টিস্যু
চায়ের কাপে ঠোটের সমবায়ী স্পর্শ গ্রহণীয়। এক কাপ চা তিন চুমুকে শেষ করে ফেলা- এর ভেন্যু অবশ্যই হতে হবে কলেজ ক্যান্টিন বা কোন মামা'র টঙ। এই আচরনে কোন অপবাদ বা অবরোধ নেই। কারো দিকে সমবায়ী দৃষ্টি রাখা। এটা কোন ভাবেই জায়েজ কাজ হতে পারেনা। কিন্তু ওরা তিনজন তো তাই করলো। ওরা বলতে যোশেফ, হিরন আর মামুন। তিনজন মিলে টিস্যু'র দিকে নজর রাখলো। আসলে মেয়েটার মূল নামটাই ভুলে গেছি। করিডোর দিয়ে মিছিল করে যাচ্ছি। দেখি কমন রুমের দরজায় একটা নতুন মুখ। একদম ধবধবে সাদা। মুখে লাবন্যের ঘাটতি আছে। মিছিল শেষে ক্লাসে ফিরে জানান দিলাম- একটা নতুন মুখ দেখলাম একেবারে টিস্যু! ব্যস দূর থেকে তাকে দেখিয়ে দেয়াটাই কাজ। তারপর সবার কাছে ওর পরিচয় টিস্যু। 'কিরে টিস্যুরে আজ দেখলাম না। নীল ড্রেসে টিস্যুরে যা আজ মানাইছে না। দেখছিলি রিক্সা থিকা নামতে গিয়ে টিস্যু পড়ইরা গেছিল।' এই সব যাবতীয় কথা কানে আসতে। করিডোরে, সিড়িতে মাঝে মধ্যে ওর সঙ্গে চোখাচখি হতো। তখন খুব জানতে ইচ্ছে হতো ওকে দেয়া নামটার কথা ও জানে কিনা। এদিকে জোসেফ নাকি টিসু্র বাড়ি পর্যন্ত গিয়ে রেকি করে এসেছে। পাড়ায় নাকি মেয়েটার লাজুক নামে খ্যাতি আছে। বললাম মেয়েটার নামিকি জোসেফ বলবেনা। মনে হয় নিজের সম্পত্তি করে ফেলেছে। মামুন এক ধাপ এগিয়ে সে নাকি মেয়েটার দুই বান্ধবীকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। এর মধ্যে জল খাবারে সম্পন্ন হয়েছে ওদের প্রাক ডেটিং পর্ব। মামুন কেবল দুটি চিঠি টিসুর হাত পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছে। একদিন তিন বন্ধুর সমাবেশ আহবান করলাম। ভেনু মেয়েটির বাসার কাছের এক রেষ্টুরেন্ট। জানতে চাইলাম মেয়েটির জন্য আসলে কে সিরিয়াস? জোসেফের উত্তর- আমি বাসাতে মেয়েটির ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেছি। খালাত বোন টুম্পাকে বলেছি ঘটনাটা মায়ের কানে তুলতে। মামুন বললো- আমি এর আগে কোন মেয়ের পেছনে ঘুরি নাই। অতএব ফাস্ট চান্স হাত ছাড়া করতে চাইনা। হিরন কোন কথা বলছেনা। ওর তিন কাপ চা শেষ। আমার তাগাদা পেয়ে - প্রতিদ্বন্দ্বি দুই বন্ধুর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো- কোন মিমাংসা নয়। লড়াই হবে মাঠে। জয়-পরাজয় সেখানেই। টিস্যু যাকে বেছে নেবে, ওর তার। আমি রেফারী বললাম- কিন্তু নিজেদের মধ্যে এটাতো ঠিক হচ্ছেনা। ওমা সবাই একাট্টা হয়ে উত্তর দিলো- তোমার কি আমাদের পারনাল ব্যাপারে তুমি কে? তাইতো। অতএব আমি নিরব হয়ে গেলাম। টিস্যু কে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। আমি এক সময় কলেজ ছাড়ি। ওরা টিসু্র জন্য রয়ে যায়। ভুলেই গিয়েছিলাম ওদের কথা।
সেদিন মুঠোফোনে জোসেফ।
কেমন আছিস?
ভাল।
তুই
টিসু্র মতো।
বহুদিন পর টিসু বক্সের বাইরেও যে এনামে কাউকে জানতাম মনে পড়লো। বললাম -মানে?
লাবন্যহীন জীবন।
কেন?
আজ দেশে ফিরলাম।
কবে গেলি সেটাই জানিনা।
ভুলে গেছি।
প্রসঙ্গ পাল্টে জানতে চাইলাম হিরনের কথা। মামুনের কথা।
মামুন নবাবগঞ্জে একটা টেইলারিং শপ খুলেছিল জানতাম। হিরনকে রেখে গিয়েছিলাম মাদক পূণর্বাসন কেন্দ্রে।
আর তোদের সেই টিসু্।
দেশ ছেড়েছিল আমার সঙ্গে। গতমাসে বাড়ি ছাড়লো অন্য কারো সঙ্গে!





জোস।
টিস্যু চলে গেছে
তবে লেখাটা দারুণ!
আহারে!
আপনের সমস্যা কি ভাই? পর্দা, টিস্যু??? মেয়েদেরকে ভিলেন বানানের এই অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন, প্লীইইইজ
ধবধবে শাদা বলে টিসু্? আমাদের ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় এইরকম শাদামুখকে বলা হয়, ধলকদু। (ধল মানে ধলা মানে ধবল মানে শাদা...কদু মানে লাউ, খোসা ছাড়ালে কদুর যে রং হয়...)
মন্তব্য করুন