ইউজার লগইন

বই মেলা ঘিরে কিছু টুকরো স্মৃতি

প্রতিবছরের মতো এবারও এসেছে ফেব্রুয়ারী মাস। ভাষার মাস,ভালোবাসার মাস,বই মেলার মাস।
একুশের বইমেলা ঘিরে আমার খুব সামান্যই স্মৃতি। যখন ভার্সিটিতে পড়তাম একুশের বইমেলা উপলক্ষে বিভিন্ন চ্যানেলে বিকাল ৩টার পর থেকে সরাসরি মেলা প্রাঙ্গন থেকে বইমেলা দেখানো হতো।প্রতিদিন মেলায় আসা নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হতো।আবার কবি সাহিত্যিকদেরকে তাদের অনুভূতি সম্পর্কে উপস্থাপক অনেক কথা জানতে চাইতেন।আমি বুভুক্ষের মতো সেই অনুষ্ঠান গুলো দেখতাম।আর ভাবতাম আহ কবে যে একটু বই মেলায় যেতে পারব।
সেই প্রাণের মেলায় প্রথম গিয়েছি ২০০৮ সালে।সাথে ছিল আমার মেজো ভাই রিমন,ভাতিজা আরাফাত এবং ভাতিজি আরিফা।খুব সম্ভবত সেদিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারী।শুক্রবার।বন্ধের দিন থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই ভিড় ছিল মাত্রাতিরিক্ত বেশি।তার ওপর ছিল ভালবাসা দিবস।
মানে ভিড় কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি সব যেন একদিনেই বুঝিয়ে ছাড়বে আমাদের এমন ই দশা।প্রায় ২ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অতঃপর আমরা বইমেলায় ঢুকেছিলাম। কিন্তু আশ্চর্য লাগে ঐ ২ ঘন্টায় আমাদের চারজনের কেউ বিরক্ত হয়নি।আমার ভাতিজি আরিফা তখন ক্লাস টু তে পড়ত। আমরা ভয় পাচ্ছিলাম এতটুকু মেয়ে এত মানুষের ভিড় দেখে আবার কেঁদে না ফেলে। কিন্তু না,বরং ও আমাদেরকে অবাক করে বলেছিল কাকা আমরা সবাইকে ঠেলে মেলায় ঢুকে যাব এবং আমরা মেলায় অনেক্ষণ থাকব।
প্রথমবার বইমেলায় গিয়ে সে কি মুগ্ধতা আমার।আরে টেলিভিশনে তো পুরো মেলার সিকি ভাগ আনন্দও বোঝা যায় না।
২০০৮ এর পর ২০১০ এ গিয়েছি।সেবার দু’দিন মেলায় যেতে পেরেছি দেখে আমার খুশির সীমা ছিল না। এরপর ২০১২ সালে ব্যাংকের দেড়মাসের ট্রেনিংএর সুবাদে ৫বার মেলায় গিয়েছিলাম ভাই আর সহকর্মীদের সঙ্গে। আহ সেবার যে কী ভীষণ আনন্দ হয়েছিল!
কত প্রকাশনী !কত বই!প্রতিবারই কিনেছি বেশ কিছু বই।বই কেনার মধ্যেও বেশ আনন্দ আছে। দেখা গেছে যা বাজেট করে মেলায় গিয়েছি বই কিনতে কিনতে বাজেট ফুরিয়ে কখন শেষ তার খেয়ালও নেই।আচ্ছা আমি একটা মানুষ,তার আবার বাজেট।
কত কত বই! ভাল লাগলেও সব কেনার সাধ্য কই? নেড়ে চেড়ে দেখি।কোনটার প্রচ্ছদ দেখতে ভাল লাগে , কোনোটার উৎসর্গ নামা, কোনো ফ্ল্যাপে লেখা অংশটুকু।বই কেনার সময় বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের তুলনায় নতুন নতুন কবি, লেখকদের বইই বেশি কিনেছি।
লিটল ম্যাগ কর্ণারটা যেন প্রাণের একটা জায়গা।নতুন লেখকদের জন্য মেলার ভেতর আরেক মেলা হচ্ছে এই লিটল ম্যাগ চত্বর।এখানে প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। লিটল ম্যাগের মধ্যে গল্প সংকলনগুলো স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি কিনেছি।

বিদেশি লেখকদের বইয়ের অনুবাদগুলোর জন্য আলাদা বইয়ের স্টল আছে দেখে খুব ভাল লেগেছিল। আলবার্তো মোরাভিয়া নামক ইতালিয়ান লেখকের বই “টু উইমেন” দিলওয়ার হাসানের অনুবাদ করা বইটি কিনেছিলাম বইয়ের স্টলের বিক্রেতার পরামর্শে।রুচিশীল সেই বিক্রেতা বলেছিল,আপু এই বইটা কিনুন,পড়ে দেখবেন চমৎকার একটা বই। ভাবলাম আচ্ছা না হয় কিনি।কেউ একজন এমন সুন্দর করে বললে তো কিনতেই হয়।বইটা পড়ে মনে মনে সেই রুচিশীল বিক্রেতাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছি এত সুন্দর একটা বই আমাকে যেচে বেছে দেয়ার জন্য।
এরকম আরেক স্টলে বিক্রেতার কথা রাখতে গিয়ে কিনলাম আরিফ মইনুদ্দীনের “সকাল ভাঙ্গা গান” নামে একটা কবিতার বই।
মেলায় গেলে আমি হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন এর মতো নামী লেখকদের বই তেমন কিনি না।কারণ ওনাদের বই সারা বছর সব দোকানেই পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক লেখক আছেন যাদের বই চাইলেও পাই না। যেমন শাহনাজ মুন্নীর একটা গল্প বই একটা স্টলে দাঁড়িয়ে একটু পড়তেই বেশ ভাল লেগেছিল। কিনব কিনব করে আরও কিছু বই দেখছিলাম। তখন আবার পরিচিত এক জনের সাথে দেখা হয়ে যাওয়ায় গল্প গল্প করতে করতে অন্যদিকে চলে গিয়েছলাম বলে আর কেনা হয়নি।ভাবলাম আচ্ছা পরে আরেকদিন এসে কিনব। কিন্তু আমি তো স্টলের নাম মনে রাখিনি।পরে আর সে বই কেনা হয়নি।বইটার জন্য এখনো আফসোস লাগে।আর রাগ লাগে নিজের প্রতি বইটার নাম ভুলে গিয়েছি বলে।
যখন শুনি কেউ প্রতিদিন বই মেলায় যাচ্ছে তাদেরকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় আমার। একসাথে এত বই দেখার মধ্যেই তো বিশাল একটা আনন্দ।নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বই মেলার চারপাশটা দারুণ এক নেশায় আচ্ছন্ন করে রাখে।
আহ! আরেকটা বই মেলা চলছে।কী দারুণ খবর।এবার বই মেলা তো আমার জন্য অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দের,অনেক বেশি সুখের।কারণ এবার বই মেলায় আমার নিজেরও একটি বই থাকছে “নৈঃশব্দ্যের ভেতর”।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


ভালো লাগলো আপু!

ফাহিমা কানিজ লাভা's picture


বই আর বইমেলা নিয়ে আপনার আবেগ ভাল লেগেছে জেনে। Smile

পাপন বড়ুয়া শাকিল's picture


বই মেলায় যাওয়ার সেই সৌভাগ্য আমার হয়নি।আপনার লেখা পড়ে মনে হল আমিও
এই মাত্র বই মেলা থেকে ঘুরে আসলাম ! ও হ্যাঁ,চট্টগ্রামে আপনার বই কখন আসবে ?

মোহছেনা ঝর্ণা's picture


ভালো লাগল জেনে।অনেক ধন্যবাদ।
চট্টগ্রামের বই মেলাতে পাওয়া যাবে।এছাড়া তিন চার দিন পর থেকেই বাতিঘরেও পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মোহছেনা ঝর্ণা's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি খুব সাধারণ একজন।জীবন নিয়ে আমার তেমন কোনো অতৃপ্তি নেই।সেদিক দিয়ে সুখী মানুষ আমাকে বলা যায়। জীবনে আমি যা চেয়ছি ,তাই পেয়েছি।তীব্রভাবে চেয়েছিলাম ভালোবাসার মানুষটিকে।সৃষ্টিকর্তা যেদিন সত্যি তাকে শুধুই আমার করে দিয়েছে সেদিন আমি রবীন্দ্রনাথের মতোই মনে মনে বলেছিলাম,আমি পাইলাম,ইহাকে আমি পাইলাম।'বন্ধু ' শব্দটি ভীষণ প্রিয় আমার।আছে কিছু প্রাণের বন্ধুও।বই পড়তে ভালো লাগে।বেড়াতে ভালো লাগে।মাঝে মাঝে মনে হয় যদি ইবনে বতুতার মতো পর্যটক হতে পারতাম! লেখালেখির প্রতি বেশ দুর্বলতা আমার।লিখিও প্রচুর।যা মনে আসে।ওগুলো আদৌ লেখা হয়ে উঠে কি না ,তা আমি জানি না। আমি যখন লিখি নিজেকে আমার মুক্ত মানুষ মনে হয়।আমার মনে হয় আমার একটা উদার আকাশ আছে।লেখালেখিটা হচ্ছে সেই উদার আকাশে নিজের ইচ্ছে মতো ডানা মেলে উড়ে যাওয়া।উড়ে যাওয়া।এবং উড়ে যাওয়া।