ডাইরী ৯৬
এক.
বিভাজন বড়ো কষ্টকর হয়। বাংলা ভেঙে গেলে রবি ঠাকুরের চোখ বেয়ে জল গড়ালেও তাই কেবল জোড়াসাঁকোর জমিদারী বিষয়ক লোভ মোহ মনে হয় নাই আমার...বিভাজন কষ্টটারে বড়ো স্বাভাবিক ঠেকে এই বেলা।
আর তাই মুসলিম নেতা সলিমুল্লাহরে অভিসম্পাত করেছি ভুল করে। সেও তো বাঁচাতে চেয়েছিলো তার নওয়াবী ক্ষমতারে...বিচ্ছিন্নতা কোনোকালে মানুষের আকাঙ্খিত নয়।
দুই.
পৃথিবীও বিভাজন ভালোবাসেনাই বলে অভিকর্ষ আরোপ করেছে নিজের উপর।
তিন.
বিভাজিত আমি থমকে রয়েছি...ঠিক যেমন থমকে আছে ঈষাণের মেঘ।





আবার কিছু কিছু বিভাজন দরকারও হয় মাঝে মধ্যে... অবশ্যম্ভাবী হয়ে গেলে... তবে মানুষে মানুষে বিভাজন খুব কষ্টকর
এইটা কি কবিতা? না ডাইরী?
বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস আসলে জানিনা এই বিষয়ে কেউ বিষদ আলোচনা করলে ভালো হইত
হ আমিও তাই কই।
বঙ্গভঙ্গ নিয়া এক সময় লেখাপড়া করছিলাম। আবার ঝালাই করতে হবে।
ঝালাই করেন ঝালাই করে ব্লগে ঝাড়েন আমরা খুটেনেই
আমি দাবি জানাইলাম
মাসুম ভাই বঙ্গভঙ্গ বিষয়ক লেখাতে কিরম কইরা প্রাপ্তবয়ষ্ক এলিমেন্ট ঢোকান সেইটা দেখনের আগ্রহ তৈরী হইলো।
এইটা জট্টিল কৈছেন
পুরা কট্ঠিন
ডাইরী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।
ঠিক বুঝলামনা। আর আগের প্যারার সাথে মিল কী সেইটাও ধরতে পারলামনা। একটু পরিস্কার করেন তো বস।
আগের প্যারায় রবী ঠাকুরের স্বার্থ ছিলো বিভাজিত না হওনে আর সলিমুল্লাহ ভাবতে ছিলো বিভাজিত না হইলে হিন্দু বাবুরা তার যেইটুক ক্ষমতা তখনো ক্রিয়াশীল সেইটুকও রাখতে দিবো না, তখন সলিমুল্লাহ ক্ষমতার নাগাল থেইকা বিভাজিত হইবো।
বিভাজন বিষয়টা এক্কেরেই স্বার্থের লগে সম্পর্কীত একটা বিষয় মনে হয়।
কিন্তু পোস্টে রবীন্দ্রনাথের বেলায় স্বার্থ টারে মুখ্য বলেন নাই।
আমি তার আবেগটার কথাও কইছি...কিন্তু ঐ বৈষয়িক উল্লেখটা মাথায় রাইখাও। সলিমুল্লাহর ব্যাপারেও একই কথা খাটে...তার আবেগটাও হয়তো ছিলো, কিন্তু ক্ষমতার সাথে ছাড়াছাড়ি হইয়া যাওনের ভয়টারেও ফালাইতে পারি না।
সলিমুল্লার মত সাম্প্রদায়িক লোকের সাথে রবীন্দ্রনাথের বিষয়টা একই কাতারে ফেলে আলোচনাটা আমার কাছে ঠিক কেমন জানি লাগছে। যাই হোক সলিমুল্লার বিষয়ে গেলামনা আর। রবিরে নিয়া আলোচনা করি।
"বৈষয়িক উল্লেখটা মাথায় রাইখা "
রবীন্দ্রনাথ বৈষয়িক কারণে বিভাজনের বিরোধিতা করছেন এইটা কেন মনে হইল আপনার?
আপনে তো আলোচনার শুরুতেই রবী বাবুরে নবী বাবু ধইরা সলিমুল্লাহ থেইকা আলাদা করলেন...:p।
আমার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন নবুয়ত প্রাপ্ত মানুষ না। তার প্রগতির চিন্তাটা আমার কাছে হয়তো উল্লেখ্য কিন্তু তারে একজন জমিদার পূত্র, যে একটা জমিদারীও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়া ফেলছিলো, এইটা ভাবতেও আমি কসূর করি না। আর দেশ বিভাজনের ব্যাপারে তার নিজের ক্ষুদ্র জমিদারীর নৈসর্গ হয়তো তারে ভাবায়, তারে ফালাইয়া যাওনের ভীতি হয়তো তার মধ্যে কাজ করে...কিন্তু এর বৈষয়িক ভাবনা ছিলো না কইলে সেই মহামানব রবী নবী ছাড়া আর কোন চরিত্র নির্মিত হয় না আমার মানসপটে।
যারে পছন্দ করিনা যার চিন্তাধারা আমার চিন্তার বিরোধি তার সাথে যার চিন্তা ধারারে আমার সাথে মিলে তারে আলাদা করলে নবী হইয়া গেল!!!
আজাইরা কথা শুরু করলেন ক্যান? আমি নবুয়ত, জিব্রাইল এই সব নিয়া কিছু কইছি। আমি খালি জানতে চাইছি আপনের রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যে ধারণা হইছে সেইটা কেমনে হইল। তার কোনো কার্যকলাপে নকি এমনে এমনেই ধারণা করলেন।
বিতর্কটা একদম অন্যদিকে টার্ন করনের সম্ভাবনা দেখা দিতেছে। তবে আমার কাছে মনে হয় রবী ঠাকুরগো মতোন মানুষরে নায়ক বানাইতে গিয়া সলিমুল্লাহগো আমরা ভিলেইনেরও অধম বানাইয়া ফেলি।
কিন্তু রবী ঠাকুরের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রগতিশীলতা কেবল একটা দিন, একটা জনসমাগমে কিছুক্ষণ অবস্থানের মধ্য দিয়াই শেষ হইয়া গেছিলো বইলা দেখি ইতিহাসে। কিছু কিছু জায়গায় তারে আরেকদিন বাড়তি দাঁড় করায় কেবল...রবী ঠাকুরের বৃটিশ বিরোধীতা নিয়া প্রশ্নতো ইতিহাসেই বলবৎ আছে। জালিয়ানওয়ালা বাগের নির্বিচার হত্যার প্রতিবাদ না করলে তারে বৃটিশ দালালও কইয়া ফেলতে পারতো অনেকে। ১৯৪০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা সূচক ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়া ফেরত আসনের পর যেই কারণে তিনি লেখেন,
একটা যুদ্ধবিক্ষুব্ধ দেশ যখন স্বাধীনতার পথে তখনো তিনি মানবতা নিয়া ভাবতেছিলেন...আমি নিজে এতোটা যুক্তিবিলাসী মহৎ হওনের কথা ভাবতে পারি না কখনোই। শিলাইদহের ক্ষুদ্র জমিদারী নিয়া তার সম্পর্কে যা জানি সেইসবের রেফারেন্স না থাকনে এইখানে উল্লেখ করলাম না। তবে জমিদার হিসাবে তার মহত্ব যে কখনোই এই বৃটিশ ভাষা ও সাহিত্য নিয়া উপলব্ধির মহত্বরে পার হইয়া যাইতে পারে না সেইটা অন্ততঃ অনুমান করবার পারি...
প্রথমেই সবিনয়ে বলি, বার বার রবী বানানটা চোখে লাগছে। আমি যতদূর জানি(ভুল হতেও পরে) বাংলায় রবী বলে কোন শব্দ নাই। যাক এইবার নায়ক বলছেন নবী বলেননাই। একজন বাঙালি হিসাবে রবিরে নায়ক বানান অন্যায়? যে লোক সারা দুনিয়ার সামনে বাঙালির মুখ উজ্জল করছে এবং এখনো করে যাচ্ছে তারে নায়ক বানাইতে সলিমুল্লার মত প্রতিক্রিয়াশীল লোকরে ভিলেন বানাইতে হবে? আজিব লাগল জিনিসটা! একটা কথা বলি, আমি মানুষরে মানুষ হিসাবে বিচার করতেই চেষ্টা করি ফেরেশতা না। রবি'র কোনো দোষ নাই সে সব কিছুর উর্ধে এরকম কিছু আমি ভাবি এরম একটা আবাল বইলা আমারে ঠাউরে নিয়েন না। যদিও নবী টবি বইলা সেরকমই একটা কিছু মনে হয় বলতে চাইছিলেন।
সলিমুল্লারে মনে হয় ভিলেন থিকা নায়কের ভুমিকায় আধিষ্ঠিত করণের অথবা ভিলেন ইমেজ দূর করণের একটা আকাঙ্খা আপনের আছে বলে মনে হইল। েইটা নিয়া একটা পোস্ট দিতে পারেন সেইখানে হয়ত বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
আমি রবী বানানটা তার রবি অর্থে এইখানে ব্যবহার করি নাই। তার রবীন্দ্রনাথ নামের অংশ বিশেষ নিয়া শর্টকাট মারনের চেষ্টা করছি। সারা দুনিয়ার সামনে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করছে বইলা তার সমালোচনা করন যাইবো এইটাতো আপনেও স্বীকার করলেন...সলিমুল্লাহ বিষয়ে আসলেই কিছু তথ্য প্রাপ্তি ঘটছে আমার, যাতে তারে আমার যতোটা ভিলেইন মনে হইছে আগে এখন ততোটা মনে হইতাছে না। এইটা তার ধর্ম বিষয়ে না একেবারেই। বঙ্গভঙ্গ নিয়াও তার বিকল্প অবস্থান ছিলো শুরুতে সেইটা জাননের পর আমার এই উপলব্ধির পরিবর্তন...
রবীন্দ্র = রবি + ইন্দ্র
রবীন্দ্রনাথরে কেন, আমি তো আল্লারেও সমালোচনা করি ।
আমি খালি জানতে চাইছিলাম আপনের সোর্স টা, আপনারে চার্জ করি নাই। তবে আমার প্রোবলেম হয়ত নরমাল জিনিসটারে মনে হয় এগ্রেসিভলি প্রেজেন্ট করি। সেজন্য অন্যরা অন্যরকম ভাবে। দেখলেন না সামুতে , পোস্ট লেখনের আগেই ব্যান।
সলিমুল্লারে নিয়া পোস্ট দেওনের অনুরোধ রইল। ইন্টারেস্টিং আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সলিমুল্লাহরে নিয়া আলাদা পোস্ট না দিয়া বঙ্গভঙ্গ কালে এই অঞ্চলের মুসলিমগো মানসিকতা নিয়া পোস্ট দেওন যাইতে পারে...
তাও দিতে পারেন। সামুতে এই নিয়া কয়েকজনের সাথে জম্পেশ আলোচনা হইছিল অনেকদিন আগে।
ভালো একটা আলোচনা শুরু হয়েছে.. অনেক কিছু জানার আছে দেক্তাছি
জানার কোন শেষ নাই
জানার চেষ্টা বৃথা তাই
তাইলে আলোচনা শেষে খাওনের টাইমে ডাইকেন
আলোচনাটা ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাবলীর দিকে টার্ন নিতেছে। অনেক কিছু বের হয়ে আসেছে। সুস্থ্য আলোচনা আসলে সব সময় উপভোগ্য। পপকর্ণ নিয়ে গ্যালারীতে বসলাম।
অনুস্ঠানতো শেষ।
অনুষ্ঠান শেষ নাকি?
আলোচনা কি শেষ? আমি আরো আপনাদের ডিবেট দেখতে লগিন করলাম।
বিভাজিত আমি থমকে রয়েছি...ঠিক যেমন থমকে আছে ঈষাণের মেঘ।
বাহ সুন্দর একটা আলোচনা হইল দেখা যায়।
মন্তব্য করুন