ইউজার লগইন

তুষার আবদুল্লাহ'এর ব্লগ

শাহবাগকে নিবেদিত

এক
বলেছিলাম ফিরে আসবো
অপেক্ষায় থেকো
থেকো প্রতীক্ষায়
দেরি দেখে ভেবেছো
দিয়েছি উড়াল
গেছি হারিয়ে
স্বপ্নহীনদের ডেরায়
তোমার ভুল ভেংগে
ঠিকই ফিরে এলাম
যেখানে হয়েছে রচনা
বসন্ত বাসর।
বাজছে সানাই
গনমানুষের ,
সেই শাহবাগে
এসো রাখি
হাতেহাত
আমাদের স্বপ্ন হোক
অমর ।
দুই
অনূভবকে অনুভব করবো ভেবে
হাতটা যখনই বাড়াই দেখি
এক রূপালী আলো ছায়া ফেলে হাতে
অনুভবকে খুঁজি চোখের সীমানায়
ও তখন সীমানা পেরিয়েছে
অনুভূতিহীন কোন অন্ধকারে
কিন্তু ওকি জানে সেই রূপালী
আলো এখানে আমার হাতে
হয়ে আছে আজো অদ্ভুত অনুভব!
১০.২.২০১৩

তিন

শাহবাগে আজ কথকতার ফুলঝুড়ি
কথা বলছে জনমানুষ
কথা বলছে জনপথ
এমন করেই যদি কথা বলতে পারতাম
সোচ্চার হতে পারতাম
তোমার দাবিতে, যখন হারিয়েছি তোমাকে !

চার
সব কিছু আজ তারণ্যের দখলে
তাই রাজপথ মেঠোপথের মতো আদুরে
ধূসর আগামীর রঙ এখন বাসন্তি।

সম্ভাষণ

তোমাকে সম্ভাষণ জানাবো ...তাই ভেবেছো হাত পাতবো শিশিরের কাছে
তোমার কাছে বিনীত হবো ...তাই ভেবেছো অনুসরন করবো কৃষ্ণচূড়াকে
তোমাকে নিয়ে উড়াল দেবো...তাই ভেবেছো পরিযায়ী পাখির কাছে শিখবো ডানা মেলা
তোমার কাছে পরাজিত হবো ...তাই ভেবেছো ঘুড়ির কাছে দীক্ষা নেবো
তোমার কাছে সমর্পিত হবো.... তাই ভেবেছো আবেগ শিখবো মেঘের কাছে
আমি তোমাতেই তোমার হবো.... আমি যে তোমার কাছেই শিখেছি ভালবাসতে!

মেঘ রঙ পঙতি

এক.
কাটা তারের ওপারে বৃষ্টি ঝরছিল
অথচ তুমি তখন কফির ধোয়ার স্মৃতিতে আচ্ছন্ন
ধোয়াতে কোন একটি নাম পুড়ে যাচ্ছিল বা বাষ্পিত হচ্ছিল
তোমার চোখ বেয়ে বৃষ্টি চুইয়ে পড়ে, তুমি তাতে চুমুক দিতেই
ঠোটিটা গেলো পুড়ে, আহারে তুমি ভুলেই বসে আছো যে-
তুমি এখনো ধোয়াটে মগ আর তার ও প্রান্তের মুখটির স্মৃতিতে বিভোর

দুই.
তুমি আর আমি এক শহরে নেই এখন
তোমার শহরে নাকি বর্ষা নেমেছে
আচ্ছা ঐ শহরে নাকি পথে ঘাটে জল জমেছে,
সেই জলে আমার মনের কি ঠাই হবে?

তিন.
মেঘ রঙ আকাশ দেখে বানিয়েছি কাগজের এরোপ্লেন
ফুলের টবে জমেছে এক পশলা জল
সেখানে ভাসাবো বলে বানালাম কাগজের নৌকো।
এরোপ্লেন বলে ভাসবো আমি কার্নিশের জলে
নৌকো বলে দেবো উড়াল মেঘদূতের পিছু
জেনে রাখো, তুমি চলে যাবার পর থেকেই
ঘটছে এমন উল্টো- পাল্টো!

চার.
পাহাড়ে মরণ উৎসব
রথ যাত্রা শব যাত্রা
কোন পথে যাই
বেসামাল মন
যদি হারায় তোমায় ,
ভুলটুকু ভুল ভাবেই
তুলে রেখো ।

ভাটিয়ালী

ভাটিয়ালী
তুষার আবদুল্লাহ

কচুরীপাতায় মন ভাসাইছি, চোখ রাখছি মেঘের উপর
আমার পালে বাতাস নাই, বৈঠায় নাই ওজন
মুর্শিদ আমারে তুমি কূলে লইবা কখন
?
মাছেতে গুনে ঢেউ, আমি টানি গুন
বাতাস আউলা হয় পানি হয় ঘোলা
মুর্শিদ আমারে কেন রাখলা তুমি আলা- ভোলা
?
নদীর সামিয়ানায় চাদ উঠে চাদ ডুবে
মুশিদ জানে গাঙে ডুবে কি, বলো ডুবে কি?
গাঙেতে ডুবে মুর্শিদ তোমার এই বান্দার ঢেলা!

অনুযোগ

জোনাকের ডানায় লোড শেডিং
অনুযোগ-উপযোগ গুলো কাকে জানাই
কচুরী ফুলে ধুতরার কাটা
একথাও কেনো বলতে মানা?

মেঘলা আকাশে দাড়ঁকাকের আস্ফালন
একি প্রতিবাদ নাকি বিপর্যয়
কোকিলের মতো ফেরারী গাঙচিল
একথাও বুঝি যাবেনা বলা?

মেঠো পথে ফরমালিন
পরীক্ষার কর্তৃপক্ষ নেই
পিচ ঢালা পথে এক হাটু কুয়াশা
একেই বলে বুঝি তামাশা?

সবাই সত্য বলছে
এর পক্ষে কে করবে সাফাই
মিথ্যেরাই সুন্দরের পূজারী
ওদেরই তোবারক আজ বাতাসা!

সম্পাদকীয় নীতির পরাধীনতা

সাংবাদিকতা পেশাদার বিতার্কিক এবং রাজনীতিবীদদের জন্য উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠছে।কেবল সাংবাদিকতা করার ব্রত নিয়ে যারা এই পেশাতে আছেন, আসছেন বা আসবেন,তাদেরপক্ষে প্রকৃত সাংবাদিকতা করাটা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।বিতার্কিকদের প্রসংগ আনলাম এ কারনে যে, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিতার্কিককে যে কোন বিষয়ের পক্ষে- বিপক্ষে বলার জন্য তৈরি থাকতে হয়। লটারির উপর নির্ভর করে কোন দল পক্ষে বলবে আর কোন দল বলবে বিপক্ষে। এছাড়া একই বিষয়ের উপর ভিন্ন দিনে বিতার্কিক দুটি অবস্থানে থেকে বক্তব্য রাখতে পারেন।রাজনীতিবীদরাতো একই বিষয়ের পক্ষে- বিপক্ষে বলতে আরো সিদ্ধহস্ত। একই ইস্যুতে দলীয় অবস্থান পাল্টানোর সংগে সংগে, রাজনীতিবীদের বক্তব্যও পাল্টে যায়। আবার দলের সংগে তার সম্পর্কের টানাপোড়ন বিবেচনাতে পাল্টে যায় বক্তব্যের সুর। বিতর্ক যারা করেছি, বা দর্শক হিসেবে দেখার অভিজ্ঞতা আছে, তারা জানি বিতর্কের বিধিমালা।আর রাজনীতি থেকে যারা দূরে, সেই

মিশুক ভাই

‌ একুশে আসছে'। ছোট একটা নোটিশ দুলছিল সার্ক ফোয়ারার পাশের জাহাঙ্গির টাওয়ারে। ওটা দেখি প্রতিদিন। একুশে কি জানিনা। একদিন বিশ্ব সাহিত্যের কেন্দ্রের ছাদে বসে জানলাম বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন আসছে। সেখানে কাজ করবো সেটা ভাবনায় আসেনি। এই সময়টায় ভোরের কাগজে প্রধান ফিচার হিসেবে লিখা কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রামান্য চিত্র তৈরি সাধ জেগেছিল। যেমন চোরের গ্রাম। এছাড়া বায়ান্নোর ভাষা কণ্যাদের নিয়ে তথ্যচিত্র। সেই সাধ মেটানোর বাসনা নিয়েই একুশে টেলিভিশনে টেলিফোন করি। একুশের অফিস তখন বনানী। অপারেটর জানালেন- এই বিষয়ে মিশুক মুনীরের সঙ্গে কথা বলাই ভাল। প্রথম দিন তাকে পাওয়া যায়নি। তৃতীয় দফায় পেলাম। বললেন অফিসে গিয়ে বায়োডাটা দিয়ে আসতে। গেলাম, কিন্তু এর আগে যেহেতু তাকে দেখিনি কখনো, তাই অনায়াসে আমার সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আবার ফোন- তিনি চলে গেছেন শিল্পী শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে শু্টিঙ-এ কুষ্টিয়া। ফিরলেন দিন পনের পর , গ

ইচ্ছে

ইচ্ছে হলেই লিখে ফেলা যেতো.
.তোমার কানের দুলের দুষ্টুমির কথা
তোমার কালো টিপের নার্ভাসনেস
লিপিস্টিকের ভিরু ইশারা
নেইল পলিশের বিষন্ন হয়ে যাওয়া
রেশমি চুড়ির হঠাত থমকে যাওয়া,
আচলের বেসামাল উড়াউড়ি
তোমার অনামিকা ঘিরে ছায়াদের ঘুরোঘুরি
আর চুলের কালো টিপটার মরচে পড়ে যাওয়ার ইতিবৃত্ত,
তোমার নাকের তিলটাকে নিয়ে আমার যে স্বরবৃত্ত।
কিন্তু যেখানটায় লিখবো,
সেই তোমার করতলে যে হাটুজল !

দুটি পথ

মটর পাতায় দুই ফোটা জল
এক ফোটা তোমার, এক ফোটা আমার।
তিতাসের ঢেউয়ের এক ভাজে তুমি, আরেক ভাজে আমি
বালুকাবেলায় চঞ্চলা দুই ঝিনুক
সোনালীটি তোমার, সাদাটি আমার।
জোনাক জ্বলে, জোনাক নিভে
আলোটা তোমার, অন্ধকার আমার।
রেললাইন চলে গেছে নিরুদ্দেশ,
মেঠোপথের জানা আছে কোথায় শেষ..
তুমি আমি পথের সন্ধিতে দাড়িয়ে,
বেছে নিতে হবে পথ।
তোমার সংগে দরকষাকষি নয়,
নরম মেঠো পথ তোমার,
পাথরে ভর করে চলা রেলপথ থাকুক আমার!

মিডিয়ায় শ্রমিক যোগান দেবে কে?

পদ্মা এক্সপ্রেস

পদ্মা এক্সপ্রেস চলনবিলের পাড়ে এসে থেমে গেল
ঠিক যেমটি আমি থমকে গিয়েছিলাম তোমাকে দেখে
ট্রেনের হুইসেল নেই, চলনবিলের আছে মৃদু গোংগানী
ওকে অভিমানও বলতে পারো
মনে নেই, অভিমান করলে আমার ঠোট নড়তো না
তুমি বলে যেতে নিরবধি, ঢেউয়ের মতোই।
পদ্মা এক্সপ্রেসের দীর্ঘ বিরতি আর ওদের খুনসুটিতে
আমি বিহবল হয়ে পূর্বের রংধনু দেখি, নাকি পূর্বের দিনে ফিরে যাই
ভাবতে ট্রেনের গতি বাড়ে, আর ভাবনাটা বুঝি তোমাকে ছাড়ে!

‘‌ট‌‌‌ক’ টকশো ‌‌‌ ‌‌‌‌

তোমার সমীপে

পৃথিবীকে তোমাকে ভালবাসার যোগ্য করে যাবো
এই দিব্যি দিয়েই পৃথিবীতে আসা।

তোমাকে পেতে চাচ্ছিনা, বুঝতে চাচ্ছি
তাই কাছাকাছি যাবার চেষ্টা।

তোমাতে আবর্তীত হচ্ছে যে কুশিলব দিনরাত
তাদের প্রোফাইলটা জানতেই পিছু নেয়া, হিঙসেতে নয় ।

নদীর সংগে তোমাকে মেলাতে চাইনি মোটেও,
বরং নদীর বুকে দেখতে চেয়েছি তোমার প্রতিবিম্ব।

জানো পৃথিবী আজকাল বৃক্ষকে সতিন ভাবে
আর আকাশ ছুই দালানকে ভাবে সই।

মেঘের বিজলীতে নয় আতাশবাজিতেই তার মুগ্ধতা
রঙধনুতেও বিষন্ন নিরবতা।

বিষন্ন চোখে কর্কট মন নিয়ে তোমাকে কি ভালাবাসা যায়?
একটু সবুর করো, ওদের চোখে সূর্যমুখি ফোটাবো
তোমার বন্দনায় জ্বলবে সন্ধা প্রদীপ
তারপরই না হয় ফিরি, এই কয়টা দিন আমায় সয়ে যাও!

খসড়া

ইদানিং ঢাকাতেও খসড়া সম্পর্ক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এটা পশ্চিমা সংস্কৃতি। ধীরে ধীরে পূর্বেও চলে এসেছে। প্রতিবেশি দেশে এটা খানিকটা বেশি বা আগে ওটা অনুকরণ শুরু হয়। এদেশে এজাতীয় সম্পর্কের অনুপ্রবেশ গণমাধ্যম এবং সাহিত্যর মাধ্যমে। আমরা স্যাটেলাইটে ভারতীয় চ্যানেল মনস্ক অনেকটাই। পত্রিকা বা সাহিত্যের স্বাদ পেতেও। এতে বিরোধ বা সংঘর্ষের কিছু নেই। কিন্তু কথা হলো এই মাধ্যম গুলো থেকে আমরা নেয়া বা অনুকরনের বেলাতে কোনটিকে বেছে নিচ্ছি। ঐ স্যাটেলাইট চ্যানেল বা সাহিত্যের মেধার ঘনত্ব বা উচ্চ মানের অবস্থান সেটা কি আমরা অনুসরন করতে পারছি?

তিন ফোটা জলের বিরহ

চোখ মেলতেই উপহার! তিন ফোটা জল। আমার করতলে। তিনটি ফোটাকে এক করে নিলাম। ফোটা জলে মুছে নিলাম চোখ। বাইরে আধো অন্ধকার আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। এমনদিনে তাকে- অলস সকাল বলা যায়, নাকি বিরহ সকাল? আলসেমিটা হয়তো কাজকে ফাকি দেয়ার জন্য। আর বিরহটা?কার কথা বলি আর কে বেজার হবে। প্রিয়জন প্রীতি কার পক্ষে করি!