স্মৃতির ফুলে বৃষ্টি ছুঁলে পরে, আমার ঘরে গন্ধ টলোমলো-১
দ্বিতীয় পোস্টেই ধারাবাহিক লেখা শুরু করাটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না?
এই দুপুর রাতে হুট করে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল, যার ফল হিসেবে অবধারিত ভাবেই বাকি রাতটা দীর্ঘশ্বাসে দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে উঠবে, করার কিছুই নেই, এরই নাম স্মৃতির শরাব। ব্যাপারটা অনেকটা "বুক যত জ্বালা করে মুখ ততো চায়" এর মতো।
আমি ছোট বেলায় উদ্ভিদ টাইপের শিশু ছিলাম (এখন কিন্তু উদ্ভিদ ভোজী বাঁদর টাইপ!) সব সময় মায়ের আচলের ছায়ায় ছায়ায় থাকতাম, শিশু সুলভ লাফালাফি খুব একটা ছিল না আমার মধ্যে। খুব একটা বাইরে টাইরে বেরোতাম না, সারাদিন ঘরে বসে বিচিত্র ধরণের খেলা খেলতাম, এই যেমন কলম দিয়ে রেসলিং অথবা ক্রিকেট খেলা, সিগনেচার পেন আর মার্কারের শিশ দিয়ে গরু বানানো, ইত্যাদি ইত্যাদি...
আমার মতো ভেজিটেবল ঘরাণার শিশুদের সাধারণত বন্ধু টন্ধু থাকে না, কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে আমার বেশ কিছু বন্ধু ছিল, বন্ধুর চেয়ে বেশী ছিল বান্ধবী। বলতে একটু লজ্জা লজ্জা লাগছে, আমি ছেলে বেলায় মেয়েদের সাথে মিশতে বেশী ইজি ফিল করতাম। আরে না, ফ্রয়েডিক ব্যাপার স্যাপার না, ছেলেদের দস্যি রূপের চেয়ে মেয়েদের ঠান্ডা রূপটা আমার মতো দুর্বল উদ্ভিদ শিশুর কাছে বেশি নিরাপদ মনে হতো।
আমার খুব কাছের একজন বন্ধু ছিল সোহাগ।ওর সাথে মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলতাম, সেই সময় আমার ধারণা ছিল ছয় বা চার মারলেও একরান গুনতে হয়। সোহাগ শয়তানটা আমার ভুল ধরিয়ে দিত না বরং এই সুযোগটা কাজে লাগাতো ষোল আনা, আর আমি হেরে হেরে মামদো ভূত হতাম। বন্ধুদের মধ্যে আরো ছিল ইমদাদুল, আশরাফ, জুয়েল, দিবাকর, রিপন, ইমরান... আমি আমার এই ভেজিটেবল বাল্য জীবনে একমাত্র ইমরানের সাথেই চুটিয়ে মারামারি করতে পেরেছি!
আমার বান্ধবীরা ছিল ভিষণ মায়াবতী টাইপ।তাদের নাম গুলো কি কম সুন্দর- সুবর্ণা, লেভি, প্রিয়া, লাবিবা, মেহরিণ, তন্দ্রা...
তন্দ্রার বাবা আমার আব্বুর কলিগ ছিল,আমরা পাশাপাশি ফ্লাটে থাকতাম, দুপুর বেলা ও আর আমি একসাথে ঘুমিয়েছি দীর্ঘদিন, ও আর আমি দু জনেই একা ছিলাম বলে আমাদের সম্পর্কটা অনেকটা ভাইবোনের মতো হয়ে গিয়েছিল।
আমি মাকে না নিয়ে স্কুলে যেতাম না, একা একা স্কুলে যাওয়ার কথা ভাবলেই কেন যেন পেটের ভেতরটা গুড়গুড়িয়ে উঠতো।মা যেদিন যেতে পারতেন না সেদিন প্রিয়ার সাথে স্কুলে যেতাম। মেয়েটা খুব কেয়ার নিতো আমার।স্কুলে যাওয়ার কিংবা বাসায় ফেরার পথে ও আমাকে বারবার রাস্তার পাশের পাচিল ছোঁয়ার কুফলের কথা মনে করিয়ে দিত, ওর ধারণা ছিল পাচিলের কালো কালো জায়গায় বিরাট বিরাট শুঁয়োপোঁকা লুকিয়ে থাকে।
(চলবে...)





পড়ছি জানিয়ে গেলাম। পর্ব আর একটু বড় হলে ভালো লাগতো। মনে হল শুরু না হতেই যেন শ্যাষ
ঠিক...ঠিক...
উদ্ভিদভোজী পোলার জীবন কাহিনী আরো জানতে চাই।
পরের পর্ব আরেকটু বড় চাই।
পরের পর্বটা আরো বড় করার জন্য উদ্ভিদ ভোজী পোলা অবশ্যই চেষ্টা করবে।
উদ্ভিদ টাইপটা আবার কি?
উদ্ভিদ টাইপ মানে ভ্যাবদা মাছ টাইপ..!
বিমূর্ত ভাবনা আর কি...
আরে না, লজ্জা পাবেননা। লিখে জান আপনার ছেলেবেলায় মেয়েদের সাথে বেশি বেশি মিশামিশির কাহিনী...
দোয়া রাখবেন!
মন্তব্য করুন