তিন ফোটা জলের বিরহ
চোখ মেলতেই উপহার! তিন ফোটা জল। আমার করতলে। তিনটি ফোটাকে এক করে নিলাম। ফোটা জলে মুছে নিলাম চোখ। বাইরে আধো অন্ধকার আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। এমনদিনে তাকে- অলস সকাল বলা যায়, নাকি বিরহ সকাল? আলসেমিটা হয়তো কাজকে ফাকি দেয়ার জন্য। আর বিরহটা?কার কথা বলি আর কে বেজার হবে। প্রিয়জন প্রীতি কার পক্ষে করি! গুলশানটা যখন খাটিঁ আবাসিক এলাকা ছিল, তখন তার রঙ ছিল সবুজ। বরষায় সেটা আরো গাঢ় হতো। প্রতিটি বাড়ির দেয়াল জুড়ে থাকতো শামুকের মিছিল। পাতা বাহার আর মাধবীলতা চুরি করতে গিয়ে পরিচয় যার সঙ্গে, তার নামটা নিজের কাছেই রাখছি। দোতালার বারান্দা থেকে সেদিন ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিল। বৃষ্টিতে ভেজা আমি মুগ্ধ স্নিগ্ধ তাকে দেখে। সেদিন ফিরে গেলেও কলেজে যাওয়া- আসার পথে একবার ঐ বারান্দার নিচে এসে দাঁড়াতাম। প্রথম প্রথম তার দেখা পেতামনা। একসময় সে তাকে নিয়মিতই বারান্দায় পাওয়া যেতো। বিশেষ করে যখন আমার কলেজ থেকে ফেরার সময়। ভাবতেও শুরু করেছিলাম- সেকি বারান্দায় আমার অপেক্ষাতেই থাকে? উত্তর জানার সুযোগ ছিলনা। কারন বাক্য বিনিময়ের সুযোগ ছিলনা। তাকে দেখলেই রাজ্যের মৌণতা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরতো। আর তাকে বরাবরই উচুতলার মনে হতো। কারন তার দোতলা দালান ছিল। আমার চৌচালা ঘর। এভাবেই কাটছিল সেই বরষা। একদিন দল বেধে ভিজে ভিজে ফিরছি। সবাইকে বিদায় দিয়ে আমি ওই বাড়ির বারান্দার নিচে। মাধবীলতায় জমে থাকা পানি গুলো নিয়ে খেলছি। এর মধ্যে সে উপর থেকে দুটি কাঠাঁলচাপা ছুড়ে দিল। বলল- এই যে, কাঠাঁলচাপা তোমার জন্য। যাও অনেকদিন সুবাস থাকবে। আমি মুঠো ভরা কাঠাল চাপা নিয়ে ফিরে এসেছিলাম।
আরেকজনের কথাও বলতে হয়। দুই-চারদিন ভরা বরষায় সে আমার সঙ্গি হতো। স্কুল থেকে ফেরা হতো একসঙ্গে। যদিও দুজনার ছিল ভিন্ন স্কুল। ভিন্ন ইউনিফর্ম। বাসে কিংবা অটো টেম্পুতে দেখা হতো। আমি ফার্মগেট থেকে উঠতাম। আর ও আগের কোন বাসস্টপ থেকে উঠতো। ও মহিলা সীটে। আর আমি চালকের পাশের ইঞ্জিনে কখনো বসে আবার কখনো রড ধরে দাড়িয়ে। চোখে চোখ রাখা হতো সব সময়েই। টেম্পুতে পাশে বসা হয়েছে। বৃষ্টির দিনে একই দোকানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। দাড়িয়ে থেকেছি পাশাপাশি। কথা হয়নি। কিন্তু কেমন একটা সমঝোতা ছিল আমাদের মধ্যে। ভিড়ের মধ্যে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এরমধ্যে বাসটি এলো। দুইজনের চোখের ভাষা একই হতো- বাস এসেছে চলো জলদি উঠার চেষ্টা করি। আর বাসে উঠতে গিয়ে ও যে আমার একটু সহযোগিতা প্রত্যাশা করতো সেটাও ঠিক। আর বৃষ্টির দিনে আমি যেখানে আশ্রয় খুজতাম ও সেখানেই চলে আসতো। এক ঝড়- বৃষ্টির বিকেলে বাস থেকে নেমে আমি এক বন্ধ টঙের চটের নিচে ঠাই নেই । ও এসে আমার পাশে দাড়ায়। আমরা দুইজন ছাড়া কেউ ছিলনা ওখানে। চোখে চোখ রেখে অনেক কথাই হয়েছে। কিন্তু মুখ ফুটেনি। বৃষ্টি থেমে গেলে ও ওর পথে আমি আমার পথে।
আর তাহার কথা আর বলে কি লাভ? এক বরষার রাতে আরিচার ফেরিতে দেখেছিলাম এক ঝলক। তাও আবার বিদু্ত চমকালো বলে। তাতেই আমি ঠায় দাড়িয়েছিলাম, কতোক্ষন? হিসেব করে দেখিনি। তবে আমাকে রেখে সব গাড়িই নেমে গিয়েছিল । আজ এই বরষার মোড়কে ঢাকা সকালে উপহার পাওয়া ...তিন ফোটা জল এই তিন তাহার বিরহে উতসর্গ করিলাম!





বিরহ চিরকালই কবিদের জন্য মধুর
লেখা ভালো লেগেছে।
এক সাথে তিন জনের জন্য বিরহ???
কবি বলেছেন.... বিরহ বড় ভাল লাগে...এ...এ...এ...
মন্তব্য করুন