হটল্যান্ড থেকে ফ্রিজল্যান্ড ১ : প্রস্তুতি
প্রায় অর্ধযুগ হয়ে গেল বিদেশ ঘুরে আসার। কতবার ভাবছি এইটা নিয়ে লিখব কিন্তু আজ না কাল করে করে লেখা হয়ে উঠে না। দেড় মাসের জন্য হল্যান্ডের খুব খুবই ছোট এক শহরে থাকার আনন্দের স্মৃতি এতদিন না লেখার অন্যতম কারণ সেই চমৎকার সময়ের ভিজুয়াল স্মৃতি উপকরণ হারিয়ে ফেলা। সেখানে আমি আমার আশেপাশের যত ছবি তুলিছেলিাম একটা সিডিতে কপি করা ছিল। সেই সিডিটা হারিয়ে ফেলার দুঃখে লেখা আর হয়ে উঠেনা। এইবার ঠিক করেছি লিখেই ফেলব, নাহলে আর হয়ত আমার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমনের কথা লেখা হবে না।
আমি তখন একটা ডাচ-বাংলাদেশি কোম্পানিতে কাজ করতাম। কয়েকদিন ধরে কথা হচ্ছিল আমার ও আরেকজন সিনিওর কলিগের নেদারল্যান্ড যাওয়ার। তবে যাওয়া যে হবে নিশ্চিত ছিলনা। কিন্তু যখন নিশ্চিত হল তখন হাতে সময় নাই। এক সপ্তাহের মধ্যে যেতে হবে। এবং একা। এদিকে আমার কোনো প্রস্তুতি ছিলনা। এমনকি পাসপোর্টও ছিলনা।
নেদারল্যান্ড থেকে মেইলের পর মেইল আসতে থাকল। যাওয়ার জন্য কী কী কাগজ লাগবে, ঐখানে কী কাজ করতে হবে এই সব নিয়ে। এই প্রথম আমাদের বিগ বস কোম্পানির মালিক কেইস নেবারের(Cees Nieboer) সাথে যোগাযোগ হল। তবে সেক্রেটারি ইডা চমৎকার ভাবে গুছিয়ে সহজবোধ্য মেইল করত । আমি কিন্তু ভিতরে টেনশনে অস্থির। যে কাজের জন্য আমি যাব সেইটা কখনো করি নাই। বিদেশে গিয়ে শিখে কাজ করতে হবে। পারব কীনা সেই ভয়ে ঘুম আসেনা আমার। আমি আসলে যেতেই চাই নাই। কিন্তু উপায় নাই, চাকরি করতে হলে যেতেই হবে। তাছাড়া আমি ছাড়া অন্য লোক ছিলনা তেমন।
জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য আবেদন করলাম। পুলিশ ভেরিফিকেশনে এসে ভাব বুঝে বজ্জাত পুলিশ টাকা নিল। পাসপোর্ট যথাসময়ে পাওয়ার জন্য পরিচিত লোক ধরা হল। কিন্তু তবুও পাসপোর্ট হাতে পেয়ে এম্বেসিতে জামা দিতে গিয়ে দেখা গেল দশ মিনিট দেরী হয়ে গেছে। সেদিন আর ভিসার জন্য দাঁড়ানো যাবেনা।
ফিরে আসছি অফিস থেকে ফোন আসছে অপেক্ষা করার জন্য। কেইস এম্বেসেডরকে ফোন করেছে যেন আজ আমার এপয়নমেন্ট হয়। এমন নাছোড়বান্দা মানুষ! যদিও সেদিন হয় নাই। পরের দুই দিন বন্ধের পর অফিস ডে তে আবার গেলাম। ভিসার পাওয়া নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা ছিলনা। না পেলেই বেঁচে যাই। অফিসার বাদামী রং এর মহিলা। কোন দেশি বুঝলামনা, ভারতীয় বা বাঙালি বা এংলো হতে পারে। তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি ও সুরে জিজ্ঞেস করল কেন যাব, কী কাজ করব ইত্যাদি। আমি তাচ্ছিল্যের ভাব নিয়া উত্তর দিলাম। আমাকে ইনভাইট করা এডোয়ার্ড বিটোফেনের লম্বা চুলের ছবি দেখে বিশ্বাস করতে চায় না সে ছেলে। যাই হোক ভিসা পাওয়া গেল। আমি পাসপোর্ট হাতে নিয়ে ভাবি ভিসা নাদিলে কেইস নিশ্চয়ই পরের ফ্লাইটে বাংলাদেশে এসে এম্বেসেডরের কলার ধরত! দেড় মাসের ভিসা সাথে শর্ত দেড় মাস পর এম্বেসিতে গিয়ে দেখা করে প্রমান দিতে হবে আমি পালায় যাই নাই হল্যান্ডে।
তারপর দুইদিন গেল টিকিট, ইনসুরেন্স, গরম কাপড় কেনা ইত্যাদি করে। খুব সকালে ফ্লাইট। ভোররাতে মা, বউ আর আড়াইমাসের রিমঝিমের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জীবনের প্রথম বিদেশ, প্রথম বিমানে ওঠা এবং পরবর্তীতে অজস্র প্রথমের অভিজ্ঞতা নিতে এয়ারপোর্টের দিকে যাত্রা করলাম।





সিরিজ তো? চলবে লেখেন নাই কেন?
চলুক চলুক......আরো বড় বড় কিস্তিতে।
ভ্যাম হয়া গেছে।
খাইছেরে... আপনে দেখি জীবনের পরথম বিদেশ ভ্রমনই করছেন বিদেশে !!
আমি করছিলাম ইন্ডিয়ায়।
সময় পাইলে লেখুমনে সে গল্প। তার আগে " মিষ্টি আপার " গল্প লেখুম
চালাইয়া যান। ডেলি এক পর্ব কৈরা লেখেন। ম্রাত্বক হৈতাছে বস
ডেলি এক পর্ব লিখতেই চাই। কিন্তু টাইলেও প্রথম পাতা আমার পোস্টেই ভরা থাকবে, অন্যরা তো লিখেনা।
থ্যান্কু বস।
হ্যা, জয়িতা'পু একদমই লেখে না।
আমার নামে কমেন্টগুলা তাইলে কে লেখে?
এমন জায়গায় শেষ করলেন! আরো বড় পর্ব চাই এবং নিয়মিত চাই। নিয়মিত মানে বুঝছেন তো! ২ মাসে পর পর না। ২/ ৩ দিন পর পর।
ওখে
আপনি প্রতিদিন দিতে চান। দেন , পিলিজ লাগে। আপনি আইলসা দেখে আমি ২/৩ দিন পর বললাম।
পরের পবর্ পড়ার জন্য তৈরী হলাম
পর্বগুলোকে জোর করে সংকুচিত করা না হয় যেন। আর প্রতিদিন এক পর্ব করে দিতে হবে।
হুমমমম, সবার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ মনে হয় এমনই হয়। পরের পর্ব ছাড়েন তাড়াতাড়ি
এত ছুটু কেনু?
আপনার সব প্রথম নিয়াও একটা সিরিজ লেখেন রায়হান ভাই
সব প্রথম?
স---অ----অ-----ব !!

মেঘকন্যা, মীর, কামরুল হাসান রাজন, বৃত্তবন্দী , শওকত মাসুম
ধন্যবাদ।
আপনার আগের একটা সিরিজ কিন্তু ডিউ আছে
কোন্টা?
পাসপোর্ট রেডি, বিদেশ যামু
অর্ধযুগ আগে? খুব সুন্দরী একজন বাঙ্গালী মহিলা ছিলেন এক সময় তিনি অবশ্য ভারতীয় বাঙ্গালী ছিলেন। কতো সাল স্পেসিফিক বললে গেস করতে পারতাম অবশ্য।
থ্যান্কিউ
মন্তব্য করুন