বিশ্বজিতের মৃত্যুর দায় আমাদের সবার
আমরা ষোল কোটি মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ কত সংখ্যক মানুষ সক্রিয় রাজনীতি করি বা সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত? আমার একটা অনুমান, বড়জোড় দু’কোটি কিংবা তিন কোটি(এদের মধ্যে তারাও আছেন যারা রাজনীতি করেন কি করেন না সে ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান না থাকলেও রাজনীতির সব ধরণের সুযোগ সুবিধা তারা ভোগ করে থাকেন)।বাকি তের কোটির মধ্যে তিন-চার কোটি শিশু বা যারা এখনো ভোটাধিকার প্রাপ্ত হন নি।আর বাকি নয়-দশ কোটি মানুষ যারা ,আমরা গোবেচারা,নিরীহ সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচিত তারা যদি যোগ্য লোককে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতাম তাহলে কি আমাদেরকে দেখতে হতো বিশ্বজিৎ হত্যা,তাজরিন ট্র্যাজেডি,চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার দুর্ঘটনা,বাসচালককে জীবন্ত পুড়িয়ে দেয়া,আমিন বাজারে ছয় তরুণকে ডাকাত সন্দেহে এলাকাবাসীর পিটিয়ে হত্যা,সড়ক দুর্ঘটনার বেহাল দশা,মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ৪৪জন নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যু, পুরান ঢাকার নিমতলি ট্র্যাজেডি,লিমনকে পঙ্গু করা,কাদেরকে পঙ্গু করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু-বকরসহ আর ও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে রাজপথে ছাত্র রাজনীতির নামে বলি হওয়া, পরাগ মন্ডলকে অপহরণসহ আরো কতশত ঘটনা।আর প্রতিটি ঘটনাতেই আমরা থাকি নিরব দর্শকের ভূমিকায়।আমরা কষ্ট পাই,বুকের ভেতরে ক্ষরণ চলে,প্রতিটা মুহূর্ত থাকি অনিশ্চয়তায়।তারপরও আমরা তো সব মেনেই নিই।যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তারা তাদের আখের গোছাতেই এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে আমাদের কথা ভাবার মতো,আমাদের ভালো-মন্দ দেখার মতো অত সময় কোথায় আমাদেরই নির্বাচিত নেতাদের।
বিশ্বজিতকে নির্মমভাবে যারা হত্যা করেছে মিডিয়ার কল্যানে আমরা সবাই সে সব রাজপুত্রদের (!!)ছবি দেখেছি।কি ভয়াবহ হিংস্রতা তাদের চোখে মুখে ছিল।কত নির্মম ভাবে রক্তাক্ত করেছে নিজের স্বজাতিকে।এ শুধু আমাদের পক্ষেই সম্ভব।আমরা কত পাশবিক তা প্রমাণ হলো আরো পরে। বিশ্বজিতের মৃত্যুর পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বললেন,বিশ্বজিত হত্যায় অভিযুক্তরা কেউ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী নয়।আইনমন্ত্রী বললেন,বিশ্বজিতের হত্যাকান্ড একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। খোদ প্রধানমন্ত্রীর পেস সচিব জানিয়েছেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা কেউ ছাত্রলীগের কর্মী নয়।তাদের আচরণ দেখে বুঝতেই পারছিলাম না তারা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেয়েও তারা ছাত্রলীগ কর্মী নয় এটা প্রমান করতে কেন এত বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে।গ্রেফতারকৃতরা অবশ্য জানিয়েছে তারা ছাত্রলীগ কর্মী।
এদিকে আবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন বিশ্বজিৎ বিএনপির কর্মী।অথচ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বজিৎ বলেছে,সে কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আবার বিশ্বজিৎ হত্যার আসামীদের গ্রেফতার নিয়েও কেমন যেন ধূম্রজাল তৈরি করার চেষ্টা করলেন।তিনি বলছেন,অভিযুক্ত আটজন ধরা পড়েছে।আর পুলিশ বলছে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।আজকে একটা টিভি চ্যানেলের খবরে দেখলাম নিরপরাধ চারজনকে নাকি বিশ্বজিৎ হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশ্বজিৎ নামের একজন মানুষকে কিছু মানুষরূপী নেড়ি কুত্তা দিনে দুপুরে যে পাশবিক কায়দায় হত্যা করল সে মানুষটারও তো বেঁচে থাকার অধিকার ছিল।তাকে এভাবে হত্যা করা হলো কোথায় আসামিদের বিচার হবে,শাস্তি হবে তা না আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত সেসব খুনিরা কোন দলের তার পরিচয় বের করা নিয়ে।আরে এ খুনের দায়ে তাদের তো এই মুহূর্তে প্রধান পরিচয় তারা খুনি। সেটা তারা যে দলেরই ছত্র ছায়ায় থাকুক না কেন ।
বিশ্বজিতের মা কল্পনা দাশের কান্না সহ্য করতে পারছিলাম না বলে টিভির চ্যানেল ঘুরিয়ে ফেলি।আচ্ছা এত মৃত্যু,এত কান্না,এত আহাজারি,এত হারানোর বেদনা দেখছি তারপরও প্রতিবারই এত কষ্ট হয় কেন? যদি আমি কিছু করতেই না পারি তাহলে আমার কষ্ট পাবার বোধ থাকার দরকার কি?
আমাদের ভোটে নির্বাচিত নেতারা আমাদের ভালো মন্দ দেখবে না,তাহলে আমরা তাদের নির্বাচিত করি কেন?
আমদের সরকার দল,বিরোধী দল কেউ যে আমাদের কথা ভাবে না এটা আমরা সবাই বুঝি।তারা যে জনগণের দোহাই দিয়ে সব কথা বলেন,আমরা সে জনগণের মধ্যে কখনোই পড়ি না।কারণ প্রতিবার হরতাল হলে বিরোধী দল বলে, হরতালে জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন ছিল।আর সরকার দল বলে, জনগন হরতাল বর্জন করেছে।কিন্তু আমাকে তো কেউ জিজ্ঞেস করেনি,হরতালে আমার কি কি সমস্যা হয়েছিল। আমরা যারা কাজ করে খাই হরতালে এত শংকা স্বত্ত্বেও আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষকে কিন্তু ঠিকই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে,অনেক ভোগান্তি সয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে হয়।আমাদেরকে কি কেউ জিজ্ঞেস করে আমরা কিভাবে বেঁচে আছি?আমরা কিভাবে বেঁচে থাকতে চাই?
বিশ্বজিতের মৃত্যুর বীভৎসতায় সারা দেশের মানুষ যেন কেঁপে উঠেছে।যার সাথেই কথা হয় সেই বলে,বিশ্বজিতের বেঁচে থাকার আকুলতা,খুনিদের খুনোৎসবের নমুনায় শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায়।এরা কি মানুষ?মানুষ কি এত বর্বর হয়?
বিশ্বজিতের ঘটনাও হয়তো নতুন কোনো ঘটনার তীব্রতায় আমাদের স্মৃতির আড়াল হয়ে যাবে। আমরা ভুলে যাবো বিশ্বজিতের রক্তের দাগ লেগে আছে দেয়ালে,রাজপথে।আর এই ভুলে যাওয়ার অভ্যাসের কারণেই হয়তো একদিন আমরাই হয়ে যাবো আর কোনো বিশ্বজিৎ।
যে সন্তানের অভিভাবক থাকে না ,কিংবা নিজের মা-বাবা থাকে না,সে সন্তান খুব কম সময়েই নিশ্চিন্তে,নির্ভারে একটু শান্তিতে জীবন যাপন করে এট আমরা কম বেশি সবাই জানি।আমাদের সমস্যা হচ্ছে এসব ঘটনা আমরা নিজের ক্ষেত্রে মানতে চাই না। আর তাই তো অভিভাবক হীনতায় আমরা এদেশের (নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ছাড়া )মানুষেরা সারাক্ষণই থাকি অনিশ্চয়তায়।কখন না জানি কি ঘটে যায়।কারণ আমাদের রাজনীতিবিদদের কাছে তো আমরা বরাবরই সৎঘরের সন্তান।তা নাহলে আমাদের সাথেই কেন বিমাতাসুলভ আচরণ বারবার।তা যখন যে সরকারই থাকুক।আর যখন যে দল বিরোধী দলে থাকুক।আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন নাই।কারণ আমরা হলাম গিনিপিগ রূপী জনগন।যাদের জন্য সব কিছু!!!
বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার করে সরকার জনগনের মনের ভীতি দূর করার চেষ্টা করবে,জনগনকে আশ্বস্ত করবে এবং প্রমাণ করবে এই দেশটা এখনো মগের মুল্লুক বা মাৎসন্যায়ের যুগে চলে যায় নি যে, যার যা খুশি সে তা করবে।একটা স্বাধীন দেশে দিনের পর দিন এমন অরাজকতা চলতে পারে না।এমন অনাচার করার জন্য এত দাম দিয়ে এই দেশ কেনা হয়নি এ কথা আমাদের সবারই মনে রাখা দরকার।





না ভোট
আবার ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
আমাদের ভাগ্য খারাপ,
এই ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১৭টা মানুষ পাওয়া যাবে না যারা সত্যিকার অর্থে আমাদের ভোট ডিসার্ভ করে।
ঠিক বলেছেন,বাউন্ডুলে ভাই।"না" ভোট ফিরিয়ে আনা অবশ্যই প্রয়োজন।তাতে অন্তত রাজনীতিবিদরা বুঝতে পারবে মানুষ অযোগ্যকে কত বেশি অপছন্দ করে। অবশ্য আমাদেরও এ ব্যাপারে বেশ সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুধুমাত্র দলীয় ব্যানারে বা প্রতীকের কারণেই বারবার অযোগ্য এবং নীতিহীন মানুষ আমাদের নেতা হয়ে যাওয়ার এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা যারা ভোটার,সেই আমাদেরই মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।
কিন্তু এখন তো সেই ভাবে ভাবলে কাউকেই ভোট দেওয়া যাবে না।
মন্দের ভাল কে ভোট দিতে চাই না,
সত্যিকারের ভাল কাউকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সৌভাগ্য আদৌ কি হবে কখনো আমাদের?!
বিশ্বজিত রা মরতে থাকবে; সরকাররেরা তাদের মতোই থাকবে, বিরোধীদলেরা তাদের মতোই থাকবে, আমরা সাধারণ জনগনেরা দু'দিন হাহুতশ করবো, তারপরে আবার নতুন কোন ঘটনা কিংবা দূর্ঘটনা আগের ঘটনা ভুলে যাবো...
~
আমরা এখনো জেগে উঠছি না কেন?
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য আমরাই দায়ী।দায় মোচনের জন্য আমাদের জেগে ওঠা খুব বেশি প্রয়োজন।তা নাহলে কাল আমার কিংবা আমাদের সাথে এর চেয়েও ভয়াবহ কিছু হয়ে যেতে পারে।
আমি নিরবাচন বয়কটের দলে
শুধু নির্বাচন বয়কট করলেই কি এই সমস্যার সমাধান হবে আপু?
আমাদেরকে যোগ্য মানুষ নির্বাচন করতে হবে রাজনীতির জন্য।যে মানুষ সত্যিকার অর্থেই দেশ এবং জনগণের জন্য রাজনীতি করবে।দল আর প্রতীকের উর্ধ্বে উঠে যিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করবেন।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন মানুষ কোথায় পাই?
ভন্ড রাজনীতির উপর চপেটাঘাত! ভাল লিখেছেন। আমি আর কি লিখব, আমার পাশের বাসায় বিশ্বজিত থাকত।
বুর্জোয়া গণতন্ত্র সাথে ধর্মের লেবাস বা ব্যবসা--- এর চেয়ে খারাপ দেশ আর কি হতে পারে।
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ--পড়ার অনুরোধ রইল।
আহা!বিশ্বজিত!!
যতবারই বিশ্বজিতের হত্যার দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে ,আমি শিউরে উঠি।আমার এখনো বিশ্বাস হতে চায় না এমন একটা বীভৎস ঘটনা আসলেই ঘটেছে।
বইটা এখনো পড়া হয়নি।পড়ব।
আমি শুধু আমাদের জেগে ওঠার অপেক্ষায় আছি
রাজনীতিকরা কঠিনস্য কঠিন চীঝ আপুমনি। আপনি চাইলেই তারা আপনাকে তাদের খপ্পর থেকে বেরুতে দেবে কেন
বিশ্বজিতের গায়ে দুই একটা কাটাছেড়া পাওয়া গেছে নাকি

এই দেখেন সেদিন কি হয়েছিল
আমি আমার এক ফ্রেন্ডকে বলেছিলাম হয়ত নতুন করে জজ মিয়া কিংবা শৈবাল সাহা পার্থ দেখব আবার।
কিছুদিন বিশ্বজিৎ আলোচনা থাকবে তারপর ফাইল হিমাগারে চলে যাবে। আরেকটি নতুন বিশ্বজিৎ কাহিনী রচনা হবে।
আর কিছু বলার নেই, আপনার লেখার সাথে সহমত জানিয়ে গেলাম।
মন্তব্য করুন