ইউজার লগইন

ঠিকানা কেবলই ভুল হয়ে যায় !

শুকতারা কিন্ডারগার্ডেন। কলাবাগানের এই স্কুলটি এখন বিলুপ্ত। যখন চিনতে পেরেছি কোনটি ক আর কোন ইংরেজি এ। বা গড়গড়িয়ে বলতে পারি- ভোর হলো দোর খোল খুকুমনি উঠরে কিংবা বাশ বাগানের মাথার উপরে চাদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলার কাজলা দিদি কই? ঐ বয়সটাতেই মায়ের হাত ধরে শুকতারা কিন্ডারগার্ডেনে ঢুকে পড়েছিলাম। ভর্তি পড়বো সেড়ে বলা হলো কেজি ওয়ানে গিয়ে বসতে। আমি চামড়ার একটি সুটকেস (যার ভেতরে ছিল একটা আদর্শ লিপি আর বাল্য শিক্ষার বই) নিয়ে একটা ক্লাসে নিজ নিজেই বসে পড়ি। যিনি ক্লাস নিচ্ছিলেন সেই আপা কেবল জানতে চাইলো- বাবু তুমি নতুন? আমি বললাম- উপস্থতি ম্যাম। সবাই কেনো যেনো হেসে ফেললো।পরের ঘণ্টাই ছিল টিফিন প্রিয়ড। আরেকজন ম্যাম এসে আমাকে বললো বাবু এটাতো ক্লাস ওয়ান। তুমি ভুল ক্লাসে এসে বসেছো!
ভর্তি ফরম জমা দেয়া হয়ে গেলো। টাকা জমা দেয়ার রশিদ্ও পেলাম। অফিস রুম থেকে বলা হলো আমি মানবিক বিভাগের ২৩ নম্বর রোলের অধিকারী। কলেজ ফাস্ট ইয়ারের ফাস্ট ক্লাস। স্যার রোড ডাকছেন। ২৩ বলার সঙ্গে সঙ্গে দ্বতৈ কণ্ঠে বলা হলো- উপস্থতি স্যার। স্যারসহ ক্লাসের সবাই তাকালেন ব্যাপারকি? দুইজনই দাবি করলাম আমাদের রোল ২৩ । কি ন্তু এটা তো কোন ভাবেই সম্ভব না। দুইজনকেই পাঠিয়ে দেয়া হলো অফিস রুমে জানা গেল - আমাকে ভুল নম্বর দেয়া হয়েছে। আসলে আমার রোল ৪৩!
পত্রিকা থেকে প্রথম এসাইনমেন্টে ঢাকার বাইরে যাচ্ছি। গন্তব্য মৌলভিবাজার। যেতে হবে ট্রেনে। জানান হলো রাত এগারটায় ট্রেন ছাড়বে। একটা টিকিট ধরিয়ে দেয়া হলো। ক্যামেরাম্যানও যাবেন। দুইজনের দেখা হবে ট্রেনে। তখন মোবাইলের য়ুগ আসেনি। কমলাপুর গিয়ে দেখি ৪ নম্বর প্ল্যাট ফরমে একটা ট্রেন দাড়ানো। জানতে পারলাম এটা শ্রিমংগল যাবে। উঠে পড়লাম একটা বগিতে। বগির নম্বর ঠিক আছে। উঠে দেখি ঠাসাঠাসি অবস্থা। আর ঘুটঘুটে অন্ধকার। ক্যামেরাম্যানকে খুজে পাচ্ছিনা। এদিকে ট্রেনও ছেড়ে দিলো। দুই একবার তার নাম ধরে ডাকলাম সাড়া নেই। সকালে ট্রেন থেকে নেমে জানলাম ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম। আমার ট্রেন ৯টায় ঢাকা ছেড়ে চলে এসেছে!
ভার্জিন এয়ারলাইনস'র বোর্ডিঙ পাসে নম্বর লেখা ছিল ১৬এ । আমি গিয়ে ঠিক ঐ সীটটাতেই টুপ করে বসে পড়ি। জানালার পাশে। মেঘ আর সাগর দেখার ইচ্চে নিয়ে বসে পড়লাম। সামনের ভিডিও স্ত্রিনে ম্যাপ খুলে বসেছি। এর মধ্যে এক সাদা রঙের মানুষ এসে বললো আমার সীটটি তার। আমি বোর্ডিঙ পাস দেখাই। সেও তারটা দেখালো দেখি দুটোতেই ১৬ এ লেখা। তাহলে কে ভুল? এয়ারহোস্টেস এসে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করে অপেক্ষায় থাকতে বলে চলে গেলো। মিনিট পাচেক পরে এসে জানালো আমি ৩৬এর বদলে আমি হয়ে গেছিলাম ১৬ এ!
আমরা বন্ধুতে যোগ দিয়েছিলাম গত জুলাই-আগষ্টের দিকে। যোগ দেয়া পর্যন্তই ব্লগে লেখা হয়নি । কি নামে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম ভুলে গেছি। পাসওয়ার্ড্ও মনে নেই। হঠাত দিন চারেক আগে লেখার সাধ হলো। আমরা বন্ধুর এক বন্ধুকে বললাম পাস্ওয়ার্ড আর ব্যবহার নাম উদ্ধার করে দিতে। তিনি দিলেন। ব্লগে গিয়ে দেখি আগে থেকে দুটি পোষ্ট আছে। যা আমার লেখা নয়। তরপরও ঝটপট তিনটি লেখা লিভে ফেলি। এবং আচমকা আমার ব্যবহার নাম লগ হয়ে গেলো। আমার সেই বন্ধুর শরনাপন্ন। জানতে পারি আবারো আমিই ভুল। ভুল ঠিকানায় ঢুকে পড়েছিলাম!

৭.৫.২০১১

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

একজন মায়াবতী's picture


আমি সঠিক ঠিকানায় জানিয়ে গেলাম স্বাগতম। Big smile

হাসান রায়হান's picture


হা হা আপনার কপাল খারাপ! স্বাগতম।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আসলেই আপনার কপালটা খারাপ বস... Wink
আপনার জন্য সমবেদনা রইলো... Sad

টুটুল's picture


পুনরায় স্বাগতম Smile

সরি Sad

তানবীরা's picture


জানতে পারি আবারো আমিই ভুল। ভুল ঠিকানায় ঢুকে পড়েছিলাম!

বুঝলাম না ব্যাপারটা

স্বাগতম, এবারতো সঠিক ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন

রশীদা আফরোজ's picture


তুষার আবদুল্লাহ...
চেনা নাম...
চেনা সুর...
চেনা চেনা...
নিয়মিত আপনার লেখা পেতে চাই।
শুভেচ্ছা।

নাজ's picture


রি-স্বাগতম Wink
তবে আগের লেখা গুলো এখানে দিয়েন। বিশেষ করে "শাড়ি" শিরনামের লেখাটা Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.