ইউজার লগইন

অর্থ অর্জন

আপা দেশে এসেছে অনেকদিন পর। সাথে ভাগ্নেটা। বেশ পাজি। কথাবার্তা শুনতে চায় না। নিজের মতই সব কিছু করে। নিজের মতই সব কিছু পেতে চায়। সবকিছুই তাকে সেইভাবে দিতে হবে, যেভাবে সে চায়। বিদেশ থেকে আসা একটা চার বছরের ছেলে যে এমন জিদ ধরে চলবে, ভেবে পায় না তানিশা। সবে এইচএসসি শেষ করেছে সে। হাতে যথেষ্ট সময়। তাই সব আবদার তার উপরই। কী আর করা আপার ছেলে যে! টেবিলে রাখা বাবার ওয়ালেট থেকে বাবার অজান্তে দশ ইউএস ডলারের একটা নোট নিয়ে এসে বলে, “খালা, চানাচুর আনো।” ঢাকায় আসার দু'দিনের মধ্যেই চানাচুর তার প্রিয় হয়ে গেছে। ইউএস-এ বাসায় বাংলা চর্চা থাকায় বাংলাটাও তার আত্মস্থ হয়েছে বেশ। তানিশা ছুটে গিয়ে আপাকে দেখায়, “দেখো, তোমার ছেলেকে, আমাকে কোথা থেকে দশ ডলার এনে দিলো।” আপা থামকে গিয়ে জেরা করে শানুলকে, “কি তুমি এই টাকা কোথায় পেলে।” “বাবার ওয়ালেট থেকে”, নিষ্পাপ উত্তর। “তাই বলে তুমি না বলে নেবে বাবার ওয়ালেট থেকে”, আপা শানুলকে বুঝায়। “কই ওয়ালেট?” শানুল অই দিকে বলে বাসায় ওদের জন্য অস্থায়ী শোয়ার রুমটা দেখায়। আপা ডলার নিয়ে চলে যায়। তারপর ফিরে এসে বলে, “এখন কি কোন দোকান খোলা আছে তানি? রাত কত বাজে? বৃষ্টি থেমেছে?” “আপা দাঁড়াও আমি যাচ্ছি। এখন তো দশটা বাজে। লোকটা বোধ হয়, এখনো তার স্টোর বন্ধ করেনি”, বলে তানিশা বের হতে উদ্যত হয়। আপা চিৎকার দিয়ে উঠে, “তুই একা কোথায় বের হচ্ছিস এই রাতে। দাঁড়া সাইফুলকে পাঠাই।” “না, আমি যাচ্ছি। ও আসতে আসতে দেরী হয়ে যাবে।” তানিশা বেরিয়ে পড়ে।

সালেক সাহেব অনেকদিন সৌদি আরব ছিলেন। কী কাজ করতেন জানা নেই। তবে তিনি দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের লোক হলেও ঢাকা শহরের এই এলাকাকে বেছে নিয়েছেন। কেন নিয়েছেন তার ব্যবসা শুরুর পর্যায়ে তা তিনিই ভাল জানেন। সিদ্ধান্তটা যে সঠিক ছিল, তার “মারহাবা” ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের রাতারাতি উন্নতি, তারই ইঙ্গিত দেয়। ভদ্রলোকের দেড়যুগের উপর সৌদিতে উপার্জনের পুরো টাকাটাই ঢেলেছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই আধুনিকমানের একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর করতে। স্টোরটা সদর রাস্তার উপরে। দু'পাশের আবাসিক এলাকার লোকজনের এতে যাতায়াত। উচ্চবিত্ত না হলেও বিত্তবানরা বসবাস করেন এই এলাকায়। বলতে গেলে মাছ মাংস থেকে সবকিছুই আছে এই স্টোরে। সবকিছু সাজানো-গোছানো পরিপাটি করে রাখা। একদামে রাখা বলে ভদ্রলোকের চাইতে ভদ্রমহিলারা এখানে কেনাকাটা করে স্বস্থির পাশাপাশি একধরণের গৌরব বোধ করেন। একমাত্র এই স্টোরেই কোন মহিলাকে দরাদরি করতে সচরাচর দেখা যায় না। স্টোরটাতে এক ধরণের অভিজাত অভিজাত ভাব সহজেই টের পাওয়া যায়, দেশের বাস্তবতার বৈপরীত্যে।

সালেক সাহেব বেশ ধার্মিক। শ্মশ্রুমন্ডিত, মাথায় টুপি। বেশ চটপটে, অমায়িক। যৌবনের পুরো সময়টা মরু প্রবাসে শ্রমময়তায় বিলিয়ে দিয়ে এখন নিজের জন্য, নিজের গর্বের জন্য কিছু একটা করছেন, তা একটু গভীরে দেখলে টের পাওয়া যায়। উন্নত সেবা দিতে যেমন প্রস্তুত থাকেন, সে ভাবে অর্থ আগমনটা নিশ্চিত করতে এই মধ্য বয়সেও ছাড় দিতে প্রস্তুত নন। স্টোরে আরো তিনজন কর্মীকে কাজ করতে দেখা যায়। যতক্ষণ তিনি তার স্টোরে থাকেন, সব কর্মী এমনকি যেন ক্রেতাদের উপরও থাকে তার শ্যেন দৃষ্টি। স্টোরের কোন কোণই তার দৃষ্টি সীমাকে এড়িয়ে যেতে পারে না। মনে হয়, যৌবনে অর্থের পেছনে ছুটে যে বিরাট এক শূন্যতা তার জীবনে সৃষ্টি হয়েছে, এখন তা পূর্ণ করার সময়। আরব্য দেশে থেকে আরবীটা যেরুপ রপ্ত করেছেন, ধর্ম-কর্মটাকে সেরুপ আঁকড়ে ধরে আছেন। নামাজ কখনো কাজা করেন বলে মনে হয় না। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ সমর্পণ তার প্রতি পদনিক্ষেপে দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠে। ব্যবসাকে আরো বড় করার একটা জিদ ভেতরে তীব্রভাবে কাজ করে তার। দিনে দিনে সালেক সাহেবের এই সফল ব্যবসার প্রতি এলাকার মানুষের এক ভক্তিমূলক শ্রদ্ধা গড়ে উঠে।

তানিশা দ্রুত ছুটে আসে বাসা থেকে যদি স্টোরটা বন্ধ হয়ে যায়। দু'টো তরুণকে কেমন ঝুঁকে ঝুঁকে রাস্তা অতিক্রম করতে দেখে, সে ভড়কে যায়। গাড়ি-ঘোড়ার নীচে চাপা পড়ার ভয় নেই নাকি এদের। একটাকে টলে টলে হাঁটতে দেখে তানিশা। অন্যটা লম্বা, স্বাস্থ্যবান, শক্ত-সামর্থ্য। সে পাশের টলতে টলতে হাঁটতে থাকা ছেলেটাকে ধরে এগিয়ে যায়। লম্বা ছেলেটার মধ্যে এক ধরণের তাড়া লেগে আছে। একটা হন্তদন্ত ভাব। কী জানি! এত বুঝতে চায় না সে। আজকাল তো নেশাখোর যুবকের অভাব নেই। ভাল ঘরে, মধ্যবিত্ত ঘরে, উচ্চবিত্ত ঘরে। আশ্চর্য! “মারহাবা” ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কাছে এসে লম্বা ছেলেটা কোমড় থেকে গামছা খুলে তার মুখটা বেঁধে ফেলে। পকেট থেকে বড় রুমালের মত আরেকটা কাপড় বের করে পাশের ছেলের মুখটা ঢেকে দেয়। বৃষ্টি থেমেছে সামান্য কিছু আগে। প্রকৃতিতে একটা স্বচ্ছ স্বচ্ছ ভাব। রাতের বাতাসটাকে তরতাজা লাগে। রাস্তায় আশে-পাশে দু'একজন লোক দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বাড়ি ফেরার তাড়া। তানিশা রাস্তা অতিক্রম করে ক্রমশঃ “মারহাবা”-র দিকে এগিয়ে আসে। এরি মধ্যে ছেলে দু'টো স্টোরটাতে ঢুকে গেছে। তার কৌতূহল বাড়ে। এই প্রথম সে এমন দেখছে। কেমন এক সন্মোহন, তাকে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটার কাছে নিয়ে আসে। দেরী না করে সে ভেতরে প্রবেশ করে। ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা গামছায়-মুখ-মোড়ানো লম্বা ছেলেটা হঠাৎ তানিশার দিকে ফিরে চীৎকার করে উঠে, “আর এক পা আগাবি তো তোরে গুলি কইরা মাইরা ফেলাবো।” তানিশাকে না দেখে, তার পাওয়ার আওয়াজ শুনেই লোকটা উন্মাদের মতো চীৎকার দিয়ে উঠে। থমকে যায় তানিশা। ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে। এ কিসের মাঝে সে এসে পড়লো! ছেলেটার হাতে এক চকচকে পিস্তল। “এই ব্যাটা। তাড়াতাড়ি কর। ট্যাকা সব বাইর কর। অনেক কামাইছস। একটু উল্টা-পাল্টা করলে মাইরা ফালামু। আইজ একটারো এখনো মারি নাই। তোরা দিয়া শুরু করমু।” ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়ানো সালেক সাহেবের টুপির নীচে কপাল ঘামাচ্ছে। প্রচন্ড অনীহা এবং অপমানের মুখে যে তিনি টাকা বের করে দিচ্ছেন, তা বোঝা যাচ্ছে। চোখ-মুখে ভীষন অপমানবোধ। এর জন্য যে তিনি কখনো প্রস্তুত ছিলেন না। “ওই ব্যাটা, ব্যাগে ভর, ব্যাগে ভর তাড়াতাড়ি।” ধমক দিয়েই চলছে লম্বা ছেলেটা। আর অন্য ছেলেটা বাম পাশে স্টোরের দুই কর্মচারীর সামনে পিস্তল তুলে ধরে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটাই যেন তার দায়িত্ব। লোকগুলো ভয় পাক আর না পাক। তানিশার দৃষ্টিও ছবির মত স্থির হয়ে গেছে। সে শুধু ভয়ার্ত বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে ঘটনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ এই ভীতিকর অবস্থার বিপরীত ঘটনা ঘটে সবকিছু পাল্টে যায়।

স্টোরের দুই কর্মচারীকে পিস্তলের মুখে রাখা ছেলেটা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তার পিস্তল ছুটে যায় এক কর্মচারীর পায়ের কাছে। ছেলেটার জ্ঞান হারিয়ে ফেলাতে লম্বা ছেলেটাও যুগপৎ বিচলিত এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এক হাতে পিস্তল ধরে রেখে সে কোনক্রমে ছেলেটাকে মেঝে থেকে তোলার চেষ্টা করে। চেষ্টা করে এক হাতে টেনে তুলতে না পেরে সে ডান হাতে পিস্তল ধরে রেখেই দু'হাতে পাঁজাকোলা করে ছেলেটাকে তুলতে যায়। সঙ্গীকে তুলে নিতে সে যেই উপুড় হয়, তাতে তার শরীরের পেছন দিকে শার্টের ফাঁক গলে কোমরে প্যান্টের নীচে এক বড় বান্ডেল টাকার নোট দেখা যায়। সামনে দাঁড়ানো যুবক কর্মচারীটি তা ঠিক দেখতে পায়। এদিকে সঙ্গীকে কোন রকমে তুলে নিয়ে লম্বা ছেলেটি আর দেরী না করে তাড়াহুড়ো করে স্টোর থেকে বের হতে থাকে। সালেক সাহেব পেছন থেকে এগিয়ে এসেছিল একবার তাকে ধরতে, আক্রমণ হানতে। কিন্তু তড়িৎ গতিতে সঙ্গীকে পাঁজাকোলা করে হাতে রাখা অবস্থাতেই পিস্তল হাতে লম্বা ছেলেটা ঘুরে দাঁড়ায়। “খবরদার একটু উল্টা-পাল্টা করছোস তো ওই পাড়ে পাঠাই দিমু।” ছেলের শাসানি শুনে সালেক সাহেব আর ঝুঁকি নেয়ার সাহস পায়নি। ঠিক সে সময়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক কর্মচারীটি তার সামনে মেঝের উপর টাকার বান্ডেলটি পড়ে থাকতে দেখে। কর্মচারীটি সেদিকে নজর দিয়ে ডাকাতি করতে আসা লম্বা ছেলেটাকে যেই ডাকতে যাবে, ঠিক সে সময়ই সালেক সাহেব মুখে তর্জনী তুলে তাকে চুপ করার ইঙ্গিত দেয়। ডাকাতদ্বয় স্টোর ছেড়ে বেরুতে না বেরুতে ছোঁ মেরে বান্ডেলটা যুবক কর্মচারীটির হাত থেকে তুলে নেয় সালেক সাহেব। তার পর তা থেকে দু'টো পাঁচশ টাকার নোট বের করে একটা দেয় সম্মুখের যুবক কর্মচারীটিকে আর অন্য নোটটি অপর কর্মচারীটিকে। তিনি দুই কর্মচারীকে ধমক দিয়ে সতর্ক করেন দেন, “খবরদার এই কথা অন্য আর কারো বলবি না। বলোস যদি, আমি তগো চাকরি খাইছি।” অপর কর্মচারীটি এরি মধ্যে তার পায়ের কাছে ছুটে আসা পিস্তলটি মেঝে থেকে তুলে নেয়। সেটা নাড়া-চড়া করতে করতে সে সালেক সাহেবের উদ্দেশ্যে বলে উঠে, “ভাই, এটাতো মনে হয় খেলনা পিস্তল।” সালেক সাহেব তার ঠাঁট ধরে রেখে বলে, “আমারে যেটা দিয়া ধরছিলো, ওটা আসল ছিল, খেলনা না। নকল হইলে তো আমি ঐ পোলাটারে থাবড়াইয়া বসাই দিতাম।” এই সময় বাইরে ট্যাক্সির আওয়াজ পাওয়া যায়। তানিশা ডাকাত ছেলে দু'টোকে সারাক্ষণ অনুসরন করছিল। সে চিৎকার করে বলে, “ঐ দু'জন তো ট্যাক্সিতে উঠে চলে গেল।” “ট্র্যাক্সিটা ওদের দলের আপা। এমনি তৈরী হয়ে এরা আসে না।” সালেক সাহেব তানিশাকে জানায়।

তানিশাকে চেনেন সালেক সাহেব। তিনি কখনো কারো সাথে বিশেষ আন্তরিকতা তৈরি করেন না, একটা দূরত্ব রেখে চলেন। এই মূহুর্তে তানিশাকে দেখে তিনি কিছুটা সচেতন হয়ে উঠেন। টাকার বান্ডেলটা ক্যাশ বাক্সে চালান দিয়ে উত্তেজিত আন্তরিকতায় বলেন, “আপা কি লাগবে আপনার?” তানিশা এক প্যাকেট চানাচুরের কথা জানালে, তিনি তার কর্মচারীদের তাড়া দিয়ে বলেন, “এই আপার জন্য চার প্যাকেট চানাচুর আন্‌।” কর্মচারী একজন চার প্যাকেট চানাচুর নিয়ে এলে, তিনি সব কয়টা চানাচুরের প্যাকেট একটা ব্যাগে ভরে তানিশাকে দিয়ে বলেন, “আপা নেন। আপনারে পয়সা দিতে হবে না আজ। আবার আসেন হ্যাঁ।” তানিশা একটু আশ্চর্য হয়ে বলে, “হ্যা”, যেন সে সালেক সাহেবের কথা বুঝতে পারেনি। “নিয়ে যান আপা, পয়সা দিতে হবে না।” সালেক সাহেব আবারও বলে। তানিশা আর কিছু না বলে ব্যাগটা নিয়ে স্টোর থেকে বেরিয়ে যায়।

কর্মচারীদ্বয় স্টোরের ভেতর থেকে মূল ফটক বন্ধ করে। সালেক সাহেব দেরী না করে ক্যাশ বাক্সে টাকা গুণতে বসে যায়। আজ ব্যবসায় অনেক লাভ হয়েছে তার। মনে মনে আল্লাহ্‌কে শুকরিয়া জানায়।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রশীদা আফরোজ's picture


চানাচুর আমারো প্রিয়।
সালেক সাহেব জিন্দাবাদ!

শামান সাত্ত্বিক's picture


ধন্যবাদ, লেখা পাঠ করার জন্য।

প্রিয়'s picture


রোজা রেখে গল্পটা পড়া ঠিক হয় নাই। এখন জামাই- বৌ চানাচুর খাইতে ইচ্ছা করতেসে। Stare Big smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


খাইয়েন না!
এখন আর সেই আগের টেষ্ট নাই! Sad

শামান সাত্ত্বিক's picture


রোজা ভাঙ্গার পর, গল্পটা আরেকবার পড়বেন আশা করি। স্বাদ পাবেন প্রিয়।

প্রিয়'s picture


তাই নাকি? এখন আর মজা নাই? অনেকদিন খাইনা অবশ্য।

তানবীরা's picture


আমি গলপটা ঠিক বুঝলাম না। এর মানে কি, ডাকাতেরা তাদের পকেটের টাকা ফেলে গেছিলো নাকি?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হুম, প্রথম ছেলেটার কোমড় থেকে পড়ে গিয়েছিল।

শামান সাত্ত্বিক's picture


আপনি আমার বড় একটা উপকার করলেন। একেই বলে পাঠকের ফিডব্যাক। আপনার মন্তব্য দেখার পর, আমি গল্পটাকে একটু পরিশোধন করেছি। আশা করি, এবার আর অস্বচ্ছতা থাকবে না। দেখলেন তো, বিষণ্ণ বাউন্ডুলে বলে ফেললো একবারে। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ, মনের কথা খুলে বলাতে।

১০

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এ-ই মানুষ!

লেখা ভালই।
কিন্তু দুয়েক জায়গায় বর্ণনা একটু বেশি মনে হইছে,
আর মেয়েটার চরিত্রের সাথে 'ঘুষ' নেয়াটা ঠিক মানানসই লাগলো না।

১১

শামান সাত্ত্বিক's picture


কোন কোন জায়গায় বর্ণনা একটু বেশি হইছে, জানাইলে উপকৃত হই।

আর মেয়েটার চরিত্রের সাথে 'ঘুষ' নেয়াটা ঠিক মানানসই লাগলো না।
- একজন বয়স্ক ব্যবসায়ীর ডোমেইনে থেকে একজন টিনএজ মেয়ের আর কি তেমন করার কিছু থাকে?

লেখা পাঠ এবং মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

১২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আশা করি আমার মন্তব্যে রাগ করেন নি।

গল্প টা প্রথমবার পড়ার সময়েই মনে হয়েছে,
শুরুতে তানিশার বাসার বর্ণনা
এবং
পরে দোকানদারের চরিত্র বর্ণনা প্রয়োজনের চাইতে বেশি মনে হয়েছে।

এটি একান্তই আমার ব্যাক্তিগত অভিমত।আশা করি,কিছু মনে করবেন না।

ভাল থাকুন।।

১৩

শামান সাত্ত্বিক's picture


আপনার মন্তব্যে রাগ করার প্রশ্নই আসে না। কিছু মনে করেইনি। আপনার প্রথম মন্তব্যের শুরুতেই আপনি চমৎকার একটা কথা বলেছেন:

এ-ই মানুষ!

পাঠক যখন এই কথা বলে, তখন আমি মনে করি যে, আমি পাঠকের সাথে ভালভাবেই কমিউনিকেট করতে পারছি। এটাই বড় পাওয়া।

আর এই কারণেই আপনার কাছে থেকে ডিটেইলসে জানতে চেয়েছিলাম। তাতে করে লেখক হিসেবে আমার বুঝতে সুবিধে হয়। ভুল-ত্রুটি শুধরিয়ে নিতে পারি। এ কারণেই তো ব্লগিং করছি আমরা। আমি পাঠকের যে কোন মন্তব্যকে গুরুত্ব ও শ্রদ্ধার সাথেই দেখি। কেননা পাঠক কিন্তু তার মনের গভীর কথাটা অবলীলায় বলে দিতে পারে।

তানিশার বাসার বর্ণনা ইচ্ছাকৃতভাব তৈরি করা। সেখানে একটা চুরির ঘটনা ঘটেছে শানুলের দ্বারা, পরবর্তীতে এ রকম একটা ঘটবে, তার একটা ইঙ্গিত তৈরি করা। একটু ভেবে দেখুন, তানিশাকে না এনেও কিন্তু গল্পটা লেখা যেত। আমি গল্প বলাটাকে এত যান্ত্রিক করতে চাইনি।

দোকানদারের চরিত্র বর্ণনা একটু বেশি করার কারণ, পরবর্তীতে এই রকম ধর্মভীরু চরিত্রের মাঝেও যে স্খলন রয়েছে তার তুলে ধরাটাকে আরো কার্যকরী করার জন্য। আজকে যে তার লোভ, তার জন্য তো সে ব্যক্তি মানুষ এবং তার ব্যবসাটা জড়িত।

আমার যুক্তিগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ নয় এখানে, যতদূর গুরুত্বপূর্ণ পাঠকের মতামত। আমার যা করার বা বলার, তা তো গল্পে করেই ফেলেছি।

অশেষ ধন্যবাদ। ভাল থাকুন এবং আপনার খোলাখুলি মতামত তুলে ধরুন। সেটাই পছন্দ করবো বেশি।

১৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ভাল লাগলো আপনার কথাগুলো।

ভাল থাকুন।
অনেক ভাল, সবসময়। Smile

১৫

শাপলা's picture


ডাকাত ছেলেটা অজ্ঞান হয়ে গেল? সারাদিন রোজা থেকে ইফতার যে কি মদ দিয়ে করছিল, আল্লাই জানেন? Tongue Tongue Tongue Tongue

যাস্ট ফান করলাম। অন্যভাবে নেবেন না। আপনাকে কষ্ট দেবার কোন ইনটেনশন আমার নেই।

আপনার গল্পটা ভালো হয়েছে, কিন্তু হঠাত ছেলেটার অজ্ঞান হয়ে যাওয়াতে আমি পাঠক হিসেবে খানিকটা হোঁচট খেলাম।

যদিও জানি, মানুষ হঠাতই অজ্ঞান হয়, তবুও অন্য বর্ণনা গুলো যেমন ডিটেইলে দিয়েছেন, তেমনি এখানেও একটু ইলাবরেট করতে পারতেন।

যেমনঃ যে তাগড়া যুবকটার সাথে একটা ঢ্যাংগা মত, শুকনো চেহারার ছেলে কর্মচারীর দিকে পিস্তল তাক করে রইল। দেখে কিছুতেই পেশাদার মাস্তান মনে হয় না/ অথবা পেছনের ছেলেটার সোজা হয়ে দাঁড়াতেই কষ্ট হচ্ছে, একেবারে বেসামাল অবস্থা......ব্লা ব্লা ব্লা

তাহলে লেখাটা আরও বেশী গ্রহণযোগ্য হত।

আমরা কেউই এখানে পেশাদার লেখক নই। সময় পেলে আমার ভুলগুলোও ধরিয়ে দেবেন।

১৬

শামান সাত্ত্বিক's picture


আপনার মন্তব্য খুব ভাল লাগলো। আপনি কি কোনক্রমে এই দু'টো লাইন মিস করেছেন?

একটাকে টলে টলে হাঁটতে দেখে তানিশা। অন্যটা লম্বা, স্বাস্থ্যবান, শক্ত-সামর্থ্য। সে পাশের টলতে টলতে হাঁটতে থাকা ছেলেটাকে ধরে এগিয়ে যায়।

এর পরেই কিন্তু আবার উল্লেখ করা হয়েছে:

আজকাল তো নেশাখোর যুবকের অভাব নেই। ভাল ঘরে, মধ্যবিত্ত ঘরে, উচ্চবিত্ত ঘরে।

এরপর অজ্ঞান হয়ে পড়া ডাকাতটা সম্পর্কে নতুন করে বলতে ইচ্ছে ছিল না। আর যদি আমি পাঠকের সাথে ঠিকমত কমিউনিকেট করতে না পারি, তবে ব্যর্থতা আমারই।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল থাকুন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শামান সাত্ত্বিক's picture

নিজের সম্পর্কে

নিঃশব্দের মাঝে গড়ে উঠা শব্দে ডুবি ধ্যাণ মৌণতায়