ইউজার লগইন

একটি দুঃসংবাদ- ব্যাতিক্রম পোষা প্রানীর মৃত্যু

"মটর শুটির খোসাটা খুলতেই লাফ দিয়ে আমার আঙ্গুলে উঠে পড়লো । তারপর আমার আঙ্গুল নিয়ে ও খেলা শুরু করলো। খুবই কিউট, মা তুমি দেখলে তোমারও আদর করত ইচ্ছা করবে। ওর রংটা একদম সবুজ, তাই ওর নাম রেখেছি গ্রীন। যদি বুঝতে পারি ও একটা মেয়ে তাহলে পরে বদলে গ্রীনি রাখবো। জানো ওর বাবা মা সাথে নেই, ওর মনটা খুব খারাপ। আমি ওকে বলেছি আজ থেকে আমি তোমার বাবা, মা, বন্ধু সবকিছু। এখন থেকে আমি ওকে খাওয়াবো, গোসল করাবো..ওর সব খেয়াল রাখবো। মা তুমি ওকে ফেলে দিবে নাতো?"

অফিস থেকে ঘরে ফিরেই মেয়ের এই আবদার শুনে আমার মাথা চক্কর দিতে শুরু করলো। সেই সকালে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে অফিস গেছি। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ওকে কিছু খাইয়ে আমার তাড়া থাকে কখন স্কুলের পড়া শেষ করে একটু রেস্ট নিবো। আর মেয়ে বলে কিনা সবুজ রংয়ের পোকাটা নিয়ে খেলবে? পোষ মানাবে? শুরুতে গোপন খবরটা কানে কানে আমাকে বলেছে। পরে একে একে ঘরের সবাই জানছে আর আৎকে উঠছে। পোষা প্রাণীর তালিকায় উঠে আসা একেবারেই ব্যতিক্রম একটা নাম "মটরশুটির সবুজ পোকা গ্রীন" । মেয়ে দাদার কাছ থেকে জেনে নেয় গ্রীন এর খাবার তালিকা, বড় হলে গ্রীনকে কোথায় রাখবে, কিভাবে তার সাথে খেলবে নানা রকম পরিকল্পনা করতে থাকে। সবাইকে ফোন করে তার নতুন বন্ধুর খবরটা জানানোর আগ্রহ আমাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। এক সময় ওর ইচ্ছা ছিল বাসায় বাঘের বাচ্চা, কুকুর ছানা, বিড়াল ছানা, ঘোড়া এনে পোষ মানাবে। এমনকি তিমি মাছ পোষার কথাও বলেছে আমাকে। কোনটাতেই রাজী হইনি আমি। তাই হাতের কাছে এমন এক প্রানীর অস্তিত্ব তার খুশীর সীমা বাধ ভেঙ্গেছে। মেয়ের চোখ মুখ খুশীতে ঝলমল করছে। এই পরিস্থিতিতে ওকে না জানিয়ে ফেলে দিলে ভীষন মন খারাপ হবে বুঝতে পারি। এদিকে পোকার ভয়ে সেই রাতে আমি রান্নাঘরে যাওয়া বন্ধ রাখলাম।

নানারকম ভাবে বোঝানোর চেষ্টায় ব্যার্থ আমি জানালাম ঘরে ফিরে বাবা শুনলে বাড়ী মাথায় তুলবে। তবুও মেয়ের মত বদলায় না। ঘরের সবার এক কথা "তোমার মেয়েকে বুঝাও , এভাবে চলতে পারে না।"

শেষ পর্যন্ত একটা উপায় বের করলাম। মেয়েকে পোকাটার জীবনচক্র বুঝালাম। প্রজাপতি হওয়ার পর ফুলের মধু খাওয়াটা কতোটা জরুরী বোঝানোর চেষ্টা করলাম। অবশেষে তার মায়া হলো, রাজী হলো প্রজাপতি হলেই তাকে স্বাধীন করে দিবে। কিন্তু বেচারী জানতো না পরদিন সকালেই গ্রীন প্রজাপতি হয়ে আকাশে উড়ে যাবে।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


কতই না আবদার। আমার ভাগ্নি একবার রোজার ঈদের আগে বিশাল কান্নাকাটি , কারন চাঁদ দেখা যায়নি কেন।

সুবর্ণা's picture


হুম ছোটবেলায় আমরাও হয়তো এভাবে বড়দের জালাতাম।

টুটুল's picture


ভালো লাগলো

সুবর্ণা's picture


আপনারও এমন দিন আসতেছে। রেডী থাকেন। রাত দুপুরে ঘুম থেকে উঠিয়ে যখন কার্টুন দেখার আব্দার করবে তখন বুইঝেন ঠেলা।

টুটুল's picture


Sad

কাঁকন's picture


হ কত অদ্ভুৎ রকমের বায়না

নুশেরা's picture


বাহ্ ভারী মিষ্টি তো! মেয়ের একটা ছবি তুলে রাখতেন তার গ্রীনসহ।
আমারটাও আহ্লাদ করে লোকজনের কুকুরবেড়াল দেখলে। ডগি-ক্যাটি-বার্ডি করে জেরবার অবস্থা। কিন্তু কাছে ঘেঁষলেই ভয়ের চোটে সব বাহাদুরি শেষ।

সোহেল কাজী's picture


অদ্ভুত আবদার।

রোবোট's picture


তিমি অষার আইডিয়া পছন্দ হৈসে।

 

 

 

 

১০

~স্বপ্নজয়~'s picture


আদিত্য সামনে একবার মশা মারার পর সে মহা কান্নাকাটি শুরু করেছিল, কান্না করে আর বলে মশাটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও

১১

হাসান রায়হান's picture


তিমি বা বাঘ পোষার আইডিয়াটা সেরম। আমারটা টিভিতে প্রানী দেখলে জিজ্ঞাস করবে ওর বাবা মা কে। স্কুলে যায় কীনা।

১২

নীড় সন্ধানী's picture


দারুন তো! প্রজাপতির ডিম পেল কোথায়?
তিমি মাছ পোষার ব্যাপারটা যুক্তিযুক্ত :)

১৩

তানবীরা's picture


আমি বাবা এক কথার মানুষ। আমি তোমাকে পালতেছি এই আমার জন্য যথেষ্ঠ। তুমি বড় হয়ে অন্যকিছু পেলো, আমি পারব না ঃ)। যদিও চারখানা মাছ বাবা মেয়ে এ্যাকিউরিয়ামে তাও পালছে ঃ)

গ্রীনের জন্য সমবেদনা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সুবর্ণা's picture

নিজের সম্পর্কে

কী লিখব বুঝতে পারছিনা, পরে এক সময় লিখব|