তুষার আবদুল্লাহ'এর ব্লগ
ডুবোচর
ভাঙ্গনের শ্লোগান আসছে দশদিক থেকে
যমুনা ছোবল দিচ্ছে সিরাজগঞ্জে
পদ্মা চোখ রাঙাচ্ছে মুন্সিগঞ্জে
বরিশালে পায়রা দিচ্ছে হায়নার ইশারা
ধরলা, তিস্তা'র ক্ষুধাও তীব্র হচ্ছে
সবার গন্তব্য নতুন জনপদ।
আচ্ছা তোমার কণ্ঠেও কেনো
ভাঙনের জয়গান
নি:স্ব করার হিংস্র আনন্দে
কেনো মেতে উঠো তুমি
এই অশ্রু সংগীতে কেনো
ভাসাও প্রেমের বীনা?
আমিও হতে পারি তোমার
ভাঙ্গনের ক্ষুদ্র পলি কনা,
যদি প্রতিশ্রুতি থাকে
তোমার সফেদ জলরাশির
অতলে হয়ে থাকতে পারি
ডুবোচর, যেখানে দিনমান
পাবো তোমার নজর!
এলোমেলো
পুরো তোমাকে পাওয়াটা বেশ সহজলভ্য
কিন্তু তোমার ঠোঁটের ঐ তিলটা
যেখানে দিনমান ঘুরপাক খায় আমার মনটা
সেটা এই বাজারে ব্শে দুষ্প্রাপ্য।
নজর ফেরাই যদি কানের ঐ দুলটায়
দেখি মরচে পরে গেছে তার ঝঙ্কারে
জানিনা কি আছে তোমার ঐ নাক ফুলটায়
তারও নাকি বরাদ্দ শেষ আজ ভোরে?
তোমার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ জানা নেই
আমার নাদাবি হলফনামা
তোমার কাছে পৌছে গেছে
কেবল পৌঁছেনি রুলজারীর বার্তাটা
যেখানে বলা আছে -কেন তোমার ঐ
তিলটার একক মালিকানা হবে না আমার?
নোটিশ হাতে পেয়ে জবাব দিতে হবে চট জলদি
না হলে নতজানু হয়ে দাড়াঁতে হবে
ভালবাসার মুখোমুখি!
নারীর জয়- পুরুষের পরাজয়= সহিংসতা
কোন আনকোরা খবর নয়। খবরের ধরন এবং ঘটনা পুরনো। স্বামী বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা নারী নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারী যে পরিবারে কেবল পুরুষ দ্বারাই নির্যাতিত হচ্ছে তা নয়। তাকে সমলিঙ্গের নীপীড়নেরও শিকার হতে হচ্ছে। শুরুতেই বলেছি খবর গুলো পুরনো। বলা যায় গণমাধ্যমে এখন খবর গুলো আসছে বেশি। আগে যে পরিমানে নারী নির্যাতিত হতো পরিবারে এখন তেমনটাই হচ্ছে। সেখানে পরিমান বাড়া-কমার তেমন তারতম্য ঘটেনি। ঘটেছে নারীর সয়ে যাওয়ার ধৈয্য চ্যুতি। একটা সময় পর্যন্ত নারী সন্তানের দিকে চেয়ে, মা-বাবা পরিবারের দিকে চেয়ে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে বেরিয়ে আসার পরের অসহায়ত্বের কথা ভেবে, মানিয়ে চলা বা সয়ে যাওয়ার লড়াই করে এসেছে। কিন্তু গত দুই দশকে ভেতরে ভেতরে বিপ্লব ঘটে গেছে, যার উত্তাপ পুরুষ বা সমাজ পেয়েছে হয়তো কিছুটা। কিন্তু আমলে নেয়নি। ভেবেছে নারী সে আর কতো দূর যাবে?
আষাঢ়ে স্বপ্ন!
তুমি আষাঢ়ে। আমি শ্রাবনে। দুজনে মিলে আমাদের নাম হয়েছিল বরষা। তোমার অনেক দিন দেখা নাই, ক্যাম্পাস সরব হতো বরষা কই? আমি লাপাত্তা দীর্ঘ দিন। ক্যাম্পাস উদ্বিগ্ন কই বরষা? আর আমরা নিজেদের নাম ভাগ করে নিয়েছিলাম- তোমাকে ডাকতাম কচুরী ফুল। আর তুমি ডাকতে আমাকে হিজল।ঈষান কোনে মেঘ জমলে যতো দূরেই থাকিনো কেনো, আমরা এক হয়ে ঝরোবোই। প্রখর রোদ। তাপদহে প্রান যায়। ডাক পড়ে আমাদের। কোথায় বরষা? যেনো আমাদের দেখলেই তৃষ্ণা মিটবে। বইবে জলধারা। কিন্তু আমরা দু্জনে কি তুলতে পেরেছিলাম কোন মেঘ-মল্লারের সুর?
গড়িয়ে যায় দিন
সকালে যোগ ব্যায়াম, হালকা মূচ্ছর্না
পাশপাশি সবুজ রঙ উষ্ণ জল।
দুপুরে হোক ভুরি বা লোকমা ভোজ
অতপর তোমার মরুদ্যান চাই।
বিকেলটা নয় মোটেও সাদামাটা
পায়চারি থেকে ফিরে খড়ম বিস্কুট।
রাটটা বেশ ঝকমকে ফিরে যাওয়া শাহী যুগে
ভোজন পর্বে কাল ক্ষেপন, ফর্দ বদল প্রতিদিন।
গড়িয়ে গড়িয়ে যায় দিন
অপেক্ষা আসবে সেই সুদিন...
গামলা, পেয়ালা, বাসন কিংবা কোন কাটাতে
যদি উঠে আসি আমি তোমার জীহবার কাছাকাছি!
স্মৃতির সড়ক
ইচ্ছে হলেই ভেজা যেতো। তুমুল বৃষ্টিতে ঘর বেসামাল। নিম গাছে চড়ুইর আনন্দ স্নান আরো লোভাতুর করে। হাত বাড়িয়ে এক মুঠো জল নিতে পারি। হাত বাড়িয়েও ফিরিয়ে আনি। বৃষ্টির ছটায় কেপে উঠছে বারান্দার ক্যাকটাস। যখন তোমার অপেক্ষায় কলেজ গেইটে, তখনো আকাশে ঝলমল রোদ। রোদে পুড়ছি আমি। আসছো তুমি তোমার কলেজ থেকে। এলে দেখি তোমার নাকে বিন্দু বিন্দু মুক্তো দানা। রুমাল দিয়ে মুছে নিতে চাইলে। বললাম থাকনা। বললে-এমনিতেই ঝরে পড়বে। বললাম- মুক্ত আনন্দে দেখবো মুক্ত ঝরা। তাল গাছে হেলান দিয়ে দাড়ালাম। আবদার করলে রিকশা বিহারের। চলছে রিকশা সবুজের খোজে। আমাদের ভাবনার রং, কথার রংও সবুজ। মনে পড়ে?
টিস্যু
চায়ের কাপে ঠোটের সমবায়ী স্পর্শ গ্রহণীয়। এক কাপ চা তিন চুমুকে শেষ করে ফেলা- এর ভেন্যু অবশ্যই হতে হবে কলেজ ক্যান্টিন বা কোন মামা'র টঙ। এই আচরনে কোন অপবাদ বা অবরোধ নেই। কারো দিকে সমবায়ী দৃষ্টি রাখা। এটা কোন ভাবেই জায়েজ কাজ হতে পারেনা। কিন্তু ওরা তিনজন তো তাই করলো। ওরা বলতে যোশেফ, হিরন আর মামুন। তিনজন মিলে টিস্যু'র দিকে নজর রাখলো। আসলে মেয়েটার মূল নামটাই ভুলে গেছি। করিডোর দিয়ে মিছিল করে যাচ্ছি। দেখি কমন রুমের দরজায় একটা নতুন মুখ। একদম ধবধবে সাদা। মুখে লাবন্যের ঘাটতি আছে। মিছিল শেষে ক্লাসে ফিরে জানান দিলাম- একটা নতুন মুখ দেখলাম একেবারে টিস্যু!
পর্দা বদলে যায়
তুমি বলেছিলে মসজিদের পাশের গলি দিয়ে ঢুকতে হবে। তারপর নাক বরাবর হেটে যেতে হবে। গেলাম। থামতে হবে সেলুনের সামনে। থামলাম। তোমার কথা মতো এখন নারকেল গাছ ওয়ালা বাড়িটার তিনতলায় চোখ রাখতে হবে। বিশেষ করে যে জানালায় সাদাকালো পর্দা ঝুলছে। পর্দা সরিয়ে সেখানেই এসে তুমি দাড়াবে। কোচিং এ নোট পেপার বিনিময়ে যেটা আমার হাতে এসেছে, সেখানে এমন নির্দেশনাই দেয়া। নোট পেপারটা সংগে আছে। বারবার পড়ে নিলাম নির্দেশনা মানতে কোন ভুল হলো কিন? না শতভাগ মেনেই এখানে এসে দাড়িয়েছি। কিন্তু সাদা-কালো পর্দা কোথায়? রাস্তা থেকে যে দুটো জানালা চোখে পড়ে তিনতলায় সেখানে ঝুলছে নীল পর্দা। সাদা-কালো নেই। এমনকি এক তলা, দোতালাতেও পর্দার রং কোনটায় লাল, কোনটায় হলুদ। আমি ভুল করছি?
টিলো
দেয়ালের দিকে মুখ করে শ্যামার ত্রিশ গোনা শেষ। আর বিশ গোনার আগেই আমাদের লুকিয়ে পড়তে হবে। আমি লুকানোর জন্য দেয়াল টপকাতে গেলাম। কিন্তু পেছন থেকে তুমি আমার সার্ট টেনে ধরলে। তোমাকেও সঙ্গে নিতে হবে। হাত বাড়িয়ে দিলাম। উঠে এলে দেয়ালের উপর। তারপর হাত ধরাধরি করে এক সঙ্গে লাফিয়ে পড়লাম নিচের কচু বাগানে। তুমি একটু ভয় পাচ্ছিলে। সাপ জাতীয় কিছু এসে না কামড়ে দেয়। ভয় কাটাতে তোমার মনোযোগ নিয়ে গেলাম গঙ্গা ফড়িঙ এর দিকে। একটা ফড়িঙ তোমার হাতে ধরিয়েও দিলাম। সবুজ-হলুদের মিশেল একটা ফড়িং। তুমি কপট রাগ দেখিয়ে ফড়িঙটা ছেড়ে দিতে বললে। বললাম আমার যে একটা ফড়িঙ দরকার। তুমি বললে আছে তো। বললাম কই। উত্তর না দিয়ে হলুদ ফ্রক উড়িয়ে দেয়াল টপকালে। আমি এপার থেকে শুনতে পেলাম- টিলো।
পুড়বো বলে.....
পুড়ে যাবো তাই
ঊননের খোজ নিচ্ছিলাম
লাকড়ি, হিটার নাকি সিলিন্ডার গ্যাস
কে স্বযত্নে পোড়াবে?
নেমিছিলাম বাজার জরীপে
লাকড়িটা নাকি পোড়াই বেশি
লোডশেডিং এ হিটারে ঝুকি থেকে যায়
সিলিন্ডারে ক্ষত- বিক্ষত হবার সম্ভাবনাটাই বেশি।
যখন ছাই হবার শতভাগ নিশ্চয়তা চাইলাম
জরীপে উঠে এলো তোমার নাম
পোড়াতে তোমার চেয়ে কার্যকর জ্বালানী
এই মূহুর্তে পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।
উদার আবদার
আবদার ছিল দেখা দেয়ার।প্রথমে খুনসুটি লগ্ন নিয়ে। কোন সময়টিতে দেখা হতে পারে।
ভাত দুপুরে, যখন সবাই একটু বেসামাল?
না অসম্ভব। অপর্ণাদের বাড়ির বুড়িটা এসময় শাক তুলতে বেরোয়। বুড়ি কখন কোথায় ঢুঁ দিয়ে বসে।
তাহলে ভোরে, লোকে আড়মোড়া ভাঙ্গার আগে।
বাহ খুব উত্তম প্রস্তাব, তবে জনাব আমার আড়মোড়া ভাঙ্গাবে কে ?
অতএব মধ্যরাতে। আলগোছে দরজার খিল থুলে..।
বোকা কোথাকার। বাইরে তখন জোনাকি আছে না।
আচ্ছা লগ্নের কথা আপাতত শিকেয় তোলা থাক। আগে ঠিক হোক কোথায় হচ্ছে দেখা।
ওমা, এনিয়ে আর বাছ-বিচারের কি আছে। চলে এসো স্কুল ঘরের পেছনের কল তলায়। বড়ই গাছের আড়ালে।
হা হা তাহলে তুমি গাছ তলে আর আমি মগডালে।
তামাশা ছাড় আসবে কিনা বলো।?
বড়ই গাছে কাটা। পায়ে কাটা বিধঁতে পারে। অন্য কোথাও।
তাহলে নৌকা ঘাটে আসো।
সেইতো একই হলো...পায়ে ভাঙ্গা শামুক বিধঁবে যে!
গ্রহণে বাষ্ফ নেই!
মেঘের কাছে হাত বাড়াই
মেঘ বলে-তোমার কাছে প্রত্যাখ্যান আছে?
বললাম না, আছে গ্রহণ।
মেঘ জানায়- গ্রহণে বাস্প নেই।
তাই ঝরতে বারণ!
মেঘ শিরিষকে বলি-
তোমার ঝরা পাতা দাও করি পবিত্র স্নান।
উত্তরে শুনতে হয়- দীর্ঘ শ্বাস ফুরিয়ে গেছে
বল তোমায় ভেজাবে কে?
অবশেষে মেঘবতী তোমার কাছে-
এক ফোটা নোনা জল দেবে?
তুমি শোনালে-কাজল দীঘিতে চর পড়েছে
চরাচরে কোথায় জল পাবে?
গ্রহণে বাষ্ফ নেই!
মেঘের কাছে হাত বাড়াই
মেঘ বলে-তোমার কাছে প্রত্যাখ্যান আছে?
বললাম না, আছে গ্রহণ।
মেঘ জানায়- গ্রহণে বাস্প নেই।
তাই ঝরতে বারণ!
মেঘ শিরিষকে বলি-
তোমার ঝরা পাতা দাও করি পবিত্র স্নান।
উত্তরে শুনতে হয়- দীর্ঘ শ্বাস ফুরিয়ে গেছে
বল তোমায় ভেজাবে কে?
অবশেষে মেঘবতী তোমার কাছে-
এক ফোটা নোনা জল দেবে?
তুমি শোনালে-কাজল দীঘিতে চর পড়েছে
চরাচরে কোথায় জল পাবে?
মেঘের আলেয়া !
ফিরে এলো অভিসারের দিন। আনমনা মন। কখনো উড়াল। ছুতে চাওয়া দিগন্ত অফুরান। ইচ্ছে-খুশি নির্বাসনে যাওয়াটাওতো এক প্রকার অভিসার! নির্বাসনে কোথায়? নিজের কাছেই নিজের নির্বাসন। সেখানে কেউ নেই বলা ঠিক হবেনা। আছে মেঘ। আসলে মেঘতো আছে পুরোটা জুড়েই। সাদা মেঘ কালো মেঘ। তবে কালো সে যতোই কালো হোক সেই মেঘের জন্যই প্রান উচাটন। আষাঢ়-শ্রাবণ, ভাদ্র-আশ্বিন যায় আর কালো মেঘের দেখা নাই। কাশ রাঙা মেঘে কালোর ছোপ দেখেই তৃষ্ণা মেটানো। কিন্তু তাতে কি আর মন ভিজে? চৈত্রের খরখরে দুপুর বলে যায় মেঘ আসছে। বৈশাখের বিষন্ন গোধুলী জানায় আসছে মেঘ। যেই বলা সেই কাজ, এসে গেল সে। তার ফিরে আসায় চঞ্চল কৃষ্ণচূড়া- কেপে উঠে রাধা। কনক চূড়াও উদাসী হয়। হিজল পাতায় ছায়া নামে। তার অপেক্ষায় চোখও হয়ে উঠে মেঘ কাজল।