।আমার মা সব সময় একটা কথা বলে, জীবন নিজের গতিতে চলে।চেষ্টাটা একটা মাধ্যম মাত্র।তবুও চেষ্টাটাই ভরসা।তাহলে শুধু শুধু মানসিক চাপের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মানে কী,তাই না?
এয়ারপোর্ট স্টেশনে সাকিব নেমে যায়।আশ্চর্য সকাল বেলা যেখানে আমার মনে হচ্ছিল খুবই বিরক্তিকর একটা জার্নি হবে,অথচ পুরো জার্নিতে একটা মুহুর্তের জন্যও মনে হয়নি অসহ্য সবকিছু।
সাকিবের কথা ভাবতে ভাবতে ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছায়।না,এবার আর আমি সব মেনে নেয়ার রীতিতে নিজেকে ভাসিয়ে দেব না।আমার জীবনটা আমার। প্ল্যাটফর্মে মামা দাঁড়িয়ে আছেন।আমি দৃঢ় প্রত্যয়ে মামার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ভাবি এবার আর আমি নিলামের মাল হবো না।মানুষ হবো,মুক্ত মানুষ।সাকিবের স্বপ্নের মতো আলোকিত স্বপ্ন আমাকেও খুব হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


দুই লাইনে লাইক দিসি অসাম এই গল্পটাকে। ঠিক সে ধরনের গল্প যে ধরনের গল্প আমি লিখতে চাই Day Dreaming

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


থ্যাংকু মীর ভাই।
গল্প কতখানি ভালো হয়েছে বুঝতে পারছি না,তবে আপনার কমেন্ট যথারীতি ঝাক্কাস।
Wink

তানবীরা's picture


খুব খুব ভাল লিখেছেন ঝর্ণা, অসাধারণ

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


আমার লইজ্জা লাগে আপু।
আপনারা বেবাকতে যে বাড়াইয়া বলেন,আমি বুঝতে পারি।
আপনার লেখাগুলান তো হয় ফাটাফাটি সুন্দর এবং ভালো লাগার।
আর আমার গুলো উতরে যায় আপনাদের সুন্দর মনের জন্য।
থ্যাংকু আপু। Smile

তানবীরা's picture


এটা বাড়াইয়া বলার ওপর দিয়া গেছে। সিধা ছককা। চিনতাই অসাধারণ আর আলাদা। আপনাকে খুব খুব নিয়মিত চাই এ আসরে আমরা

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


নৃত্য
আমার বলার কিছু ছিল না,এখনো নাই।
আমি খুশিতে ষোলখানা।
ভালোবাসার এই ঋণ আমি কেমন করে শোধ করব বু'জান ?

তানবীরা's picture


বেশি বেশি লেখা পোষট দিয়ে Wink

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


চমৎকার লাগলো।

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ধইন্যা পাতা
স্বপ্নচারীর চোখে যদি কিছু চমৎকার লাগে তাহলে আশা জাগে।

১০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


চমৎকার থিমের একটা গল্প।

কথোপকথনে আরেকটু বেশি স্বতঃস্ফূর্ততা থাকলে ৫ তারা দেওয়া যেত।

লিখতে থাকুন। ভাল থাকুন।

১১

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


পাঁচ তারা না পাওয়ার বেদনায় আমি ডুবে আছি ভাইজান। Sad Sad
তয় ভাইবেন না,পাঁচ তারার আশায় আপনারে আমার আরও লেখা পড়াই ছাড়মু । Crazy
হাঃহাঃহাঃ
ধন্যবাদ, সুন্দর পরামর্শের জন্য।
ভালো থাকবেন।

১২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


অপেক্ষায়,

- বাউন্ডুলে! Smile

১৩

আসমা খান's picture


ভালো লাগলো।

১৪

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ধন্যবাদ। Smile

১৫

জ্যোতি's picture


চমৎকার গল্প মজা

১৬

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ধইন্যা পাতা
চমৎকার আপনাদের দেখার চোখ।
আমি কৃতজ্ঞ এই সব ভালোবাসার কাছে।
ভালো থাকবেন ।

১৭

শ্যাম পুলক's picture


একেবারেই বাস্তব যেন
প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া কথামালা;
যা ভাব তাই যেন মেনো
সুন্দরের পথে হোক সবার পথ চলা।

.........................অনেক ভাল লাগলো আপনার গল্প।

১৮

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


গল্প ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম পুলক ভাই। Smile
আর কবিতার মতো সুন্দর কথাগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা।

১৯

সবুজ পাহাড়ের রাজা's picture


আপনার লেখার হাত আসলেই দারুন।
দিন দিন মুগ্ধই হচ্ছি।
সেদিন সচলে কাদালেন আর আজ এখানে জীবনের নতুন উৎসাহ দিচ্ছেন।

২০

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


রাজা ভাই,এইসব ভালোবাসার কাছে আমি কেবলই ঋণী।

২১

জেবীন's picture


আপনি অন্নেক দারুন লিখেন। Smile এই একটা পড়ে বলছি না, বেশ কয়টা লেখা পড়লাম।
গল্পের প্রাসঙ্গিকতায় যে আপ্নের চিন্তার ধরন আর তা লেখার ভঙ্গি সবটাই খুব পছন্দ হয়েছে।

দারুন একজনকে পেলাম এবি'তে, নিয়মিত থাকুন আমাদের সাথে

২২

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


আপুরে আমি বাকহত!!!!
আপনার লেখাগুলো পড়ার পর নিজের গুলোরে আর লেখাই মনে হয় না।
মনে হয় কাকের ঠ্যাং,বকের ঠ্যাং।হা হা হা Big smile
সুন্দর কথা আমার বরবরই ভালো লাগে।আপনাদের এই সব সুন্দর কথা ভীষণ ভাবে ছূঁয়ে যায় আমাকে। মানুষ, মানুষকে কতটা উৎসাহিত করতে পারে তা জানার জন্য সবাইকে বন্ধু ব্লগে আসতে হবে। Love
ভালো থাকবেন।

২৩

মীর's picture


নতুন লেখার কি হলো?

২৪

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


নতুন লেখা আসিয়াছে,দেখেছেন নিশ্চয়ই।
দেরিতে জবাব দিলাম বলে মাইন্ড খাইয়েন না ভাইজান।

২৫

শামান সাত্ত্বিক's picture


অফ লাইনে পড়েছিলাম লেখাটা। শুভেচ্ছা রইল।

২৬

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ধইন্যা পাতা
আপনাকেও শুভেচ্ছা অনে্ক...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মোহছেনা ঝর্ণা's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি খুব সাধারণ একজন।জীবন নিয়ে আমার তেমন কোনো অতৃপ্তি নেই।সেদিক দিয়ে সুখী মানুষ আমাকে বলা যায়। জীবনে আমি যা চেয়ছি ,তাই পেয়েছি।তীব্রভাবে চেয়েছিলাম ভালোবাসার মানুষটিকে।সৃষ্টিকর্তা যেদিন সত্যি তাকে শুধুই আমার করে দিয়েছে সেদিন আমি রবীন্দ্রনাথের মতোই মনে মনে বলেছিলাম,আমি পাইলাম,ইহাকে আমি পাইলাম।'বন্ধু ' শব্দটি ভীষণ প্রিয় আমার।আছে কিছু প্রাণের বন্ধুও।বই পড়তে ভালো লাগে।বেড়াতে ভালো লাগে।মাঝে মাঝে মনে হয় যদি ইবনে বতুতার মতো পর্যটক হতে পারতাম! লেখালেখির প্রতি বেশ দুর্বলতা আমার।লিখিও প্রচুর।যা মনে আসে।ওগুলো আদৌ লেখা হয়ে উঠে কি না ,তা আমি জানি না। আমি যখন লিখি নিজেকে আমার মুক্ত মানুষ মনে হয়।আমার মনে হয় আমার একটা উদার আকাশ আছে।লেখালেখিটা হচ্ছে সেই উদার আকাশে নিজের ইচ্ছে মতো ডানা মেলে উড়ে যাওয়া।উড়ে যাওয়া।এবং উড়ে যাওয়া।