বিষণ্ণতা যে দিন তারা হয়ে জ্বলবে
কি জানি হচ্ছে ইদানিং। জমে থাকা কাজগুলো করাই হয়ে উঠছে না। টেবিলটা খুব অগোছালো হয়ে আছে। অজস্র ধুলো জমেছে কম্পিউটারের মনিটর আর বইগুলোতে। কয়েকটা ফোন কল আর ইমেইল করার কথা সময়মত মনে থাকছে না।
এরই মধ্যে গরম পড়ে গেলো। কয়েকটা টি শার্ট কেনা দরকার। একটা রোদ চশমাও ভীষণ জরুরী। তার চেয়েও জরুরী আগামি মাসে পাহাড়ে বেড়াতে যাবার জন্য অগ্রিম টিকেট কেটে রাখা। কে কে যাবে, কোথায় কোথায় যাবো সেসবও কিচ্ছু জানি না।
অথচ দিনগুলো একটা একটা করে ফুরিয়ে যাচ্ছে। কাল রাতে সবুজ ঘাসের চাদরে বসে অবকাশ যাপনে রত ছিলাম, আকাশে ছিলো বিশাল আকৃতির চাঁদটা। আধ শোয়া হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে শাহিন ভাই বললেন, চাঁদতো দেখা যাচ্ছে। তখনই আমাদের মনে হল যে ফাল্গুন মাসটা চলে গেলো।
গত বছর কি তার আগের বছর একটা গান গাইত ছেলে পেলে। এই ফাল্গুনী পূর্ণিমা রাতে, চল পলায়ে যাই। এবার গানটা কাউকে গাইতে শুনি নি। গভীর রাতে কালো রাস্তায় হাঁটার সময় আমি দু একবার গেয়েছি হয়ত। কিন্তু পালিয়ে কোথাও যাওয়া হয় নি।
এখন চৈত্র মাস। চারদিকে খালি হাহাকার আর সর্বনাশ। পালিয়ে দূরে চলে যাবার চিন্তা করারও উপায় নাই। ছুটি পেতে হলে নাকি খুব খাটা খাটনি করতে হবে এই কয়দিন।
এদিকে চারপাশের মানুষ জন দেখি বড্ড আরাম আয়েশে আছে। ফেসবুকে ঢুকলে সবার দাঁত বের করা ছবি দেখে তো তাই মনে হয়। কারো হাতে আবার ঝালমুড়ি আইসক্রিম, কারো হাতে প্রেমিক অথবা প্রেমিকা। আমার ধারনা ওরা মনে করে যে ওরা সবকিছু বুঝে ফেলেছে। বেশীক্ষণ ওদের ওসব দেখতে ভালো লাগে না।
তারচেয়ে বরং এই মেঘলা আকাশ ঢের ভালো। এখানে এলে পরেই মনে হয় ব্যাথার আদরে অবুঝ আঙ্গুল রাখতে ভালবাসে আরও অনেকেই, আশেপাশের অদৃশ্য বন্ধুদের উপস্থিতি টের পেয়ে একটু ভালো লাগে।
এসবের মাঝে মাঝে ছোটবেলায় শোনা একটা গান আমার মনে পড়ে যায়। আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন। হৃদয়ের আগুন নাকি সেদিন তারা হয়ে আকাশে জ্বলবে। কুমার শানু আর কবিতা কৃষ্ণমূর্তি মনে হয় পৃথিবীর সবটুকু বেদনা ঢেলে দিয়েছিলেন গানটা রেকর্ড করার সময়।
কষ্টে সৃষ্টে আরও কিছুদিন যাক এভাবে। বন্ধুদের সাথে একদিন আমিও আরাম আয়েশে বের হবো। ছয় মাস পর একদিন হলেও। চলে যাব দূরের কোনও এক গন্তব্ব্যে। খুব মায়া নিয়ে অপেক্ষা করছি, সে দিনটা নিশ্চয়ই খুব সুখের হবে।





বের ত হবেনই। ফিরে আসার ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন !
বের হবার আগেই ফিরে আসার কথা মনে করায়ে দিলেন ভাই?
কোন একদিন..কোন একদিন..
সেদিনের অপেক্ষায় দুঃসহ প্রতিদিন।
বেস্ট অফ লাক!
ধন্যবাদ। শুভকামনা গ্রহন করা হইল।
ভাল লেগেছে, লেখা
থ্যাংকু তানবীরাপু।
ভাল লাগলো।
থাঙ্কু রুনাপু।
মন্তব্য করুন