তুষার আবদুল্লাহ'এর ব্লগ
আড়ি দিবস !
আজ আড়ি দিবস। আন্তর্জাতিক বা জাতীয় নয়। একান্ত আমার ব্যক্তিগত। আর আড়ি যার সঙ্গে,তার সাথে আমার সম্পর্কটাও ব্যক্তিগত। এমন একটি মূহুর্ত ছিলনা, যখন তিনি আমাকে বা আমি তাকে আকড়ে থাকতাম না। পৃথিবীতে যখন আধার নামতো, তখনও আমি তার আভায় আলোকিত। এক ভোরে আনকোরা আলো এসে পড়েছিল ঘরে। পূবের জানালা দিয়ে ঠিক তার মুখায়বে।কাচা হলুদ রঙে রাঙা ঐ মুখটির দিকে আমি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছি। মুখটি তার আমার দিকে ফেরানো। ডান গালে এসে চুল লুটোপুটি খাচ্ছে ভোরের বাতাসে। আমি চুল সরিয়ে দিলাম আলতো হাতে। অপলক আমার পলক পড়লো তার মৃদু হাসিতে। হাসিটার আয়ু হয়তো এক সেকেন্ডও ছিলনা। তারপর কঠিন হতে থাকে তার মুখায়ব। হলুদ আভা ফ্যাকাশে হতে থাকে। আমি মুখ ফিরিয়ে নেই জানালায়। বাইরে ভোরের সূর্যটা চলে গেল মেঘের আড়ালে । তারপর থেকে আমার অমবস্যায় বসবাস। আর সেই দিন থেকেই মায়ের সঙে আমার আড়ি!
ঠিকানা কেবলই ভুল হয়ে যায় !
শুকতারা কিন্ডারগার্ডেন। কলাবাগানের এই স্কুলটি এখন বিলুপ্ত। যখন চিনতে পেরেছি কোনটি ক আর কোন ইংরেজি এ। বা গড়গড়িয়ে বলতে পারি- ভোর হলো দোর খোল খুকুমনি উঠরে কিংবা বাশ বাগানের মাথার উপরে চাদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলার কাজলা দিদি কই? ঐ বয়সটাতেই মায়ের হাত ধরে শুকতারা কিন্ডারগার্ডেনে ঢুকে পড়েছিলাম। ভর্তি পড়বো সেড়ে বলা হলো কেজি ওয়ানে গিয়ে বসতে। আমি চামড়ার একটি সুটকেস (যার ভেতরে ছিল একটা আদর্শ লিপি আর বাল্য শিক্ষার বই) নিয়ে একটা ক্লাসে নিজ নিজেই বসে পড়ি। যিনি ক্লাস নিচ্ছিলেন সেই আপা কেবল জানতে চাইলো- বাবু তুমি নতুন? আমি বললাম- উপস্থতি ম্যাম। সবাই কেনো যেনো হেসে ফেললো।পরের ঘণ্টাই ছিল টিফিন প্রিয়ড। আরেকজন ম্যাম এসে আমাকে বললো বাবু এটাতো ক্লাস ওয়ান। তুমি ভুল ক্লাসে এসে বসেছো!
শাড়ি
শহরের সুন্দরতম ছাদে সকাল, দুপুর, রাত তিন বেলাতেই আড্ডার ঝড় তুলতাম। কখনো দলে-বলে, আবার কখনো একা। সাধারনত ভর দুপুরেই নিজের সংগে আড্ডাটা জমতে ভাল। নিঝুম ছাদে নি:সংগ আমি। নি:সংগ বলাটা ঠিক হচ্ছে কিনা, এ নিয়ে তর্ক হতে পারে। কারন ঐ সময়টাতে দোপাটির বুকে বসা প্রজাপতি, ফাকা চেয়ারে অবকাশে থাকা কাক, ছাদের উপর এসে থেমে যাওয়া মেঘের সংগে কথোপকথোন তো হতোই। আর কথা হতো শাড়ির সংগে। একেকদিন একেক রংয়ের শাড়ি হতো আমার সংগি। ছাদের দক্ষিন দিকটায় বসতাম আমি। কার্নিশ ছুয়ে থাকা মহুয়ার ডাল। তারপর একচিলতে সবুজ উঠোন। তার পাশেই আরেকটি ছয়তলা দালান। ঐ ছয়তলা দালানের একমাত্র তিন তলা থেকেই একটা ঝুল বারান্দা বেরিয়েছে। সেই বারান্দায় কাউকে এসে দাড়াতে দেখিনি কখনো। বারান্দায় অন্য কোন কাপড়ও শুকোতে দেখা যায়নি। কেবল প্রতিদিন একটা করে শাড়ি নেমে আসতো বারান্দার রেলিঙ থেকে।