নারীর জয়- পুরুষের পরাজয়= সহিংসতা
কোন আনকোরা খবর নয়। খবরের ধরন এবং ঘটনা পুরনো। স্বামী বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা নারী নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারী যে পরিবারে কেবল পুরুষ দ্বারাই নির্যাতিত হচ্ছে তা নয়। তাকে সমলিঙ্গের নীপীড়নেরও শিকার হতে হচ্ছে। শুরুতেই বলেছি খবর গুলো পুরনো। বলা যায় গণমাধ্যমে এখন খবর গুলো আসছে বেশি। আগে যে পরিমানে নারী নির্যাতিত হতো পরিবারে এখন তেমনটাই হচ্ছে। সেখানে পরিমান বাড়া-কমার তেমন তারতম্য ঘটেনি। ঘটেছে নারীর সয়ে যাওয়ার ধৈয্য চ্যুতি। একটা সময় পর্যন্ত নারী সন্তানের দিকে চেয়ে, মা-বাবা পরিবারের দিকে চেয়ে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে বেরিয়ে আসার পরের অসহায়ত্বের কথা ভেবে, মানিয়ে চলা বা সয়ে যাওয়ার লড়াই করে এসেছে। কিন্তু গত দুই দশকে ভেতরে ভেতরে বিপ্লব ঘটে গেছে, যার উত্তাপ পুরুষ বা সমাজ পেয়েছে হয়তো কিছুটা। কিন্তু আমলে নেয়নি। ভেবেছে নারী সে আর কতো দূর যাবে?
কিন্তু বাস্তবতা হলো নারী এগিয়ে গেছে একের পর এক মাইল ফলক। প্রথম এই যাত্রায় পথে নেমে ছিল পোশাক শ্রমিকরা । নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম সূতিকাগার বলা যায় পোশাক কারখানাকে। এখানে যে লাখ লাখ মেয়ে শ্রমিক গ্রাম থেকে , নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে এসেছিল, তারা তাদের পরিবারে, নিজেদের বক্তব্যকে, সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল ধীরে। এর পরের অবস্থানটি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওদের। কোন কোন এনজিও'র কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, চাকরি বা বিকল্প কাজের সুযোগ দিয়ে ঐ খাতেও নারীর অংশ গ্রহন ছিল ব্যাপক। অর্থাত নারীর স্বাবলম্বি হবার ক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল। সেই সঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশে নারী শিক্ষায় যে বিপ্লব তৈরি হয়েছিল, মেয়েকে স্কুল দেবার যে তাগিদ ছিল সরকারি- বেসরককারি ভাবে, সেই প্রণোদনাতে নারীরা উচ্চ শিক্ষাতেও মগডালে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। যার প্রভাবে চাকরির বাজারে এখন মেয়েদের দাপটটাই বেশি। কেবল চাকরির বাজার বলি কেনো যেখানেই ভাল কিছু হচ্ছে, এগিয়ে যাওয়ার মিছিল যেখানে, সেখানেই নারীদের ভিড়। এই যে নারীদের এগিয়ে যাওয়া তার সঙ্গে সমানে দৌড়াতে পারেনি পুরুষরা। তার কেবলই পিছু হটেছে। সে ভাবতো নারীর আসনতো তার পেছনে, সামনের আসন দূরে থাক পাশিপাশি বসাটাই সে মেনে নিতে পারছেনা। সংঘাতের শুরু সেখানেই। পুরুষ- নারীকে তার পাশে দেখতে এখনো অভ্যন্ত হয়ে উঠেনি। অন্যদিকে যে নারী এতোদিন পুরুষকে মানিয়ে চলার লড়াই করতো। সে এখনো স্বাবলম্বী হবার লড়াইয়ে বিজয়নী। তার অন্যের উপর নির্ভরতা নেই। সে একলা চলতে শিখেছে। তার জীবনের অঙ্ক বদলে গেছে। পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে তার হিসেব না মিললে, সে আর ঐ সঙ্গিকে আকড়ে থাকতে রাজি নয়। তার বক্তব্য হলো - মানিয়ে চলতে উভয়কেই সমান ছাড় দিতে হবে। এখানেই বিপত্তিটা। নারী বদলে গেছে পুরুষ যে বদলায়নি। তাই সে নারীকে নিয়ন্ত্রণ রাখার জোর খাটাচ্ছেই। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে সহিংসতা। পুরুষ তার পরাজয় না মেনে নেয়া পর্যন্ত এই সহিংসতা চলবেই। গণমাধ্যমে যতো এই খবর আসবে ততো হয়তো সচেতনতা বাড়বে এই আশা করাটা পুরনো অভ্যাস। কিন্তু তারও আগে প্রয়োজন পুরুষকে তার অবদমন রোধের উদ্যোগ নেয়ার। না হলে সেই দিন দূরে নয়, যেদিন উঠে দাড়াতে তাকে নারী হাতটিই ধরতে হবে।





ভাবনাগুলো ভালো লাগলো।
ভাবনাটা ব্যাতিক্রমি। যাক সহিংস পথ নয় আমরা চাই ভালবাসা , সম্মান ও শ্রদ্ধার পথে সব হিংসা, জ্বালা মিটে যাক। কারন নারী যেমন আমাদেরই অংশ আমাদের সন্তান তেমনি পুরুষটিও আমাদের অংশ আমাদের সন্তান।
আমি জানি না হাসানের মা বেঁচে আছেন কিনা ? থাকলে তিনি নিশ্চই সন্তানের মঙ্গল কামনায় জায়নামাজে বসে খোদার কাছে কাঁদছেন আমার ছেলের কি হবে এই ভয়ে এই আশংকায়।
গণমাধ্যমে যতো এই খবর আসবে ততো হয়তো সচেতনতা বাড়বে এই আশা করাটা পুরনো অভ্যাস। কিন্তু তারও আগে প্রয়োজন পুরুষকে তার অবদমন রোধের উদ্যোগ নেয়ার। না হলে সেই দিন দূরে নয়, যেদিন উঠে দাড়াতে তাকে নারী হাতটিই ধরতে হবে।
লেখাটি খুব ভাল লাগলো।
হ্যাঁ বদলে যাওয়া সময়ের প্রেক্ষাপটে নারীর চিন্তা-চেতনায় যে পরিবর্তন এসেছে -যে অগ্রসরমনস্কতা এসেছে সে তুলনায় বেশীর ভাগ পুরুষের চিন্তা-চেতনা এখনো যেন পড়ে আছে সেই আদিম যুগে।পারিবারিক-সামাজিক মঙ্গলের জন্যই পুরুষের এই পশ্চাদমুখী চিন্তা-ভাবনাকে বর্জন করা উচিত।
লেখাটা ভালো লাগলো
হুমম
ঘটনা সত্য। সহমত জানিয়ে গেলাম।
১০০% ছাড় দিলাম
ভাবনাগুলো ভালো লাগলো।
মন্তব্য করুন